Banner

শীতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুস্থ থাকার সহজ ১০টি উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৮ ১৬:০৪:১৩
শীতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুস্থ থাকার সহজ ১০টি উপায়
ছবিঃ সংগৃহীত

শীতের ঠান্ডা বাতাস এবং কম তাপমাত্রা প্রায়ই স্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। তবে, এই সময়ে সঠিক যত্ন এবং জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে ভারসাম্যপূর্ণ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, আস্ত শস্য (whole grains), চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে ভিটামিন সি, ডি এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

ঠান্ডার কারণে পানি পানের প্রবণতা কমে গেলেও শরীরকে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখা জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এর পাশাপাশি উষ্ণ ভেষজ চা, স্যুপ বা ঝোলও শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

সুস্বাস্থ্য এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঘুমের মান উন্নত করতে, শোবার আগে মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন টাইম কমানো এবং শোবার ঘর আরামদায়ক রাখা উচিত। শীতকালে অনেকেই শারীরিক কার্যকলাপে অলসতা করেন। কিন্তু ফিটনেস বজায় রাখতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া দরকার। ঘরের ভেতরে করা যায় এমন ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা নাচের মতো হালকা ক্রিয়াকলাপও উপকারী।

শীত মৌসুমের সাধারণ রোগ ঠান্ডা ও ফ্লু-এর বিস্তার কমাতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অপরিহার্য। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনে মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি, সি বা জিঙ্কের মতো সম্পূরক (supplements) গ্রহণ করা যেতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেওয়াও খুব জরুরি। হাইপোথার্মিয়া এবং ঠান্ডা লাগাজনিত অন্যান্য অসুস্থতা এড়াতে কয়েক স্তরের (লেয়ার) পোশাক পরা উচিত। বাইরে বের হলে টুপি, গ্লাভস, স্কার্ফ এবং জলরোধী জুতো ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি ঘর উষ্ণ ও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

শীতকাল অনেকের মনে বিষণ্ণতা বা 'উইন্টার ব্লুজ' (মৌসুমী আবেগজনিত ব্যাধি) তৈরি করতে পারে। এই ধরনের মানসিক চাপ মোকাবিলার জন্য ধ্যান, যোগব্যায়াম, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কোনো শখে সময় দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নিতে দ্বিধা করা উচিত নয়।

ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বা ব্যক্তিগতভাবে সংযুক্ত থাকা একাকীত্ব কাটাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সবশেষে, ফ্লু এবং অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যাদের বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য শীতকালীন যত্নের বিষয়ে ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শের জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।


বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৪:৫৭:৪১
বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্নকে নারীদের বিষয় হিসেবেই দেখা হয়। ফলে বেশিরভাগ পুরুষ এখনো মনে করেন, স্কিনকেয়ার বা ফেসিয়াল তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। অথচ প্রতিদিন রোদে বের হওয়া, ধুলাবালির সংস্পর্শ, ঘাম, শেভিংয়ের চাপ সব মিলিয়ে পুরুষদের ত্বক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে অনেকেই ত্বকের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে উদাসীন থাকেন।

বিশেষ করে বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আগেও এই অবহেলা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে কনের রূপচর্চা ও ত্বকের যত্ন শুরু হয় মাসখানেক আগে থেকেই, সেখানে অনেক বর শেষ মুহূর্তে এসে শুধু চুল কাটা বা দাড়ি ছাঁটাকেই যথেষ্ট মনে করেন। অথচ বিয়ে মানেই শুধু পোশাক নয়—ক্যামেরার আলো, অতিথিদের দৃষ্টি আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য সুস্থ ও সতেজ ত্বকের বিকল্প নেই।

বিয়ের দিনে ত্বক কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ক্যামেরার সামনে থাকতে হয়। মুখে যদি রুক্ষতা, ক্লান্তি বা ব্রণের ছাপ থাকে, তাহলে তা সহজেই নজরে পড়ে এবং পুরো লুকের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। তাই ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান রাখা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, আত্মবিশ্বাসেরও বড় অংশ।

দিনভর বাইরে থাকার ফলে মুখে ঘাম, ধুলা আর অতিরিক্ত তেল জমে এক ধরনের অদৃশ্য আস্তরণ তৈরি হয়। এজন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ সাবানের বদলে ত্বকের জন্য উপযোগী মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ময়লা দূর হয়, আবার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাও বজায় থাকে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার নিয়ে ভুল ধারণা

অনেক পুরুষ মনে করেন, যেহেতু তাদের ত্বক তেলতেলে, তাই ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ত্বক পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না পেলে তা নিস্তেজ দেখায় এবং বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা জেল বা নন-গ্রিসি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে নয়

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। নিয়মিত রোদে বের হলে ত্বকে ট্যান, কালচে দাগ এমনকি অকালবার্ধক্যও দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বিয়ের আগের দিনগুলোতে সানস্ক্রিন ব্যবহারে ত্বকের রং ও টেক্সচার অনেকটাই উন্নত হয়।

সঠিক শেভিংয়ের গুরুত্ব

শেভিং পুরুষদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হলেও ভুল পদ্ধতিতে শেভ করলে ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব ও ব্রণ তৈরি হতে পারে। পুরোনো বা ভোঁতা ব্লেড এড়িয়ে চলাই ভালো। শেভ শেষে অ্যালকোহল-ফ্রি আফটারশেভ বা হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পায় এবং দাগ পড়ার ঝুঁকি কমে।

ঘরোয়া যত্ন হিসেবে সপ্তাহে একদিন এক চা চামচ চালের গুঁড়া, এক চিমটি হলুদ ও কয়েক ফোঁটা দুধ মিশিয়ে হালকা পেস্ট বানিয়ে মুখে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের লালচে ভাব কমায় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক।

স্ক্রাবিংয়ে ফিরুক ত্বকের প্রাণ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে মৃত কোষ জমে মুখ নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার মাইল্ড স্ক্রাব ব্যবহার করা প্রয়োজন। ঘরেই সহজভাবে এক চা চামচ চিনি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করা যায়। পরিষ্কার মুখে হালকা হাতে দুই মিনিট ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক পরিষ্কার ও নরম থাকে। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

ভেতর থেকে যত্ন না নিলে ফল মিলবে না

ত্বকের যত্ন কেবল বাহ্যিক নয়, ভেতর থেকেও নিতে হয়। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং ঘুমের অভাবে চোখের নিচে কালি ও মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ে। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান এবং নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম ত্বক ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২১:২৪:৩২
টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল ২০২৬ সালে শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে ‘ফ্রি অনলাইন কোর্স’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা, ব্যবসায়িক শিষ্টাচার এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। বিশেষত যারা নিজের ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই কোর্সগুলো সম্পূর্ণ ‘সেলফ-পেসড’, অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে পাঠ সম্পন্ন করতে পারবেন। কোর্সের মডিউলগুলোতে ভিডিও লেসন, কুইজ এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ ম্যাটেরিয়াল রয়েছে যা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলে। ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই এবং কোনো আবেদন ফি বা রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়াতে যারা আইইএলটিএস (IELTS) প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্যও এই প্ল্যাটফর্মে বিশেষ রিসোর্স ও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল ব্যাজ এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট অর্জনের সুযোগও পেতে পারেন। আগ্রহীরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা সরাসরি এই লিংকে (https://tinyurl.com/yctzsk6b) গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। ২০২৬ সালের জন্য উন্মুক্ত এই কোর্সগুলো ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।


শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২০:৫৭:০২
শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমন শুধু আবহাওয়াতেই পরিবর্তন আনে না, বরং নারীদের শরীরেও তৈরি করে গভীর কিছু শারীরিক ও মানসিক জটিলতা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বাণী কুমার মিত্রের মতে, এই সময়ে দিনের আলো কমে যাওয়ায় শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে নারীদের কর্মস্পৃহা কমে আসা, সব সময় ক্লান্তি ভাব এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রকট হতে পারে। কেবল এনার্জি কমে যাওয়াই নয়, বরং ঋতুস্রাবচক্র বা পিরিয়ডের স্বাভাবিক ছন্দও এই সময়ে বিগড়ে যেতে পারে।

শীতকালীন এই পরিবর্তনের প্রভাবে নারীদের মধ্যে রাগ, খিটখিটে মেজাজ এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যাঁদের আগে থেকেই থাইরয়েড কিংবা পিসিওএস (PCOS) এর মতো সমস্যা রয়েছে, শীতকালে তাঁদের উপসর্গগুলো আরও তীব্র আকার ধারণ করে। শুধু তাই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইউরিন ইনফেকশন বা পুরনো গাইনোকোলজিক সমস্যাগুলো পুনরায় দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ে শরীরে সেরোটোনিন নামক ‘ফিল গুড’ হরমোনের নিঃসরণ কমে যাওয়ায় অনেকেই বিষণ্নতা বা অবসাদে ভুগতে শুরু করেন।

শীতের এই নীরব ধকল সামলাতে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত চিনি বা প্রসেসড খাবারের বদলে মৌসুমি ফল, রঙিন শাক-সবজি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুক্ষণ রোদে বসা এবং হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক বিশ্রামই পারে শীতকালীন এই শারীরিক ও হরমোনজনিত জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে।


শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১১:২৫:৩৫
শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে আপনার শখের অ্যাকুরিয়ামের রঙিন মাছগুলো বড় ধরনের জীবনঝুঁকিতে পড়তে পারে। বছরের অন্যান্য সময়ে মাছের যত্ন নেওয়া সহজ হলেও কনকনে ঠান্ডায় পানির তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং তারা মারা যেতে শুরু করে। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে অ্যাকুরিয়ামের মাছকে সুস্থ রাখতে হলে পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা সবচাইতে জরুরি।

অ্যাকুরিয়ামের মাছের জন্য শীতকালে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো ‘থার্মোস্ট্যাট কন্ট্রোলড ওয়াটার হিটার’। এটি পানির তাপমাত্রাকে ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে স্থির রাখতে সহায়তা করে। পানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে অ্যাকুরিয়ামের ভেতরের দেয়ালে একটি থার্মোমিটার আটকে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে সারাক্ষণ তাপমাত্রার ওপর নজর রাখা যায়। অনেক সময় হিটারের অভাবে পানি বরফশীতল হয়ে গেলে মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং তারা অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

শীতকালীন যত্নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পানি পরিবর্তন। সাধারণ সময়ে সপ্তাহে একবার পানি বদলালেও ঠান্ডার দিনে মাসে একবারের বেশি পানি বদলানো ঠিক নয়। এতে পানির তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন মাছের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। তবে পানি পরিষ্কার রাখতে ভালো মানের ফিল্টার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া শীতকালে মাছের হজমশক্তি কমে যায়, তাই অতিরিক্ত খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বাড়তি খাবার পানিতে পচে গিয়ে পানির মান নষ্ট করে ফেলে, যা মাছের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১১:১৮:০৬
শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
ছবি : সংগৃহীত

শীতের রুক্ষ বাতাস ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেওয়ায় বর্তমানে অনেকেই হাত ও পায়ের চামড়া ওঠার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে গেলে হাত-পা খসখসে হয়ে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়, যা সঠিক যত্নের অভাবে কখনো কখনো রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে মুখের যত্নে আমরা মনোযোগী হলেও হাত ও পায়ের প্রতি অবহেলার কারণেই এই জটিলতা দেখা দেয়। তবে দামী প্রসাধনীর বদলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিতে নিয়মিত চর্চা করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হাত ও পায়ের চামড়া ওঠা বন্ধ করতে অলিভ অয়েল এবং গুঁড়ো দুধের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর। অলিভ অয়েলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলে মরা চামড়া উঠে যায় এবং ত্বকের নমনীয়তা ফিরে আসে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় থাকে। এছাড়া আধা কাপ কাঁচা দুধের সঙ্গে সমপরিমাণ কুসুম গরম পানি মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে ত্বকে লাগালে হাত-পায়ের খসখসে ভাব দ্রুত দূর হয়।

পায়ের গোড়ালি ও পাতাকে কোমল রাখতে বেসন, অ্যালোভেরা জেল এবং মধুর প্যাক জাদুর মতো কাজ করে। এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ২০ মিনিট পর আলতো করে ঘষে ধুয়ে ফেলে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করলে চামড়া ফাটা রোধ করা যায়। অন্যদিকে গোলাপ জল, লেবুর রস এবং কাঁচা দুধের মিশ্রণ দিনে দুবার ব্যবহার করলে হাতের কালো ভাব কাটার পাশাপাশি চামড়া ওঠাও বন্ধ হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতকালে ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা নিরাপদ ও ফলদায়ক।


শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১১:১১:৩০
শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবনে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের ওপর ঠান্ডার প্রভাব পড়ছে সবচাইতে বেশি। সামান্য অবহেলা কিংবা জীবনযাপনের ছোটখাটো ভুলে সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে হলে শীতকালে প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু বিশেষ পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যা ঠান্ডা বাতাসকে ফুসফুসে প্রবেশের আগে কিছুটা উষ্ণ করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতে মুখের পরিবর্তে সব সময় নাকের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া উচিত। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে বাতাস ফুসফুসে যাওয়ার আগে উষ্ণ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া কনকনে ঠান্ডায় বাইরে শরীরচর্চা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ বাইরের তীব্র ঠান্ডা বাতাস সরাসরি ফুসফুসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে ঘরের ভেতরেই ব্যায়াম করা ফুসফুসের জন্য অধিকতর নিরাপদ।

ফুসফুসকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা আবশ্যক। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন শিমজাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ এবং মাছ ফুসফুসের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, যা গভীর শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসকে প্রসারিত হতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং অলিভ অয়েল ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শীতের এই সময়টাতে ফুসফুসকে উষ্ণ রাখা এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাই হতে পারে সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি।


শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৯:৫৮:৫৫
শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
ছবি : সংগৃহীত

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জনপদে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টনসিলের সমস্যা। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে গলার ব্যথা, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া এবং কণ্ঠস্বর বসে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন রোগীরা। চিকিৎসকদের মতে, টনসিল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে। তবে এই টনসিলে সংক্রমণ দেখা দিলেই তাকে বলা হয় ‘টনসিলাইটিস’। অবহেলা করলে এটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত কারণে টনসিল সংক্রমিত হয়। তবে ‘স্ট্রেপটোকক্কাস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে যখন টনসিলাইটিস হয়, তখন তীব্র গলা ব্যথার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার জ্বর এবং মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার সবচাইতে বেশি। অনেক সময় সংক্রমণ জটিল পর্যায়ে পৌঁছালে টনসিলের টিস্যু শক্ত হয়ে ফাইব্রোসিস বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, টনসিলাইটিস একটি ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা বা থুতুর মাধ্যমে এই জীবাণু দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অন্যদের থেকে আলাদা খাবার পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সংক্রমণ এড়াতে মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দিনে অন্তত দু’বার দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি।

টনসিলের ব্যথা কমাতে কিছু কার্যকর ঘরোয়া টোটকা অনুসরণ করা যেতে পারে। চিকিৎসকরা হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে নিয়মিত কুলি বা গড়গড়া করার পরামর্শ দেন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে গলার প্রদাহ অনেকটাই কমে আসে। গ্রিন টি এবং মধুর মিশ্রণও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে। তবে অবস্থা গুরুতর হলে কোনোভাবেই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত দিনের বেশি গলা ব্যথা স্থায়ী হলে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।


শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সেরা ৫ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ২০:৫৯:৩৩
শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সেরা ৫ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন বদল আসে, তেমনি মানবদেহেও হানা দেয় সর্দি, কাশি, ফ্লু এবং ত্বকের শুষ্কতা। এই সময় কেবল বাইরে থেকে গরম পোশাক পরে শরীর রক্ষা করা সম্ভব নয়; বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিখ্যাত ওয়েবসাইট 'টপ টেন হোম রেমেডি' শীতকালীন অসুস্থতা মোকাবিলায় পাঁচটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবারের কথা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে।

এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে রসালো ফল কমলা। ভিটামিন সি ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই সাইট্রাস ফলটি সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে লড়াই করে এবং শীতের রুক্ষ ত্বকে জৌলুস ফিরিয়ে আনে। ফুসফুসের সুরক্ষায় গাজর একটি অপরিহার্য সবজি। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ কমিয়ে শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করে। এছাড়া প্রোটিনের আদর্শ উৎস ডিম প্রতিদিনের তালিকায় রাখা জরুরি। এতে থাকা নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং জিংক শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে।

শীতের সকাল বা বিকেলে এক কাপ গরম আদা চা কেবল প্রশান্তিই দেয় না, বরং আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরকে উষ্ণ রাখে। এটি ফ্লু ও খুসখুসে কাশির জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তালিকায় শেষ পুষ্টিকর উপাদানটি হলো কাঠবাদাম। ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের হাত থেকে কোষকে রক্ষা করতে এবং শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়াতে নিয়মিত অল্প পরিমাণে কাঠবাদাম খাওয়া শীতকালে অত্যন্ত ফলদায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাঁচটি খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে শীতের আমেজ উপভোগ করা যাবে একদম সুস্থ থেকে।


প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন বাড়ানোর সেরা খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১২:২৬:১১
প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন বাড়ানোর সেরা খাবার
ছবি: সংগৃহীত

অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই ওজন কম থাকা একটি বাস্তব সমস্যা, যা শারীরিক দুর্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে ওজন বাড়াতে হলে ক্যালোরি-সমৃদ্ধ কিন্তু প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এই ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ফল ও সবজি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কেন ফল ও সবজি ওজন বাড়াতে সহায়ক

ফল ও সবজিতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা, জটিল কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ভিটামিন–মিনারেল শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি জোগায়। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে এগুলো গ্রহণ করলে শরীর ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি সঞ্চয় করতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। তবে এগুলো অবশ্যই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।

যেসব ফল স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে

কলা

কলায় রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। নিয়মিত কলা খেলে শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণ হয় এবং ওজন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোকে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ফলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ক্যালোরি রয়েছে, যা হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।

আম

মিষ্টি স্বাদ ও উচ্চ ক্যালোরির কারণে আম ওজন বাড়াতে সহায়ক। এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি শরীরের শক্তি ও ওজন দুটোই বাড়াতে পারে।

কাঁঠাল

কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর শর্করা ও ক্যালোরি। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুকনো ফল

খেজুর, কিশমিশ, এপ্রিকট, আলুবোখারা ইত্যাদি শুকনো ফলে ক্যালোরি ও পুষ্টিগুণ ঘন আকারে থাকে। অল্প পরিমাণেই এগুলো শরীরে বেশি শক্তি যোগাতে সক্ষম, যা ওজন বাড়াতে সহায়ক।

ডালিম

ডালিমে প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালোরির পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রেখে ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ওজন বাড়াতে সহায়ক স্টার্চি সবজি

শুধু ফলই নয়, কিছু সবজিও ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে যেগুলোতে শর্করা ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি।

আলু ও মিষ্টি আলু

এই দুটি সবজিতে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

কচু (লতি ও মুখি)

কচু জাতীয় সবজিতে শর্করা, ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকায় নিয়মিত খেলে ওজন বাড়তে পারে।

ভুট্টা

ভুট্টা ক্যালোরি ও শর্করায় সমৃদ্ধ, যা শক্তি জোগানোর পাশাপাশি ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

মটরশুঁটি

মটরশুঁটিতে প্রোটিন ও সামান্য ফ্যাট থাকে, যা পেশি গঠনের পাশাপাশি ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো (সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত)

ফ্যাট ও ক্যালোরিতে ভরপুর হওয়ায় এটি ওজন বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সতর্কতা ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু খাবারের ধরন নয়, রান্নার পদ্ধতি ও পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল-মশলা ব্যবহার বা অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ফল ও সবজি পরিমিত পরিমাণে, নিয়মিত এবং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সর্বোত্তম উপায়।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত

হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম

হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম

দেশীয় স্বর্ণবাজারে আবারও দরপতনের খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের ধারাবাহিক প্রভাবে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত