ক্যানসারে আক্রান্ত তৌহিদ আফ্রিদি: রিমান্ডের শুনানিতে চাঞ্চল্যকর দাবি আইনজীবীর

২০২৫ আগস্ট ২৫ ২০:১১:৩৮
ক্যানসারে আক্রান্ত তৌহিদ আফ্রিদি: রিমান্ডের শুনানিতে চাঞ্চল্যকর দাবি আইনজীবীর
ছবিঃ সংগৃহীত

গণমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি লিভার ও ক্যানসারে আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী খায়রুল ইসলাম। সোমবার (২৫ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।

এর আগে আদালতে খায়রুল ইসলাম জানান, মামলার ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, মামলার বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে ভিকটিম নিহত হন। এতে আফ্রিদির কোনো ভূমিকা নেই। আইনজীবী আরও জানান, গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলার বাদী একটি হলফনামা দিয়ে বলেন যে, তথ্যগত ভুলের কারণে আফ্রিদির নাম এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই এই মামলা থেকে আফ্রিদিকে খালাস দিলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

শুনানিতে এই আইনজীবী জানান, আফ্রিদি কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং তার চিকিৎসা চলমান। অতিরিক্ত হাঁটাচলার কারণে তার প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসে। এছাড়াও তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে, বাদীর আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন ও জহিরুল হাসান মুকুল রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তারা বলেন, আফ্রিদি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা তাকে ‘মিডিয়া সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই আসামি লাইভে এসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেন। তাকে রিমান্ডে নিলে জানা যাবে, কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কে কী নির্দেশনা দিয়েছিল এবং কারা অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এই আসামি ডিবি প্রধান হারুনের সঙ্গে একাধিক লাইভ করেছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। তারা আফ্রিদির সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। শুনানিকালে আফ্রিদিকে কাঠগড়ার লোহার রেলিং ধরে মনোযোগ দিয়ে শুনানি শুনতে দেখা যায়।

এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী জানান, আফ্রিদি আন্দোলনের পক্ষেই ছিলেন। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পক্ষে তার একাধিক পোস্ট আছে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, আসামির আলাদা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতে নেই। আফ্রিদির কিডনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আফ্রিদির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আফ্রিদিকে পেটে হাত দিয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। হাজতখানার সামনে তিনি জুতা ছাড়া খালি পায়ে ছিলেন, ভিড়ের মধ্যে তার জুতা হারিয়ে যায়। এর আগে গত ১৩ মে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমও তার মামলার শুনানির সময় জুতা হারিয়েছিলেন। পরে তার জুতা এক পাগলির পায়ে দেখা গিয়েছিল।

গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী থানার পাকা রাস্তার ওপর মো. আসাদুল হক বাবু নামের একজন আন্দোলনকারী নিহত হন। তার বুকে ও ডান পাশে গুলি লাগে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

/আশিক


সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২২ বারের মতো পিছোল

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৪:১৫:৩৮
সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২২ বারের মতো পিছোল
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার একটি আদালত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এটি মামলার তদন্ত সংস্থার ১২২তম বার প্রতিবেদন দাখিলের সময় নেওয়ার ঘটনা। রোববার ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল কিন্তু তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নতুন এই দিন ধার্য করেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক যুগেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬ মাসের সময় নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত শেষে হাইকোর্টের দেওয়া সেই ছয় মাসের সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে যে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এতে অগ্রগতি আছে। এ কারণে তারা তদন্ত শেষ করতে আদালতের কাছে আরও ৯ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।


মাকে প্রভাবিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট নেওয়ায় দণ্ডিত হলেন জয় ও পুতুল

২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১২:২২:৩৩
মাকে প্রভাবিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট নেওয়ায় দণ্ডিত হলেন জয় ও পুতুল

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের করা মামলায় ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এজলাসে এসে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত পুতুল ও জয়ের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া শেখ হাসিনাকে এই দুই মামলাসহ মোট তিন মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায় সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাঁরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও গরিব দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁর নামে রাজউকের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও তিনি তা হলফনামায় গোপন করেছেন এবং আইন লঙ্ঘন করে মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে রাজউকে কোনো আবেদন না করেই মায়ের কাছে আবদার করে আবেদন পেশ করেন এবং ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেছিল। তবে পলাতক থাকায় শেখ হাসিনাসহ পরিবারের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক এবং তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ৩১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

উল্লেখ্য জুলাই আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শেখ হাসিনাকে এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দুর্নীতির দায়ে কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের সাজার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যদিও আওয়ামী সরকারের পতনের পর আপিল বিভাগ থেকে তিনি খালাস পান। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেরও দুর্নীতির কয়েকটি মামলায় সাজার রায় হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে একই সঙ্গে হত্যা ও দুর্নীতির দায়ে বড় সাজার রায় এক নজিরবিহীন ঘটনা।


ডিভোর্সের পর সন্তানের কাস্টডি: কার অধিকার বেশি, কী বলে আইন

২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:০০:৪৬
ডিভোর্সের পর সন্তানের কাস্টডি: কার অধিকার বেশি, কী বলে আইন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত নিয়ে বাবা–মায়ের মধ্যে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে বাবা–মায়ের ব্যক্তিগত আবেগ বা আর্থিক অবস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দ্য চাইল্ড। আদালত সবসময়ই দেখেন, কোন অভিভাবকের কাছে সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও পরিচর্যায় উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।

কাস্টডি নির্ধারণে মূলত অনুসরণ করা হয় Guardians and Wards Act, 1890 এবং মুসলিম পার্সোনাল ল। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট সন্তানের, বিশেষ করে মেয়েশিশুর কাস্টডির প্রথম অধিকার সাধারণত মায়ের। আদালত মনে করেন, ছোট সন্তানের জন্য মায়ের সান্নিধ্য ও পরিচর্যা সর্বাধিক প্রয়োজনীয়। তাই মায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে শিশু সাধারণত মায়ের কাছেই থাকে।

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টডির রায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। যখন শিশুর বয়স ১০–১২ বা এর বেশি হয়, তখন আদালত তার নিজস্ব মতামতকেও বিবেচনায় নেন। শিশুটি কার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, কে তার পড়াশোনা, মানসিক স্থিতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বেশি উপযোগী এসব বিষয় বিচার করে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বাবারা প্রায়ই প্রশ্ন করেন, তারা কি কাস্টডি পাওয়ার সুযোগ রাখেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবশ্যই রাখতে পারেন যদি প্রমাণ করা যায় মা সন্তানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারছেন না। আদালত তখন বাবার কাছে কাস্টডি দিতে পারেন। তবে শুধুমাত্র আর্থিকভাবে ভালো এ কারণেই বাবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাস্টডি পেয়ে যাবেন এমনটি নয়। আদালত এখানে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং জীবনযাপনের পরিবেশকেও গুরুত্ব দেন।

আইন অনুযায়ী, বাবা সাধারণত সন্তানদের আইনগত অভিভাবক বা গার্ডিয়ান হলেও, বাস্তবে সন্তান কার কাছে থাকবে বা কাস্টডি কার কাছে যাবে তা আদালত শিশুর কল্যাণ বিবেচনা করে নির্ধারণ করেন। ফলে বাবা আইনগত অভিভাবক হলেও সন্তান মায়ের কাছেই থাকতে পারে, যদি তার কল্যাণে সেটিই বেশি উপযোগী হয়।

সন্তানকে নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবা–মায়ের টানাটানি আদালতে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আইনবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সন্তান কখনোই কোনো সম্পত্তি নয় যে কে নেবে সে নিয়ে বিতর্ক বা টানাপোড়েন চলবে। সন্তানের জীবন, ভবিষ্যৎ, মানসিক নিরাপত্তা এবং সঠিক দিশা এসবের দায়িত্ব বাবা–মায়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও সমানভাবে যৌথ থাকে।

বাংলাদেশের আদালতও এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারা সবসময়ই নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেন যাতে সন্তান এমন একজন অভিভাবকের কাছে থাকে, যিনি তাকে ভালোবাসা, যত্ন, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা দিতে সক্ষম। আদালতের লক্ষ্য থাকে সন্তান যেন একটি সুস্থ, শান্ত ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে বড় হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিভোর্স যতই তীব্র বা জটিল হোক না কেন, সন্তানের কল্যাণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই সবার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ সন্তান কোনো ঝগড়ার বিষয় নয় সে একটি দায়িত্ব, একটি ভবিষ্যৎ, এবং পরিবারের দুইজন মানুষের ভালোবাসা ও সুরক্ষার অধিকারী।


চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে রিটকারীর পেছনে ভোমা বিড়াল বসে আছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১৮:১৬:৫৯
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে রিটকারীর পেছনে ভোমা বিড়াল বসে আছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির বৈধতা নিয়ে রিটকারীর পেছনে ভোমা বিড়াল বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর রিটের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন যিনি এই রিট করেছেন তিনি একজন ফ্যাট ক্যাট বা ভোমা বিড়াল। তিনি ফ্যাট ক্যাটের পক্ষে এসেছেন। মানে পেছনে কোনো ভোমা বিড়াল বসে আছে টাকা পয়সা নিয়ে। তিনি আরও যোগ করেন পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রেখে সামনে তারা জনস্বার্থের কথা শোনাচ্ছেন যেটাকে আইন পরিভাষায় বলা হয় ফ্যাট ক্যাট। তারা জনস্বার্থের বিষয়ে আসেননি বরং তারা কিছু ভোমা বিড়ালের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসেছেন।

অনেক রাজনৈতিক নেতারাও মিছিল করছেন এবং কথা বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন তারা তাদেরটা করতে পারেন তবে আমরা আমাদের আইনি যুক্তি তুলে ধরেছি।

এর আগে সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

রিট আবেদনের শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

উল্লেখ্য গত ১৩ নভেম্বর আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে গত ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির প্রক্রিয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।


অবশেষে ঘনিয়ে এল প্লট জালিয়াতি মামলায় শেখ হাসিনা,শেখ রেহানা ও টিউলিপের রায়ের দিনক্ষণ

২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১৪:০৪:১৭
অবশেষে ঘনিয়ে এল প্লট জালিয়াতি মামলায় শেখ হাসিনা,শেখ রেহানা ও টিউলিপের রায়ের দিনক্ষণ
ছবিঃ সংগৃহীত

প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের করা এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ ১৭ জনের রায়ের জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ ৪ এর বিচারক রবিউল আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদক এর উপ পরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন রাজউক এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম তন্ময় দাস মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন মেজর ইঞ্জি. সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী অব. সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম উপ পরিচালক নায়েব আলী শরীফ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এদের মধ্যে আসামি খুরশীদ আলম বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। বিচার চলাকালে আলোচিত এই মামলায় মোট ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।


শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে যেন বিচার না হয়: আইনজীবী আমির হোসেন

২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১২:৩৮:২৮
শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে যেন বিচার না হয়: আইনজীবী আমির হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কুষ্টিয়ার ছয়জনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজন আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ট্রাইব্যুনালের কাছে বিশেষ আর্জি জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যেন বিচার না হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিচারিক কার্যধারায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর এই বক্তব্য দেন তিনি।

বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল নিয়ে বৈঠক শুরু করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যে মামলার ঘটনাপ্রবাহ, হত্যাকাণ্ডের বিবরণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, তদন্তের ফলাফল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনের আলোচ্য বিধানগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে কুষ্টিয়ায় নিরীহ ছাত্র জনতার ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছিল এবং এসব অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করার আইনি বিধান আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করেছে। এ মন্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল আইনটির বিধান স্মরণ করিয়ে দেন এবং স্পষ্ট করেন যে এই ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নিরপেক্ষতা বা প্রতিশোধের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিচার করছে না, বরং প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের বক্তব্যের কয়েকটি অংশের সঙ্গে তিনি একমত হলেও তাঁর প্রধান উদ্বেগ হলো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেন পক্ষপাতমূলক আচরণ না হয়। উত্তরে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আল্লাহকে হাজির নাজির মেনে তারা ন্যায়বিচারের দায়িত্ব নিয়ে বসেছেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন বিচারের মুখোমুখি না হন সেই নিশ্চয়তা দিতে ট্রাইব্যুনাল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এই মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৩৮ জন, যার মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ব্যক্তি, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, পুলিশ, সাংবাদিক, জব্দতালিকা প্রণেতা, বিশেষজ্ঞ এবং তদন্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ ৮ ডিসেম্বর ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক।

মামলার তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছাত্র জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ প্রমাণসহ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, সংগঠিত ষড়যন্ত্র এবং হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগ।

-শরিফুল


মেজর সিনহা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উঠে এল সেই রাতের রোমহর্ষক বর্ণনা

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ২১:১৬:০১
মেজর সিনহা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উঠে এল সেই রাতের রোমহর্ষক বর্ণনা
ছবিঃ সংগৃহীত

সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায় ঘোষণার প্রায় পাঁচ মাস পর রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৭৮ পৃষ্ঠার এই রায়টি প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্র বনাম মো. লিয়াকত আলী এবং অন্যান্য শিরোনামে এই রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায়ে সিনহা হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ এবং সেই রাতের নৃশংসতার চিত্র উঠে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওসি প্রদীপ মরণাপন্ন সিনহার বুকে লাথি মেরেছিলেন এবং বুট জুতা দিয়ে গলা চেপে ধরেছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে রায়ে বলা হয় ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার পর সিনহা ভ্রমণবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল জাস্ট গো এর জন্য তথ্যচিত্র বানাতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে ভিডিও তৈরির কাজের সময় তিনি ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের কাছ থেকে নানা অভিযোগ পান। এ নিয়ে তিনি ওসি প্রদীপের কাছে জানতে চাইলে প্রদীপ ক্ষিপ্ত হন এবং সিনহার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এলাকা ছাড়তে বলেন।

হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে রায়ে উল্লেখ করা হয় ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে সিনহা ও তাঁর সঙ্গীরা ভিডিও ধারণ শেষে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গাড়ি থামানোর পর সিনহা হাত উঁচু করে নিজের পরিচয় দেন। ঠিক তখনই লিয়াকত আলী শ্যুট শ্যুট বলে সিনহাকে লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ সিনহা মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় সিনহা পানি চাইলে লিয়াকত তাঁকে গালি দেন এবং কোমরে লাথি মারেন।

এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। উপুড় হয়ে পড়ে থাকা মরণাপন্ন সিনহার কাছে গিয়ে প্রদীপ বলেন অনেক টার্গেট করে তোকে মেরেছি। তখন সিনহা প্রদীপের কাছেও পানি চান। কিন্তু পানি না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে প্রদীপ সিনহার বাঁ বুকে কয়েকটি লাথি মারেন এবং বুট জুতা দিয়ে তাঁর গলার বাঁ দিকে চেপে ধরেন। এতে সিনহার শরীর কাঁপতে কাঁপতে এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। এভাবেই ওসি প্রদীপ মেজর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন বলে ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২ জুন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে এই রায় দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল খারিজ করে সেই দণ্ডই বহাল রাখা হয়েছে।


শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চান জেড আই খান পান্না

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১২:১১:০৩
শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চান জেড আই খান পান্না
ছবি: সংগৃহীত

গুম, খুন, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন।

ট্রাইব্যুনালে আগমনের পর জেড আই খান পান্না বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান। তার ভাষায়, “প্রতিটি আসামির ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। উচ্চপর্যায়ের মামলা হলেও আইনের চোখে সবই সমান। আমি মনে করি, আদালতে তার পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী হিসেবে আমার পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং দেশ-বিদেশে আলোচিত হওয়ায় সঠিক আইনি প্রক্রিয়া ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন জানাবেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংঘটিত অভিযোগসমূহ নিয়ে সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন পেশের কাজ জোরদার হয়েছে। মামলাগুলোর ব্যাপ্তি, চরিত্র এবং প্রভাব বিবেচনায় এটি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেড আই খান পান্নার এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই এখন গভীর মনোযোগের কেন্দ্রে, এবং এই মামলাগুলোর রায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী পান্না বলেন, “আইনই সর্বোচ্চ। ন্যায়বিচারই আমার লক্ষ্য। আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত হবে এটাই আমাদের সাংবিধানিক পথ।”

বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করা হবে।

-শরিফুল


নাসা চেয়ারম্যানকে কালো দরবেশ ডেকে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

২০২৫ নভেম্বর ২০ ২১:৪৯:০৮
নাসা চেয়ারম্যানকে কালো দরবেশ ডেকে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল এম আসাদুজ্জামান। ছবি : পুরোনো

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল এবং মালিককে গুম করার মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলার রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে গুলশানের একটি বাড়ি জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির আইনি কার্যক্রম আবারও সচল হলো। আপিল বিভাগ জানিয়েছে, আগের রায়ের বিরুদ্ধে এখন পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালতে শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল এম আসাদুজ্জামান অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ‘কালো দরবেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশে দুজন দরবেশের অস্তিত্ব ছিল—একজন সাদা এবং একজন কালো। এই মামলার নজরুল ইসলাম মজুমদার হলেন সেই ‘কালো দরবেশ’, যিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে ‘অলিগার্ক’ বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এদের কারণেই দেশের আজকের এই অবস্থা।

মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল আদালতকে জানান, তিনি মূল মামলার আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু তাকে অন্ধকারে রেখে বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বাদীকে গুম করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আরেক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম এই বক্তব্যের সমর্থন করে বলেন, পিটিশনার বা বাদীকে কুখ্যাত ‘আয়নাঘরে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে অস্ত্রের মুখে তাকে দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের কাগজে সই করানো হয়। অপমান ও ভয়ের কারণে পরে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, রাজধানীর বনানীর বাসিন্দা আনোয়ারুল কবির খান ‘এ আর এ জুট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার বাবা অগ্রণী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং এর বিপরীতে গুলশানের বাড়িটি বন্ধক ছিল। ঋণ খেলাপি হওয়ার পর নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নজর পড়ে ওই সম্পত্তির ওপর। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি ভুয়া সমঝোতা দলিল তৈরি করেন, যেখানে বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও স্বাক্ষর দেখানো হয়।

ভুক্তভোগী আনোয়ারুল কবির খান গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে দেওয়া অভিযোগে জানান, জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি দুদক ও আদালতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকাকালে নজরুল ইসলাম মজুমদার তাকে মামলা না চালানোর জন্য হুমকি দিতে থাকেন। এক রাতে তাকে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের চেম্বারে এবং পরে হাইকোর্টের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন কাগজে সই নেওয়া হয়। তাকে বলা হয়েছিল, এগুলো মামলা প্রত্যাহারের আবেদন। সবশেষে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া তিনি যেন দেশ ত্যাগ না করেন। আজকের আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের সেই অন্যায়ের বিচার পাওয়ার পথ নতুন করে উন্মুক্ত হলো।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত