রাতে গরম দুধ খেলে ঘুম ভালো হয়—এ বিশ্বাসের পেছনে কী আছে? জানুন পুষ্টিবিদদের মতামত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৬ ১৮:১৪:১০
রাতে গরম দুধ খেলে ঘুম ভালো হয়—এ বিশ্বাসের পেছনে কী আছে? জানুন পুষ্টিবিদদের মতামত

ঘুমানোর আগে গরম দুধ পান অনেকের অভ্যাস। বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে এ অভ্যাস বহু পুরোনো। বলা হয়ে থাকে, রাতে গরম বা হালকা গরম দুধ খেলে ঘুম ভালো হয়, মানসিক চাপ কমে এবং শরীর-মন উভয়ই স্বস্তি পায়। কিন্তু এই দাবির পেছনে আসলেই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি না, সেটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধে এমন কিছু উপাদান থাকে—যেমন ট্রিপটোফ্যান, অ্যামিনো অ্যাসিড, সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন—যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং ঘুম আনার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো শরীরে সঠিকভাবে কাজ করলে মস্তিষ্কে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খেলে অনেকেই ভালো ঘুম পান।

শুধু ঘুম নয়, দুধকে বলা হয় একটি 'সুপারফুড'। এতে রয়েছে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, মিনারেল ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা হাড় মজবুত করে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে দুধ খেলে পুষ্টির ঘাটতি কমে এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।

পুষ্টিবিদদের মতে, গরম দুধে এক চিমটি কেশর কিংবা এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। তবে দুধের সব উপকার পেতে হলে তা পরিমিত ও নিয়মিত খেতে হবে। অতিরিক্ত দুধ খাওয়ার ফলে শরীরে কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই পরিমাণ জানা অত্যন্ত জরুরি।

যাদের দুধ খাওয়ার পর অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত। সাধারণভাবে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ খাওয়া নিরাপদ ধরা হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী এই পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গরম দুধ ঘুমের সহায়ক হতে পারে, তবে এটি কোনো ম্যাজিক্যাল সমাধান নয়। যারা দুধ খেতে পারেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার এবং রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

সূত্র : নিউজ ১৮


মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৭:৪১
মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ
ছবি : সংগৃহীত

মাথা ব্যথাকে আমরা অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এটি যখন অসহ্য হয়ে দাঁড়ায় তখন দৈনন্দিন কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ছোটখাটো কিছু অসতর্কতাই মূলত হুটহাট মাথার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে দায়ী।

তীব্র আলো, বিকট শব্দ কিংবা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, যা সরাসরি মাথায় চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া যাদের মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রোদ একটি বড় শত্রু। রোদে বের হলে বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। সর্দি বা কফ জমার ধাত থাকলেও মাথা ভার হয়ে ব্যথা হতে পারে।

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। ব্যথা শুরু হলে কোনো শান্ত ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া সময়মতো খাবার খাওয়া এবং বাইরে বের হওয়ার সময় রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। তবে মনে রাখবেন, ঘন ঘন মাথা ব্যথা হলে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি


আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৪:০৩
আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখন আর কেবল সাধারণ রোগ নেই, বরং এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চ মাসেই অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু এবং ১০টি জেলায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং মাতৃদুগ্ধের অভাবের কারণে এই মরণঘাতী ভাইরাসের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

প্যারা-মিক্সোভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগটি এতটাই সংক্রামক যে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একই ঘরে বসবাসকারী ৯০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। হাঁচি-কাশি বা বাতাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি ছড়ায় এবং কোনো পৃষ্ঠে ভাইরাসটি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি দ্রুত ফুসফুস ও লিম্ফ নোড হয়ে এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের শরীরে রোগটি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ৩-৪ দিন শুষ্ক কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং তীব্র জ্বরের পাশাপাশি ক্লান্তি দেখা দেয়। এ সময় মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা ‘কোপলিক স্পট’ দেখা দিতে পারে, যা হামের প্রধান সংকেত। এরপর কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আইসোলেশনে বা আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো সময়মতো টিকা নেওয়া। টিকাদানের হার কম এমন এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত মহামারি রূপ নিতে পারে, তাই শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সফল করা এখন সময়ের দাবি।

/আশিক


অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫০:১০
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

মানসিক চাপ আর নেতিবাচক চিন্তা বর্তমান সময়ে আমাদের নিত্যসঙ্গী। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত নানা কারণে মন বিষণ্ণ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই নেতিবাচক ভাবনার বৃত্তে আটকে থাকলে তা আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। সারাক্ষণ মাথায় ঘুরপাক খাওয়া এই দুশ্চিন্তা কমাতে এবং মনকে চনমনে রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল দারুণ কাজে দিতে পারে।

মন খারাপের সময় নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সক্রিয় রাখাটা সবচেয়ে জরুরি। অলস বসে থাকলে নেতিবাচক চিন্তাগুলো আরও জেঁকে বসে। তাই মন খারাপ হলে ঘরেই হালকা হাঁটাহাঁটি করা, ঘর গোছানো বা সামান্য ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মনকে সতেজ করে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ যেমন—গান শোনা, বই পড়া বা শখের কোনো কাজে ডুবে থাকলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং মনের ওপর চাপ কমে।

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের নেতিবাচক চিন্তার অন্যতম বড় উৎস। অন্যের জীবনের চাকচিক্য দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করলে মন আরও খারাপ হতে পারে। তাই মন খারাপের সময় মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। পরিবর্তে বন্ধু বা পরিবারের বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করলে মনের বোঝা অনেকটাই হালকা হয়। এছাড়া নিয়মিত দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা 'ডিপ ব্রিদিং' করলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তা কমে। মনে রাখবেন, সমস্যা থেকে পালিয়ে নয়, বরং নিজেকে কিছুটা সময় দিয়ে এই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই মনকে শক্ত করা সম্ভব।

/আশিক


তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:১৩:৪২
তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইদানীং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অনেক সময় দেখা যায় যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা সুস্থ জীবনযাপন করছেন, তাদেরও লিপিড প্রোফাইল রিপোর্টে সবকিছু স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অকালেই প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচলিত এইচডিএল বা এলডিএল কোলেস্টেরলের বাইরেও শরীরে এক নীরব ঘাতক লুকিয়ে থাকতে পারে যার নাম লিপোপ্রোটিন। এটি মূলত এমন এক ধরনের কোলেস্টেরল যা নিঃশব্দে রক্তনালিতে চর্বি জমায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই উপাদানের সবচেয়ে ভয়ের দিক হলো এটি সম্পূর্ণ জিনগত বা বংশগত। অর্থাৎ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেও এর মাত্রা খুব একটা কমানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অজান্তে এই প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে থেকে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তে লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে দ্রুত প্রদাহ সৃষ্টি হয় যা কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের পেটের মেদ, ডায়াবেটিস বা পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

এমনকি সাধারণ এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভেতরে ভেতরে রক্তনালির ক্ষতি চলতে পারে। যেহেতু লিপোপ্রোটিনের মাত্রা জন্মগতভাবে নির্ধারিত হয় এবং সারা জীবন প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন জীবনে অন্তত একবার এই পরীক্ষাটি করা জরুরি। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই এটি পরীক্ষা করে নিলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

যদিও লিপোপ্রোটিনের মাত্রা সরাসরি কমানো কঠিন, তবে সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা সর্বনিম্ন রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই হলো এর প্রধান সুরক্ষা কবচ।

অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক সবসময় হুট করে ঘটে না বরং শরীর আগে থেকেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেয় যা আমরা বুঝতে পারি না। লিপোপ্রোটিন ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য ঝুঁকি যা একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই আগেভাগে ধরা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতন হতে পারলে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে এবং প্রিয়জনকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন


স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:১৩:০০
স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুতেই স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীলতা চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

এই ডিজিটাল আসক্তির কারণে অনেকেরই চোখ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, আবার কারো চোখের মণি ভারী হয়ে আসার মতো অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। এসব ছোটখাটো সমস্যা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশলের মাধ্যমে চোখের এই ক্লান্তি দূর করে সতেজতা বজায় রাখা সম্ভব।

একটানা কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সময় চোখের পাতা ফেলি। এর ফলে চোখের মণি ও চারপাশের পেশিতে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, একটানা ড্রাইভিং বা অফিসে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে চোখের বিশ্রামের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি।

চোখের এই ক্লান্তি কাটাতে কোল্ড কমপ্রেস বা শীতল স্পর্শ বেশ কার্যকর। এটি চোখের ফোলাভাব কমাতে দ্রুত আরাম দেয়। এর জন্য বাজার থেকে জেল প্যাক কিনে ব্যবহার করা যায় অথবা বাড়িতেই পাতলা পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চিপে চোখ বন্ধ করে ৮ থেকে ১০ মিনিট চোখের ওপর দিয়ে রাখলে অনেক আরাম মেলে।

কাজের মাঝখানে যখনই চোখ ক্লান্ত লাগবে, তখনই হাতের তালুর সাহায্যে উষ্ণতা বা ভাপ দেওয়া যেতে পারে। দুই হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে ঘষে হালকা গরম করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে আলতোভাবে চোখের ওপর রাখলে পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে। এছাড়া রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও চোখের যত্নে বেশ উপকারী।

যেমন, শসা কুচি বা গোল স্লাইস করে চোখের ওপর রাখলে জ্বালাপোড়া ও চোখের নিচের কালো দাগ কমে। ব্যবহৃত ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ বা টাটকা অ্যালোভেরা জেলও চোখের সতেজতা ফেরাতে দারুণ কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা চোখের সুরক্ষায় একটি বিশেষ সূত্রের কথা বলেন, যাকে বলা হয় ‘২০-২০-২০ নিয়ম’। এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলো প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। এসব পদ্ধতি চোখের সাধারণ ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করলেও, যদি চোখে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা বা তীব্র ব্যথা অনুভব হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

/আশিক


ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১৬:২৯
ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার
ছবি : সংগৃহীত

রূপচর্চায় গোলাপজল একটি অনন্য উপাদান, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর। বিশেষ করে গরমের দিনে ত্বকের জ্বালা ভাব কমাতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সতেজতা ফেরাতে এর জুড়ি নেই। একে ত্বকের 'পানীয়' বলা হয় কারণ এটি ত্বককে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কেবল টোনার হিসেবেই নয়, ঘরোয়া রূপচর্চায় গোলাপজল ব্যবহারের আরও তিনটি দারুণ উপায় রয়েছে।

প্রথমত, গোলাপজল দিয়ে বরফ তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

বরফের ট্রে-তে গোলাপজল জমিয়ে সেই টুকরো মেকআপ করার আগে এক মিনিট মুখে ঘষে নিলে মেকআপ সহজে গলে যায় না এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

দ্বিতীয়ত, এটি দিয়ে সহজেই ফেশিয়াল মিস্ট তৈরি সম্ভব। একটি স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে রোদে পোড়া ত্বকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মেলে।

এছাড়া চোখের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা গোলাপজলে ভেজানো তুলো চোখের ওপর ৫ মিনিট রাখলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত এই অভ্যাসে চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেলও কমে আসে।

/আশিক


যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১০:৫৬
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!
ছবি : সংগৃহীত

পুরুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি হলো টেস্টোস্টেরন হরমোন। এটি কেবল যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গেই নয়, বরং পেশির শক্তি, হাড়ের গঠন, মেজাজ এবং স্মৃতিশক্তির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এই হরমোনের মাত্রা প্রতি বছর গড়ে ১ শতাংশ করে কমতে শুরু করে। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে অনেক সময় অল্প বয়সেই এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শরীর বেশ কিছু সংকেত দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করার পরেও পেশির শক্তি কমে আসা এবং পেটের চারপাশে মেদ জমা এই হরমোন হ্রাসের বড় লক্ষণ। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘদিন এই সমস্যা বজায় থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান ও স্থূলতাকে এই হরমোন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারচলতি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং তা শরীরের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

/আশিক


ফেরী, নৌকা, গাড়ি, পথ- সফর নিরাপদ করতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৪৫:৫৭
ফেরী, নৌকা, গাড়ি, পথ- সফর নিরাপদ করতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে ভ্রমণ একটি অনিবার্য বাস্তবতা। প্রতিদিনই মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। তবে ভ্রমণ যত সহজ হয়েছে, ততই বেড়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। তাই নিরাপদ সফর নিশ্চিত করতে ইসলাম কেবল শারীরিক সতর্কতার ওপরই জোর দেয়নি, বরং আধ্যাত্মিক সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ভ্রমণের প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা একজন মুমিনকে আল্লাহর সুরক্ষার ছায়ায় রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

১. বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া

ভ্রমণের সূচনা হয় ঘর থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে। এই সময় মহানবী (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন-

আরবি:بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

গুরুত্ব: হাদিস অনুযায়ী, এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ নিজেই বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং শয়তান দূরে সরে যায়।

২. যানবাহনে ওঠার দোয়া

যানবাহনে আরোহনের সময় মহানবী (সা.) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন-

আরবি:بسم الله الرحمن الرحيمسُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَوَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: তিনি পবিত্র, যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করেছেন, অথচ আমরা নিজেরা তা আয়ত্ত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে যাব।

বিশ্লেষণ: এই দোয়া মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা নিরাপদ আচরণে সহায়তা করে।

৩. সফরের পূর্ণাঙ্গ দোয়া

ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা, সহজতা ও সুরক্ষার জন্য একটি দীর্ঘ দোয়া রয়েছে-

আরবি:

اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى

اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ

اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ

وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ

উচ্চারণ (সংক্ষেপে): আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা… (পূর্ণ উচ্চারণ উপরে বর্ণিত অনুযায়ী)

অর্থ (সারাংশ): হে আল্লাহ! আমাদের সফর সহজ করো, দূরত্ব কমাও, তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং পরিবারের রক্ষক। সফরের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করো।

গুরুত্ব: এই দোয়া সফরের শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সব ঝুঁকিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

৪. নৌকা, ফেরী বা জাহাজে ভ্রমণের দোয়া

নৌপথে যাত্রার সময় কোরআনে বর্ণিত দোয়া-

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসাহা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।

অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। নিশ্চয়ই আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

৫. পথে কোথাও থামলে যে দোয়া

ভ্রমণের মাঝপথে অবস্থান করলে পড়তে বলা হয়েছে-

আরবি: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

এই দোয়া পড়লে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো ক্ষতি হবে না হাদিসে এমন নিশ্চয়তা এসেছে।

বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ দুর্ঘটনা এবং ভ্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এসব দোয়ার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ভ্রমণের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে এবং সচেতন থাকে, তারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে পড়ে।

ভ্রমণ কেবল শারীরিক চলাচল নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রতিটি যাত্রার শুরু, মাঝপথ এবং সমাপ্তিতে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশান্তি নিশ্চিত করে। তাই ভ্রমণে বের হওয়ার সময় এই দোয়াগুলো পাঠ করা একজন মুমিনের জন্য শুধু আমল নয়, বরং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৯:৩৩:৪৫
পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

ত্রিশ বা চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে অনেক পুরুষের মধ্যেই চুল ঝরে টাক পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ঘন চুল ঝরতে শুরু করলে মানসিক হতাশাও বাড়ে। বাজারচলতি অনেক প্রসাধনী চুল পড়া রোধের দাবি করলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়ই সংশয় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে রাসায়নিক উপাদানের বদলে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে পুরুষেরা চুলের বিশেষ যত্ন নিতে পারেন। তবে কোন তেল কীভাবে ব্যবহার করলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

টাক পড়া রুখতে জেরেনিয়াম তেল অত্যন্ত কার্যকর। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণাগুণ চুল পড়া বন্ধের পাশাপাশি চুলের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। মাথার তালুর চুলকানি বা সংক্রমণ কমাতেও এটি বেশ সহায়ক। ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ ফোঁটা জেরেনিয়াম তেলের সঙ্গে ২ চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাথার তালুতে মালিশ করতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার এড়িয়ে চলাই ভালো।

চুল পড়া কমাতে টি ট্রি অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ মাথার ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে। ব্যবহারের সহজ উপায় হলো নিয়মিত শ্যাম্পুর বোতলে ১০-১৫ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নেওয়া। শ্যাম্পু করার সময় এটি মেখে দুই-তিন মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া মাথা ঠান্ডা রাখতে এবং দ্রুত চুল পড়া বন্ধ করতে পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে এবং নতুন চুল গজাতে ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহারও জনপ্রিয়। নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে চুলে মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং অকালে টাক পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: