পোস্টাল ব্যালটে কত শতাংশ ভোট? জানাল ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১১:০২:৪৬
পোস্টাল ব্যালটে কত শতাংশ ভোট? জানাল ইসি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইদিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি উচ্চ উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এক ব্রিফিংয়ে জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। এই সংখ্যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশের সমান, যা পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও জানান, প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এটি মোট প্রদত্ত ভোটের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি ব্যালট বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশের সমতুল্য। অবৈধ বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যালটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। সালীম আহমাদ খান জানান, বিদেশে অবস্থানরত ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬ জনের পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ব্যবস্থার আওতায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮ জন ভোটারের ব্যালটও গৃহীত হয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন ও পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার সমন্বয় প্রবাসী ও বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে সব ব্যালটের পূর্ণাঙ্গ যাচাই ও সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পোস্টাল ভোটের এই উচ্চ অংশগ্রহণ সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-শরিফুল


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন পদক্ষেপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৪৫:৫৯
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মূল ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ পরিবেশের প্রশংসা করেন। দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত বিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ওপর জোর দেয়।

/আশিক


জ্বালানি সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহ্দী আমি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:৩০:৫৫
জ্বালানি সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহ্দী আমি
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে এই সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এর সঙ্গে একীভূত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় শহরে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হবে।

সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সরকার সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যেহেতু জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই সর্বস্তরের নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কঠোর তদারকির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে শিগগিরই ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে মাহ্দী আমিন জোর দিয়ে বলেন, পাহাড় বা সমতল, ধর্ম-বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের চোখে সমান। বৈচিত্র্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব সুনিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র : বাসস


চার প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল পুলিশের ২৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:২৫:২০
চার প্রজ্ঞাপনে বদলে গেল পুলিশের ২৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করে নতুন দায়িত্বে পদায়ন করেছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদলের নির্দেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনগুলোর একটির মাধ্যমে ঢাকার হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্‌দাছ্‌ছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির (বিপিএ) অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে ঢাকা এসবির পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার, এপিবিএনের পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার পদে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে, খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে এবং ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুককে খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাকি দুটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আরও ১০ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে রদবদল ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়।

/আশিক


সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:১২:১৫
সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সন্ধ্যা থেকে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বিশেষ একটি কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সুফল আজ সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখান থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, কারণ বাজারে এই ট্যাংকের প্রাপ্ততা বেশ সীমিত। তা সত্ত্বেও সরকার হাতে থাকা সমস্ত বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছে।

জনভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ ও সদিচ্ছা প্রত্যক্ষ করছেন। তবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি উৎপাদন রাতারাতি বাড়িয়ে তোলা সম্ভব নয় বিধায় বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর ভুল ও সাময়িক নীতি গ্রহণের মাশুলই আজ জাতিকে দিতে হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে কোনো টেকসই বা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না খুঁজে কেবল তাৎক্ষণিক পথ বেছে নেওয়ার ফলেই বর্তমান কাঠামোগত সংকটের তৈরি হয়েছে, যা এড়ানো কঠিন ছিল।

/আশিক


মানুষকে অভাবে রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:৪৮:৪৭
মানুষকে অভাবে রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে কোনো রাষ্ট্রই শক্তিশালী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি টেকসই এবং মজবুত অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্যাবলি নিশ্চিত করেন।

রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি সরকারের বিশেষ জোর দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আহ্বান জানানো হবে, তবে সবার আগে দেশের নিজস্ব উদ্যোক্তাদের পথ সুগম করা প্রয়োজন। ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অন্যদিকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে চায়।

লিজ গ্রহণকারী দুই বৃহৎ শিল্প গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে লিজ নেওয়া মিলগুলো দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর পর্বে বিজেএমসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:৩৯:৩৭
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকে ঘিরে একটি কুচক্রী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের অখণ্ডতা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অপতৎপরতা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শব্দটির অযৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যগত শান্তি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সার্বিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভৌগোলিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

একই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, তার আড়ালের কোনো পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি দেশের প্রধানতম জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণের ওপর জোর দেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল সেশনে দেশের প্রায় ৪০ জন বরেণ্য বক্তা বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বিশ্লেষণাত্মক বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেন।

/আশিক


সরকারি দল ও জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষ, এবার চোখ ২০ আগস্টে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:২৭:১২
সরকারি দল ও জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষ, এবার চোখ ২০ আগস্টে
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের আসন গ্রহণের জন্য এক বৈঠক আহ্বান করেছেন নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে জাতীয় সংসদের সদস্যদের এই বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারি দল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

/আশিক


রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবসার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২০:১২:৩৪
রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবসার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যায্য ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে বাণিজ্য পরিচালনা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার পরিচিত’ তা আর বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার মাপকাঠি হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি বা মন্ত্রী যত প্রভাবশালীই হন না কেন, কারও জন্য বাড়তি সুবিধা বা বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি নড়বড়ে অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীল অবস্থায় এনে পরবর্তীকালে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো এবং বাজারে একটি নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।

বাণিজ্য পরিচালনা সহজ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত নিয়মকানুনের কারণে ব্যবসায়ের পথ রুদ্ধ হচ্ছিল। সে কারণেই বাজেটে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা নিয়মকানুন শিথিল বা ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আমলাতান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত সব বাধা ধাপে ধাপে অপসারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা এবং বাড়তি খরচের সার্বিক প্রভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের জটিলতা যত বাড়ে, পণ্য খালাসে তত বিলম্ব হয় এবং ব্যবসায়ীদের পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। চূড়ান্ত বিচারে সেই বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর গিয়েই পড়ে। তাই পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও সহজ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ কমানোর সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমাধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের কাস্টমস ও বন্দরের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে।

বন্দর চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জট লেগে থাকা কনটেইনার ও পণ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনি বা অন্যান্য জটিলতায় আটকে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ চালান দ্রুত নিষ্পত্তি করে বন্দর চত্বরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এছাড়া চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন, যা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে। চট্টগ্রামকে কেবল লজিস্টিকস হাব হিসেবেই নয়, বরং পুরো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

/আশিক


মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:৪৭:১৩
মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশসংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেছেন যে, একটি গুপ্ত মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রণালয়ের সভার প্রস্তাবিত রেজুলেশন বা সিদ্ধান্তের চিঠি প্রকাশ হওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন মন্ত্রী নিজে। সেই নথি মন্ত্রীর দফতরে অনুমোদনের আগেই কীভাবে জনসমক্ষে এল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রস্তাবিত নথির শেষাংশেই উল্লেখ ছিল যে মন্ত্রী সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন করলে তবেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু সেই শর্ত গোপন করে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই ৩৬-এর ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সময় এসেছে। কিন্তু বর্তমানে বুঝে কিংবা না বুঝে কথায় কথায় আন্দোলন শুরু করার এক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ কিংবা পাস-ফেল—সব কিছু নিয়েই অহেতুক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি খেদ প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি ঘোষিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছিল খাতায় ইচ্ছামতো নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সেই বক্তব্যকে কিছু মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন বা বিকৃত করা হয়েছে। তিনি জানান, গণমাধ্যম ও শিক্ষিত সমাজের সামনে খোলামেলা কথা বলার পর যদি মন্তব্যকে অন্য খাতে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ভাষাতেই উত্তর দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে আন্দোলনে নামার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রায় ৭৭ হাজার শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য যখন সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ৫ মাস যেতে না যেতেই বানোয়াট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। পরিশেষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রায় ২০০০ শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: