ঢাকা-৮ কেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৩:৫৬:১০
ঢাকা-৮ কেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজধানীর একটি কেন্দ্রে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-৮ আসন–এর রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি কেন্দ্রটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত একদল ব্যক্তি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থিত একটি গোষ্ঠী কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীর অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও কিছু স্থানে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করছেন।

-রফিক


ভোট দিয়ে জয়ে শতভাগ আশাবাদী তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১২:৫১:২৭
ভোট দিয়ে জয়ে শতভাগ আশাবাদী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ বিরতির পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার কিছু পর রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নির্বাচনে জয় নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বলেন, বহু বছর ধরে দেশের মানুষ এমন একটি দিনের প্রত্যাশায় ছিলেন।

তারেক রহমান মন্তব্য করেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক ছিল, তা কাটিয়ে নাগরিকরা এবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করবেন বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের সক্রিয় উপস্থিতিই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে।

গত রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিষয়টি তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের দিনশেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের দৃঢ় উপস্থিতিই যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর দল বিজয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থাশীল। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য এমন প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাঁদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির উদ্যোগ শুরু থেকেই বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু সময় পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কারভাবে মূল্যায়ন করা যাবে।

সবশেষে তিনি দেশের সকল নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, নিরাপত্তা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকারই প্রাধান্য পেয়েছে।

-রফিক


নারী এজেন্টদের হেনস্তা করা হচ্ছে: তাসনিম জারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:৫১:১৯
নারী এজেন্টদের হেনস্তা করা হচ্ছে: তাসনিম জারা
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁর পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নারী পোলিং এজেন্টদের নানাভাবে হেনস্তা করা এবং অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্রের বাইরে বের করে দেওয়ার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। তাসনিম জারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং নারী কর্মীদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা চাই সবাই যেন উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।"

নির্বাচন কমিশন যেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিরাপদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে একজন নারী প্রার্থীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাসনিম জারা জানান, তাঁর এজেন্টদের সুরক্ষা এবং কেন্দ্রে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার সহযোগিতা কামনা করছেন। উল্লেখ্য যে, ঢাকা-৯ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তুঙ্গে এবং জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন। খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে যখন তিনি এই অভিযোগগুলো করছিলেন, তখন সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কিছুটা উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযুদ্ধে সারাদেশে ২৯৯টি আসনে যে বিশাল জনস্রোত দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যেই এমন বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তাসনিম জারার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে তিনি ভোট কারচুপি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।


ভয়ের কিছু নেই, ভোট হবে উৎসবের: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:৪০:৩২
ভয়ের কিছু নেই, ভোট হবে উৎসবের: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ এক নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর ভোট প্রদান এবং তাঁর সাহসী বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কারিগর। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "ভোট ভয়ের কিছু নয়, ভোট হবে উৎসবের। মানুষ কোনো শঙ্কা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।" তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র থেকে বড় কোনো অভিযোগ বা জটিলতার খবর পাননি এবং তিনি যেকোনো মূল্যে দেবিদ্বারে সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক দিন ধরে জুলাই আন্দোলনে হামলার সাথে জড়িত একটি অশুভ গোষ্ঠী ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "যতই বেলা গড়াবে, অশুভ শক্তির চক্রান্ত নস্যাৎ করে আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবো।" অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভুইয়া নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত ‘সুষ্ঠু’ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে তাঁরা সারারাত যুদ্ধ করেছেন এবং এখন ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের রায় দিচ্ছেন।

কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনেই ১ হাজার ৪৯১টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ৪৮ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটারের এই জেলায় নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি নির্দেশ করছে যে, মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে কতটা উচ্ছ্বসিত। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কুমিল্লার মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:৪৪:৩১
সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান 
ভোট দিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত মনিপুর বয়েজ হাই স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন তিনি। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত অথচ আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, "দীর্ঘ অনেক বছর পর আজ ভোট দিতে পারলাম। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারাগারে বন্দি থাকার কারণে আমি নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আজ মহান আল্লাহ তায়ালা সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন কেবল শান্তিপূর্ণ ও সন্ত্রাসমুক্তই হবে না, বরং দেশ-বিদেশে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নজির স্থাপন করবে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জামায়াত আমিরের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ভোট যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে জনগণের রায়ে যে ফলাফলই আসুক না কেন, আমরা তা বিনাবাক্যে মেনে নেব। একইসাথে আমি জয়ী এবং পরাজিত—সব পক্ষকেই জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।" ডা. শফিকুর রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সরকারের স্বপ্ন তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের পকেট সরকার হবে না; বরং তা হবে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার। দেশের উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। সারাদেশে ২৯৯টি আসনে যে বিশাল ভোটগ্রহণ চলছে, সেখানে ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার পরামর্শ দিলেও বড় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। প্রায় ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সহস্রাধিক ম্যাজিস্ট্রেটের নজরদারিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:৪০:০৩
দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালের সোনালি রোদে নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়েছে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন। ফখরুল বলেন, "আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের জন্য এক শুভ সূচনার দিন। দীর্ঘকাল ধরে চলা দমন-পীড়ন, অনেক রক্তপাত আর অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ এই ভোট দেওয়ার পরিবেশ ফিরে পেয়েছি। ২৪-এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক ও শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা যে নতুন দেশ পেয়েছি, সেই দেশের গণতন্ত্রের যাত্রা আজ থেকে আবার নতুন করে শুরু হলো।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই গণতান্ত্রিক পথ আগামী দিনে আরও মসৃণ হবে এবং মানুষের জীবন, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, আজকের এই দিনটির জন্য তাঁরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা অনেক সংগ্রাম করেছি এই দিনটির জন্য। আজ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার হবে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যারা দীর্ঘকাল পর একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশের সাক্ষী হচ্ছেন।


 ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:০৯:১০
 ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহা-ভোটের দিনে আজ সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ঢাকা-১১ আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় এক গণতান্ত্রিক ও সহনশীল মানসিকতার পরিচয় দেন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "জনগণের রায় যেটাই হোক, আমরা তা হাসিমুখে মেনে নেব। আমাদের কাছে ব্যক্তিগত জয় বা পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠুভাবে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটটি দিতে পারে।" তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনী মাঠে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, সারাদেশের ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তাতে ১১ দলীয় জোট এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি নির্বাচনের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকে এবং ভোট গণনা স্বচ্ছ হয়, তবে তাঁর জোট বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে আসবে। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে এর আগে আইনি লড়াইও চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, নাহিদ ইসলাম ড. কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন। যদিও আদালত সেই শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন, ফলে আজকের এই ব্যালট যুদ্ধে দুজনেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।

ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনটি (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের এই আসনে আজ সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি নির্দেশ করছে যে, তাঁরা তাঁদের আগামীর প্রতিনিধি নির্বাচনে অত্যন্ত সচেতন। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম এবং এনসিপি’র নাহিদ ইসলামের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম আশা করছেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দিনশেষে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটবে।


অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ২১:৪৩:০৪
অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে গেছেন তারেক রহমান / ছবি : বিএনপির মিডিয়া সেল

নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে অসুস্থ দলীয় সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে গিয়েছেন তিনি। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই জ্বর, ঠান্ডা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রিজভী।

রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারেক রহমান হাসপাতালে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। নির্বাচনের এই ব্যস্ত সময়েও দলীয় প্রধানের এমন পরিদর্শন কর্মীদের মধ্যে বড় আবেগ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না, জালিয়াতি রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ২১:০৬:৩৮
এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না, জালিয়াতি রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ভোট কারচুপি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান, অতীতের মতো এবার আর জালিয়াতি মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, "এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না। কেউ যদি জাল ভোট দিতে আসে বা সিল মেরে ব্যালট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৪শ শহীদের রক্ত ও হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ এই নির্বাচনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তিনি দেশবাসীকে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "ভোট যাকেই দিন, অবশ্যই কেন্দ্রে আসবেন। নিজের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের ভোটও যেন নিশ্চিত হয়, সেদিকে নজর রাখুন।" এনসিপি নেতা দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে আছে এবং এই জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ অত্যন্ত কড়া বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে অনেক মিডিয়া হাউস পক্ষপাতিত্ব করেছে যাদের তখন ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবারের নির্বাচনে যদি কোনো মিডিয়া অসততা বা পক্ষপাতের আশ্রয় নেয়, তবে নির্বাচনের পর তাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, কাদের ভূমিকা কেমন তা নোট রাখা হচ্ছে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকাকে তিনি সাধুবাদ জানান।


ভোটের বাধা রুখতে জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন জামায়াত নেতা জুবায়ের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৯:১২:১৪
ভোটের বাধা রুখতে জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন জামায়াত নেতা জুবায়ের
ব্রিফ করছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যদি ভোটের পরিবেশ নষ্ট বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা দাঁতভাঙা জবাবের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বারবার বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।

বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটকের ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগের দিন একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে এভাবে বিপুল নগদ টাকাসহ আটকের নাটক সাজানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি অবিলম্বে বেলাল উদ্দিন প্রধানকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানান এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। জুবায়েরের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত অর্থ কোনোভাবেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণভাবে বেলাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ।

একই সময়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য যেন ‘অপতথ্য’ হিসেবে প্রচারিত না হয় সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমেই কেবল একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন বা কোনো গোষ্ঠী যদি নির্দিষ্ট কোনো দলের দিকে ঝুঁকে পড়ে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। জামায়াতে ইসলামী যেকোনো মূল্যে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত: