পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:৫৫:৩৭
পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সাধারণ মানুষের রায়কেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক দৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী বার্তা দিয়েছেন। সিইসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, "নির্বাচন কেমন হচ্ছে, তা আপনারা এবং জনগণই মূল্যায়ন করবেন। আমরা কারও পক্ষে নই, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আমাদের একটাই লক্ষ্য—সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া।"

অতীতের বিতর্কিত ও ‘পাতানো’ নির্বাচনের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, দেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোকে তিনি ইতিহাসের কলঙ্কিত অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এখন সেসব ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে কেউ পক্ষপাতিত্ব করলে তাকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। সিইসির মতে, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, তা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার এক অনন্য উদাহরণ।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইসির এই জোরালো অবস্থান ভোটারদের মনে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে, যারা দীর্ঘ সময় পর একটি নিরাপদ ও কারচুপিবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন।


১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:২৫:৫৫
১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি
ভোট দিয়ে ‘ভীষণ আনন্দিত’ মোহাম্মদ হারুন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের এক রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ব্যালট পেপারে নিজের রায় লিখছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও আবেগের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি নির্বাচনের খবর নয়—বরং এটি একটি প্রজন্মের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মহাকাব্য। ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হারুন যখন বলেন, "১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত," তখন তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক দীর্ঘ নির্বাসিত নাগরিক অধিকারের ফিরে আসার তৃপ্তি। হারুনের মতো অনেক ভোটারই আজ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এই কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন কেবল একটি স্বাধীন ভোট দেওয়ার আশায়।

এই আবেগঘন পরিস্থিতির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী গল্পটি শুনিয়েছেন জাইনাব লুৎফুন নাহার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি যখন শেষবার ভোট দিয়েছিলেন, তখন তাঁর মেয়ে তাঁর গর্ভে ছিল। আজ দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন তিনি আবার ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, তাঁর সেই মেয়ের বয়স এখন ১৭ বছর। জাইনাবের এই অনুভূতি কেবল ব্যক্তি জাইনাবের নয়, বরং বাংলাদেশের সেই কোটি কোটি ভোটারের যারা ২০০৮ সালের পর আর কোনো অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। জাইনাব চান তাঁর মেয়ে যে নতুন বাংলাদেশে বড় হচ্ছে, সেটি যেন হয় প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশ; যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং প্রত্যেকের থাকবে পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযজ্ঞে দেশের ২৯৯টি আসনে যে অভূতপূর্ব সাড়া দেখা যাচ্ছে, তা এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের লড়াই চললেও সাধারণ মানুষের মূল লক্ষ্য একটিই—গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করা। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই বিশাল অংশগ্রহণে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটারদের যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, ভোটারদের প্রত্যাশা এখন কেবল সেটুকুই।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: ডক্টর ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১১:১৬:৪৬
আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: ডক্টর ইউনূস
ছবি : সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আজ এক ‘নতুন বাংলাদেশের’ জন্ম হলো বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক দিনটিকে ‘মহা আনন্দের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. ইউনূস অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আজকের এই দিনটি আমাদের সবার জন্য মুক্তির দিন। আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটল এবং এক নতুন স্বপ্নের পথ চলা শুরু হলো। আজ আমরা প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুবর্ণ সুযোগ পেলাম।"

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে কেবল সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের ভোট দেওয়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আয়োজিত ‘গণভোটকে’ বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "প্রার্থীদের ভোট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গণভোট কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই গণভোটের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি নির্ধারিত হবে।" আনন্দঘন এই নির্বাচনী পরিবেশকে ঈদের খুশির সঙ্গে তুলনা করে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "আজ আমরা সারাদিনব্যাপী বাংলাদেশের জন্মদিন পালন করব। আসুন সবাই মিলে উৎসব করি। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি—ঈদ মোবারক।" ড. ইউনূসের এই ‘ঈদ মোবারক’ সম্ভাষণ ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উল্লাস ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।


টাকা বহন নিয়ে আগের বক্তব্য অস্বীকার করলেন ইসি সচিব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ২১:৩১:৪৯
টাকা বহন নিয়ে আগের বক্তব্য অস্বীকার করলেন ইসি সচিব
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তাঁর আগের আলোচিত বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ‘৫০ লাখ নয়, ৫ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর আগের বক্তব্যের ব্যাপারে এই সাফাই পেশ করেন। সচিব স্পষ্ট করে বলেন যে, কত টাকা বহন করা যাবে বা যাবে না, সে বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার বা ক্ষমতা তাঁর নেই।

বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দের ঘটনার পর গণমাধ্যমে ইসি সচিবের বরাত দিয়ে টাকা পরিবহনের আইনি সীমা নিয়ে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বৈধ উৎস থাকলে ৫ কোটি টাকা বহনেও বাধা নেই। তবে সন্ধ্যায় সচিব দাবি করেন, তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট অংক উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “আমি শুধু বলেছি, যারা অর্থটি জব্দ করেছে, তারা এর উৎস, পরিমাণ এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। আইনি ব্যাখ্যাও তারাই দেবে, আমি নই।”

সচিবের এই ‘ইউ-টার্ন’ বা বক্তব্য অস্বীকার করার বিষয়টি বর্তমানে টক অফ দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আগের দিন এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর আগের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


উৎসবের আমেজে ভোট দিন: শান্তি রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৯:২৭:৪১
উৎসবের আমেজে ভোট দিন: শান্তি রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি 
ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে একযোগে ভোটকেন্দ্রে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সিইসি তাঁর ভাষণে ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, "গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি হলো নির্বাচন। আপনারা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং দিনশেষে নির্বাচনের যে ফলাফল আসবে, তার জয়-পরাজয়কে উদারচিত্তে মেনে নেবেন।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো প্রকার উসকানি বা গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সিইসি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে এই নির্বাচনকে সার্থক ও সফল করে তুলতে হবে।

সিইসি তাঁর বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যদি কোনো কেন্দ্রে পেশিশক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করা হয় বা কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায় যাতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে সবাইকে অংশীদার হওয়ার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান।


প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন? এক নজরে দেখে নিন ভোটকেন্দ্রের বিস্তারিত নিয়মাবলি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৭:২২:২৩
প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন? এক নজরে দেখে নিন ভোটকেন্দ্রের বিস্তারিত নিয়মাবলি
ছবি : সংগৃহীত

প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া মানে শুধু একটি সিল মারা বা বোতাম চাপা নয়, এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি নিজের মতামতকে যুক্ত করার এক অনন্য সুযোগ। যারা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন, তারা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নিজেদের প্রথম ছাপ ফেলতে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তটি কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে আপনার অধিকার ও ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। তবে প্রথমবার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকে জেনে রাখা ভালো, যাতে কেন্দ্রে গিয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। প্রথমেই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার স্লিপটি সংগ্রহ করে নিশ্চিত করুন যে ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও কেন্দ্রের তথ্য সঠিক আছে কি না। নিজের ভোটকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান এবং সেখানে পৌঁছানোর যাতায়াত ব্যবস্থা আগেভাগে ঠিক করে রাখলে ভোটের দিন অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি বা ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে।

ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও তাদের দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা মেনিফেস্টো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। শুধু কারো জনপ্রিয়তা দেখে নয়, বরং দল বা প্রার্থীর অতীতের কাজের রেকর্ড এবং আগামীর উন্নয়ন পরিকল্পনা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া বা চারপাশের মানুষের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের বিচারবুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। মনে রাখবেন, আপনার একটি ভোটই হতে পারে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন, বড় কোনো ব্যাগ বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস সাথে না নেওয়াই ভালো। যদি ফোন নিতেই হয়, তবে কেন্দ্রের ভেতরে তা অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও করা বা ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে সেলফি তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার পছন্দের প্রার্থীর গোপন ব্যালটের অধিকার আপনারই, তাই কাকে ভোট দিচ্ছেন সেটি গোপন রাখা এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব।

ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধরুন। আপনার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আপনাকে ব্যালট পেপার বা ইভিএম-এর কাছে পাঠাবেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ব্যালটে সিলের মাধ্যমে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের পর আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করুন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং আপনার প্রথম ভোটদানের অভিজ্ঞতাকে অর্থবহ করে তুলবে। ভোট কেবল একটা কাগজে সিল মারা নয়, এটি আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশন


টাকা বৈধ হলে ৫ কোটি বহনেও বাধা নেই: ইসি সচিব 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৭:১৫:৪৩
টাকা বৈধ হলে ৫ কোটি বহনেও বাধা নেই: ইসি সচিব 
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটের সময় বৈধ উৎস দেখাতে পারলে টাকা বহনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সচিবের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটকের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, "টাকা যদি বৈধ হয় এবং এর সোর্স ও ব্যবহারের বৈধ খাত দেখানো যায়, তবে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও কোনো সমস্যা নেই।" তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই টাকা যদি নির্বাচনে কোনো ভোটারকে প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আর টাকার উৎস অবৈধ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর কাছে প্রায় ৫০ থেকে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে গণনা করা হচ্ছে। আটক বেলাল উদ্দিন দাবি করেছেন, এই টাকা তাঁর ব্যবসার এবং তিনি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিলেন। আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য রংপুর সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


 ১৮ মাসের ইউনূস সরকার: সাফল্য বনাম ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:১১:৪৫
 ১৮ মাসের ইউনূস সরকার: সাফল্য বনাম ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ 
ছবি : সংগৃহীত

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ১৮ মাসের দায়িত্বকাল শেষ করতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করা এই সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরকারের তিনটি প্রধান লক্ষ্য—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন আয়োজন—এই তিন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিতর্ক সমানতালে চলছে।

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। প্রথমে নির্বাচনের সময় নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও বিএনপি ও অন্যান্য দলের চাপে শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়। এই দিনেই অন্তত ৩০টি বিষয়ে দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে চারটি প্রধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, দেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত বেশি সংস্কার কার্যক্রম আগে কখনো হয়নি। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সরকার কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের পথে এগোলেও অনেক ক্ষেত্রে 'পিক অ্যান্ড চুজ' বা পছন্দমতো বিষয় বাছাই করার নীতি গ্রহণ করেছে, যার ফলে শিক্ষা বা নারীর সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবহেলিত হয়েছে।

বিচারের ক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং গুম-খুনের অভিযোগে সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনাকে সরকার বড় অর্জন মনে করছে। তবে ঢালাও হত্যা মামলা এবং সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন—এটি কি আসলেও 'বিচার নাকি প্রতিশোধ', যা স্বচ্ছতার অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতি ও রিজার্ভের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার সফল হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা কমাতে ৫টি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে; ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশে। বিশেষ করে চাল ও নিত্যপণ্যের দাম না কমা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ১৮ মাসে 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনির সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন মাজার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংবাদপত্রের ভবনে হামলা সরকারের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিচ্ছিন্ন আক্রমণের ঘটনাগুলো নাগরিক নিরাপত্তায় বড় ক্ষত তৈরি করেছে। অধিকার-এর তথ্যমতে, গত ১৪ মাসে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে। যদিও সরকারের দাবি, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।


রাত পেরোলেই ভোট: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৩০:৫৭
রাত পেরোলেই ভোট: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাত পেরোলেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের কাজগুলো গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ভোটযজ্ঞে এবার মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো দেশ, যেখানে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে অত্যাধুনিক নজরদারি।

শেষ সময়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা ভোটের মাঠের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করছেন। বাংলাদেশে ভোট মানেই একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে সংঘাত ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা। বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৪টিতে উৎসবের আমেজ বজায় থাকলেও বাকি ৮টিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কারচুপি রুখতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যের শরীরে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং আকাশপথে নজরদারি করবে পাঁচশর বেশি ড্রোন।

সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মিলিয়ে এবার মাঠে থাকছেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য মূল দায়িত্বে নিয়োজিত। সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ সেনা সদস্যের পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীও বিশেষ নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করবেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে। এ ছাড়াও দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থেকে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় ও ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিকের পাশাপাশি ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিকও সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন করেছেন।


দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:৫৯:৫৫
দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্বচ্ছ, আধুনিক এবং টেকসই রোডম্যাপ রেখে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল দুর্নীতির ‘আর্কিটেকচার’ ভেঙে ফেলা। এর অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘২০১০ সালের দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইন’ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিইআরসি-কে (BERC) পূর্ণ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে গত দেড় বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয়নি। দুর্নীতির চিত্র চিহ্নিত করতে জাতীয় পর্যায়ের কমিটি এবং বিচারপতি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অধীনস্থ কোম্পানির চেয়ারম্যান হওয়ার যে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে বড় অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেল আমদানিতে রিফাইনারি মালিকানার শর্ত তুলে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং প্রিমিয়াম ৩৫ শতাংশ কমায় গত ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ ছাড়া ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

গ্যাস ও কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের সংশোধিত চুক্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে কোনো কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী মার্চ মাসে সেখান থেকে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হতে পারে। আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিটিও বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি পর্যালোচনার অধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

পাঠকের মতামত: