গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়জয়কার: জুলাই সনদের হাত ধরে আসছে নতুন সংবিধান!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশের ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ওপর গণভোট। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলের ট্রেন্ড বলছে, বাংলাদেশের মানুষ বড় ব্যবধানে রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রস্তাবনার পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছে। ঢাকার ১০৬টি ভোটকেন্দ্রের পাওয়া বেসরকারি হিসাবে দেখা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। অন্যদিকে সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। অর্থাৎ প্রাথমিক এই ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি এগিয়ে রয়েছে।
যদি চূড়ান্ত ফলাফলেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তবে বাংলাদেশের সংবিধানে নজিরবিহীন কিছু আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর পদের সময়সীমা নির্ধারণ; যেখানে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন বিধানও কার্যকর হবে। সনদে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ১০০ জন সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন।
প্রস্তাবিত সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি এখন থেকে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে; প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও এখন কেবল গণভোটের চূড়ান্ত রায়ের দূরত্বে দাঁড়িয়ে।
স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নির্বাচন: অ্যাপের গ্রাফে বোঝা যাচ্ছে কার পাল্লা ভারী!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবার অভাবনীয় এক উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটাররা যাতে ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ‘রিয়েল টাইম’ বা তাৎক্ষণিক ভোটের ফলাফল জানতে পারেন, সেজন্য ইসি চালু করেছে ‘Smart Election Management BD’ নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে এই ডিজিটাল গাইড। এই অ্যাপটি চালুর ফলে প্রথাগত ফলাফলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি বা সংবাদপত্রের দিকে তাকিয়ে থাকার দিন শেষ হলো।
এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর লাইভ আপডেট ফিচার। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড করা হচ্ছে। ফলে প্রার্থী বা দল অনুযায়ী প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ও শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। যারা নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত ভোটারের তথ্য জানতে চান, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর দিয়ে লগইন করলে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে সাধারণ ফলাফল দেখার জন্য কোনো লগইনের প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনের জটিল তথ্যগুলো সহজে বোঝার জন্য অ্যাপটিতে আকর্ষণীয় গ্রাফ ও চার্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটের ধাপে ধাপে অগ্রগতি ও তুলনামূলক চিত্র খুব সহজেই বোঝা সম্ভব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই ডিজিটাল পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনি তথ্য প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানোর সুযোগ চিরতরে বন্ধ হবে। বর্তমানে রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রগুলো থেকে ফলাফল আসার চাপ বাড়ায় অ্যাপটির ব্যবহারকারী সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, সার্ভারে চাপ থাকলেও তথ্য আপলোডের গতি রয়েছে সচল।
পুরো জাতিকে ডক্টর ইউনূসের অভিনন্দন: নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট এক নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই মহান গণতান্ত্রিক আয়োজন সফল করার জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ড. ইউনূস বলেন, "আজকের এই দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক মাইলফলক। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অঙ্গীকার কতটা অটুট।"
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠান—নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ড. ইউনূস দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, "বাংলাদেশ আজ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু করলাম।"
ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যেন বজায় থাকে। মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যাবে। ‘মুক্তির দিন’ এবং ‘নতুন স্বপ্নের শুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রফেসর ইউনূসের এই অভিনন্দন বার্তা নির্বাচনী উত্তেজনা ছাপিয়ে সারাদেশে এক ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
ভোটগ্রহণ শেষ, এখন চলছে চূড়ান্ত গণনা: কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি?
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই দিনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে রুদ্ধশ্বাস ভোট গণনা। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোর বাইরে এখন উৎসুক জনতা আর সমর্থকদের ভিড়, সবার নজর এখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাত থেকে আসা প্রাথমিক ফলাফলের দিকে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ নিয়ে হওয়া গণভোটের রায় কী আসে, তা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গণনা শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলগুলো সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোট প্রদানের গড় হার ছিল প্রায় ৪৭.৯১ শতাংশ। তবে বিকেলের শেষ দুই ঘণ্টায় ভোটারদের ঢল নামায় চূড়ান্ত ভোট প্রদানের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে কমিশন ধারণা করছে। সচিব উল্লেখ করেন যে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশের ২৯৯টি আসনে নির্বাচন সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৯ লাখেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্যের কঠোর পাহারার কারণে কোনো কেন্দ্রেই বড় ধরনের অনিয়ম বা জালভোটের সুযোগ পায়নি দুর্বৃত্তরা। যারা নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে এখনো সক্রিয় রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে, তা এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতেও প্রবীণ ও নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনার পর সেগুলো সমন্বিত করে আজ গভীর রাত থেকেই প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা শুরু হতে পারে। ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিশাল রাজনৈতিক সংস্কারের পরীক্ষা ব্যালট বাক্সে কী রায় নিয়ে আসে, তা দেখার জন্য পুরো দেশ এখন প্রহর গুনছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির চাবিকাঠি যাঁর হাতে, সেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ নিজে ভোট দিয়ে জনগণের মাঝে আস্থার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বারিধারা ডিওএইচএস-এর স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দেশজুড়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, আগের মতো একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার দিন শেষ। "যদি এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ বা ভিডিও থাকে, তবে তা আমাদের দিন; আমরা কঠোরতম ব্যবস্থা নেব,"—এমন এক খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ আসেনি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় থাকার কারণে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটার সুযোগ নেই। তাঁর এই বক্তব্য ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে, বিশেষ করে যারা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়েও শান্তি বজায় রাখতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে ফলাফল ঘোষণার পর কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে। সরকার যে একটি ‘ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল’ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আজ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বারিধারার মতো ঢাকার প্রতিটি এলাকাতেই আজ ভোটারদের উৎসবমুখর উপস্থিতি তাঁর এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সাধারণ মানুষের রায়কেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক দৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী বার্তা দিয়েছেন। সিইসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, "নির্বাচন কেমন হচ্ছে, তা আপনারা এবং জনগণই মূল্যায়ন করবেন। আমরা কারও পক্ষে নই, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আমাদের একটাই লক্ষ্য—সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া।"
অতীতের বিতর্কিত ও ‘পাতানো’ নির্বাচনের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, দেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোকে তিনি ইতিহাসের কলঙ্কিত অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এখন সেসব ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে কেউ পক্ষপাতিত্ব করলে তাকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। সিইসির মতে, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, তা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার এক অনন্য উদাহরণ।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইসির এই জোরালো অবস্থান ভোটারদের মনে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে, যারা দীর্ঘ সময় পর একটি নিরাপদ ও কারচুপিবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন।
১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি
দীর্ঘ ১৭ বছরের এক রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ব্যালট পেপারে নিজের রায় লিখছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও আবেগের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি নির্বাচনের খবর নয়—বরং এটি একটি প্রজন্মের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মহাকাব্য। ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হারুন যখন বলেন, "১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত," তখন তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক দীর্ঘ নির্বাসিত নাগরিক অধিকারের ফিরে আসার তৃপ্তি। হারুনের মতো অনেক ভোটারই আজ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এই কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন কেবল একটি স্বাধীন ভোট দেওয়ার আশায়।
এই আবেগঘন পরিস্থিতির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী গল্পটি শুনিয়েছেন জাইনাব লুৎফুন নাহার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি যখন শেষবার ভোট দিয়েছিলেন, তখন তাঁর মেয়ে তাঁর গর্ভে ছিল। আজ দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন তিনি আবার ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, তাঁর সেই মেয়ের বয়স এখন ১৭ বছর। জাইনাবের এই অনুভূতি কেবল ব্যক্তি জাইনাবের নয়, বরং বাংলাদেশের সেই কোটি কোটি ভোটারের যারা ২০০৮ সালের পর আর কোনো অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। জাইনাব চান তাঁর মেয়ে যে নতুন বাংলাদেশে বড় হচ্ছে, সেটি যেন হয় প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশ; যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং প্রত্যেকের থাকবে পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযজ্ঞে দেশের ২৯৯টি আসনে যে অভূতপূর্ব সাড়া দেখা যাচ্ছে, তা এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের লড়াই চললেও সাধারণ মানুষের মূল লক্ষ্য একটিই—গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করা। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই বিশাল অংশগ্রহণে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটারদের যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, ভোটারদের প্রত্যাশা এখন কেবল সেটুকুই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: ডক্টর ইউনূস
বিগত দেড় দশকের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আজ এক ‘নতুন বাংলাদেশের’ জন্ম হলো বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক দিনটিকে ‘মহা আনন্দের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. ইউনূস অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আজকের এই দিনটি আমাদের সবার জন্য মুক্তির দিন। আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটল এবং এক নতুন স্বপ্নের পথ চলা শুরু হলো। আজ আমরা প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুবর্ণ সুযোগ পেলাম।"
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে কেবল সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের ভোট দেওয়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আয়োজিত ‘গণভোটকে’ বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "প্রার্থীদের ভোট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গণভোট কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই গণভোটের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি নির্ধারিত হবে।" আনন্দঘন এই নির্বাচনী পরিবেশকে ঈদের খুশির সঙ্গে তুলনা করে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "আজ আমরা সারাদিনব্যাপী বাংলাদেশের জন্মদিন পালন করব। আসুন সবাই মিলে উৎসব করি। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি—ঈদ মোবারক।" ড. ইউনূসের এই ‘ঈদ মোবারক’ সম্ভাষণ ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উল্লাস ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
টাকা বহন নিয়ে আগের বক্তব্য অস্বীকার করলেন ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তাঁর আগের আলোচিত বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ‘৫০ লাখ নয়, ৫ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর আগের বক্তব্যের ব্যাপারে এই সাফাই পেশ করেন। সচিব স্পষ্ট করে বলেন যে, কত টাকা বহন করা যাবে বা যাবে না, সে বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার বা ক্ষমতা তাঁর নেই।
বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দের ঘটনার পর গণমাধ্যমে ইসি সচিবের বরাত দিয়ে টাকা পরিবহনের আইনি সীমা নিয়ে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বৈধ উৎস থাকলে ৫ কোটি টাকা বহনেও বাধা নেই। তবে সন্ধ্যায় সচিব দাবি করেন, তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট অংক উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “আমি শুধু বলেছি, যারা অর্থটি জব্দ করেছে, তারা এর উৎস, পরিমাণ এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। আইনি ব্যাখ্যাও তারাই দেবে, আমি নই।”
সচিবের এই ‘ইউ-টার্ন’ বা বক্তব্য অস্বীকার করার বিষয়টি বর্তমানে টক অফ দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আগের দিন এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর আগের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উৎসবের আমেজে ভোট দিন: শান্তি রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে একযোগে ভোটকেন্দ্রে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সিইসি তাঁর ভাষণে ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, "গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি হলো নির্বাচন। আপনারা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং দিনশেষে নির্বাচনের যে ফলাফল আসবে, তার জয়-পরাজয়কে উদারচিত্তে মেনে নেবেন।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো প্রকার উসকানি বা গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সিইসি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে এই নির্বাচনকে সার্থক ও সফল করে তুলতে হবে।
সিইসি তাঁর বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যদি কোনো কেন্দ্রে পেশিশক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করা হয় বা কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায় যাতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে সবাইকে অংশীদার হওয়ার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান।
পাঠকের মতামত:
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার দাপুটে লিড
- ঝিনাইদহ-১ আসনে বিশাল জয় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের
- স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নির্বাচন: অ্যাপের গ্রাফে বোঝা যাচ্ছে কার পাল্লা ভারী!
- ৫ তরুণের বেপরোয়া সিল: ভালুকায় জালিয়াতির ভিডিও ফাঁস!
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- পুরো জাতিকে ডক্টর ইউনূসের অভিনন্দন: নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু
- বিজয় আসলে মিছিল নয়, সিজদায় পড়ে শোকর আদায় করুন: ডা. শফিকুর রহমান
- আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শীর্ষ সংবাদ বাংলাদেশ: গণতন্ত্রে ফেরার পরীক্ষা দেখছে বিশ্ব
- তিন আসনে ভোট স্থগিতের দাবি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের
- ভোটগ্রহণ শেষ, এখন চলছে চূড়ান্ত গণনা: কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি?
- ভোটে কোনো কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং হলে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পোলিং অফিসারের মৃত্যু
- ঢাকা-৮ কেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- যাদের ওপর রোজা ফরজ নয় এবং তাদের করণীয়
- উত্তম রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য হাদিসের আলোকে দোয়া
- গাংনীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
- ভোট দিয়ে জয়ে শতভাগ আশাবাদী তারেক রহমান
- সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- নিশ্চিন্তে কেন্দ্রে আসুন, পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে: সেনাপ্রধান
- মুজিবনগরে বিএনপি-জামায়াত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- পাতানো নির্বাচনের দিন শেষ: সিইসি
- নারী এজেন্টদের হেনস্তা করা হচ্ছে: তাসনিম জারা
- ভয়ের কিছু নেই, ভোট হবে উৎসবের: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা শেষ: ভোটারদের চোখেমুখে মুক্তির হাসি
- আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: ডক্টর ইউনূস
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ঈদের ছুটিও হার মানল: ভোটাধিকার প্রয়োগের টানে ঢাকা ছাড়ল এক কোটি মানুষ!
- সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
- দাঁড়িয়ে দেখার দিন শেষ, এবার ভোট দিয়ে অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা: মির্জা ফখরুল
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
- হাসিনা-খালেদা ছাড়াই প্রথম ভোট: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন দিনের বার্তা
- ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম
- উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট
- অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান
- টাকা বহন নিয়ে আগের বক্তব্য অস্বীকার করলেন ইসি সচিব
- ভোটের আগে নগদ টাকা বিলি! হাতেনাতে ধরা পড়ে জেলে জামায়াত নেতা
- এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না, জালিয়াতি রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ
- চাঁদাবাজ ধরতে নাসিরুদ্দীনের নতুন সাইট ‘চান্দাবাজ ডট কম’
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- রমজানে ওমরাহ করার ফজিলত: হাদিসের আলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- উৎসবের আমেজে ভোট দিন: শান্তি রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিইসি
- শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ: বাজারের ভেতরের আসল চিত্র কী বলছে?
- ভোটের বাধা রুখতে জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন জামায়াত নেতা জুবায়ের
- ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- শীর্ষ আলেম-উলামাদের সমর্থনে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান, জানালেন গভীর কৃতজ্ঞতা
- ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদকে সমর্থন জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরের পোস্ট
- ইসলামী পোশাকের অপব্যবহার রুখুন: মাহদী আমিন
- স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, ভরি মিলবে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকাতে
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আইনের রক্ষক পুলিশ কেন ভয়ের প্রতীকে পরিণত হয়?
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
- বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার নতুন বিনিময় হার
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- শীত নিয়ে বদলাচ্ছে পূর্বাভাস, জেনে নিন বিস্তারিত
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা








