৫ তরুণের বেপরোয়া সিল: ভালুকায় জালিয়াতির ভিডিও ফাঁস!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৯:০১:৪২
৫ তরুণের বেপরোয়া সিল: ভালুকায় জালিয়াতির ভিডিও ফাঁস!
ময়মনসিংহের ভালুকায় ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারেন কয়েকজন তরুণ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ময়মনসিংহের ভালুকায় এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল তরুণ বুথে ঢুকে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারার ধৃষ্টতা দেখায়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এই জালিয়াতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ক্যামেরায় লাইভ দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা আড়াইটার দিকে একদল তরুণ হুট করে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি বুথের ভেতরে ঢুকে একের পর এক ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করেন। ঘটনার ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—দুজন সিল মারছেন আর বাকিরা সেই ব্যালট পেপার ভাজ করে বাক্সে ভরছেন। অবাক করার বিষয় হলো, সেই সময় বুথে কোনো পোলিং কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনাটি নজরে আসতেই সাথে সাথে সেখানে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয় এবং ভোটগ্রহণ আধা ঘণ্টা স্থগিত রাখা হয়।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গাফিলতি বা দুর্বলতা পাওয়ায় তাকে সাথে সাথেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু হেনাকে দায়িত্ব দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। ইউএনও আশ্বস্ত করে বলেন, জালিয়াতি করা ওই ৫০-১০০টি ব্যালট পেপার কোনোভাবেই গণনায় আসবে না। কারণ, সেগুলোতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বৈধ সিল ও স্বাক্ষর নেই। অবৈধ কোনো ভোট গণনার সুযোগ নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পোলিং অফিসারের মৃত্যু

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৪:২৫:৫৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পোলিং অফিসারের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় এক পোলিং অফিসারের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মো. মুজাহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বৃহস্পতিবার সকালবেলায় কেন্দ্রের ৫১ নম্বর ভোটকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার। জানা গেছে, মুজাহিদুল ইসলাম সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন।

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ঘটনার পর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চালু রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব পালনের সময় এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

সার্বিকভাবে, দায়িত্ব পালনের মাঝেই একজন কর্মকর্তার এমন অকাল প্রয়াণ নির্বাচনি পরিবেশে শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

-রফিক


গাংনীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৩:১০:২২
গাংনীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে মেহেরপুরের একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার মেহেরপুর-২ আসন–এর গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ ও ভোটদানকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়ে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়।

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সমর্থকদের হামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর অন্তত চার কর্মী আহত হন। আহতরা হলেন ছাতিয়ান হাওড়া পাড়ার মোহাম্মদ আফিফ (১৮), সাজ্জাদ (২২), শরিফুল ইসলাম (৪০) এবং ইয়ামিন (৩৬)। প্রত্যেককে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

-রফিক


মুজিবনগরে বিএনপি-জামায়াত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ১২:০৩:৫১
মুজিবনগরে বিএনপি-জামায়াত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ছবি : সংগৃহীত

ভোটের উৎসবের মাঝে মেহেরপুরের মুজিবনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জয়পুর গ্রামে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

জয়পুর গ্রামের ভোটকেন্দ্রের মাত্র ১০০ গজ দূরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে বিএনপি সমর্থক আশাদুল এবং জামায়াত সমর্থক বাইজিদ, আবু ওবাইদা, মাহাফিজুর রহমান রিটন ও আইনাল গাজীর নাম জানা গেছে। মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ ভোটাররা আবারও নির্ভয়ে কেন্দ্রে ফিরছেন। আটক দুই জামায়াত কর্মী শহিদুল ও আশরাফ হোসেনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


ঈদের ছুটিও হার মানল: ভোটাধিকার প্রয়োগের টানে ঢাকা ছাড়ল এক কোটি মানুষ!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:৫২:২১
ঈদের ছুটিও হার মানল: ভোটাধিকার প্রয়োগের টানে ঢাকা ছাড়ল এক কোটি মানুষ!
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা এখন এক অচেনা নগরী। যানজট, হট্টগোল আর মানুষের কোলাহলে অভ্যস্ত যে শহর, সেই ঢাকা আজ যেন এক ‘ভুতুড়ে’ শান্তিতে নিমগ্ন। সাধারণত ঈদের ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা হয়, কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছাড়ার যে হিড়িক পড়েছে, তা ঈদের আনন্দকেও হার মানিয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় এক কোটি মানুষ নাড়ির টানে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নেশায় রাজধানী ছেড়েছেন। ১৭ বছর পর কোনো বাধা ছাড়াই নিজের ভোট নিজে দেওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আবেগই আজ ঢাকাকে জনশূন্য মরুভূমিতে পরিণত করেছে।

টানা চার দিনের সরকারি ছুটির সুযোগে মঙ্গলবার থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বুধবার সেই ভিড় চরম সীমায় পৌঁছায়। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকে ছাদের ওপর জীবনঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন, লঞ্চের ডেকে তিল ধারণের জায়গা নেই। তবুও মানুষের মুখে হাসির ঝিলিক, কারণ তারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর ব্যালট যুদ্ধে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন ঢাকার রাজপথ এতটাই ফাঁকা যে, গণমাধ্যমকর্মীরা জানাচ্ছেন—অন্য সময় যে পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা লাগত, আজ তা ১৫ মিনিটেই পার হওয়া যাচ্ছে। মেট্রোরেল চললেও তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে, আর সিটি সার্ভিসের বাস তো রাস্তা থেকে একপ্রকার উধাও।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাফরুল বা আগারগাঁওয়ের মতো জনবহুল এলাকার বাজারগুলোতেও আজ ক্রেতা-বিক্রেতার দেখা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি বের করার সাহস পাচ্ছেন না অনেকে, ফলে রিকশা আর গুটিকয়েক সিএনজিচালিত অটোরিকশা এখন রাজপথের মালিক। এই সুযোগে চালকরাও নিচ্ছেন বাড়তি ভাড়া। তবে এই সাময়িক ভোগান্তি ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোট দেওয়ার আনন্দ। মাগুরা বা পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া সাধারণ মানুষের কন্ঠে ফুটে উঠেছে সেই একই কথা—"দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছি, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"


উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০৯:০১:২৯
উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহাযজ্ঞ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ এবং নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি নির্দেশ করছে যে, দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে কতটা মুখিয়ে ছিল। এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক। এর মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ নারী ভোটারের পাশাপাশি ১ হাজার ২৩২ জন হিজড়া ভোটারও অংশ নিচ্ছেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের একটি অনন্য উদাহরণ।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বেশ বৈচিত্র্যময়। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এই ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে, যেখানে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়ছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ২৭৩ জন। বিএনপি ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে সবচেয়ে বড় অবস্থানে থাকলেও এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর অকাল মৃত্যুতে সেই আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে ইসি। ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে বড় ব্যালট এবং পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র ২ জন প্রার্থীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই চলছে। ৮ লাখেরও বেশি নির্বাচনী কর্মকর্তা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার নজিরবিহীন কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্যের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব এবং আনসার বাহিনী সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এবারের নির্বাচন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে; প্রথমবারের মতো কেন্দ্রগুলোর ওপর দিয়ে ড্রোন (UAV) উড়ছে এবং পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি-ওয়ার্ন’ ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৮১টি দেশি এনজিও-র ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ, কমনওয়েলথসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫৪০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এই নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রবাসীদের জন্য ‘বিডি মোবাইল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের সুযোগ দেওয়ার ফলে প্রায় ১৫ লাখ ভোটার এই আধুনিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরেছেন।


শনিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৩:২৮:৫০
শনিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-পরবর্তী টানা ছুটির মধ্যেও জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা ও উপশাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেল ডিলার ও পরিবেশকদের লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুলের আবেদনের পর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএমএডি) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় সীমিত লেনদেনের সুযোগ রাখা হবে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা চালু না থাকলেও জ্বালানি-সম্পর্কিত লেনদেনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি–এর একাধিক শাখা খোলা থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, খুলনার খালিশপুর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, রংপুরের শাপলা চত্বর, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, চাঁদপুর প্রধান, ঝালকাঠি, বরিশাল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার এবং সিলেটের বড়ই কান্দি শাখা।

এছাড়া উত্তরা ব্যাংক পিএলসি–এর খুলনার খালিশপুর শাখা সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাবে। একইভাবে জনতা ব্যাংক পিএলসি ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা খোলা থাকবে। পাশাপাশি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি–এর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপশাখাতেও লেনদেন পরিচালিত হবে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছিল যে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ও বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ও শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা ছিল। তবে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আংশিক সেবা চালুর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাত দেশের অর্থনীতির একটি মৌলিক চালিকাশক্তি। ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারত, যা পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলতে পারত। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, নির্বাচন-পরবর্তী ছুটির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

-রাফসান


আজ বুধবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ 

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:৫২:৫৬
আজ বুধবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ 
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট দিনের বন্ধের সূচি জানা জরুরি। ভুলবশত বন্ধের দিনে গেলে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়। আজ বুধবার ঢাকার যে সব এলাকায় দোকানপাট ও শপিং সেন্টার পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকে

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মধ্য ও উত্তর বাড্ডা, জগন্নাথপুর এবং বারিধারা এলাকায় আজ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সাঁতারকুল, শাহজাদপুর, নিকুঞ্জ-১ ও ২, কুড়িল এবং খিলক্ষেত এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। উত্তরা থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তরখান, দক্ষিণখান, জোয়ার সাহারা ও আশকোনা এলাকায় আজ কোনো বড় মার্কেট খোলা পাওয়া যাবে না।

শপিং সেন্টারের ক্ষেত্রে আজ যমুনা ফিউচার পার্ক এবং মাসকট প্লাজা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স, নুরুনবী সুপার মার্কেট, পাবলিক ওয়ার্কস সেন্টার, ইউনিটি প্লাজা ও ইউনাইটেড প্লাজাও আজ পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকবে। তাই এসব এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে তা অন্য দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


রাত পোহালেই ভোট: নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকার প্রবেশপথে কঠোর চেকপোস্ট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:২৫:৪৯
রাত পোহালেই ভোট: নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকার প্রবেশপথে কঠোর চেকপোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র একদিন পরই বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। যে কোনো ধরনের নাশকতা রুখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তল্লাশি এবং চেকপোস্টের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রয়োজনে ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। রাত ১০টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে ‘র‍্যাব-১’-এর একটি বিশেষ চেকপোস্টের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


কালিগঞ্জে উন্নয়নের নামে লুটপাট প্রশাসনিক অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ সড়ক নির্মাণ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৯:৪১:০৯
কালিগঞ্জে উন্নয়নের নামে লুটপাট প্রশাসনিক অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ সড়ক নির্মাণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়নের নামে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় থাকা প্রকল্পেই চলছে সরকারি অর্থের অপচয় ও মানহীন কাজের অভিযোগ। ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের হরিখালি থেকে মৌখালি অভিমুখে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে কার্যত কোনো কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকল্পটি জনস্বার্থের পরিবর্তে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার উদাহরণে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণের জন্য খালের পাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই মাটি সড়কে ফেলার পর তা আবার খালে ধসে পড়ছে। ফলে একদিকে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ম আড়াল করতেই তড়িঘড়ি করে খালে পানি তুলে পরিস্থিতি ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাস্তার গোড়ার মাটি খাড়াভাবে কেটে নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা এলাকাবাসীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন"নামে উন্নয়ন, কাজে সর্বনাশ। যেভাবে মাটি দেওয়া হচ্ছে, এই রাস্তা কয়দিন টিকবে তা নিয়েই আমাদের শঙ্কা।আরেক বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন,“খাল কেটে রাস্তা করলে দুটোই ধ্বংস হবে-খালও যাবে, রাস্তাও যাবে।সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটরের চালক নাইম জানান,“ঠিকাদার মোঃ হান্নান হোসেন যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই কাজ করছি।এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।তার বক্তব্যে কাজের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক তদারকির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আব্দুল হান্নানের কাছে অনিয়মের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি বলেন,“পিআইও ও ইউএনওর নির্দেশেই কাজ করছি। কোনো অনিয়ম থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তিনি আরও দাবি করেন,পূর্ববর্তী সরকার আমলেও একই ধরনের প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং তখন কোনো আপত্তি ওঠেনি।কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা পিআইও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কমিশন হিসেবে আদায় করা হয়। ‘অফিস খরচ’ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এই অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রকল্পের বরাদ্দের বড় অংশই কাজে ব্যয় হয় না।

অভিযোগের পাহাড় থাকলেও প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড নেই। জানা গেছে, আলোচ্য সড়ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও ৬ টন বরাদ্দ থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউই নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেনও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধেও প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি ও জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে পিআইও মফিজুর রহমান বলেন,“প্রকল্প শেষ হলে তখন বলা যাবে। এখন কোনো মন্তব্য করব না।তার এই বক্তব্য প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার অভাবকেই স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরপুর গ্রামে সম্ভখালি খালের ওপর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সুরাহা না হলে ওই প্রকল্পেও একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, এখনই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন-প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, কাজের মান নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে কি না, প্রকল্প ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য কেন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি ছাড়াই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা যুক্তিসংগত।উন্নয়নের কথা বলে যদি প্রশাসনিক অবহেলা, দায়হীনতা ও অনিয়মের সংস্কৃতি চলতেই থাকে, তবে সেই উন্নয়ন যে সাধারণ মানুষের আস্থা ও কল্যাণ বয়ে আনবে না-তা বলাই বাহুল্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পাঠকের মতামত: