নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান! যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের নয়া ছক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:৪৯:০৮
নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান! যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের নয়া ছক
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের দাবি, তেহরান যুদ্ধের রাশ টানতে খুব শীঘ্রই একটি 'সংশোধিত প্রস্তাব' দিতে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে এই সমঝোতা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব জমা দেবে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরান এই নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

সূত্রমতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফর শেষ করে আজই তেহরান পৌঁছানোর কথা। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করবেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান ও নিরাপত্তা কঠোরভাবে গোপন রাখায় যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের আগের প্রস্তাব—যেখানে আগে যুদ্ধবিরতি এবং পরে পারমাণবিক আলোচনা করার কথা বলা হয়েছিল—তা তিনি কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না। এদিকে মঙ্গলবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ‘পতনের মুখে’ রয়েছে এবং নেতৃত্ব সংকট সামাল দিতেই তারা এখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ খুঁজছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের কোনো ছাড় দেওয়ার ঘোষণা থাকতে পারে। পাকিস্তান আশা করছে, এই সংশোধিত প্রস্তাবই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসন হবে নাকি তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে।

/আশিক


রাডার এড়িয়ে গোপন যাত্রা! ২ মাস পর এলএনজি নিয়ে হরমুজ পার হলো বিশাল জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:২৯:২৯
রাডার এড়িয়ে গোপন যাত্রা! ২ মাস পর এলএনজি নিয়ে হরমুজ পার হলো বিশাল জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মাঝে দীর্ঘ দুই মাস পর এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা যুদ্ধাবস্থার কারণে অবরুদ্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবশেষে পাড়ি দিল এলএনজি (LNG) বোঝাই একটি বিশাল ট্যাংকার। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কিপলার’-এর তথ্যমতে, গত মার্চ মাস থেকে এই রুট প্রায় বন্ধ থাকলেও আমিরাতি ট্যাংকার ‘মুবারক’-এর এই সফল যাত্রা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ দুই মাসের স্থবিরতা ভেঙে অবশেষে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বোঝাই ট্যাংকার সফলভাবে যাতায়াত করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কিপলার’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি (AFP) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘অ্যাডনক’ কোম্পানি পরিচালিত ‘মুবারক’ নামের এই ট্যাংকারটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।

২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস আইল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করার পর নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজটি দীর্ঘ এক মাস তার ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। অর্থাৎ, রাডারের নজরদারি এড়িয়ে এক প্রকার ‘গোপনেই’ উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে এই বিশাল ট্যাংকার। দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার ভারতীয় উপকূলে পৌঁছানোর পর পুনরায় জাহাজটির সিগন্যাল পাওয়া গেছে।

কিপলারের বিশ্লেষক চার্লস কোস্ট্রাউস জানান, সম্ভবত ১৮ ও ১৯ এপ্রিলের দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগে গত মার্চ থেকে এই রুটে কেবল ‘সোহার’ নামের একটি খালি জাহাজ যাতায়াত করেছিল। তবে এলএনজি বোঝাই কোনো জাহাজের এই যাতায়াত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ১ মার্চ থেকে পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ৭০টিরও বেশি তেলের জাহাজ ছেড়েছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশই ছিল ইরানের নিজস্ব বন্দর থেকে। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতি জাহাজের এই সফল যাত্রা নৌপথটির নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের একটি ক্ষীণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত: সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা, উত্তাল তেলের বাজার!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২০:১২:১৬
ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত: সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা, উত্তাল তেলের বাজার!
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) ওপেক (OPEC) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। ১ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তটি ওপেকের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) দীর্ঘ ৬ দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে জ্বালানি তেলের শক্তিশালী জোট ওপেক (OPEC) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার আলজাজিরা ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজার এক ঐতিহাসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আমিরাতের এই ‘এক্সিট’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

১. নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতি: ইউএই-র কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখেও প্রতিবেশী আরব দেশগুলো এবং জিসিসি (GCC) তাদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি। এই ‘আঞ্চলিক সংহতির অভাব’ আমিরাতকে হতাশ করেছে।

২. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন সক্ষমতা: আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে তাদের তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল, যা ওপেকের কোটা পদ্ধতির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা এখন স্বাধীনভাবে নিজেদের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

ওপেকের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরবের জন্য এটি একটি বিশাল কৌশলগত ক্ষতি। আমিরাত ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য এবং তাদের এই বিস্থান জোটের ঐক্য ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। বিশেষ করে যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হচ্ছে, তখন এই ভাঙন জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেক-এর সমালোচনা করে আসছিলেন। আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইউএই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শক্তিশালী জোটটি এখন তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সংকটের মুখোমুখি।

/আশিক


মাঝসমুদ্রে নাটকীয় অভিযান! ইরানের তেলের ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন নৌবাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৮:১০:০৬
মাঝসমুদ্রে নাটকীয় অভিযান! ইরানের তেলের ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন নৌবাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর মার্কিন অবরোধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবার একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার সরাসরি জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ মাঝসমুদ্রে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘এম/টি স্ট্রিম’ নামক এই ট্যাংকারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সেন্টকমের দাবি, ট্যাংকারটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জাহাজ চলাচলের গ্লোবাল ডেটা প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিকে সর্বশেষ মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল। সেখান থেকেই এটি ট্র্যাক করে মার্কিন নৌবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানের তেলবাহী জাহাজ এভাবে আটকে দেওয়ার ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই সর্বশেষ ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক অস্থির যুদ্ধবিরতি চললেও কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এই ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে সামরিক উত্তজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১২:৫০:৫৭
ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ ও নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড কেবল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেনি, বরং মার্কিন গণতন্ত্রের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিচার ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের যে অপূরণীয় ক্ষতি ট্রাম্প করেছেন, তার কোনো নজির নেই।

প্রতিবেদনে একটি ভয়াবহ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ’ (NIH)-এর বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাতিল করতে হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বহু ক্যানসার রোগীর সময়মতো চিকিৎসা মেলেনি এবং তাদের অকালমৃত্যু ঘটেছে। স্বাস্থ্য খাতের ওপর এমন আঘাতকে সংবাদপত্রটি অমানবিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস মনে করে, ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের ‘চোরাবালিতে’ আটকা পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে’ প্রলুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত দুই মাসে ইরানের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের মুখে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এখন ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে আছেন যে—তিনি যদি যুদ্ধ বাড়াতে চান অথবা পিছু হটেন, উভয় ক্ষেত্রেই তাকে বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হবে। সংবাদপত্রটির ভাষায়, এটি ট্রাম্পের জন্য এক ‘বিপজ্জনক অচলাবস্থা’, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১২:২০:১৭
অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যে নেতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গের বোরিস ইয়েলৎসিন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন প্রকাশ করেন যে, তিনি গত সপ্তাহে বিপ্লবের নতুন নেতার কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন।

ক্রেমলিন প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণ অনুযায়ী, পুতিন আরাঘচিকে বলেন, “দয়া করে সর্বোচ্চ নেতার বার্তার জন্য আমার গভীর কৃতজ্ঞতা তাঁর কাছে পৌঁছে দেবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।” পুতিন আরও যোগ করেন যে, ইরানের জনগণ যেভাবে সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই করছে, তা প্রশংসনীয়। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, রয়টার্সসহ বেশ কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে পুতিনের এই বক্তব্য এবং রয়টার্সেরই পরবর্তী এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন আলোচনা সংক্রান্ত সব বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। পুতিন-আরাঘচি এই বৈঠকটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত মিত্রতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি


আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার সুপারইয়াট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৫১:০৮
আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার সুপারইয়াট
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী যখন প্রায় অচল, ঠিক তখনই সেই অবরুদ্ধ জলপথ দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার রহস্যময় সুপারইয়াট ‘নর্ড’। প্রায় ৪৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি) মূল্যের এই বিলাসবহুল জাহাজটি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা ধনকুবের আলেক্সি মোর্দাসোভের মালিকানাধীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে শনিবার সকালে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ইয়াটটি এবং রবিবার ভোরে ওমানের মাসকাটে পৌঁছায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করলেও, যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে একটি রুশ প্রমোদতরি কীভাবে সেখানে প্রবেশের অনুমতি পেল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও কূটনৈতিক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

শিপিং ডেটা প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে দৈনিক হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, এখন সেখানে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা নগণ্য। এমন এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই বিশাল প্রমোদতরির নির্বিঘ্ন যাতায়াত মূলত ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার গভীর কৌশলগত মৈত্রীর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুপারইয়াট ‘নর্ড’-এর ভেতরে যা আছে

শিল্প প্রকাশনা ‘সুপারইয়াট টাইমস’-এর তথ্যমতে, এই জাহাজটি রাশিয়ার অঢেল সম্পদের এক অনন্য নিদর্শন। এতে রয়েছে

২০টি বিলাসবহুল শয়নকক্ষ।

একটি বিশাল সুইমিং পুল।

একটি হেলিপ্যাড ও একটি সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ)।

নিবন্ধিত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের রাশিয়ার করপোরেট রেকর্ড বলছে জাহাজটি ২০২২ সালে মোর্দাসোভের স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হয়। মোর্দাসোভ মূলত পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এই ইয়াটটির হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার ঘটনাটি ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব তেলের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে একটি রুশ প্রমোদতরির এই অবাধ বিচরণ এটাই প্রমাণ করে যে—পশ্চিমাদের আরোপিত অবরোধ এই অঞ্চলের সব শক্তির জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সূত্র: এনডিটিভি


ট্রাম্পের নাখোশ মেজাজ: ইরানের ৩ ধাপের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করল না হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৩৮:৩০
ট্রাম্পের নাখোশ মেজাজ: ইরানের ৩ ধাপের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করল না হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের দেওয়া ‘তিন স্তরের’ নতুন প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই বিশেষ প্রস্তাবটি ট্রাম্পের পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র।

ট্রাম্পের মতে, এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা নিউক্লিয়ার প্রজেক্টকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের কারণ। মূলত পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার একেবারে শেষে রাখায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এবং প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এই প্রস্তাবটি নিয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কিন্তু আলোচনার পর তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই প্রস্তাবটি অসম্পূর্ণ।

ট্রাম্পের সাফ কথা—পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া অন্য কোনো শর্তে শান্তি আলোচনা সফল হবে না। ইরান যেখানে যুদ্ধ বিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ওয়াশিংটন সেখানে শুরুতেই পরমাণু প্রকল্পের শেষ দেখতে চায়।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়। এরপর পাকিস্তান, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান এই নতুন তিন ধাপের ফর্মুলা পাঠায়।

যার প্রথম ধাপে ছিল যুদ্ধ বন্ধ ও লেবাননে হামলা না করার নিশ্চয়তা, দ্বিতীয় ধাপে ছিল হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো এবং শেষ ধাপে ছিল পরমাণু আলোচনা। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী সংলাপ করতে হলে এই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই করতে হবে। তবে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

সূত্র : রয়টার্স


পরমাণু বোমা নাকি শান্তি? ইরানের নতুন প্রস্তাবে বিপাকে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২১:৫৮:৫৩
পরমাণু বোমা নাকি শান্তি? ইরানের নতুন প্রস্তাবে বিপাকে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এক চাঞ্চল্যকর নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে একটি শর্তে—পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরকালে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক এবং কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে এই তিন ধাপের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আরাগচি স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটনের পারমাণবিক দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের মধ্যে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য হয়নি।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে পাঠানো এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে—প্রথমত, ইরান ও লেবাননের ওপর আর কোনো হামলা হবে না এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওমানের সাথে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

এই দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরেই কেবল তৃতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি ইরান। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, আলোচনা শুরুর আগেই ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। তেহরানের এই নতুন প্রস্তাব মূলত পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার একেবারে শেষে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ শান্তি প্রস্তাব মেনে নেয় কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধের মেঘে ঢাকা পড়ে।

সূত্র: আরটি, গালফ নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


ইরানের কাছে নতিস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র! জার্মান চ্যান্সেলরের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:২২:২২
ইরানের কাছে নতিস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র! জার্মান চ্যান্সেলরের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বশক্তির দাবার চালে ইরান এখন এক অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্জ সরাসরি দাবি করেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রীতিমতো অপমানিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ইরানের নেতৃত্বের কারণে একটি পুরো জাতি (যুক্তরাষ্ট্র) অপমানের শিকার হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমেরিকানরা ঠিক কী কৌশলে এই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নেবে, তা আমার বোধগম্য নয়।” মার্জ আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানিরা আলোচনার টেবিলে অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী প্রমাণ করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত চাহিদা’ এবং একতরফা শর্তকে দায়ী করেছেন তিনি।

আরাগচির ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা এক সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, তিনি রুশ মিত্রদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে মস্কোর সাহায্য চাইছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের আরাগচি জানান, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে, তা নিয়ে তিনি রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বিশদ কথা বলবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানির চ্যান্সেলরের এই স্বীকারোক্তি এবং ইরানের রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া মূলত ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরণের কূটনৈতিক পরাজয়। ট্রাম্প প্রশাসন যখন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন ইউরোপীয় মিত্রের এমন মন্তব্য এবং তেহরান-মস্কো অক্ষশক্তি আরও শক্তিশালী হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: