সংসদের উত্তেজনা থামালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইতিহাস নিয়ে জাতিকে আর বিভক্ত করবেন না

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৮:২৭:০৬
সংসদের উত্তেজনা থামালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইতিহাস নিয়ে জাতিকে আর বিভক্ত করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের জামায়াত-সংক্রান্ত এক বিস্ফোরক মন্তব্যে যখন সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখন ফ্লোর নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত শান্ত মেজাজে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা এখানে আলাপ-আলোচনা করি, মাঝেমধ্যে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদের স্বার্থে আমি নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাই না।”

ফজলুর রহমানের বয়োজ্যেষ্ঠতার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা রসিকতা করে বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য অত্যন্ত বয়স্ক এবং ইতিহাসে সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা এখন ভূগোলে আছি। আমরা বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে ব্যত্যয় হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং খোদ জামায়াত আমির যখন নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করেন, তখন সেটাকে ইতিবাচকভাবে ধারণ করাই শ্রেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের বিল পাসের সময় বিরোধী দল কোনো প্রতিবাদ বা ওয়াকআউট করেনি। তিনি বলেন, “মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। তারা তো স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা ওখানেই থাকি। নতুন করে বিভক্তি সৃষ্টি না করাই ভালো।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য সংসদে বিরাজমান গুমোট পরিস্থিতি অনেকটাই হালকা করে দেয়।

/আশিক


অর্থের অভাবে কেউ আর বিচারহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৫৪:৫৩
অর্থের অভাবে কেউ আর বিচারহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের বিচারহীনতা ও আইনি বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন দেখেছি অনেক মানুষ কেবল অর্থের অভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে ধুঁকছেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সেই রাষ্ট্র কখনো মানবিক হতে পারে না। দেড় দশক পর দেশের মানুষ যে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে, তাকে সুসংহত করতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড” বা বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার ‘লিগ্যাল এইড’-এর মাধ্যমে মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতা বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার বিরোধ আদালতের বাইরে স্বল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমেছে এবং রাষ্ট্রের খরচও সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন যেন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যম হয়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক


সংসদে রণক্ষেত্র! ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত’ ইস্যুতে ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৪৫:৫৪
সংসদে রণক্ষেত্র! ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত’ ইস্যুতে ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব চলাকালে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের এক বক্তব্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্য করার সাথে সাথেই বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোল শুরু করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলা এই অধিবেশনে ফজলুর রহমান তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে আরও বলেন, “আমি আবারও বলছি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে তবে তিনি দ্বিগুণ অপরাধ করছেন।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে যখন এক মাসের গণঅভ্যুত্থানকে তুলনা করা হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয়। ক্ষোভের সাথে তিনি মন্তব্য করেন, “হয়তোবা আমি মরে গেলেই ভালো হতো।”

অধিবেশনের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করে বলেন, “জামায়াত আমির আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, শহীদ পরিবারের সন্তান!” এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষ চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন এবং তাঁর মন্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার জন্য স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানান।

/আশিক


পরমাণু যুগে লাল-সবুজের বাংলাদেশ: রূপপুরে জ্বলে উঠল শক্তির নতুন বাতিঘর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৩৬:৪০
পরমাণু যুগে লাল-সবুজের বাংলাদেশ: রূপপুরে জ্বলে উঠল শক্তির নতুন বাতিঘর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে সগৌরবে প্রবেশ করল।

রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং রুশ ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ তাঁর বক্তব্যে জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আজ প্রাণ পেল। তিনি এক বিশেষ তথ্যে জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল হবে অন্তত ১০০ বছর, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ (VVER-1200) জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। দু’টি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আইএইএ-এর কঠোর মানদণ্ড অনুযায়ী এই প্রকল্পের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

/আশিক


 সব বাধা জয় করে এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ: আজ রূপপুরে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৪৫:৫৬
 সব বাধা জয় করে এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ: আজ রূপপুরে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং
ছবি : সংগৃহীত

এক দশকের মহাপরিকল্পনা, হাজারো চড়াই-উতরাই আর বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির সব চ্যালেঞ্জ জয় করে আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে গত ১৬ এপ্রিল ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ পাওয়ার পর আজ বিকেল থেকে শুরু হচ্ছে এই মহাযজ্ঞ। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রবেশ করল ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভৌত যাত্রায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আজ বিকেলের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী জুলাই বা আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। আর ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন সময়সূচি কয়েকবার পরিবর্তন করা হলেও, বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখাটাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন সংকট কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দিলেও সরকারের দৃঢ়তায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে। ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই কেন্দ্র পরিচালনার ‘অপারেটিং লাইসেন্স’ পেয়েছেন, যা দেশের নিজস্ব সক্ষমতার এক বিশাল বিজয়। বর্তমানে ৫ হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ এবং ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে এই স্বপ্নের প্রকল্পটি এখন বাস্তব।

বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমে চেইন রিঅ্যাকশন বা স্বয়ংক্রিয় শক্তি উৎপাদন শুরু হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। স্পর্শকাতর এই প্রকল্পে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হয়নি, যার প্রতিটি ধাপ আইএইএ (IAEA) সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে।

/আশিক


জ্বালানি নিরাপত্তায় নয়া ইতিহাস: রূপপুর থেকে ৬০ বছর মিলবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১০:২৯:৪৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় নয়া ইতিহাস: রূপপুর থেকে ৬০ বছর মিলবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
ছবি : সংগৃহীত

বাঙালির এক দশকের লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। এই মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে এটি টানা ৯০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

বার্তা বাজার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম শুরুতে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা ১২ টাকা পর্যন্ত পড়তে পারে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। তবে একবার জ্বালানি লোড করার পর এটি দিয়ে টানা দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা তেল বা গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও ঝামেলামুক্ত। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চুল্লিতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপন করা হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড থাকে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে বিজ্ঞানীদের সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন।

ইউরেনিয়াম লোডিং শেষে প্রায় শতাধিক কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে এবং ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বাংলাদেশের হাতে ইতিমধ্যে ১৬৮টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল রয়েছে, যার মধ্যে ১৬৩টি ব্যবহৃত হবে এবং ৫টি জরুরি প্রয়োজনে সংরক্ষণে রাখা হবে। এই প্রকল্প চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হলো।

/আশিক


জাতীয় গ্রিডে আদানির বিদ্যুৎ: লোডশেডিং নিরসনে যোগ হলো ৯২৫ মেগাওয়াট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১০:১২:০৬
জাতীয় গ্রিডে আদানির বিদ্যুৎ: লোডশেডিং নিরসনে যোগ হলো ৯২৫ মেগাওয়াট
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বড় ধরণের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

সোমবার রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে আদানি প্ল্যান্টের এই ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে সমন্বয় (সিঙ্ক্রানাইজেশন) সম্পন্ন করেছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বর্তমানে ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে এবং সরবরাহ ধীরে ধীরে আরও বাড়বে, যা দেশব্যাপী লোডশেডিং কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) থেকে জাতীয় গ্রিডে আরও অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএল (রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও চীনের নরিনকোর যৌথ উদ্যোগ) থেকে আজ ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ফলে উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং গরমের এই মৌসুমে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। সেই তুলনায় আদানি প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ছাড়া সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট। নতুন এই ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ফলে চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে। বিশেষ করে আরএনপিএল-এর মতো বড় প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হওয়াকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


বাফারিংয়ের দিন শেষ! সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটের ঘোষণা বিটিআরসির

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৫২:৫৬
বাফারিংয়ের দিন শেষ! সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটের ঘোষণা বিটিআরসির
ছবি : সংগৃহীত

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ খবর নিয়ে এল বিটিআরসি! দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাকে আরও সস্তা ও সহজলভ্য করতে নতুন শুল্ক কাঠামো অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে এখন থেকে অনেক কম খরচেই উচ্চগতির সুপারফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা।

বিটিআরসির নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অন্যতম ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) 'স্যাম অনলাইন'-কে বিশেষ প্যাকেজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে গ্রাহকরা মাত্র ৫০০ টাকায় ৩০ এমবিপিএস (30 Mbps) গতির ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া যারা আরও বেশি গতি চান, তাদের জন্য ১০০০ টাকায় ১০০ এমবিপিএস এবং সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকায় ২৫০ এমবিপিএস গতির বিশাল ব্যান্ডউইডথ প্যাকেজ রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্যতালিকা চূড়ান্ত করেছে। মূলত সরকারের 'এক দেশ, এক রেট' নীতিমালার সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। বিটিআরসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিটি সংযোগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং শেয়ারড কন্টেনশন রেশিও ১:৮ এর বেশি হতে পারবে না। এর ফলে ইন্টারনেটের গতি বা বাফারিং নিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর; কল ড্রপ ও নেটওয়ার্ক ভোগান্তি শেষ!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৪৫:৪১
মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর; কল ড্রপ ও নেটওয়ার্ক ভোগান্তি শেষ!
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

দেশের সাড়ে ১৮ কোটি মোবাইল গ্রাহকের নেটওয়ার্ক ভোগান্তি কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে (Indoor) নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকা এবং কল ড্রপের মতো বিরক্তিকর সমস্যা নিরসনে 'ই-জিএসএম' (E-GSM) ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও উপশহরের গ্রাহকরাও শহরের মতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবেন।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশই বাস করেন গ্রামে ও উপশহরে, যেখানে নেটওয়ার্কের মান প্রায়ই নাজুক থাকে। ঘরের ভেতরে ঢুকলেই সিগন্যাল কমে যাওয়া বা ইন্টারনেট ধীরগতি হওয়া এখন নিত্যদিনের সমস্যা। এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে বিটিআরসি রবি ও বাংলালিংককে পরীক্ষামূলকভাবে এক মাসের জন্য ৮.৪ মেগাহার্টজ 'ই-জিএসএম' তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে গ্রামীণফোনকেও ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ দেওয়া হয়েছে।

অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন তরঙ্গ ব্যবহারের ফলে ইনডোর নেটওয়ার্ক বা ঘরের ভেতরের কাভারেজ অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। রবির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকরা অনেক সময় ঘরের ভেতর ডাটা নেটওয়ার্ক পান না, এই তরঙ্গ সেই সমস্যা সমাধান করবে। বাংলালিংকও এই তরঙ্গের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তা স্থায়ীভাবে কেনার সিদ্ধান্ত নেবে। মূলত ৮৫০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের সাথে এই তরঙ্গের কোনো সংঘাত হয় কি না, তা যাচাই করতেই এই পরীক্ষামূলক বরাদ্দ। সফল হলে দেশের মোবাইল সেবার মানে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


পরমাণু যুগে বাংলাদেশ! রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:৩৪:০১
পরমাণু যুগে বাংলাদেশ! রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু
ছবি : সংগৃহীত

এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত ক্লাবে রাজকীয়ভাবে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জ্বালানি লোডিং বা পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়াম প্রবেশের ঐতিহাসিক কার্যক্রম। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে এই মাহেন্দ্রক্ষণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরে লেখা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিকেলে আয়োজিত এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। যদিও পূর্ব নির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তাঁরা ভার্চুয়ালি এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গত ১৬ এপ্রিল চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পর আজ চূড়ান্তভাবে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ শুরু হলো। এই কার্যক্রমটি পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) অধীনে অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন, যা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক অনন্য প্রমাণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটে সম্পূর্ণ জ্বালানি লোড করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে।

ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে। ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহারের মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে গণ্য হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: