‘যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধই হবে’: ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কড়া হুমকির জবাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব Mohammad Bagher Ghalibaf। রোববার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের ‘locked and loaded’ হুমকির প্রেক্ষিতে ঘালিবাফ বলেন, ইরানি জাতি হুমকির ভাষায় ভয় পায় না। তার ভাষায়, “আপনি যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেন, আমরা সেই পথেই জবাব দেব; আর যদি যুক্তির পথে আসেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমেই এগোব।” এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ইরানের দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে প্রতিরোধ, অন্যদিকে শর্তসাপেক্ষ কূটনীতি।
ঘালিবাফ দাবি করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় ইরান যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছিল। তবে তার অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থান এবং পরবর্তী সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা সেই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দেয়। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, “ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। বরং যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও আমাদের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, তাহলে আমরা তাদের আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করব।” এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের মতে কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক নয়, বরং একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর Donald Trump হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নৌ-অবরোধের ইঙ্গিত দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি আরও দাবি করেন, “উপযুক্ত সময় এলে” ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের অবরোধের হুমকি এবং তেহরানের পাল্টা কঠোর অবস্থান এই পথকে একটি সম্ভাব্য সংঘাতক্ষেত্রে রূপান্তরিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এখন একটি “ডিটারেন্স গেম”-এ রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই ধরনের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ভুল হিসাব বা ভুল পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা একটি সীমিত সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঘালিবাফের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং প্রয়োজনে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানও পরিস্থিতিকে শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই উত্তেজনা কি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—যার প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
"ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"
ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইহুদি লেখক আলন মিজরাহি চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এই যুদ্ধের পর তারা এশিয়ায় আর কখনোই ফিরে আসতে পারবে না।
‘ক্রিটিক অ্যানালাইসিস’ সাইটে প্রকাশিত তার প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো:
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকছি আমরা
মিজরাহি লিখেছেন, "আমরা ইতিহাসের এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকছি। ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, ব্যাপক এবং দৃঢ়তার সাথে আমেরিকান ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করছে, যা বিশ্বকে পুরোপুরি হতভম্ব করে দিয়েছে। ইরান মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো অঞ্চলে তাদের সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।"
ত্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাহারাইন, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সুবিধা। এগুলো নির্মাণ করতে কয়েক দশক সময় এবং ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। মিজরাহির মতে, "গত ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের সামরিক ব্যয়ের একটি বিশাল অংশ এখন নর্দমায় যাচ্ছে। আমরা দেখছি কোটি কোটি ডলার মূল্যের রাডার নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিত্যক্ত, ভস্মীভূত এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।"

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইহুদি লেখক আলন মিজরাহি।ছবি- সংগৃহীত।
পার্ল হারবারের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন ইতিহাসের তুলনা টেনে এই বিশ্লেষক বলেন, "আমার জানামতে, পার্ল হারবার বাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসে আর কখনও এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখেনি। কিন্তু পার্ল হারবার ছিল কেবল একটি একক আক্রমণ। একটি প্রচলিত যুদ্ধে (Conventional War) কোনো শত্রু আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ওপর বর্তমান ইরানের মতো এমন বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি আর কখনও করতে পারেনি।"
তথ্য সেন্সরশিপ এবং আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মিজরাহি বলেন, সামরিক অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে সেন্সরশিপের মাধ্যমে প্রায় সব তথ্য আটকে দেওয়া হচ্ছে। ৩৫ বছর আগে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সারাক্ষণ ফুটেজ দেখা যেত, কিন্তু এখন প্রায় কোনো ভিডিওই প্রকাশ্যে আসছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বিশ্বের বৃহত্তম বিমান বাহিনীর অধিকারী হয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের ওপর আকাশপথের আধিপত্য (Air Superiority) দেখাতে পারছে না কেন? তেহরান বা ইরানের ওপর মার্কিন বিমানের ওড়ার কোনো দৃশ্য কি দেখা যাচ্ছে?"
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কটাক্ষ
মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার পাঠাতে সামরিক প্রহরার যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত মার্কিন জাহাজগুলোকে ইরানের হাজার হাজার মিসাইলের আওতায় ঠেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কুর্দি মিলিশিয়াদের দিয়ে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "ইরান কতটা বড় দেশ তা কি ট্রাম্প প্রশাসন জানে? দশ-বিশ হাজার বা এক লাখের মিলিশিয়া বাহিনী দিয়ে ইরান আক্রমণ করা অসম্ভব, ইরান তাদের গিলে ফেলবে।"
চূড়ান্ত ফলাফল: পশ্চিম এশিয়া থেকে বিদায়
আলন মিজরাহি তার নিবন্ধের শেষে বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে হেরে গেছে। তারা হয়তো শক্তিশালী বোমা দিয়ে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে পারে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু এই যুদ্ধ তারা জিতবে না। ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং অস্ত্রগুলো সারা দেশে মাটির গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পৌঁছানোর ক্ষমতা আমেরিকা বা ইসরায়েলের নেই।"
তিনি নিশ্চিতভাবে দাবি করেন, "এই সংঘাত যখন শেষ হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কখনোই পশ্চিম এশিয়ায় ফিরতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।"
এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোরতম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বলেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং উপযুক্ত সময়ে ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়া’ হবে। ট্রাম্পের এই রণংদেহী বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি চাইলে মাত্র এক দিনেই ইরানকে পঙ্গু করে দিতে পারেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ইরানের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি অয়েল প্ল্যান্ট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখল করে নেওয়া, যা দেশটির অস্তিত্বের ওপর বিশাল আঘাত হানবে বলে তিনি দাবি করেন। মূলত পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কোনো ছাড় না দেওয়ায় ট্রাম্প এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেসব জাহাজ আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা ইরানকে ‘টোল’ প্রদান করবে। ট্রাম্পের সাফ কথা, “যে ইরানকে টোল দেবে, সে সমুদ্রে নিরাপদে চলতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইনগুলো ধ্বংস করার ঘোষণাও দিয়েছেন। ইরান যদি মার্কিন বা অন্য কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। খুব শিগগিরই এই নৌ-অবরোধ (Blockade) কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
/আশিক
হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, সেগুলোকে যেন সরাসরি আটক করা হয়।
ট্রাম্পের মতে, ইরান মাইন পাতার ভয় দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করেছে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তেহরানকে অবৈধভাবে টোল দেবে, তারা সমুদ্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তা পাবে না।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে নসাৎ করতে চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ইরান যেখানেই মাইন পেতে থাকুক না কেন, তা অপসারণের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র শুরু করবে এবং যদি কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন বা শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক শক্তির বড় অংশ হারিয়েছে এবং এই বিপর্যয়ের জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিই দায়ী। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর একটি বিশাল নৌ-অবরোধ (Blockade) শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও অংশ নেবে। এই ঘোষণার ফলে পারস্য উপসাগরে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অসংখ্য নৌ-মাইন পেতেছিল।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইরান চাইলেও দ্রুত এই পথটি পুরোপুরি খুলে দিতে পারছে না। কারণ, খোদ আইআরজিসি-ই এখন শনাক্ত করতে পারছে না যে প্রণালির ঠিক কোন কোন জায়গায় তারা মাইন স্থাপন করেছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি ছোট আকারের রণতরী ব্যবহার করে এই মাইনগুলো পেতেছিল। তবে সব স্থানের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন থাকার কথা উল্লেখ আছে, জোয়ার-ভাটা বা সমুদ্রের স্রোতের কারণে তার বেশির ভাগই এখন সেখান থেকে সরে গেছে বা ভেসে অন্য স্থানে চলে গেছে। ফলে এই অদৃশ্য মাইনগুলো এখন বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য এক ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হলেও, এই মাইন সমস্যার কারণে জলপথটি এখনই নিরাপদ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। শনাক্ত করা মাইনগুলো অপসারণ করাও প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন পথটি কবে নাগাদ পুরোপুরি নিরাপদ হবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
/আশিক
পুতিন-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ: মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন মোড় ঘটাবে রাশিয়া?
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে ক্রেমলিন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোনালাপে পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন চলমান সংকট নিরসনে কেবল সামরিক নয়, বরং একটি টেকসই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়ার সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পুতিনের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যখন ইরানের ওপর নতুন করে নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, ঠিক তখন রাশিয়ার এই প্রস্তাব তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত সমর্থন হিসেবে কাজ করতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
সূত্র: আলজাজিরা।
হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের! এবার কি সরাসরি সামরিক সংঘাত?
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অবিলম্বে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজ অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। মূলত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এবং তাদের অর্থনৈতিক আয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই ওয়াশিংটন এই চরম পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা যেকোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব।’
ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে সামরিক সংঘাতের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু হতে পারে যেখানে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু ইরানের আপত্তির কারণে তা এখন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে যারা টোল প্রদান করবে, সেসব জাহাজকে থামিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, এই টোল আদায় ‘অবৈধ’ এবং যারা তেহরানকে এই অর্থ পরিশোধ করবে, তাদের সমুদ্রে কোনো নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের বাস্তবতা: কার দখলে বিশ্বের প্রধান তেলপথ?
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই ঘোষণা করেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এখান দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে এখন থেকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ টোল দিতে হবে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর হাজি বাবাইয়ের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে।
ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ঘোষণা এল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার খবর নিশ্চিত করলেও হরমুজ ইস্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারই তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল এই পথে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, মাইন অপসারণ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।
তবে ইরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, এমন কোনো নৌযান সেখানে প্রবেশ করেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো সামরিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
ইরানের এই ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনাকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) প্রধান আরসেনিও ডমিঙ্গুয়েজ।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রণালিতে টোল আদায়ের অধিকার কোনো দেশের নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি বৈশ্বিক শিপিং বা নৌ-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।
/আশিক
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! এবার কি সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ হচ্ছে ইরান?
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর এবার ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি নিবন্ধ শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
আলোচনার টেবিলে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পার করার পরও কোনো সমঝোতা না আসায়, ওয়াশিংটন এখন তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হলে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের আয়ের প্রধান উৎসটিই রুদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে ইরান থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, এই নিবন্ধটি শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি তেহরানকে এক কঠোর বার্তা দিলেন যে, মার্কিন শর্ত না মানলে সমুদ্রপথে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে।
এই কৌশলটিকে মূলত ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া আগের মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে এতটা কোণঠাসা করতে যাতে তারা নমনীয় হতে বাধ্য হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের নৌ-অবরোধ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের এই তৎপরতা পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমুদ্রসীমায় এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট? অস্থির হতে শুরু করেছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে।
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৫ ডলারে থাকলেও, ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা বাড়লে তা দ্রুত ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম চলতি মাসেই ১০৫ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল।
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যকার এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই পক্ষই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ময়দানে যা পায়নি তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চেয়েছিল; অন্যদিকে ভ্যান্সের দাবি, ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয় হতে রাজি নয়।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদি যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম ধমনী হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় ১২ শতাংশ তেল লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরুতে তেলের দাম ১১৯ ডলারে উঠলেও পরে তা ৮৭ ডলারে নেমেছিল, কিন্তু আলোচনার অচলাবস্থার খবরে তা আবার ৯২ ডলার ছাড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সূত্র: ট্রেডিং ভিউ
পাঠকের মতামত:
- ‘যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধই হবে’: ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের
- "ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"
- নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান
- ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে বাধ্য ব্যাংক! অমান্য করলেই ব্যবস্থা
- এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নাসায় একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু: কেউ বারান্দায় খুন, কেউ নিখোঁজ!
- বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়: জামায়াত আমির
- হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
- হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ
- পুতিন-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ: মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন মোড় ঘটাবে রাশিয়া?
- কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
- হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের! এবার কি সরাসরি সামরিক সংঘাত?
- ধর্মমন্ত্রীর ঘোষণা: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সত্ত্বেও যথাসময়ে শুরু হচ্ছে হজের সফর
- বিরোধী দল ভুল তথ্য দিচ্ছে: অধ্যাদেশ বিতর্কে কড়া জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- বাইপাস রুটে সৌদি তেল: হরমুজ সংকটের মাঝেই বিকল্প পথ সচল করল রিয়াদ
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের বাস্তবতা: কার দখলে বিশ্বের প্রধান তেলপথ?
- ১২ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১২ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে সেরা ১০ গেইনার শেয়ার তালিকা
- ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! এবার কি সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ হচ্ছে ইরান?
- ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট? অস্থির হতে শুরু করেছে তেলের দাম
- আগামী ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস! বদলে যাচ্ছে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি
- হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি: ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হলো বড় অভিযান
- তেলের লাইনে ভোগান্তি শেষ! বিপিসির নতুন অ্যাপ ‘ফুয়েল পাস’ এর চমক
- স্বর্ণের বাজারে বড় পতন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দাম
- আজকের টাকার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৯ এপ্রিলের মুদ্রার বিনিময় হার
- হতাশ শাহবাজ শরিফ! বৃথাই গেলো পাকিস্তানের সব আয়োজন
- অভিযান এখনো শেষ হয়নি: মানচিত্র দেখিয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর
- আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- যেসব কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র! নেপথ্যে বড় ৫ কারণ
- আজ রোববার: ঢাকার যেসব জনপ্রিয় মার্কেট ও এলাকা বন্ধ থাকবে
- রোববার ১২ এপ্রিল ২০২৬: ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময়
- ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ! কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ছাড়ছে আমেরিকা
- সাধারণ দর্শকের বেশে বেইলি রোডে প্রধানমন্ত্রী! সপরিবারে দেখলেন শিশুদের নাটক
- মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পিছু নিল ইরান! হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি
- এক দিনে ২০০ হামলা! লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডবে থমকে যেতে পারে শান্তি আলোচনা
- যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা
- তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু, রাজি হলেন কেবল ট্রাম্প!
- ইমামকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি আটক
- সেই আলোচিত তরুণীর নতুন রাজনৈতিক যাত্রা! বিএনপির মনোনয়ন নিলেন
- বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি
- সৌদিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের বহর: বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি না কি শান্তি রক্ষা?
- ১১ উপজেলায় একযোগে যাত্রা শুরু! কৃষক কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা
- শিগগিরই খুলছে হরমুজ প্রণালি! বিশ্বকে বড় বার্তা দিলেন ট্রাম্প
- গুরুতর আহত হয়েও ইরান চালাচ্ছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- শান্তি আলোচনার মাঝে অর্থের প্যাঁচ! ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে লুকোচুরি
- কফিশপ নয়, ডেটিংয়ের জন্য এখন কবরস্থানই পছন্দ জেন-জিদের!
- তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির
- সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ
- সড়কে রক্তক্ষয়ী মাস! লাশের মিছিলে যোগ হলো ৫৩২ প্রাণ
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গা দিন, লাভের শীর্ষে ১০ কোম্পানি
- মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার
- টানা দুই দিন ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক রাতে তিন বড় ম্যাচ, টিভিতে আজকের যত খেলা
- শেয়ারবাজারে কমেছে ১০ কোম্পানির দর
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নাটকীয়তা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ইসরায়েলের হামলা
- আজকের শেয়ারবাজারে কারা সবচেয়ে বেশি লোকসানে
- যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
- সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান








