তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৭:২৯:৫৩
তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

তেল আবিবের আকাশে হঠাৎ হাজারো কাকের রহস্যময় ওড়াউড়ি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকেলে শহরের সুউচ্চ আজরিয়েলি টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বিশাল এক ঝাঁক কাককে চক্কর দিতে দেখা যায়। এই নাটকীয় দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা ও ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কোনো ‘মহাবিপর্যয়ের সংকেত’ বা অশুভ লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনাও তুঙ্গে উঠেছে। অনেক ব্যবহারকারী বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৯তম অধ্যায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করছেন, এটি হয়তো ‘আর্মাগেডন’ বা চূড়ান্ত যুদ্ধের সেই ক্ষণ, যেখানে পাখিদের ‘ঈশ্বরের মহাভোজে’ জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, কাকের এই বিশাল বাহিনী তেল আবিবের আকাশকে এমনভাবে ঢেকে ফেলেছিল যে মনে হচ্ছিল কালো মেঘ একদিক থেকে অন্যদিকে ছুটে যাচ্ছে, যা শহরবাসীর মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

তবে জনসাধারণের এই ভীতি আর অলৌকিক বিশ্বাসের বিপরীতে বিজ্ঞানীরা একে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। পাখি গবেষকদের মতে, এটি কোনো অতিপ্রাকৃত বা অশুভ লক্ষণ নয়; বরং ইসরায়েল ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরিযায়ী পাখি চলাচল পথের ওপর অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বসন্তকালে প্রায় ৫০ কোটি পাখি ইসরায়েলের আকাশপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে। এই সময়ে বিশেষ করে ‘হুডেড’ জাতের কাকগুলো দলবদ্ধভাবে উঁচু এলাকায় জড়ো হয় এবং আকাশে এমন মহড়া দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে যা ‘মহাপ্রলয়ের সংকেত’ মনে হচ্ছে, বিজ্ঞানীদের মতে তা প্রকৃতির এক নিয়মিত বার্ষিক প্রক্রিয়া মাত্র।

সূত্র- ডেইলি মেইল


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন সেনা মোতায়েন করছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৪:০৬:০৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন সেনা মোতায়েন করছে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে পরিবর্তন করছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এমন কোনো আলোচনা বাস্তবে হচ্ছে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক যুদ্ধের পর এটিই এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ।

বর্তমানে আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিকে কেন্দ্র করে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয়ভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করছে। অন্যদিকে জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরিটি মেরামতের জন্য ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করায় সাময়িকভাবে অভিযানের বাইরে রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৯ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদরদপ্তর, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন যুদ্ধের কৌশলগত মূল ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার স্থলবাহিনী মোতায়েনও জোরদার করছে। পেন্টাগনের নির্দেশে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি দুইটি মেরিন বাহিনী ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রিপোলি এবং বক্সার নামের উভচর আক্রমণ জাহাজকে কেন্দ্র করে গঠিত এই বাহিনীসমূহ সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের জন্য নয়, বরং সীমিত ও দ্রুত সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত। সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপ দখল, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় দ্রুত আঘাত হানা।

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও সমান্তরালে চলছে। পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে যোগাযোগের তথ্যও সামনে এসেছে।

তবে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এই দ্বৈত বাস্তবতা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপের মাধ্যমে আলোচনায় সুবিধা আদায় করতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলের দুটি ট্যাংকে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:৩৯:৪৩
ইসরায়েলের দুটি ট্যাংকে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তাদের যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি দুটি যুদ্ধ ট্যাংক সফলভাবে আঘাত করেছে। ঘটনাটি মারজায়ুন জেলার কান্তারা এলাকার কাছে সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু দুটি ট্যাংক নয়, একই দিনে ওই এলাকায় মোট সাতটি ইসরায়েলি ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংঘর্ষের মাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর দক্ষিণাংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:১৫:২১
হরমুজ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পারদ চড়িয়ে এবার তেহরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে’ খুলে না দিলে ইরানের বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অচল থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই ওয়াশিংটন এই চরম আল্টিমেটাম দিল।

ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাল্টা উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের আঘাত করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যেই তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া এই ‘৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা’ এখন পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের আশঙ্কায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষই যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

/আশিক


বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১১:৫০:২০
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, গত মঙ্গলবার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল ১ নম্বর ইউনিটের একেবারে গা-ঘেঁষে এই হামলা চালানো হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি প্রলয়ঙ্করী পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে একটি বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত সাধারণ ইরানি নাগরিক এবং সেখানে অবস্থানরত রুশ বিশেষজ্ঞদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

ক্রেমলিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সেফগার্ড চুক্তির আওতাভুক্ত এই স্থাপনার আশেপাশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আইএইএ এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা বা আশ্বাস এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। ফলে শঙ্কা কাটছে না বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে তার শীর্ষ নেতৃত্বকে হারিয়েছে, যার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বুশেহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।

/আশিক


ইসরায়েলের কেন্দ্রে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১১:৪৭:০৮
ইসরায়েলের কেন্দ্রে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের দিক থেকে নিক্ষিপ্ত আঘাতগুলো মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে, যা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তেল আবিবের পূর্বে অবস্থিত কফর কাসিম শহরে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও ঘটনাটি ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই হামলায় সম্ভাব্যভাবে ক্লাস্টার ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদি এই আশঙ্কা সত্য হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরপরই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা দল পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধারে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে।

এদিকে নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরণের উৎস ও প্রকৃতি বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত এবং জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বেসামরিক এলাকাগুলো ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


প্রতিরোধ না কি আত্মসমর্পণ? ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে আব্বাস আরাগচির পালটা জবাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:২১:৫০
প্রতিরোধ না কি আত্মসমর্পণ? ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে আব্বাস আরাগচির পালটা জবাব
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ইরানকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘ভয়াবহ আঘাতের’ মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ কেবল তেহরানের নিজস্ব শর্ত এবং সময়সূচি অনুযায়ীই বন্ধ হবে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ ত্যাগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। জবাবে ইরান পাঁচটি পালটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের পূর্ণ আইনি অধিকার স্বীকার করা, সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির গ্যারান্টিযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর হামলা হবে না—এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয় এবং তেহরান আপাতত ‘প্রতিরোধ’ চালিয়ে যাওয়ার নীতিতেই অটল।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং তেহরান নমনীয় না হলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে। এই যুদ্ধবিরতির গুঞ্জনে ইসরায়েল বেশ উদ্বিগ্ন।

তেল আবিব ভয় পাচ্ছে যে ট্রাম্পের হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তে তাদের সামরিক লক্ষ্যগুলো অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। ফলে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে যে আমেরিকা ভুল পদক্ষেপ নিলে তারা বাহরাইন ও আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা দখলসহ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়ছে, তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:২৪:০৫
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়ছে, তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ক্রমেই তীব্র ও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এখন আর বিচ্ছিন্ন আঘাতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ধারাবাহিক ও সুসংগঠিত একটি বিস্তৃত অভিযানে রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান প্রতিদিনের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমের মতো হলেও হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা দুটোই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আক্রমণের ঘনত্ব এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে নতুন কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিরাজে সর্বশেষ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই তরুণ ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের লামের্দ বিমানবন্দরেও তীব্র বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি ইসফাহান ও কারাজ শহরগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চলছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই ধারাবাহিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বন্দর আব্বাসও দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণের আওতায় রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত উপস্থিতিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো হামলার ভৌগোলিক বিস্তার। আগে নির্দিষ্ট কিছু শহরে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন আক্রমণের পরিধি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন শহর মাশহাদ, যা সাধারণত হামলার বাইরে থাকে, সেটিও এবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। এটি যুদ্ধের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একই সঙ্গে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন উত্তরাঞ্চলের শহর তাইবাদেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্দেশ করে যে সংঘাত এখন দেশের প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


হিজবুল্লাহ প্রধানের ঐক্যের আহ্বান, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:১৩:৫০
হিজবুল্লাহ প্রধানের ঐক্যের আহ্বান, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়
ছবি: আল জাজিরা

লেবাননে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র ও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম দেশবাসীর উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো আত্মসমর্পণ করে নিজের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, অন্যটি হলো প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের অধিকার রক্ষা করা। তার মতে, এই মুহূর্তে প্রতিরোধ ছাড়া অন্য কোনো পথ গ্রহণযোগ্য নয়।

নাইম কাসেম আরও বলেন, চলমান হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা মানে বাস্তবে আত্মসমর্পণ করা। তার ভাষায়, যে শক্তি একটি দেশের ভূমি দখল করে এবং প্রতিদিন আক্রমণ চালায়, তার সঙ্গে যুদ্ধের সময় আলোচনা করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংকটময় সময়ে একমাত্র প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। প্রথমে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং দেশের মানুষ ও ভূমিকে রক্ষা করতে হবে, এরপর অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক হামলা শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করলে সংঘাত দ্রুত লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

মার্চ মাসের শুরু থেকে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করছে, তাদের লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে বাস্তবে এই সংঘাত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, লেবাননে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় বারো লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দক্ষিণ লেবানন দখলের দাবিও জোরালো হচ্ছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচসহ কয়েকজন কট্টরপন্থী নেতা এই অঞ্চলের সংযুক্তিকরণের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিভিন্ন নেতা কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বাস্তবে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং কোনো ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়। এই অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে এবং একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলো সুরক্ষিত থাকে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার খরচ: পেন্টাগনের নতুন মাথাব্যথা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:০৬:৪৯
সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার খরচ: পেন্টাগনের নতুন মাথাব্যথা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারার পেছনে ‘নিম্ন-উচ্চতার হুমকি’ (Low-altitude threats) মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের বিনিয়োগের অভাবকে দায়ী করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যখন উচ্চ আকাশসীমার প্রথাগত লড়াইয়ে সফল হচ্ছে, তখন নিচু দিয়ে উড়ে আসা ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করতে গিয়ে পেন্টাগনকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো এই যুদ্ধের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ইরান জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়, তাই তারা ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ (War of Disruption) বা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইরান তাদের উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত এলাকায় মার্কিন আধিপত্য রুখে দিচ্ছে। গ্রিকো আরও উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করলেও নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোন শনাক্ত করার মতো প্রয়োজনীয় সেন্সর ও রাডার তাদের পর্যাপ্ত নেই।

তবে এই বিশেষজ্ঞ মতামতের কয়েক ঘণ্টা পরেই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের সব সামরিক সক্ষমতা হারিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা এখন তেহরানের আকাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছি।” একই সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একে ‘ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সস্তা ড্রোন প্রযুক্তির বিপরীতে উচ্চমূল্যের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: