পুতিনের গোপন চাল; মার্কিন রাডার ধ্বংস করতে ইরানকে সাহায্য করছে মস্কো!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৯:০০:৫২
পুতিনের গোপন চাল; মার্কিন রাডার ধ্বংস করতে ইরানকে সাহায্য করছে মস্কো!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে রাশিয়া স্যাটেলাইট চিত্র (Satellite Imagery) এবং উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়া তার নিজস্ব সামরিক উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি তেহরানের কাছে হস্তান্তর করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, রাশিয়া কেবল তথ্যই দিচ্ছে না, বরং ইরানের বিখ্যাত 'শাহেদ' ড্রোনের আধুনিকায়নেও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং নির্ভুল লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা বাড়াতে মস্কো বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার এই গোপন সহায়তার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মোতায়েন মার্কিন 'থাড' (THAAD) রাডার ব্যবস্থা এবং বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইরান। যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই প্রতিবেদনকে "ফেক নিউজ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত করা রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলেরই একটি অংশ।

/আশিক


সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৮:৫৩:১৮
সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আজ এসব দেশে ২৯ রমজান হওয়ায় মুসলিম উম্মাহর নজর এখন পশ্চিমাকাশে। তবে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক বিশ্লেষণ বলছে, আজ বিশ্বের কোথাও খালি চোখে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, চাঁদ আজ সূর্যাস্তের আগেই অস্ত যাবে, যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব করে তুলবে।

অন্যদিকে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান এবং ওমানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার হবে ২৯ রমজান। ফলে এসব দেশে চাঁদ দেখা হবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে বুধবার চাঁদ দেখা একেবারেই অসম্ভব এবং মধ্যাঞ্চলেও তা অত্যন্ত কঠিন হবে। তাই প্রচলিত চাঁদ দেখা পদ্ধতি এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমন্বয়ে অধিকাংশ দেশে ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) বা শনিবার উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ঘোষণা মূলত আজ ও কালকের চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করছে।

/আশিক


ওয়াশিংটনের সাথে সব বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করল মালয়েশিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৭:২৯:২৩
ওয়াশিংটনের সাথে সব বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করল মালয়েশিয়া
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল ঘানি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘অ্যাগরিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি এখন থেকে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও শূন্য বলে গণ্য হবে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক শুল্ক নীতি বাতিল করার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারিত ছিল এবং কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এর বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত ও নীতিগত ছাড় দিয়েছিল। মন্ত্রী জোহারি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো শুল্ক আরোপ করতে চায়, তবে তা অবশ্যই নির্দিষ্ট কারণের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে; ঢালাওভাবে কোনো শুল্ক মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমানে মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করছে, যা নিয়ে মালয়েশিয়া সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স, পাম তেল এবং রাবার খাতের প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত মূল্যের রপ্তানি এখন ঝুঁকির মুখে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও মার্কিন শুল্কের বিপরীতে বড় ধরনের ছাড় দিয়ে চুক্তি করেছিল, যা আদালতের রায়ে এখন গুরুত্ব হারিয়েছে। মন্ত্রী জোহারি মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যে আর কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

/আশিক


লারিজানি-সোলেইমানির পর ইরানের আরও এক শীর্ষ নেতার পতন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৭:২৪:৩৮
লারিজানি-সোলেইমানির পর ইরানের আরও এক শীর্ষ নেতার পতন
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছে বলে বুধবার (১৮ মার্চ) চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে যেকোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই তাদের হত্যা করা যাবে। কাৎজ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন যে, গত রাতেই এক বিশেষ অভিযানে গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিবকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছে।

এসমাইল খাতিবের এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েল ইতিমধ্যে ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করেছে। উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবারই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যার তালিকায় খাতিবের নামও ছিল। কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলার তীব্রতা এখন আরও এক ধাপ বাড়ছে এবং যেকোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসমাইল খাতিব সাম্প্রতিক ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেছে তেল আবিব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ আরও যোগ করেন যে, আজকের দিনেও সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ‘চমক’ দেখা যেতে পারে, যা ইরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

/আশিক


লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতে আগুনের তাণ্ডব: পিছু হটছে ইউএসএস ফোর্ড!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৭:১৯:৪৫
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতে আগুনের তাণ্ডব: পিছু হটছে ইউএসএস ফোর্ড!
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই আকস্মিক এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর লোহিত সাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' বন্দর অভিমুখে রওনা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রণতরীটির লন্ড্রি অংশে ভয়াবহ আগুন লাগার ফলে অন্তত দুইজন নাবিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়তে হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটিকে জরুরি মেরামতের জন্য লোহিত সাগর থেকে সরিয়ে গ্রিসের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রায় এক লাখ টন ওজনের এবং চার হাজারেরও বেশি নাবিকবাহী এই বিশালাকায় রণতরীটি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে লোহিত সাগরে পৌঁছানোর আগে একই বন্দরে যাত্রাবিরতি করেছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র রণতরীর বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি বা এর সাথে থাকা শক্তিশালী গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর অবস্থান নিয়ে বিশদ কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ফোর্ড স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো লোহিত সাগরে তাদের নির্ধারিত সামরিক কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত রাখবে। রণতরীটিকে বন্দর অভিমুখে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান স্পর্শকাতর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মার্কিন নৌ ইনিস্টিটিউট


২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৩:১২:৩৮
২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে আরও প্রায় ৪৫ মিলিয়ন (৪.৫ কোটি) মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছে। ডব্লিউএফপি-র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কার্ল স্কাউ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই সংঘাত সরাসরি কোনো শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলে (Breadbasket region) না হলেও, এটি বিশ্বের জ্বালানি হাব বা শক্তির কেন্দ্রে অবস্থিত। জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, সার ও কৃষি খরচ বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কার্ল স্কাউ সতর্ক করে বলেন, "এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় ধাক্কা (shockwaves) পাঠাবে এবং যারা আগে থেকেই চরম অর্থকষ্টে আছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বাড়ায় সার ও জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে ডব্লিউএফপি-র নিজস্ব শিপিং খরচ ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটি ইতিমধ্যে সুদান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

ডব্লিউএফপি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ২৪ শতাংশ, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ২১ শতাংশ এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সোমালিয়া ও সুদানের মতো দেশগুলো এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

সূত্র : শাফাক নিউজ


সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১২:৪১:৪৬
সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শেষ হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের প্রহর গুনছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের ২৯ রমজান উপলক্ষে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুসন্ধান করবেন দেশটির নাগরিকরা। আজ সন্ধ্যায় যদি সৌদির আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারই সেখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি আজ চাঁদ দেখা না যায়, তবে দেশটির মুসলমানরা আরও একদিন রোজা রাখার সুযোগ পাবেন এবং ঈদ হবে শুক্রবার।

সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন যে, যদি কেউ খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তা যেন দ্রুত নিকটস্থ আদালত বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করেন। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদ্‌যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন যে, এবার আরব দেশগুলোতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঈদের সঠিক দিনটি।

/আশিক


ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১১:৫৩:৩৬
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বুশেহর শহরের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘শত্রুপক্ষের বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু’ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরান সরকার। দুই পক্ষই পৃথক বিবৃতিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও হামলায় ব্যবহৃত বস্তুটি ঠিক কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আইএইএ বা ইরান সরকার। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে, এটি একটি ড্রোন হতে পারে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আইএইএ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌভাগ্যবশত হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। একই সঙ্গে সংস্থাটির মহাপরিচালক যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এমন হামলার ফলে যদি কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের হামলা স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এর তেজস্ক্রিয়তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক অপূরণীয় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


দুবাই ও আবুধাবিসহ সাত আমিরাতেই কার্যকর হবে অভিন্ন ঈদের নিয়ম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১০:৪৬:৫২
দুবাই ও আবুধাবিসহ সাত আমিরাতেই কার্যকর হবে অভিন্ন ঈদের নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেনারেল অথরিটি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাত এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ এবার দেশজুড়ে কেবল নির্দিষ্ট মসজিদগুলোর অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি বছর দেশটির কোনো ঐতিহ্যবাহী খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে না।

বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, এই নির্দেশনাটি পুরো আমিরাত জুড়ে কার্যকর থাকবে। নামাজি এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঈদের জামাতগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রথাগতভাবে মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসের শেষে বড় জামাতের মাধ্যমে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়, যার অধিকাংশ আয়োজনই বিশাল খোলা মাঠে বা নির্ধারিত ‘ঈদগাহ’ এলাকায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে এবারের বিশেষ পরিস্থিতিতে আমিরাত সরকার সেই রীতিতে পরিবর্তন এনেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, আমিরাতের প্রতিটি মসজিদ মুসল্লিদের ধারণ করার জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি কোণে অবস্থিত মসজিদগুলোতেই এবার ঈদের নামাজ আদায়ের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।

দেশটির সাতটি আমিরাতেই এই অভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হবে। জেনারেল অথরিটি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স আরও জানিয়েছে, মসজিদে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত সকল দাপ্তরিক নির্দেশনা ও গাইডলাইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

মুসল্লিরা যেন কোনো বিভ্রান্তিতে না পড়েন, সেজন্য স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হচ্ছে। দুবাইয়ের আল সালাম মসজিদসহ প্রতিটি প্রধান মসজিদে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে যাতে নামাজের সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। আরব আমিরাতের এই ঘোষণার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।

কর্তৃপক্ষ বারংবার অনুরোধ জানিয়েছে যেন কেউ উন্মুক্ত স্থানে নামাজের জন্য জমায়েত না হন। মূলত পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যখন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে, তখন সারা দেশের মানুষ এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আওতায় ধর্মীয় এই উৎসব পালন করবেন।

সূত্র: গালফ নিউজ


নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ সাজাতে চাইছেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১০:৩৩:৩৫
নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ সাজাতে চাইছেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি লারিজানি এবং সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে। ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে এই দুই শীর্ষ লক্ষ্যবস্তুকে ঘিরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করছেন। লারিজানিকে তিনি ইরানের শাসনযন্ত্র পরিচালনাকারী একজন 'গ্যাংস্টার বস' হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাসিজ প্রধান সোলেইমানিকে চিত্রায়িত করছেন একজন 'স্বৈরশাসক' ও 'বিক্ষোভ দমনকারী' হিসেবে।

সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েল মূলত ইরানি জনগণের ওপর চেপে বসা দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবে প্রচার করছে। যদিও কৌশলগত গুরুত্বের বিচারে লারিজানি অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিলেন, তবুও ইসরায়েল বর্তমানে সোলেইমানির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশি প্রচারণা চালাচ্ছে।

এর মূল কারণ হলো নেতানিয়াহুর বিশেষ রাজনৈতিক প্রচারকৌশল। তিনি ইরানি সাধারণ মানুষকে এটা বোঝাতে চাইছেন যে তিনি তাদের শত্রু নন, বরং তাদের মুক্তিদাতা হিসেবে পাশে আছেন। নিজেকে ইরানের 'মুক্তিদাতা' হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন, যাতে দেশটির সাধারণ জনগণ বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সরকারকে উৎখাত করতে সহায়তা করে।

তবে নেতানিয়াহুর এই ইমেজ তৈরির প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। কারণ গত কয়েক সপ্তাহের টানা বিমান হামলায় ইরানে অসংখ্য সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মাঝে সাধারণ ইরানিরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বন্ধুত্বের’ দাবিকে কতটা বিশ্বাস করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: