ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:১২:৩৬
ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রুশ সেনাদের চীনা সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এমন গুরুতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' ও 'মানহানিকর' উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ইইউর এই দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের দাবির কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি চীনের বিরুদ্ধে অপবাদ এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানোর শামিল।" চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।

এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিবেদন ইইউর হাতে এসেছে। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া এই প্রতিবেদনগুলো তারা গুরুত্বের সাথে যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

বৈঠক শেষে কাজা কালাস আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাশিয়ার সামরিক খাতকে পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে বৈঠকে উপস্থিত ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নমনীয় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পূর্ণ 'নিরপেক্ষ' দাবি করে আসছে এবং শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।

/আশিক


বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১১:২৭:১৯
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী 
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বড় বড় মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি মূল্যায়নে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। এ লক্ষ্যে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী এক বছরের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ প্যানেল অভিবাসন প্রবণতা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামাজিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে এই কমিটি গঠন করে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লায় দেওয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ভারত সরকার এই বিষয়টিকে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে না। বরং তারা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কমিটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক মাসে সদস্যরা বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে যাবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জন্মহার, মৃত্যুহার, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঘটে থাকে। তবে ভারত সরকারের মূল উদ্বেগ অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশ এবং অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির উৎস শনাক্ত করা।

কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সেবাব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এই তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন জেলা। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনা চলছে।

মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি জাতীয় আদমশুমারি, ভোটার তালিকা, অভিবাসন তথ্য এবং সরকারি ডেটাবেস বিশ্লেষণ করা হবে।

সীমান্ত অঞ্চলের বাইরে ভারতের বড় বড় মহানগর ও শিল্পাঞ্চলও এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ এবং পুনের মতো শহরগুলো প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে আকৃষ্ট করে।

ভারত সরকার মনে করছে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে এসব এলাকায় জনসংখ্যার চাপ বেড়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র তৈরি, ভোটার তালিকায় অননুমোদিত নাম অন্তর্ভুক্তি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এসব কার্যক্রমের মূল কারণ শনাক্ত করে সময়মতো নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।

বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ, নগর জনসংখ্যার চাপ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক ভারসাম্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

-রফিক


যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১০:৫৪:১৮
যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে যাবে।

ইরানের মার্চেন্ট মেরিন ইউনিয়নের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (আইটিএফ) অধিভুক্ত ইরানি মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের মহাসচিব সামান রেজায়েই বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করিডোর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক উত্তেজনাই সৃষ্টি করেনি, বরং সমুদ্রপথে আস্থার সংকটও তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরও স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রেজায়েইর মতে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নতুন একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক শিপিং শিল্পের অধিকাংশ অংশীজন মনে করছে, হরমুজকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। বরং এটি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং অনিশ্চিত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা, সামরিক হুমকি দৃশ্যমানভাবে কমে যাওয়া এবং কোনো ধরনের নতুন সংঘাত ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে একাধিক নিরাপদ জাহাজ চলাচল সম্পন্ন হওয়া।

ইরানের এই নৌ-বিশেষজ্ঞ জানান, যুদ্ধ চলাকালে বিপুলসংখ্যক জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করায় এখন সমুদ্রপথে জাহাজের বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বহু নাবিকের শিফট পরিবর্তন এবং ক্রু রোটেশনের প্রয়োজনীয়তাও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে আশাবাদী হিসাবেও অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরের উভয় তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থার বেশ কিছু অংশ যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করতে বিপুল অর্থ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সময়ের প্রয়োজন হবে।

সূত্র: আল জাজিরা


চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৯:৩৫:৩৯
চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতার পথে হাঁটছে না ইরান। বরং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা কার্যকর হলেও তা ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য আনবে না।

সামরিক মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখবে। একই সঙ্গে স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও অব্যাহত থাকবে।

তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমঝোতা কখনোই জাতীয় নিরাপত্তার বিকল্প হতে পারে না। তাই আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কার্যক্রম সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো পক্ষ যদি শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ এই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা দ্রুত ও শক্ত অবস্থানে ফিরে যাব এবং আঞ্চলিক সামরিক বাস্তবতা আগের পর্যায়ে পুনঃস্থাপন করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান এখন ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা দুই পথে সমান্তরাল অগ্রসর হওয়ার’ কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ আলোচনার টেবিলে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে ইরান তার প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে দুর্বল করার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি, লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখাকে তেহরান কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৯:১৫:৩০
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অভিঘাত পড়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যে তিনটি কৌশলগত ভিত্তির ওপর তার রাজনৈতিক অবস্থান দাঁড়িয়ে ছিল, সাম্প্রতিক এই সমঝোতার ফলে সেগুলো এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার প্রকাশ্যেই তার কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে লেবাননের বৈরুতে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে এমন হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সমালোচনা নেতানিয়াহুর জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি নিজেকে ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই পরিচয়কেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা সিমা শাইন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের ফলে লেবাননে ইরানের প্রভাব পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এর ফলে হিজবুল্লাহ দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে টিকে থাকতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ, লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান আরও সুসংহত হলে উত্তর সীমান্তে ইসরায়েলের কৌশলগত চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সামনে এখন দুটি কঠিন বিকল্প রয়েছে। একদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়ানোর ঝুঁকি, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে আপস করার সম্ভাবনা।

চাপ শুধু বিরোধী দল থেকেই আসছে না, বরং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এই চুক্তি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তার এই মন্তব্য ইসরায়েলি রাজনীতির ভেতরে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নেতানিয়াহুর নীরবতা। সাধারণত বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও এবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা তার কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক দ্বিধারই প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটত, তাহলে নেতানিয়াহুর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পরিবেশ তার জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে হবে, নয়তো নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন মোকাবিলা করতে হবে।

তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশল কোন দিকে এগোবে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করবে, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কিনা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা তাকে নতুন সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য করবে।

-রাফসান


যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:০২:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে বিধ্বস্ত স্থানের চারপাশে ঘন ধোঁয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতার কারণে আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের সমস্যা কিংবা উড্ডয়নের সময় কোনো প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।

বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান হিসেবে পরিচিত। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশাল আকৃতির কারণে এই বিমানের ডাকনাম ‘দ্য বাফ’ (The BUFF), যার পূর্ণরূপ ‘বিগ আগলি ফ্যাট ফেলো’। যদিও নামটি অনানুষ্ঠানিক, তবুও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে এটি ব্যাপকভাবে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-৫২ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর বোমারু প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। এটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

এই বিমান প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সমরাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এতে শতাধিক প্রচলিত বোমা বহনের পাশাপাশি ৩২টি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা যায়।

বি-৫২-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থাতেই এতে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে একবার উড্ডয়ন করলে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো অঞ্চলে বিরতিহীনভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জন করে বিমানটি।

সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও এই বিমান ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে বি-৫২ ব্যবহারের খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বা পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান।

-রফিক


মার্কিন-ইরান চুক্তি ঠেকাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে: লেবাননের নেতা পলা ইয়াকুবিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২০:০১:৪১
মার্কিন-ইরান চুক্তি ঠেকাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে: লেবাননের নেতা পলা ইয়াকুবিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা বা বৈশ্বিক চুক্তি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ঠেকাতে ইসরায়েল তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে বলে মন্তব্য করেছেন লেবাননের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ পলা ইয়াকুবিয়ান। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ও জটিল এবং এর সাথে বড় বড় পরাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে; ফলে এই বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

সাক্ষাৎকারে ইয়াকুবিয়ান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তিনি আশা করেন এটি যেন কোনো ‘ভুল বোঝাবুঝির সমঝোতা’ হয়ে না দাঁড়ায়, কারণ এখন এটি স্পষ্ট যে এখানে অনেক বড় বড় বিষয় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই বোঝাপড়াটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং ইসরায়েল প্রথম থেকেই এটিকে সম্পূর্ণ ব্যাহত ও নস্যাৎ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইরান ইস্যুকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া চরম সামরিক উত্তেজনা এটিই প্রমাণ করেছে যে, ইরানি রাষ্ট্র কাঠামোর সুরক্ষা ও শক্তির ভারসাম্যের জন্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কতটা অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পলা ইয়াকুবিয়ানের ভাষায়, হিজবুল্লাহ মূলত ইরানের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার্থেই লড়াই করেছে, লেবাননের নিজস্ব স্বার্থে নয়; আর এই বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য মোটেও ভালো কোনো খবর বা সংকেত নয়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ইসরায়েলের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাঠপর্যায়ের ভূমিকা এখন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে; ফলে যেকোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি কিংবা এর ব্যর্থতা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৪০:৪০
মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাত ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ও নতুন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খবরে যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক সব চাপ ও চুক্তি উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবানন থেকে কোনোভাবেই সেনা না সরানোর একরোখা ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের সীমান্তবর্তী ওই স্পর্শকাতর এলাকায় সামরিক অভিযান ও সেনা উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির কট্টরপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

সোমবার (১৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কাৎজ স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করার স্বার্থেই দক্ষিণ লেবাননে ইহুদি সেনাদের স্থায়ী মোতায়েন বজায় থাকবে। তাঁর দাবি, সীমান্ত এলাকায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যেকোনো ধরনের বৈরী তৎপরতা ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বজায় রাখা ছাড়া তেল আবিবের সামনে কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননের চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর সরাসরি কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা চালায়, তবে তেহরানকে তার জন্য অত্যন্ত কঠোর ও চড়া জবাব দেওয়া হবে।

অথচ এই উত্তেজনার ঠিক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটাতে একটি সফল কাঠামোগত শান্তি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই ঐতিহাসিক সমঝোতার মূল শর্তগুলোর আওতায় ইরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক তেলের রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই শান্তি উদ্যোগের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে লেবানন সীমান্তে চলমান যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনার বিষয়টিও টেবিলে গুরুত্বের সাথে আলোচনায় এসেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বৈশ্বিক এই চুক্তির খবর সামনে এলেও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সমর্থন বা সম্মতি জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই স্পর্শকাতর চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলগত নীরবতা বজায় রাখলেও তাঁর উগ্র ডানপন্থী কোয়ালিশন বা জোট সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ইতিমধ্যে এই শান্তি চুক্তি নিয়ে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ তুলেছেন। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, বিদেশি কোনো পরাশক্তির করা সমঝোতা বা চুক্তি ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয় এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসরায়েল কেবল নিজস্ব সিদ্ধান্তই নেবে।

সমান্তরালভাবে দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও এই মার্কিন-ইরান চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে এটিকে সরাসরি ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক চরম ‘কূটনৈতিক বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রখ্যাত বিরোধীদলীয় রাজনীতিক গাদি আইজেনকট বর্তমান সরকারের এমন একমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তি চুক্তির মতো দেশের এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা রূপরেখা দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তি তুরস্ক, ইরাক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক জরুরি ফোনালাপ ও আলোচনা পরিচালনা করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলের অবৈধ সামরিক অভিযান ও আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মুসলিম বিশ্বকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ পরবর্তী এই বৈশ্বিক শান্তি সমঝোতা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কার্যকর করতে হলে তেল আবিবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও সমান আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।

তবে সকল আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে—লেবানন, সিরিয়া ও গাজা সীমান্তসংলগ্ন যেসব এলাকাকে ইসরায়েল নিজের ‘নিরাপত্তা বলয়’ (Security Buffer Zone) হিসেবে বিবেচনা করে আসছে, সেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এই সশস্ত্র উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকাগুলোতে সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সকল সামরিক অবকাঠামো ও সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের মাটিতে যেকোনো ধরনের রকেট বা ড্রোন হামলার ঝুঁকি একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই হলো তেল আবিবের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধনীতির মূল লক্ষ্য।

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির এই যুগান্তকারী খবরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও নেতানিয়াহু প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস নোট জারি করেনি যে, এই নতুন বৈশ্বিক সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কী ধরনের অবস্থান বা সমঝোতায় যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:২০:০৮
নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন কোনোভাবে বানচাল বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, তবে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে ‘লাঠি ও পাথর’ হাতে নিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে টেনেহিঁচড়ে অপসারণ করতে হবে। রোববারে (১৪ জুন) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সরকারপ্রধান এই বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

বিগত ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ রাজনীতিক এহুদ বারাক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে খুব সহজেই আগামী নির্বাচনকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত করতে পারেন। আর তিনি যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে ইসরাইলের সাধারণ জনগণের সামনে লাঠি-পাথর হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।

এহুদ বারাক তাঁর সাক্ষাৎকারে জোরালো দাবি করেন, লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার একটি কৃত্রিম উছিলা তৈরি করে নেতানিয়াহু মূলত এই আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে চিরতরে রুদ্ধ করতে চান, যার ফলে হিজবুল্লাহ ও ইরান ইসরাইলের বুকে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পাবে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, নেতানিয়াহু আসলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি অন্তহীন ও চিরস্থায়ী যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে চান; কারণ তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন যে দেশে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে ঝুলে থাকা একাধিক দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া পুনরায় গতি পাবে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে।

ঠিক যেভাবে তিনি এর আগে হামাসের সাথে অতি প্রয়োজনীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিটি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে তিনি লেবাননের সাথে চলমান আঞ্চলিক শান্তি অগ্রগতির পথও পুরোপুরি রুদ্ধ করে রেখেছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন মেয়াদে ইসরাইলের ক্ষমতায় আছেন, যাকে দেশটির সামগ্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থী ও চরমপন্থী সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক রূপরেখা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ইসরাইলে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ আদালতে ঘুষ, জালিয়াতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। এর পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধের অকাট্য অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।

উক্ত সাক্ষাৎকারে এহুদ বারাক কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন। এক শব্দে এই চুক্তিকে ‘খারাপ’ এবং দুই শব্দে ‘খুব খারাপ’ বলে অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত অহংকার, ভুল কূটনীতি ও দূরদর্শিতার চরম অভাবের কারণেই আজ ইসরাইল রাষ্ট্রকে এই আন্তর্জাতিক মূল্য চকাতে হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার যে লক্ষ্য নিয়ে ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করতে চেয়েছিল, তার একটি লক্ষ্যও তেল আবিব অর্জন করতে পারেনি বলে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেন।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের এমন উসকানিমূলক মন্তব্য গণমাধ্যমে সামনে আসার পরপরই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্র ও ডানপন্থী শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে এহুদ বারাকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টে বিসমুথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারাককে প্রথমে একজন যোগ্য মানসিক ডাক্তারের কাছে পাঠানো উচিত; আর তিনি যদি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রমাণিত হন, তবে দেশের আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহী ও ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা দরকার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১১:৩৭
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক বা হোস্ট হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দীর্ঘ তিন মাসব্যাপী চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের এই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে (পার্লামেন্ট) দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিদীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ ও বৈরিতার অবসান ঘটাতে অবশেষে তিন পক্ষের নিবিড় আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে আরও উল্লেখ করেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বিশ্ব ঐতিহাসিক চুক্তির মূল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে পুরো আন্তর্জাতিক আয়োজনটির মূল ব্যবস্থাপক ও আয়োজক হিসেবে থাকবে পাকিস্তান। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর এমন নীতিগত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে এক নতুন আশার আলো ও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এর আগে একই দিন ভোররাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক জরুরি পোস্টে দাবি করেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পোস্টের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এই বিশ্ব শান্তি আলোচনার মূল প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিজেও দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চূড়ান্ত সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির কথা আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের চরম বৈরি ও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে নিমজ্জিত থাকা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি যদি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে এক অভাবনীয় ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাঠকের মতামত: