তীব্র সমালোচনার মুখে নতি স্বীকার করল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৪৩:২৪
তীব্র সমালোচনার মুখে নতি স্বীকার করল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলায় বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়। আশরাফ হাকিমি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের মতো তারকা ফুটবলাররা স্প্যানিশ ভাষায় উত্তর দিতে চাইলে খোদ ফিফার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের থামিয়ে ইংরেজিতে কথা বলার অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের স্প্যানিশ প্রশ্নের সাবলীল উত্তর দিতে গিয়েও খেলোয়াড়দের এভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। অবশেষে বিশ্বব্যাপী এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হলো ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা তাদের পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে এখন থেকে সাংবাদিক, খেলোয়াড় এবং কোচদের সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলার পূর্ণ অনুমতি দিচ্ছে। গণমাধ্যমের কাজ সহজ করতে এখন থেকে প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে একজন করে স্প্যানিশ অনুবাদক (ট্রান্সলেটর) রাখবে ফিফা। পাশাপাশি, ফিফার অফিশিয়াল অ্যাপেও স্প্যানিশ থেকে সরাসরি অনুবাদের বিশেষ ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো, যাদের মূল রাষ্ট্রভাষা স্প্যানিশ। আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর প্রতি সম্মান ও সৌজন্য দেখিয়েই ফিফা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে নিয়ম ছিল—কেবল ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কোনো দলের মূল ভাষা স্প্যানিশ হলেই সংবাদ সম্মেলনে সেই ভাষা ব্যবহার করা যেত। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচে পর্তুগিজ, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান (কোচ আনচেলত্তির কারণে) ভাষায় কথা বলার সুযোগ থাকলেও স্প্যানিশ নিষিদ্ধ ছিল।

ফিফা জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মটি একদম তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ কার্যকর করা হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে; মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি চালু হতে দুই-একটি ম্যাচ সময় লেগে যেতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সব বিতর্কের পর বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশের ভাষা ও বৈশ্বিক ফুটবলারদের আবেগ বিবেচনা করে ফিফার সামনে এর চেয়ে বাস্তবসম্মত আর কোনো বিকল্প ছিল না।

/আশিক


একজন মেসির জন্য পুরো দল প্রস্তুত করা অর্থহীন: হুঙ্কার আলজেরিয়া কোচের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৩৯:৫৭
একজন মেসির জন্য পুরো দল প্রস্তুত করা অর্থহীন: হুঙ্কার আলজেরিয়া কোচের
ছবি : সংগৃহীত

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা আলজেরিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেরা পরিষ্কার ফেভারিট হলেও ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে রোমাঞ্চের কমতি নেই।

বিশেষ করে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এই ম্যাচটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার বসনিয়ান কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল জাদুকর মেসিকে আটকানোর জন্য আলাদা কোনো ‘ম্যান-মার্কিং’ বা বিশেষ ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা তিনি করছেন না।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আলজেরিয়া বস পেটকোভিচ বলেন, "আমি প্রতিটি খেলোয়াড় এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, তবে আমাদের নিজেদের শক্তির ওপরও আমার পূর্ণ ভরসা আছে। আমি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়কে আটকানোর জন্য ছক কষি না, আর আগামীকালও তা করব না। একজন ব্যক্তির জন্য পুরো দলকে প্রস্তুত করা অর্থহীন।" মেসিকে ব্যক্তিগতভাবে পাহারা না দিয়ে বরং দলীয়ভাবে আর্জেন্টিনাকে রোখার কৌশল বেছে নিয়েছেন তিনি।

পেটকোভিচ তাঁর রণকৌশল ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে মেসির আশেপাশে থাকা অন্য খেলোয়াড়দের পাসিং লাইন বা সাপ্লাই চেইন কেটে দেওয়া, যাতে বিশ্বমানের এই ফুটবলাররা মাঠে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ না পায়।" ম্যাচের পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্ল্যান এ’ আছে এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী রিয়্যাক্ট করার জন্য ‘প্ল্যান বি’-ও তৈরি রাখা হয়েছে। আমরা ফেভারিট নই ঠিকই, তবে এই বিশ্বকাপেই আমরা বড় বড় অঘটন ঘটতে দেখেছি। আমরাও কাল একটা চমক দিতে চাই।"

/আশিক


সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:১৪:০১
সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞে মাঠে নামছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আগামীকাল বুধবার সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার মিশন। তবে ক্যারিয়ারের আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরটি মেসির কাছে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, এর আগে কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চাপ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাকে মাঠে নামতে হয়নি। নিজের সম্ভবত শেষ এই বিশ্বকাপে দলকে সতেজ রাখতে এবার মাঠ ও মাঠের বাইরে বাড়তি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন এলএম টেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলে মেসির প্রভাব কতটা, তা স্পষ্ট হয় পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে। স্কালোনি কোচ হওয়ার পর মেসিকে পেয়েছেন ৭০টি ম্যাচে, যার মধ্যে ৫৩টিতেই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা; সাফল্যের হার ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে মেসিকে ছাড়া খেলা ২৪ ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতে জিতেছে দল। পরিসংখ্যানের এই সামান্য পার্থক্যের চেয়েও মাঠে মেসির মানসিক ও কৌশলগত উপস্থিতি দলের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। এবারের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ১৮টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে না খেলেও ৫ ম্যাচ বাকি থাকতেই আর্জেন্টিনার টিকিট নিশ্চিত হয়েছিল, যেখানে ৮ গোল করে বাছাই পর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যগত আগ্রাসী ফুটবল কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছেন কোচ স্কালোনি। ১৯৭৮ বা ১৯৮৬ সালের অল-আউট অ্যাটাকিং ঘরানা থেকে বেরিয়ে তিনি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন রক্ষণভাগের ওপর, যেখানে মেসির রয়েছে পূর্ণ সমর্থন। বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কড়া ট্যাকল ও অনবরত কড়া নজরদারি থেকে মেসিকে মুক্ত রাখতে তাকে কিছুটা নিচে নামিয়ে খেলানোর ছক কষেছেন স্কালোনি। নিজের অর্ধের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত মেসি দলকে নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রয়োজনে রক্ষণে নেমেও ভূমিকা রাখবেন।

মাঠের বাইরেও দলের তরুণ ফুটবলারদের জন্য মেসির ফোন সবসময় খোলা থাকে। চোট বা অন্য কারণে কোনো ম্যাচে খেলতে না পারলেও ভিডিও কলে সতীর্থদের পরামর্শ ও উৎসাহ দেন তিনি। দলের স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ বলেন, "বাছাই পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসি আমাদের ভিডিও কল করে উৎসাহিত করেছিল। ওই আমাদের নেতা, আমরা বাকিরা সৈনিক। মেসির জন্য আমরা সবকিছু করতে পারি।" বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল ও দু'বার গোল্ডেন বল জেতা মেসির উপস্থিতিই আলভারেজদের কাছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

/আশিক


প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:৩৪:৫৪
প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর জমে উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে সামিল হতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসের কারণে। পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া এর আগে মাত্র একবারই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। মজার ব্যাপার হলো, এবারই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে লড়বে তারা।

দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতের স্মৃতিটি ২০০৭ সালের জুনের। স্পেনের বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে আলজেরিয়াকে পরাজিত করেছিল। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের তৎকালীন তরুণ তারকা লিওনেল মেসি জোড়া গোল করেছিলেন। এছাড়া বাকি দুটি গোল করেছিলেন কার্লোস তেভেজ ও এস্তেবান কাম্বিয়াসো।

প্রায় দুই দশক আগের সেই সুখস্মৃতি নিয়ে এবার আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। যদিও ইতিহাস ও সামর্থ্যের বিচারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই এগিয়ে, তবুও আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৭ নম্বরে থাকা আলজেরিয়া।

শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা যেমন তাদের নতুন মিশনের সূচনা করতে যাচ্ছে, তেমনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য আলজেরিয়ার সামনে এটি একটি বড় মঞ্চ। কানসাস সিটির এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

/আশিক


আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৯:৪৯:২০
আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি 
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই জনপ্রিয় খেলাতেই আজ অপেক্ষা করছে ব্যস্ত একটি দিন। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচের পাশাপাশি মাঠে গড়াবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুটি আকর্ষণীয় লড়াই। ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দিনটি হতে যাচ্ছে টানটান উত্তেজনায় ভরপুর।

বিশ্বকাপ ফুটবলে আজকের সূচির শুরুতেই মাঠে নামবে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগালের বিপক্ষে রাত ১টায় মুখোমুখি হবে তারা। দুই দলের গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের জন্য উপভোগ্য এক ম্যাচের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এরপর বুধবার ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে ইরাক ও নরওয়ে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুই ভিন্ন ফুটবল ঘরানার এই লড়াইকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হবে বুধবার সকাল ৭টায়। সেখানে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনা। তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি আলজেরিয়া। আর্জেন্টিনার তারকাবহুল স্কোয়াড ও আলজেরিয়ার দ্রুতগতির ফুটবলের কারণে ম্যাচটি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে।

ফুটবলপ্রেমীরা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি, টি স্পোর্টস এবং সময় টিভিতে ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। দুই দলই টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

এরপর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মাঠে গড়াবে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের লড়াই। শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আয়ারল্যান্ডের উন্নতি ক্রিকেটবিশ্বে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভি এবং স্টার স্পোর্টস।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে ফুটবল বিশ্বকাপ ও নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচ নিয়ে আলাদা উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের কারণে এখন টেলিভিশনের পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও অনলাইন স্ট্রিমিং মাধ্যমেও সহজেই খেলা উপভোগ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দেশের কোটি কোটি দর্শক যেকোনো স্থান থেকেই প্রিয় দলের খেলা অনুসরণ করতে পারছেন।

-রাফসান


রামিনের গোলে ম্যাচে ফিরল ইরান, জমে উঠল লড়াই

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:২১:৩২
রামিনের গোলে ম্যাচে ফিরল ইরান, জমে উঠল লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ড্রয়ের ধারা যেন থামছেই না। ১৫ জুন অনুষ্ঠিত তিনটি ম্যাচে কোনো দলই জয় তুলে নিতে পারেনি। সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হতে পারে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচও। জমজমাট লড়াইয়ে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ গোলে সমতায় রয়েছে দুই দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইরান। কিক-অফের পর প্রথম মিনিটেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। তবে নিউজিল্যান্ডের সংগঠিত ডিফেন্স দ্রুত সেই আক্রমণ প্রতিহত করে।

শুরুর ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণে যায় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোল করে চমক দেখায় কিউইরা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলিজাহ জাস্ট নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে দেন ইরানের জালে। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা।

গোল হজমের পরও ছন্দ হারায়নি ইরান। ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে তারা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয় ইরানি ফুটবলাররা।

১৬তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পান ইরানের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। দুর্দান্ত গতিতে প্রতিরক্ষা ভেদ করে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি। তার নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ক্রমাগত চাপের ফল পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইরান। বক্সের ভেতরে মোগানলুর নেওয়া শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে রামিন রেজাইয়ানের সামনে চলে আসে। সুযোগ হাতছাড়া না করে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রকম্বকে পরাস্ত করেন তিনি।

গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে ইরান। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে আরও কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করে তারা। এতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড।

প্রথমার্ধের শেষদিকে আরেকটি গোলের দেখা পেয়েছিল ইরান। ৪৫তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে হেডে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন ম্যাচ কর্মকর্তা। এতে হতাশ হন খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।

ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে ইরানি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। রামিন রেজাইয়ানের সমতাসূচক গোলের পর তাদের উল্লাসে যুক্তরাষ্ট্রের সোফি স্টেডিয়াম যেন মুহূর্তের জন্য তেহরানের ঐতিহাসিক আজাদি স্টেডিয়ামে রূপ নেয়।

-রাফসান


ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৫০:২৭
ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতিভা, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দারুণ সক্ষমতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো মুগ্ধতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁর চমৎকার ফুটবল শৈলী ও দৃষ্টিনন্দন গোলের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইতিপূর্বে জাইমার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের কিছু অজানা তথ্য সামনে এনেছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, গোলবারের সামনে ডি-বক্সের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা এক নারী ফুটবলারের কাছ থেকে বল পান জাইমা রহমান। এরপর অত্যন্ত পেশাদার ও চমৎকার দক্ষতায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে রক্ষণভাগ ভেঙে সামনে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের এক জোরালো ও দর্শনীয় শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জাইমার ফুটবল দক্ষতা এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার প্রশংসা করছেন এবং ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ফুটবল মাঠের এই নৈপুণ্যের পাশাপাশি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া কাঠামোর উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে আজ সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে সাভারের শিমুলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শন করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দিনব্যাপী সেখানে অবস্থানকালে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর ক্রীড়া ভেন্যু ঘুরে দেখেন, তরুণ অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং বিকেএসপির ক্রীড়াবিদদের পরিবেশিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

অন্যদিকে, দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপ ঘিরে যখন গোটা দুনিয়া ফুটবল উন্মাদনায় মত্ত, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের পছন্দের দল সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন জাইমা রহমান। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক একদিন আগে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্টোরিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আপনারা কি রেডি?’

স্টোরিটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে জাইমার ফুটবল দল নির্বাচন নিয়ে নতুন কৌতূহল ও জল্পনা শুরু হয়। নেটিজেনদের একাংশের প্রবল ধারণা, জাইমা রহমান ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। বিশেষ করে ব্রাজিলের ছবি ও ল্যাটিন ফুটবল ঘরানার সংগীত ব্যবহারের বিষয়টি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

অনেকের মতে, জাইমা রহমানের এই স্টোরিটিকে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতি একটি বিশেষ শুভকামনা ও উৎসাহের বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে মাঠে নামা ব্রাজিল অবশ্য নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগির মাধ্যমে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। বর্তমানে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতি ও পেশার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

/আশিক


এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৩৩:৩০
এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস। গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে বিশ্ব ফুটবলের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক চরম ত্রাস ও আতঙ্কের নাম ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই চেনা ও বিধ্বংসী ভিনিসিউসকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ-সবুজ জার্সিতে নামলেই যেন সম্পূর্ণ অচেনা ও ছন্দহীন মনে হয়।

জাতীয় দলের হয়ে বড় বড় টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করতে না পারায় প্রায়শই ফুটবলপ্রেমী ও কড়া সমালোচকদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। তবে চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন চলাকালীন এই সমালোচনার আবহ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি লেফট-ব্যাক রবের্তো কার্লোস। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, চলমান বিশ্বকাপেই বিশ্বমঞ্চে সমালোচকদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে ভিনিসিউস নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ইএসপিএন-কে (ESPN) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রবের্তো কার্লোস বলেন, ভিনির মতো বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়কে ফুটবলের মাঠে সবসময়ই নানাবিধ কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে; কারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সে সমালোচনার পাশাপাশি কোটি ভক্তের প্রশংসাও সমানতালে পাবে। তাকে সবার আগে মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি বুঝতে হবে যে—সে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও বড় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সেরা জাতীয় দল ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে।

বর্তমানে ২৫ বছর বয়সি ভিনিসিউস জুনিয়রের কাঁধেই মূলত সেলেসাওদের দীর্ঘদিনের অধরা হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সবচেয়ে বড় ও গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। কার্লোস মনে করেন, এই বিপুল প্রত্যাশার চাপকে ভিনির কোনোভাবেই এড়িয়ে না গিয়ে বরং ইতিবাচকভাবে উপভোগ করা উচিত। সাবেক এই তারকা ডিফেন্ডার তরুণ ভিনিকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভিনিসিউসকে অত্যন্ত শান্ত মস্তিস্কে এই জাতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে এবং হাসিমুখে মেনে নিতে হবে যে সে বর্তমানে এই তরুণ ব্রাজিল দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও নেতা। তাই মাঠের বাইরের সমালোচনা কিংবা দলের ভেতরের মূল দায়িত্ব—কোনোটি থেকেই তার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার বা পালিয়ে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

চলমান মেগা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটা খুব একটা আশানুরূপ বা নিখুঁত হয়নি। আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের হয়ে একমাত্র স্বস্তির গোলটি এসেছিল এই ভিনিসিউসের পা থেকেই। যদিও ম্যাচজুড়ে তার পায়ের জাদুতে কিছু আক্রমণাত্মক ঝলক দেখা গেছে, তবুও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা রিয়ালের সেই বিধ্বংসী ভিনিসিউসকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। রবের্তো কার্লোস অবশ্য ভিনির ভেতরের সুপ্ত সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন। তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই ভিনি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে প্রমাণ করবে সে আসলে কে এবং পায়ে বল নিয়ে সে কী ধরনের ফুটবল জাদু দেখাতে পারে।"

কার্লোস তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও প্রকাশ করেন যে, রিয়াল মাদ্রিদ ও সেলেসাওদের এই প্রধান ভরসার সাথে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত যোগাযোগ ও কথা হয়। তিনি বলেন, ভিনি এই মুহূর্তে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চিত এবং মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী। আমি নিয়মিত তার খোঁজখবর নিই এবং তার সঙ্গে খেলা নিয়ে পরামর্শ দিই। বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জেতার এই কঠিন লড়াইয়ে এই তরুণ ব্রাজিল দলের প্রধান ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়রকেই আমি বিশ্বের সমস্ত শুভকামনা জানাই।

/আশিক


সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:২৮:০৮
সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ চার বছরের পরম প্রতীক্ষা শেষে বিশ্বজুড়ে আবারও গমগম করে উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। তবে মাঠের লড়াই পুরোদমে জমে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শুরু হয়ে গিয়েছে কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চুলচেরা সব ভবিষ্যদ্বাণী। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি হেভিওয়েট ও ট্রফিপ্রত্যাশী পরাশক্তি দল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেনি, যার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ইউরোপসেরা স্পেন। এবারের বর্ধিত ৪৮ দলের মেগা বিশ্বকাপে একাধিক দলের খেতাব জয়ের সমীকরণ উঁকি দিলেও, শেষ পর্যন্ত আগামী ১৯ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনালে কার মুখে শেষ হাসি ফুটবে, তা নিয়ে এখনই চলছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা।

বিশ্বকাপের ট্রফি কার ঘরে যাচ্ছে—এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চারটি এআই চ্যাটবটকে, যার মধ্যে রয়েছে চ্যাটজিপিটি, ক্লদ এআই, গুগল জেমিনি এবং মাইক্রোসফট কো-পাইলট। সবাইকে একদম একই প্রম্পট দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "কে জিতবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬?"। অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয় হলো, ডেটা এবং পরিসংখ্যানের জটিল সমীকরণ বিশ্লেষণ করে চারটি চ্যাটবটই একদম একসুরে একই দলের নাম বেছে নিয়েছে; আর সেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলটি হলো স্পেন। পাশাপাশি প্রতিটি এআই প্রযুক্তির চোখেই রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় ফেভারিট দল হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্সের নাম।

বিশ্বখ্যাত চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তার গাণিতিক মূল্যায়নে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যানের নিখুঁত বিচারে এই মুহূর্তে যদি কোনো নির্দিষ্ট একটি দলকে ট্রফির প্রধান দাবিদার হিসেবে বেছে নিতে হয়, তবে সেই ফেভারিট দলটি নিঃসন্দেহে স্পেন। চ্যাটজিপিটির সুরেই সুর মিলিয়ে গুগল জেমিনি জানিয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিসংখ্যানের গ্রাফে অন্য সব দলের চেয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে স্পেন, আর তাদের একদম ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স।

একই ধারায় প্রথম দুই চ্যাটবটের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মিলে গেছে ক্লদ এআই-এর বিশ্লেষণও। ক্লদ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জেতার গাণিতিক সম্ভাবনা স্পেনেরই সবচেয়ে বেশি এবং তারা শক্তির বিচারে ফ্রান্সের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। ৪৮ দলের এই বিশাল মহাযজ্ঞে স্পেনের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকার মূল কারণ হিসেবে তারা দলটির তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালসহ একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলারের স্কোয়াড গভীরতাকে উল্লেখ করেছে। তবে চ্যাটবটটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, টুর্নামেন্ট যেহেতু সবেমাত্র শুরু হয়েছে, তাই ফুটবলের মাঠে অনেক অনিশ্চয়তা ও রোমাঞ্চ এখনো বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে মাইক্রোসফটের কো-পাইলটও এই ভবিষ্যদ্বাণীতে পূর্ণ সায় দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বেটিং মার্কেট, আধুনিক ডেটা মডেল এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের সামগ্রিক বিচারে নির্দিষ্ট কোনো দলকে শতভাগ নিশ্চিত বলা না গেলেও, স্পেনের ট্রফি জেতার সম্ভাবনা প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ, যা টুর্নামেন্টের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে সর্বোচ্চ। এর পেছনে দলটির সাম্প্রতিক ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রযুক্তির জগতের এই সম্মিলিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এআই-এর দুনিয়ায় বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডারা। তবে মহাজাগতিক এই খাতা-কলমের হিসাব মাঠে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কারণ ভবিষ্যদ্বাণীর শীর্ষে থাকা লামিন ইয়ামালদের স্পেন এখনো বিশ্বমঞ্চের মূল লড়াইয়ে পা রাখেনি। আজ সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে ইউরোপ সেরারা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার আনকোরা দল কেপ ভার্দে। এখন দেখার বিষয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির মতো বিশাল ও দাপুটে জয় দিয়ে স্পেন তাদের এই এআই-স্বীকৃত ফেভারিট মিশন শুরু করতে পারে কিনা।

/আশিক


মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:৩৬:২৯
মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা
ছবি : সংগৃহীত

২০০২ সালের পর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। মাঠের খেলায় চরম সমন্বয়হীনতা আর তালগোল পাকানো ফুটবল উপহার দিয়ে আফ্রিকার দেশ মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে সেলেসাওরা। প্রথম ম্যাচেই ভক্তদের এমন হতাশার বৃত্তে বন্দি করলেও, এখনই ব্রাজিলের আশা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না দলটির সাবেক ব্যালন ডি'অর জয়ী মহাতারকা কাকা।

মরক্কো ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওদের মাঝে কোনো ছন্দ, একাগ্রতা কিংবা দলগত মানসিকতার স্পষ্ট অভাব লক্ষ্য করা গেছে। তার ওপর দলের মূল তারকা নেইমার জুনিয়র এখনো সম্পূর্ণ ফিট নন—ভবিষ্যতে তিনি ফিরলেও কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। কাকার পুরো যুক্তিটি দাঁড়িয়ে আছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা এবং গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণের ওপর। তবে কাকার এই আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত আর এর দুর্বল জায়গাগুলো কোথায়, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

কাকার যুক্তির দুর্বলতা ও অন্ধবিন্দু (Blind Spots)

কাকা যুক্তি দিয়েছেন যে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এটি একটি বিরল ব্যতিক্রম। আর্জেন্টিনা দলে তখন লিওনেল মেসির মতো একজন সম্পূর্ণ ফিট এবং অতিমানবীয় ফর্মে থাকা নেতা ছিলেন, যার চারপাশে পুরো দল এক সুতোয় গাঁথা ছিল। বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমারের চোট এবং ফর্মের যে অবস্থা, তাতে তাঁর ওপর ভর করে 'আর্জেন্টাইন রূপকথা'র পুনরাবৃত্তি আশা করা এক প্রকার অন্ধবিশ্বাস।

ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ বা এসি মিলানের হয়ে আনচেলত্তির সাফল্য আকাশচুম্বী হলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবল বা বিশ্বকাপের মতো সংক্ষিপ্ত ও উচ্চ চাপের টুর্নামেন্টে জাতীয় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর একদমই নতুন। ক্লাব ফুটবলের মতো এখানে প্রতিদিন খেলোয়াড়দের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তিনি পাবেন না।

মরক্কো ম্যাচে ব্রাজিলের মূল সমস্যা কোচের কৌশল ছিল না, ছিল খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ছন্দহীনতা এবং পাসিংয়ের দুর্বলতা। নেইমারের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল সেশনের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি কোনো জাদুমন্ত্রে ঠিক করা সম্ভব নয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: