হরমুজ প্রণালিতে নতুন আতঙ্ক: আরব আমিরাতের তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১১:৫৪:৪২
হরমুজ প্রণালিতে নতুন আতঙ্ক: আরব আমিরাতের তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা সমুদ্রবন্দরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরের দিকে এই হামলাটি চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন’ (ইউকেএমটো)। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউকেএমটো-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফুজাইরা বন্দর থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ওমান উপসাগরে নোঙর করা অবস্থায় ট্যাংকারটিতে একটি বিস্ফোরক বস্তু আঘাত হানে। তবে এটি ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র না কি অন্য কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্যাংকারটির বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের মধ্যে কেউ হতাহত হননি।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানে থাকা ফুজাইরা বন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার খাতিরে বন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে সরাসরি তেলবাহী জাহাজে এই হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি


যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:১১:৫৯
যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি যে বার্তা দিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, তার বিপরীতে এখন নতুন করে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের ভেতরে এখনো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সক্রিয় রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেন্থাল বলেন, বিভিন্ন গোপন ব্রিফিং এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তার মতে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ নতুন সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কিছু বৈঠক ও নিরাপত্তা ব্রিফিং গোপন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা এখনো ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী টেবিলে রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার সময় বা ধরন সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।

ব্লুমেন্থাল আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে কথা বলে আসছে। ফলে নতুন করে হামলার বিকল্প বিবেচনায় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের ভেতরেও ইরান প্রশ্নে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরান-সংক্রান্ত নতুন সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত শোনার কথা রয়েছে বলে মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। একদিকে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রেখে নতুন কোনো চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সামরিক বিকল্প খোলা রেখে তেহরানের ওপর মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকেও নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তেহরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক অবস্থান নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

-রফিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:২৪:৫৫
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের হুমকি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব—সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। একদিকে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক (OPEC) ত্যাগের সিদ্ধান্ত তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুব শীঘ্রই 'আমেরিকান উপস্থিতি থেকে মুক্ত' হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন 'গ্লোবাল কোয়ালিশন' বা আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে।

যুদ্ধের আকাশছোঁয়া ব্যয় ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। যেখানে পেন্টাগন প্রাথমিক ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল, সেখানে বর্তমান হিসাব বলছে এটি ৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় এই খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে, যা জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

আরব আমিরাতের নাটকীয় সিদ্ধান্ত

একটি অভাবনীয় পদক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি তেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের সম্পর্কের ফাটল এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল জোটে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাই এই প্রস্থানের মূল কারণ। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি আগ্রাসন

Ceasefire বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননের ১০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহ ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে।

গাজা অভিমুখে মানবিক ত্রাণ ও ‘জলদস্যুতা’র অভিযোগ

গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' ইসরায়েলি নৌবাহিনী কর্তৃক আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় 'জলদস্যুতা' বলে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ফ্লোটিলাকে 'প্রো-হামাস স্টান্ট' হিসেবে বর্ণনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শান্তির আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতি মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং যুদ্ধের প্রান্তসীমা থেকে পিছিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

ইউরোপের অনাস্থা ও মার্কিন নীতির অস্থিরতা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান সংসদ সদস্য মারি-আগনেস স্ট্র্যাক-জিমারম্যান জানিয়েছেন যে, ওবামা বা বাইডেন প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটনের ওপর বার্লিনের যে আস্থা ছিল, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ওপর সেই আস্থা এখন আর নেই। ট্রাম্পের জার্মানি থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার হুমকি এবং ইতালি ও স্পেন থেকেও সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পুনরায় ভাবতে বাধ্য করছে। ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে 'স্বাধীন ও স্বাবলম্বী' হওয়ার পথ খুঁজছে। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতেই বিশ্ব এক বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ২ সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তা স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সন্ধিহান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না তা তিনি জানেন না।

এই সংঘাত কেবল মিসাইল বা ড্রোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধের এক জটিল সংমিশ্রণ। তেহরানে অব্যাহতভাবে এয়ার ডিফেন্স সাইরেন বাজছে, যা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরণের বিমান হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানচিত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। শান্তির পথ এখন আলোচনার টেবিলে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডের চালের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্রঃ Middle East Eye


যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:১৫:৩৪
যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে দ্রুত তৎপর হয়ে উঠেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করতে গোপন ও দ্রুত অভিযান চালাচ্ছে তেহরান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মোবাইল লঞ্চিং সিস্টেম পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা দলকে নিয়ে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। সেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করা এবং সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি, ইরানি বন্দর অবরোধ এবং নতুন সম্ভাব্য অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউজ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একবার সফর পেছানো হয়েছিল, ফলে দ্বিতীয়বার তা পিছিয়ে দিতে চায় না ওয়াশিংটন।

গত ১৬ এপ্রিল পেন্টাগনে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার উদ্ধার করা হলেও ইরানের সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের সামর্থ্য সীমিত।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌ সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান তাদের বহু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল কিংবা ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় লুকিয়ে রেখেছিল। গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি যুদ্ধবিমান এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর উল্লেখযোগ্য নৌ সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ জোরদার করে। পরে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।

সূত্র:এনবিসি নিউজ


ইরানের জন্য কি বড় স্বস্তি? মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ঘোষণা দিলো ইউএসএস ফোর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২১:৩৬:০৯
ইরানের জন্য কি বড় স্বস্তি? মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ঘোষণা দিলো ইউএসএস ফোর্ড
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ দীর্ঘ ১০ মাসের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষ করে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে যাচ্ছে। গত বছরের জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করার পর থেকে রণতরিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখা এবং ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানে অংশ নেওয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করবে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভার্জিনিয়ায় তার নিজস্ব বন্দরে পৌঁছাবে। সমুদ্রের বুকে টানা ২৯৫ দিনের বেশি সময় পার করার মাধ্যমে এটি ২০২০ সালে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের গড়া ২৯৪ দিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে, যা গত ৫০ বছরে কোনো মার্কিন রণতরির ক্ষেত্রে দীর্ঘতম অভিযানের রেকর্ড।

ইউএসএস ফোর্ড বিদায় নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি কমছে না। গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এসে পৌঁছানোর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন রণতরি অবস্থান করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম ইরানের সঙ্গে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মার্কিন নৌবাহিনী এমন বিশাল শক্তির সমাবেশ ঘটিয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাস থেকে তেহরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউএসএস ফোর্ডকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছে পেন্টাগন, তবে বাকি তিনটি রণতরির উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন এখনো কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

/আশিক


মানচিত্রে ‘ট্রাম্প প্রণালি’! হরমুজের নাম বদলে ট্রাম্পের নতুন চাল ও যুদ্ধের দামামা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৯:৫৬:৪৭
মানচিত্রে ‘ট্রাম্প প্রণালি’! হরমুজের নাম বদলে ট্রাম্পের নতুন চাল ও যুদ্ধের দামামা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা। এবার তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ কোনো ক্যাপশন ছাড়াই হরমুজ প্রণালির একটি পরিবর্তিত মানচিত্র শেয়ার করেন তিনি, যেখানে ওই জলপথটির নাম লেখা ছিল ‘ট্রাম্প প্রণালি’।

এর আগে গত ২৭ মার্চ এক বক্তৃতায় তিনি প্রথমবার এই নামটি ব্যবহার করেছিলেন, যা তখন অনেকে রসিকতা হিসেবে ধরে নিলেও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘খুব কমই ভুল করেন’। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনাকে ট্রাম্পের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি ওই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য ও তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিতে চাইছেন। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে, এই প্রতীকী মানচিত্র পরিবর্তনের আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটিও ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইরানের প্রস্তাব ছিল—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধাবসান হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে করা হবে। কিন্তু ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করছে এবং ওয়াশিংটনের সব শর্ত মানছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না এবং নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ আকাশপথের হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। পেন্টাগনের লক্ষ্য হলো, এই হামলার মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করা। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং হরমুজের নাম পরিবর্তনের বিচিত্র প্রয়াস পুরো অঞ্চলকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র- এনডিটিভি


ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় মূলধন, কোনো আপস নয়: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৮:২২:৫৩
ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় মূলধন, কোনো আপস নয়: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মাসব্যাপী নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন ও নৌ-অবরোধের পর ওয়াশিংটন ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান দমে যায়নি, বরং আজ এই অঞ্চলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ১৬২২ সালে পর্তুগিজ বাহিনীকে এই অঞ্চল থেকে বিতাড়নের ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণে পালিত এই দিবসে খামেনি মার্কিন উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে কোনো আপসের বস্তু নয়, বরং ‘জাতীয় মূলধন’ হিসেবে বিবেচনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য ক্রমাগত চাপ ও অবরোধ জারি রাখছেন, তখন খামেনির এই বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের জনগণ যেভাবে তাদের ভূমি, পানি ও আকাশসীমা রক্ষা করে, ঠিক একইভাবে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁর ভাষায়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে আছে তারা আসলে ভুল পথে হাঁটছে, কারণ মার্কিন ঘাঁটিগুলো যেখানে নিজেদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে অক্ষম, সেখানে তারা তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করাটা স্রেফ ভিত্তিহীন।

খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং ইরানের পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘সারেন্ডার’ বা আত্মসমর্পণের প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।

/আশিক


ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৭:৩২:০৬
ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া বিশেষ এক ভবিষ্যৎবাণীকে সরাসরি নাকচ ও উপহাস করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গালিবাফ ট্রাম্পের ‘তিন দিনে তেলকূপ বিস্ফোরণ’ হওয়ার দাবিকে স্রেফ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন অবরোধের চাপে তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলকূপগুলো এক বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লিখেন, ‘ট্রাম্পের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তিন দিন পার হলো, কিন্তু ইরানের একটি তেলকূপও ফাটেনি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি লাইভস্ট্রিম করতে পারি।’

ইরানি স্পিকার আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ তত্ত্বের কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি ১৪০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমস্যাটি আসলে অবরোধের তত্ত্বে নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনের মানসিকতায়। গালিবাফের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলেও বাস্তবে এটি বিশ্ব তেলের বাজারকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের তিন দিনের ‘বিস্ফোরণ’ তত্ত্ব এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক প্রকার হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি বিদ্রূপ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার দায় পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছে তেহরান।

/আশিক


ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ট্রাম্প: আত্মসমর্পণ না করলে উঠবে না অবরোধ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১২:৪৭:৪৩
ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ট্রাম্প: আত্মসমর্পণ না করলে উঠবে না অবরোধ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, গত সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানের একটি নতুন রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, যেখানে মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগের চুক্তিতে সই করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটিকে ঘিরে রাখা নৌ-অবরোধ কোনোভাবেই তুলে নেওয়া হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নৌ-অবরোধ ইরানের অর্থনীতির ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর মতে, অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের পাইপলাইন ও সংরক্ষণাগারগুলো এখন ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছেছে। ট্রাম্প কার্যত তেহরানকে ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এই কথাটি বলার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে তেহরানও তাদের সামরিক অবস্থান কঠোর করেছে। ইরানের শক্তিশালী বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে যে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফাভাবে ‘অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা শত্রু শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি আবারও কোনো প্রকার আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের ইরানের সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল এবং এমন প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে বলে জানা গেছে, যা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসে এক উত্তপ্ত শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কড়া সমালোচনা করেছেন। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই যুদ্ধ একটি ‘কৌশলগত ভুল’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চোরাবালিতে’ আটকে ফেলছে।

পেন্টাগনের আর্থিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় একটি অংশ খরচ হয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতে। এই বিশাল ব্যয় এবং প্রাণহানি এখন মার্কিন রাজনীতির প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১২:০৩:৫০
হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জাহাজগুলো প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেলেও বাস্তবে রুটটি এখন স্থবির।

এর আগে মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা বাতিল করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বীমা না থাকায় অনেক জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যাত্রা শুরু করতে পারছে না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যার অর্থ আগামী অর্ধেক বছর বিশ্ব তেল সরবরাহের এই প্রধান পথটি অনিরাপদই থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। যেহেতু বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস। এদিকে নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে যায়নি।

তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ওমান উপসাগরে আটক করা ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কার’ ২৮ জন নাবিকের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে বাকি ২২ জন নাবিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতার’ শামিল বলে অভিহিত করলেও কূটনৈতিক উপায়ে বাকি নাবিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আলজাজিরা

পাঠকের মতামত: