মধ্যপ্রাচ্য সর্বশেষ

ইরানের নতুন ডিফেন্স সিস্টেমে ভূপাতিত ৫ মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন, ইসরায়েলে সতর্ক সাইরেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ০৫:০৬:০১
ইরানের নতুন ডিফেন্স সিস্টেমে ভূপাতিত ৫ মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন, ইসরায়েলে সতর্ক সাইরেন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাঁচটি সশস্ত্র ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী । ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তাদের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে শনাক্ত করে পাঁচটি ড্রোনকে অনুসরণ ও ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তির একটি অরবিটার-৪ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ এলাকায়।

এ ছাড়া হারমেস শ্রেণির ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিমেশক এবং রাজধানী তেহরান এলাকায়। একই সঙ্গে মার্কিন তৈরি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে ফিরোজাবাদ এবং বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস অঞ্চলে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ১১৪টির বেশি বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা, আক্রমণাত্মক ও যুদ্ধ ড্রোন ধ্বংস করেছে।

এদিকে একই সময়ে ইসরায়েলের ভেতরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা শনাক্ত করেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে। আকাশপথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টাপাল্টি কৌশল এখন এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কেবল সামরিক সংঘাতের সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা


ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১২:৫০:৫৭
ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ ও নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড কেবল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেনি, বরং মার্কিন গণতন্ত্রের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিচার ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের যে অপূরণীয় ক্ষতি ট্রাম্প করেছেন, তার কোনো নজির নেই।

প্রতিবেদনে একটি ভয়াবহ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ’ (NIH)-এর বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাতিল করতে হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বহু ক্যানসার রোগীর সময়মতো চিকিৎসা মেলেনি এবং তাদের অকালমৃত্যু ঘটেছে। স্বাস্থ্য খাতের ওপর এমন আঘাতকে সংবাদপত্রটি অমানবিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস মনে করে, ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের ‘চোরাবালিতে’ আটকা পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে’ প্রলুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত দুই মাসে ইরানের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের মুখে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এখন ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে আছেন যে—তিনি যদি যুদ্ধ বাড়াতে চান অথবা পিছু হটেন, উভয় ক্ষেত্রেই তাকে বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হবে। সংবাদপত্রটির ভাষায়, এটি ট্রাম্পের জন্য এক ‘বিপজ্জনক অচলাবস্থা’, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১২:২০:১৭
অসুস্থতার খবর ভুয়া! ইরানের শীর্ষ নেতার সক্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যে নেতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গের বোরিস ইয়েলৎসিন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন প্রকাশ করেন যে, তিনি গত সপ্তাহে বিপ্লবের নতুন নেতার কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন।

ক্রেমলিন প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণ অনুযায়ী, পুতিন আরাঘচিকে বলেন, “দয়া করে সর্বোচ্চ নেতার বার্তার জন্য আমার গভীর কৃতজ্ঞতা তাঁর কাছে পৌঁছে দেবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।” পুতিন আরও যোগ করেন যে, ইরানের জনগণ যেভাবে সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই করছে, তা প্রশংসনীয়। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, রয়টার্সসহ বেশ কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে পুতিনের এই বক্তব্য এবং রয়টার্সেরই পরবর্তী এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন আলোচনা সংক্রান্ত সব বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। পুতিন-আরাঘচি এই বৈঠকটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত মিত্রতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি


আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার সুপারইয়াট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৫১:০৮
আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার সুপারইয়াট
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী যখন প্রায় অচল, ঠিক তখনই সেই অবরুদ্ধ জলপথ দাপিয়ে বেড়াল রাশিয়ার রহস্যময় সুপারইয়াট ‘নর্ড’। প্রায় ৪৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি) মূল্যের এই বিলাসবহুল জাহাজটি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা ধনকুবের আলেক্সি মোর্দাসোভের মালিকানাধীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে শনিবার সকালে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ইয়াটটি এবং রবিবার ভোরে ওমানের মাসকাটে পৌঁছায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করলেও, যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে একটি রুশ প্রমোদতরি কীভাবে সেখানে প্রবেশের অনুমতি পেল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও কূটনৈতিক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

শিপিং ডেটা প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে দৈনিক হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, এখন সেখানে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা নগণ্য। এমন এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই বিশাল প্রমোদতরির নির্বিঘ্ন যাতায়াত মূলত ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার গভীর কৌশলগত মৈত্রীর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুপারইয়াট ‘নর্ড’-এর ভেতরে যা আছে

শিল্প প্রকাশনা ‘সুপারইয়াট টাইমস’-এর তথ্যমতে, এই জাহাজটি রাশিয়ার অঢেল সম্পদের এক অনন্য নিদর্শন। এতে রয়েছে

২০টি বিলাসবহুল শয়নকক্ষ।

একটি বিশাল সুইমিং পুল।

একটি হেলিপ্যাড ও একটি সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ)।

নিবন্ধিত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের রাশিয়ার করপোরেট রেকর্ড বলছে জাহাজটি ২০২২ সালে মোর্দাসোভের স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হয়। মোর্দাসোভ মূলত পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এই ইয়াটটির হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার ঘটনাটি ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব তেলের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে একটি রুশ প্রমোদতরির এই অবাধ বিচরণ এটাই প্রমাণ করে যে—পশ্চিমাদের আরোপিত অবরোধ এই অঞ্চলের সব শক্তির জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সূত্র: এনডিটিভি


ট্রাম্পের নাখোশ মেজাজ: ইরানের ৩ ধাপের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করল না হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৩৮:৩০
ট্রাম্পের নাখোশ মেজাজ: ইরানের ৩ ধাপের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করল না হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের দেওয়া ‘তিন স্তরের’ নতুন প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই বিশেষ প্রস্তাবটি ট্রাম্পের পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র।

ট্রাম্পের মতে, এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা নিউক্লিয়ার প্রজেক্টকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের কারণ। মূলত পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার একেবারে শেষে রাখায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এবং প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এই প্রস্তাবটি নিয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কিন্তু আলোচনার পর তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই প্রস্তাবটি অসম্পূর্ণ।

ট্রাম্পের সাফ কথা—পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া অন্য কোনো শর্তে শান্তি আলোচনা সফল হবে না। ইরান যেখানে যুদ্ধ বিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ওয়াশিংটন সেখানে শুরুতেই পরমাণু প্রকল্পের শেষ দেখতে চায়।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়। এরপর পাকিস্তান, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান এই নতুন তিন ধাপের ফর্মুলা পাঠায়।

যার প্রথম ধাপে ছিল যুদ্ধ বন্ধ ও লেবাননে হামলা না করার নিশ্চয়তা, দ্বিতীয় ধাপে ছিল হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো এবং শেষ ধাপে ছিল পরমাণু আলোচনা। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী সংলাপ করতে হলে এই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই করতে হবে। তবে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

সূত্র : রয়টার্স


পরমাণু বোমা নাকি শান্তি? ইরানের নতুন প্রস্তাবে বিপাকে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২১:৫৮:৫৩
পরমাণু বোমা নাকি শান্তি? ইরানের নতুন প্রস্তাবে বিপাকে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এক চাঞ্চল্যকর নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে একটি শর্তে—পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরকালে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক এবং কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে এই তিন ধাপের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আরাগচি স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটনের পারমাণবিক দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের মধ্যে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য হয়নি।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে পাঠানো এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে—প্রথমত, ইরান ও লেবাননের ওপর আর কোনো হামলা হবে না এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওমানের সাথে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

এই দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরেই কেবল তৃতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি ইরান। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, আলোচনা শুরুর আগেই ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। তেহরানের এই নতুন প্রস্তাব মূলত পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার একেবারে শেষে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ শান্তি প্রস্তাব মেনে নেয় কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধের মেঘে ঢাকা পড়ে।

সূত্র: আরটি, গালফ নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


ইরানের কাছে নতিস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র! জার্মান চ্যান্সেলরের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৯:২২:২২
ইরানের কাছে নতিস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র! জার্মান চ্যান্সেলরের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বশক্তির দাবার চালে ইরান এখন এক অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্জ সরাসরি দাবি করেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রীতিমতো অপমানিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ইরানের নেতৃত্বের কারণে একটি পুরো জাতি (যুক্তরাষ্ট্র) অপমানের শিকার হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমেরিকানরা ঠিক কী কৌশলে এই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নেবে, তা আমার বোধগম্য নয়।” মার্জ আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানিরা আলোচনার টেবিলে অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী প্রমাণ করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত চাহিদা’ এবং একতরফা শর্তকে দায়ী করেছেন তিনি।

আরাগচির ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা এক সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, তিনি রুশ মিত্রদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে মস্কোর সাহায্য চাইছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের আরাগচি জানান, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে, তা নিয়ে তিনি রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বিশদ কথা বলবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানির চ্যান্সেলরের এই স্বীকারোক্তি এবং ইরানের রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া মূলত ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরণের কূটনৈতিক পরাজয়। ট্রাম্প প্রশাসন যখন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন ইউরোপীয় মিত্রের এমন মন্তব্য এবং তেহরান-মস্কো অক্ষশক্তি আরও শক্তিশালী হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


পারমাণবিক অস্ত্রই কি তবে ইরানের শেষ ঢাল? দ্য গার্ডিয়ানের বিস্ফোরক তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৭:৪৫:০৮
পারমাণবিক অস্ত্রই কি তবে ইরানের শেষ ঢাল? দ্য গার্ডিয়ানের বিস্ফোরক তথ্য
ছবি : সত্য নিউজ গ্রাফিক্স

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের ৩৯ দিন পর এখন এক নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন, তবে পর্দার আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে এক নতুন পারমাণবিক সংকট। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং তেহরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি ইরানকে ভবিষ্যৎ আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

পত্রিকাটির অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর সাইমন টিসডাল লিখেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না—এই বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা একমত ছিলেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার যৌক্তিকতা দেখাতে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মূলত এক বিরাট সামরিক ও রাজনৈতিক প্যারাডক্স।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের পর থেকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর আকস্মিক হামলা ইরানের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান বদলে দিতে পারে।

বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কট্টরপন্থী অংশ এখন মনে করছে, পারমাণবিক প্রতিরোধ বা ‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ ছাড়া বিদেশি আগ্রাসন থামানো অসম্ভব। ইরাক বা ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান এখন মনে করতে পারে যে, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলেই বড় শক্তির হামলার ঝুঁকি বাড়ে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামরিক হামলা চালিয়ে কোনো দেশের প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় না। ইরান যদি নিজ দেশে এই প্রযুক্তি তৈরি করতে নাও পারে, তবে তারা বিকল্প উৎসের দিকে হাত বাড়াতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, যাদের সাথে তেহরানের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। কিম জং উন ছাড়াও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

যদি ইরান শেষ পর্যন্ত এই পথে হাঁটে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের মতো দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, যা ১৯৬৮ সালের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া শুধু সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে রোখা সম্ভব নয়; বরং এটি বিশ্বকে একটি নতুন ‘পারমাণবিক ভারসাম্য’ বা পারস্পরিক ধ্বংসের আশঙ্কার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আমি ধর্ষক নই! হামলার পর সাংবাদিকের প্রশ্নে কেন মেজাজ হারালেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১২:০১:৪৬
আমি ধর্ষক নই! হামলার পর সাংবাদিকের প্রশ্নে কেন মেজাজ হারালেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারে হামলার ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হামলার ঘটনার পর সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সজোরে দাবি করেছেন, “আমি ধর্ষক নই।”

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোতে এখন বিতর্কের ঝড় বইছে। মূলত হামলার পেছনে থাকা ৩১ বছর বয়সি যুবক কলে থমাস অ্যালেনের একটি তথাকথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারান ট্রাম্প।

গত শনিবার ডিনার চলাকালীন হোটেলের ভেতরে ঢুকে গুলি চালায় অভিযুক্ত যুবক, যা মূল বলরুম থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল। পরবর্তীতে সাক্ষাৎকারে যখন সাংবাদিক ওই যুবকের ডায়েরির একটি অংশ পাঠ করে শোনান—যেখানে লেখা ছিল, “আমি আর কোনো পেডোফিল, ধর্ষক ও দেশদ্রোহীর অপরাধে নিজেকে জড়াতে দেব না”—তখনই উত্তেজিত হয়ে পড়েন ট্রাম্প।

তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের আক্রমণ করে বলেন, “তোমরা ভয়ংকর মানুষ।” একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁকে অন্যায়ভাবে জেফরি এপস্টিনের সাথে জড়ানো হচ্ছে, যার সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, তিনি কাউকে ধর্ষণ করেননি এবং তিনি কোনো পেডোফিলও নন। অভিযুক্ত যুবকের মানসিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প তাকে ‘চরমপন্থায় প্রভাবিত’, ‘খ্রিস্টবিরোধী’ এবং ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেন।

পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতিতে বর্তমান এই সহিংসতার জন্য তিনি ডেমোক্র্যাট নেতাদের ক্রমাগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও উস্কানিকে দায়ী করেন। এই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের মাস্টারপ্ল্যান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১১:৫৬:১৮
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই এক নাটকীয় মোড় নিয়ে এসেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো—ইরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে। বিনিময়ে তারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে রাজি আছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের মাধ্যমেই প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে পৌঁছেছে।

তবে এই প্রস্তাবের পেছনে ইরানের একটি বড় রাজনৈতিক চাল রয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী হলেও তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনায় বসবে না। অর্থাৎ, তারা চাইছে আগে সামরিক চাপ কমিয়ে নিজেদের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, আর পারমাণবিক ইস্যুটিকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখতে। এই 'আংশিক' প্রস্তাব ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, যদি ট্রাম্প এখনই হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছান এবং অবরোধ তুলে নেন, তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করানোর জন্য আর কোনো 'লিভারেজ' বা চাপের হাতিয়ার ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে না। ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে ইরানকে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে।

ইরানের এই নতুন প্রস্তাব সেই পরিকল্পনাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে ইসলামাবাদের পর্দার অন্তরালে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক ভবিষ্যৎ। ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই আংশিক চুক্তিতে সায় দেবেন নাকি আরও কঠোর অবস্থানে যাবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

পাঠকের মতামত: