বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে যে ৭০ হাজার মানুষ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:২৮:৩৬
বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে যে ৭০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী কিয়ামতের দিন এমন এক বিশেষ দল থাকবে যারা কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ বা শাস্তির মুখোমুখি না হয়েই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে। সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এই সৌভাগ্যবান দলের সংখ্যা হবে ৭০ হাজার।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ৭০ হাজার ব্যক্তির প্রত্যেকের সঙ্গে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়ার মাধ্যমে আরও ৭০ হাজার মানুষকে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করবেন। এই হিসাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে প্রায় ৪৯০ কোটি মুসলিম বান্দা একসঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এই বিশেষ মর্যাদা লাভকারী মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে এবং কোনোভাবেই শিরকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা ভাগ্য গণনা, কুসংস্কার বা অশুভ লক্ষণ বিশ্বাসের মতো কোনো ধরনের বিশ্বাসে জড়াবে না। তারা রোগ-ব্যাধি বা কষ্টের সময়েও শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং তাঁর ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করবে।

এই শ্রেণির মানুষদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। সুখ কিংবা দুঃখ—যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তারা সব সময় আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করে।

তাদের জীবনের আরেকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে যে জীবনের সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনার মধ্যেই ঘটে এবং তাই প্রতিটি অবস্থায় তারা তাঁর ওপরই নির্ভর করে।

এই বর্ণনা পাওয়া যায় সহীহ বুখারী (হাদিস নম্বর ৬৫৪১) এবং মিশকাতুল মাসাবিহ (হাদিস নম্বর ৫৫৫৬) গ্রন্থে। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, এসব হাদিস মানুষের মধ্যে ঈমান, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থার শিক্ষা দেয়।

পবিত্র কুরআনেও এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে অগ্রগামী হবে। সূরা ওয়াকিয়ার ১০ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

“আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তী। তারাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে সুখময় জান্নাতে। তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী যুগের মানুষ হবে অনেক এবং পরবর্তী যুগের মানুষ হবে তুলনামূলক কম।”

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, মানুষের অন্তরের নিয়ত যদি সৎ হয় এবং সে যদি আল্লাহর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনা করে, তাহলে সে এই অগ্রগামীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করতে পারে।

এ কারণে আলেমরা সব সময় পরামর্শ দেন মানুষ যেন জীবনে সৎ নিয়ত বজায় রাখে, শিরকমুক্ত ঈমান ধারণ করে এবং যেকোনো ভালো কাজের সুযোগ পেলেই দ্রুত তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করে।

একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দেন যে জীবনের প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা একজন মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং জান্নাতের অগ্রগামীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করতে পারে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমান, নেক আমল এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন।


আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন পবিত্র রমজানের ১৯তম দিনের পূর্ণাঙ্গ আপডেট

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:১১:০০
আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন পবিত্র রমজানের ১৯তম দিনের পূর্ণাঙ্গ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (৯ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা এবং ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি। ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য। ঢাকার সময়ের সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, যা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী জোহর দুপুর ১২:১৩ মিনিট, আসর বিকেল ৪:২৫ মিনিট, মাগরিব সন্ধ্যা ৬:০৮ মিনিট এবং এশা রাত ৭:২২ মিনিটে শুরু হবে। এ

ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৬:১৩ মিনিটে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে এই সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ অথবা বিয়োগ করতে হবে।

ঢাকার সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ০৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনা বিভাগে ০৩ মিনিট, বরিশাল বিভাগে ০১ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ০৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগে ০৮ মিনিট যোগ করে নিতে হবে। পবিত্র রমজান মাসের এই ১৯তম দিনে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

/আশিক


রোজা ভেঙে কাফফারা আদায়ে অক্ষম? জেনে নিন ইসলামের সহজ সমাধান

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৯:৪৫:২৯
রোজা ভেঙে কাফফারা আদায়ে অক্ষম? জেনে নিন ইসলামের সহজ সমাধান
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভেঙে ফেলেন, তবে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। কাফফারা হিসেবে টানা ৬০টি রোজা রাখা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো বাধ্যতামূলক। তবে কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিক অসুস্থতা বা চরম দারিদ্র্যের কারণে এই দুইটির কোনোটিই পালনে সক্ষম না হন, তবে তার করণীয় কী—তা নিয়ে ফিকহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শরিয়তের বিধান মতে, যদি কোনো ব্যক্তি বাস্তবেই কাফফারা আদায়ে অক্ষম হয়ে থাকেন, তবে তাকে মহান আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। তওবার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাকে এই দায় থেকে মুক্তি দিতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে সক্ষমতা ফিরে পেলে কাফফারা আদায়ের চেষ্টা করা উত্তম।

কাফফারা আদায়ে অক্ষম ব্যক্তির করণীয়: যা বলছে ইসলামি শরিয়ত

ইচ্ছাকৃত আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করা নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ। তবে কেউ যদি রোজা ভেঙে ফেলার পর কাফফারা (৬০টি রোজা বা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো) আদায়ে পুরোপুরি অক্ষম হন, তবে তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই একমাত্র পথ। এ বিষয়ে ফিকহশাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি নিচে দেওয়া হলো:

১. البحر الرائق شرح كنز الدقائق (আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযুদ দাকায়িক):

এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিদিয়া কেবল সেই রোজার পরিবর্তে দেওয়া যায় যা মূল রোজা, অন্য কোনো বদলি রোজা নয়।

البحر الرائق شرح كنز الدقائق – (2 / 308):"ولأن الفدية لاتجوز إلا عن صوم هو أصل بنفسه لا بدل عن غيره فجازت عن رمضان وقضائه والنذر، حتى لو نذر صوم الأبد فضعف عن الصوم لاشتغاله بالمعيشة له أن يطعم ويفطر، لأنه استيقن أن لايقدر على قضائه وإن لم يقدر على الإطعام لعسرته يستغفر الله تعالی"।"

অর্থাৎ, কেউ যদি অভাবের কারণে ফিদিয়া দিতেও না পারেন, তবে তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

২. الدر المختار شرح تنوير الأبصار (আদ-দুররুল মুখতার শরহ তানওীরুল আবসার):

অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি বা যারা স্থায়ীভাবে সক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

الدر المختار شرح تنوير الأبصار – (2 / 427):"• (وللشيخ الفاني العاجز عن الصوم الفطر ويفدي) وجوبًا ولو في أول الشهر وبلا تعدد فقير كالفطرة لو موسرًا و إلا فيستغفر الله"।"

সারসংক্ষেপ হলো, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী সামর্থ্যহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সহজতা দান করেছেন। যদি কেউ রোজা রাখতে বা খাদ্য দান করতে—উভয় ক্ষেত্রেই অক্ষম হন, তবে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তেগফার করাই তাঁর জন্য চূড়ান্ত আমল।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:১১:২৬
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু
ছবি : সংগৃহীত

নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আজ রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ১৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি)। আজকের জন্য ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি তুলে ধরা হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ১২:১৩ মিনিট

আসর: ৪:২৪ মিনিট

মাগরিব: ৬:০৬ মিনিট

এশা: ৭:২০ মিনিট

ফজর (আগামীকাল সোমবার, ৯ মার্চ): ৪:৫৭ মিনিট

ঢাকার সময়ের সাথে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সময় যোগ বা বিয়োগ করে নিতে হবে

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:১১:২৬
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু
ছবি : সংগৃহীত

নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আজ রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ১৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি)। আজকের জন্য ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি তুলে ধরা হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ১২:১৩ মিনিট

আসর: ৪:২৪ মিনিট

মাগরিব: ৬:০৬ মিনিট

এশা: ৭:২০ মিনিট

ফজর (আগামীকাল সোমবার, ৯ মার্চ): ৪:৫৭ মিনিট

ঢাকার সময়ের সাথে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সময় যোগ বা বিয়োগ করে নিতে হবে

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

/আশিক


১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ০৯:৫৫:৫৮
১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়
ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য ও মহিমান্বিত অধ্যায়, যা হিজরতের পরবর্তী ১৯ মাসের মাথায় ২য় হিজরির ১৭ রমজান (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ মার্চ) শুক্রবার সকালে সংঘটিত হয়। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী এই লড়াইয়ে মুসলিম বাহিনীর পক্ষে ১৪ জন বীর যোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন, যাদের মধ্যে ৬ জন মুহাজির ও ৮ জন আনসার সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে, কুরাইশ বা কাফের বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে; তাদের পক্ষের ৭০ জন নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বন্দি হিসেবে আটক করা হয়। প্রখ্যাত সীরাত গ্রন্থ ‘আর-রাহিকুল মাখতুুম’ (পৃষ্ঠা ২২৪)-এর তথ্যমতে, এই যুদ্ধের বিজয় ইসলামের অগ্রযাত্রা ও মুসলিম উম্মাহকে প্রাথমিক স্তর থেকে একটি পরিণত স্তরে উন্নীত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল ফোরকান’ বা সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত ব্যবধান গড়ে দেওয়ার দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বদরের এই বিজয় কেবল একটি সামরিক জয় ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের দাওয়াতের পথে থাকা প্রাথমিক সকল বাধা দূর করে একটি শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সূচনা। ইতিহাসবিদদের মতে, ইয়াওমুল ফোরকান হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রভাব অব্যাহত থাকবে এবং এটি হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন সংগ্রামের এক অফুরন্ত প্রেরণা। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরান ও সূরা আনফালে এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুসলিম বাহিনীর প্রতি তাঁর অসীম অনুগ্রহ এবং অলৌকিক সাহায্যের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, সূরা আনফাল মূলত বদর যুদ্ধ সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যুদ্ধবন্দিদের ব্যবস্থাপনা এবং ফেরেশতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সূরা আলে ইমরানে মুসলমানদের তৎকালীন অবস্থা এবং মহান আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য ভবিষ্যতেও ঐশ্বরিক সাহায্যের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বদর যুদ্ধের অবস্থা তুলে ধরে সূরা আলে ইমরানের ১২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে ক্ষীণশক্তি।

এই সাহায্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের ১২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আর আল্লাহ এটা করেছেন তোমাদেরকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; মূলত সাহায্য কেবল মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এছাড়া সূরা আলে ইমরানের ১২৫ নম্বর আয়াতে ভবিষ্যতেও ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বন করলে পাঁচ হাজার ফেরেশতার সুবিন্যস্ত বাহিনী দিয়ে সাহায্যের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একইভাবে সূরা আনফালের ৬৬ নম্বর আয়াতেও মুমিনদের জন্য অনুরূপ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সূরা আনফালের ৪২ নম্বর আয়াতে বদর প্রান্তের রণকৌশলগত অবস্থানের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, স্মরণ করো যখন তোমরা ছিলে নিকট প্রান্তে এবং তারা ছিল দূর প্রান্তে, আর উষ্ট্রারোহী দল ছিল তোমাদের চেয়ে নিম্নভূমিতে।

মুমিনদের সাহস জোগাতে মহান আল্লাহ স্বপ্নের মাধ্যমে এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, যার বর্ণনা রয়েছে সূরা আনফালের ৪৩ নম্বর আয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ আপনাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে তারা সংখ্যায় অল্প; যদি বেশি দেখানো হতো তবে তোমরা সাহস হারাতে এবং নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করতে, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করেছেন। যুদ্ধের ময়দানে ফেরেশতাদের ভূমিকা সম্পর্কে সূরা আনফালের ৫০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেরেশতারা অবিশ্বাসীদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছিল। এছাড়া একই সূরার ৬৭ থেকে ৭১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত যুদ্ধবন্দিদের মুক্তিপণ ও তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বদরের এই বিজয় সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ঈমান, আল্লাহর ওপর আস্থা ও সাহসিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সরাসরি আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য অবলোকন করার পর তাঁদের আত্মবিশ্বাস এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন তাঁরা অসীম সাহসের সঙ্গে নিজেদের আল্লাহর রাস্তায় সঁপে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। এই যুদ্ধের পর আরব উপদ্বীপে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রতিপত্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে কুরাইশরা ইসলামকে মক্কার অভ্যন্তরীণ সমস্যা মনে করলেও বদরের পরাজয় তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ফলে অনেক মানুষের হৃদয় ইসলামের জন্য প্রশস্ত হয় এবং জ্ঞানীদের সামনে ইসলামী রাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

/আশিক


শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ০৯:০৬:২২
শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
ছবি : সংগৃহীত

নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য সময়মতো নামাজ পড়া ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ শনিবার (০৭ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ১৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো—

জোহর-১২.১৪ মিনিট

আসর-৪:২৪ মিনিট।

মাগরিব-৬:০৫ মিনিট।

এশা-৭:২০ মিনিট।

ফজর (আগামীকাল রোববার)-৫টা ০৩ মিনিট।

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো—

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম : ০৫ মিনিট

সিলেট : ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা : ০৩ মিনিট

রাজশাহী : ০৭ মিনিট

রংপুর : ০৮ মিনিট

বরিশাল : ০১ মিনিট

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ০৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৬টা ১৪ মিনিটে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:২৪:১৮
আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য সময়মতো নামাজ পড়া ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ শুক্রবার (০৬ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ১৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হল—

জুমা-১২টা ১৩ মিনিট

আসর-৪টা ২৪ মিনিট

মাগরিব-৬টা ০৪ মিনিট

এশা-৭টা ২০ মিনিট

ফজর (আগামীকাল শনিবার)-৫টা ০১ মিনিট।

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হল—

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম : ০৫ মিনিট

সিলেট : ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা : ০৩ মিনিট

রাজশাহী : ০৭ মিনিট

রংপুর : ০৮ মিনিট

বরিশাল : ০১ মিনিট

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ০২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৬টা ১৫ মিনিটে

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ মার্চ ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ০৯:০৭:২৯
আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের ৫টি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ১৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো—

জোহর: ১২টা ১৪ মিনিট

আসর: ৪টা ২৩ মিনিট

মাগরিব: ৬টা ০৩ মিনিট

এশা: ৭টা ১৯ মিনিট

ফজর (আগামীকাল শুক্রবার): ৫টা ০৫ মিনিট।

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো—

বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম : ০৫ মিনিট

সিলেট : ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে:

খুলনা : ০৩ মিনিট

রাজশাহী : ০৭ মিনিট

রংপুর : ০৮ মিনিট

বরিশাল : ০১ মিনিট

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ০৫ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৬টা ১৭ মিনিটে।


রোজা রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: সেহরি ও ইফতারে যা জানা জরুরি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:১১:০৫
রোজা রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: সেহরি ও ইফতারে যা জানা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই পবিত্র মাসে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও নিরাপদভাবে রোজা রাখা সম্ভব।

সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের অল্প বিরতিতে বারবার খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কিন্তু রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে তাদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে 'হাইপোগ্লাইসেমিয়া'র মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবার অসচেতনতার কারণে ইফতার বা সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার খেলে রক্তে সুগার বেড়ে গিয়ে 'হাইপারগ্লাইসেমিয়া' হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এসব ঝুঁকি এড়াতে রোজার শুরুতেই ওষুধের ডোজ সমন্বয় করা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, অন্য সময়ের সকালের ওষুধ ইফতারে এবং রাতের ওষুধের অর্ধেক ডোজ সেহরিতে গ্রহণ করা যেতে পারে, যা ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে ইফতারে ভাজা পোড়া খাবারের বদলে আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত সালাদ এবং ফলমূল রাখা উচিত, যা রক্তে সুগারের মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না। অনেক রোগী সেহরিতে খুব কম খেয়ে বা শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এর ফলে দিনের বেলা যেকোনো সময় শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে। তাই সেহরি যতটা সম্ভব দেরি করে খাওয়া এবং ইফতার দ্রুত সম্পন্ন করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শ্রেয়। পাশাপাশি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন। চিনিযুক্ত শরবত বা অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে ডাবের পানি বা চিনিহীন ফলের রস খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, তাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। রোজা রাখা অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগলে বা শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোজা ভেঙে গ্লুকোজ বা মিষ্টি জাতীয় কিছু গ্রহণ করা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

বিশেষ করে যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের সেহরির আগে ও পরে, দুপুরে এবং ইফতারের আগে নিয়মিত সুগার মেপে দেখা উচিত। এছাড়া ইফতারে অতিরিক্ত খেয়ে রাতের খাবার বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে সব বেলার খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে রমজানে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। দিনের বেলা বা ইফতারের ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করলে পানিশূন্যতা বা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত তারাবিহ বা নামাজ আদায় করলে আলাদা করে ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলা করা যেতে পারে। মূলত সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং ওষুধের সঠিক সমন্বয়ই পারে একজন ডায়াবেটিস রোগীকে সুস্থভাবে পুরো মাস রোজা পালনে সহায়তা করতে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: