এরবিল ও বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: ইরাকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৩৪:০৫
এরবিল ও বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: ইরাকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের কুর্তিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি তারিখে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন সরাসরি ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত একটি মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় একযোগে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বাগদাদের আকাশে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় অধিকাংশ রকেট ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাগদাদের এই কূটনৈতিক এলাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক সাপোর্ট ক্যাম্প ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে ইরাকের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় ইরাক ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অন্তত ২৪টি ড্রোন ও মিসাইল হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরাক এখন কার্যত একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবারও এরবিল ও বাগদাদের এসব স্থাপনায় কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতেই ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা এই মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:১৫:৫১
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি- আল-জাজিরা।

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেবেন। ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সামরিক বাহিনী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার চারপাশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডারের আনুগত্য করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।

মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষ করে IRGC-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম বলেন, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরে “তার বাবার গেটকিপার” হিসেবে দেখা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিষয়ে তার অবস্থানও বাবার মতোই কঠোর। তাই তার নেতৃত্বে আরও সংঘাতমুখী নীতি দেখা যেতে পারে, অন্তত যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত “ধারাবাহিকতার সংকেত” এবং একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এখন যে নেতা এসেছে তিনি আগের চেয়েও কঠোর।”

এরই মধ্যে ইসরায়েল আগেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার “দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না”।

তবে ইরানি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “ইরানের ভাগ্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়, ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার ঘন স্তর দেখা গেছে, কারণ ইসরায়েল রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে কমপক্ষে ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতেই গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত, এবং যুদ্ধ আরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।


যুদ্ধের নতুন ভয়াবহ রূপ: তেহরানের আকাশে বিষাক্ত ধোঁয়ার পাহাড় ও কালো বৃষ্টি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৮:৫৫:৫৪
যুদ্ধের নতুন ভয়াবহ রূপ: তেহরানের আকাশে বিষাক্ত ধোঁয়ার পাহাড় ও কালো বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের জ্বালানি ডিপো ও শোধনাগারে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর এক বিরল ও উদ্বেগজনক প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন শহরটির বাসিন্দারা। আজ রোববার (৮ মার্চ) সকালে তেহরানের আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা দেখা দেয় এবং এরপর শুরু হয় অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’। শহরের প্রায় এক কোটি মানুষ এই তেলের মতো চটচটে ও কালচে বৃষ্টির সাক্ষী হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রখ্যাত সাংবাদিক ফ্রেড প্লিটজেন তেহরান থেকে সরাসরি এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, আকাশ থেকে ঝরা বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক স্বচ্ছ নয়, বরং তা কুচকুচে কালো এবং তেলমিশ্রিত। হামলার পর জ্বালানি ডিপোগুলো থেকে নির্গত বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও ভস্মীভূত কণা আকাশের মেঘের সঙ্গে মিশে গিয়ে এই বিষাক্ত বৃষ্টি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে তেহরানের শাহরান ও তান্দগুয়ান তেল শোধনাগারসহ অন্তত পাঁচটি বড় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই স্থাপনাগুলো ইরানের সামরিক অবকাঠামো পরিচালনায় জ্বালানি সরবরাহ করত, তাই এগুলো ধ্বংস করা ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী কয়েকশ ফুট উঁচুতে উঠে আকাশ ঢেকে ফেলেছে।

ইরানের পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রেড ক্রিসেন্ট এই বৃষ্টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ‘অ্যাসিডিক’ হিসেবে অভিহিত করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বৃষ্টির সংস্পর্শে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রমতে, এই হামলায় চারজন ট্যাংকার চালক নিহত হয়েছেন। এই ‘কালো বৃষ্টি’ এবং ভয়াবহ ধোঁয়া তেহরানের জনজীবনে এক চরম আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: নিউজ এক্স


পারস্য উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: এবার ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানল আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৮:৪৮:১১
পারস্য উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: এবার ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানল আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবার সরাসরি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'ওয়াইনেট'-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে। চলমান এই আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের মূল ভূখণ্ডের ওপর কোনো পারস্য উপসাগরীয় দেশের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম সরাসরি সামরিক আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গতকাল রাতে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে এই হামলাটি চালানো হয় বলে ইরানের সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই অভিযানে কেশম দ্বীপের একটি মিঠা পানি উৎপাদনকারী ডিস্যালিনেশন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি এই আক্রমণকে ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর একটি অত্যন্ত 'বিপজ্জনক পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে 'গুরুতর পরিণতির' হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই হামলার ফলে দ্বীপটির অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সংকটে ফেলে দেয়।

তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাঁদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পানির যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে মেরামত ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বীপটিতে পানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তা সত্ত্বেও, আরব আমিরাতের এই সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন এবং আরও জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:১৫:৫৯
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নতুন নেতাকে ইতিমধ্যে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আলামুলহোদা আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরির ওপর ন্যস্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থায়ী নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।

যদিও নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আলেমদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পরিষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে নির্বাচন করা হয়েছে যাকে ‘বড় শয়তান’ বা যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা করে। যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে আলেমদের পছন্দের তালিকায় মোজতবা খামেনিই শীর্ষস্থানে রয়েছেন। বুশেহরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই ইরানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

/আশিক


আমিরাতের পর এবার কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:৩৬:১০
আমিরাতের পর এবার কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার কুয়েতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি বিমানঘাঁটিতে তাদের এই অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত মার্কিন হেলিকপ্টার মেরামত কেন্দ্র, বিশাল জ্বালানি ট্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি কমান্ড সেন্টার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে কুয়েত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফারস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার পর বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখান থেকে এখনো ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থির করে তুলবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্বার্থ ও স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেব না! যুদ্ধের ময়দান থেকে জাতির উদ্দেশে পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১২:৪৭:০৬
এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেব না! যুদ্ধের ময়দান থেকে জাতির উদ্দেশে পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে এক উদ্দীপনামূলক ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং রাজপথে নামার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরানের এক ইঞ্চি জমিও শত্রুর কবলে যেতে দেওয়া হবে না এবং দেশের মাটি ও পানি রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হবে শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের প্রধান শক্তি।

ভাষণের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, কিন্তু শত্রু রাষ্ট্রগুলো এই অঞ্চলে বিভেদ তৈরির হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যখন ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তখন তেহরান তার মোক্ষম জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈরিতা রয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা ইরানকে আক্রমণ করার সাহস দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে জোরালো জবাব দেবে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করে জনগণকে একতাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই ইরান যেকোনো বহিঃশক্তির আগ্রাসন নস্যাৎ করতে সক্ষম। শত্রুর যেকোনো ধরনের উসকানি বা দখলদারিত্বের প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে ইরানি বাহিনী ও জনগণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি তাঁর ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মূলত যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণের মনোবল চাঙ্গা করতেই প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ ভাষণটি প্রচারিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা


ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১০:২০:৫০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শক্তি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, বর্তমান আকার ও তীব্রতার যুদ্ধ ইরান অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনির এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। নাইনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের বর্তমান যে মাত্রা রয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো রসদ ও শক্তিমত্তা তেহরানের ভাণ্ডারে ‘অন্তত’ আগামী আধা বছরের জন্য মজুদ রয়েছে।

ইরানি মুখপাত্রের এই দাবিটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানগুলো অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তেহরানের কোমর ভেঙে গেছে। চলতি সপ্তাহেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, তারা এই যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করছেন এবং ইরানের তথাকথিত ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ তারা প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন দাবির পর আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই পাল্টা যুদ্ধের সক্ষমতার ঘোষণা দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য যে, আইআরজিসি কেবল ইরানের একটি সাধারণ সামরিক বাহিনী নয়, বরং এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের শিক্ষা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বাহিনীর বিশাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে যখন যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়, তখন তা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসের বিপরীতে ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও প্রলম্বিত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:৪৯:৫৪
আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা প্রতিবেশী তিনটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি শনিবার এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের এই মরণপণ হামলায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘ফিফথ ফ্লিট’-এ চালানো ইরানি হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটিতে চালানো আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজকেও ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং সেখানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে ইরান বলছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এর প্রায় আট মাস আগেও উসকানিমূলকভাবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল এই জোট। তেহরানের ভাষ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইসলামি বিপ্লবের পরম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শত শত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।

এই শোকাবহ ঘটনার দ্রুত প্রতিশোধ নিতেই ইরান বর্তমানে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই আক্রমণগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং যেসব দেশে এসব মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরানের পূর্ণ সম্মান রয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:২৭:৩৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হামলার সময় ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর পরপরই সেখানে ব্যাপক বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলোকে আকাশেই প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল যার ফলে এই গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এই ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা ইরাকি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনিবার রাতে তারা উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় এই রকেট হামলা চালানো হয়। এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেও তারা ওই শহরটিকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।

সূত্র: ইরাকি নিউজ

পাঠকের মতামত: