‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:২৫:৪০
‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি আজ রোববার মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের ভেতরে একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এখনো কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যা নিরসনের কাজ চলছে।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা বা ভোট দেওয়া পরিষদের সদস্যদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নূর নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি জানিয়েছেন যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া একটি বিশেষ পরামর্শ অনুসরণ করে ইতিমধ্যে একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ইরানের পরবর্তী শীর্ষ নেতা এমন একজন হওয়া উচিত যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’ এবং কখনো প্রশংসা করবে না।

বাছাই করা এই সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে আলেকাসি আরও বলেন যে, এমনকি খোদ ‘বড় শয়তান’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর নাম উল্লেখ করেছে। এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাঁর কাছে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বিরোধিতার পর ইরানি আলেমদের এই মন্তব্য মোজতবা খামেনিরই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব।

সূত্র: রয়টার্স


ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:১২:১১
ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাজাফাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক ভয়াবহ 'ডাবল-ট্যাপ' ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলাটি চালানো হয়েছে যাতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়। প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যখন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সাহায্য করতে এবং ধ্বংসস্তূপ সরাতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জড়ো হন, ঠিক তখনই সেখানে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

আল-জাজিরা ফার্স নিউজের বরাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে দ্বিতীয় হামলাটি মূলত উদ্ধারকাজে নিয়োজিত মানবিক সহায়তাকারীদের লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দুইবার হামলা চালানোর এই বিশেষ কৌশলটি 'ডাবল-ট্যাপ' নামে পরিচিত, যা উদ্ধার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক হামলায় নাজাফাবাদ এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হামলার ঘটনা উত্তেজনাকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের টার্গেট করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৫:২৮:৫৪
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তা গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই একমাত্র কার্যকর পথ।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থা এমন এক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে না যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতার জোরে অন্য দেশের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সংলাপভিত্তিক সমাধান।

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, তথাকথিত “রঙিন বিপ্লব” বা বাহ্যিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার ধারণা ইরানের জনগণের মধ্যে সমর্থন পায় না। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তিনি আরও বলেন, ইরানসহ প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

ওয়াং ই এই সংঘাতকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি এমন একটি সংঘর্ষ যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার ফলে কোনো পক্ষই প্রকৃত লাভবান হবে না। তার মতে, সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা ও অবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার মূলত সেই অঞ্চলের জনগণেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় দেশগুলোকেই নিজেদের আঞ্চলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে সামরিক পন্থায় দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।

ওয়াং ই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা এবং যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে আঞ্চলিক শান্তি পুনরুদ্ধার, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই ঘোষণা দেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন একটি বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতা জোরদার করা।

-রফিক


মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের; ওয়াশিংটনের কড়া প্রতিবাদে তুঙ্গে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১২:১৭:৩৬
মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের; ওয়াশিংটনের কড়া প্রতিবাদে তুঙ্গে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে বন্দি করার দাবি করেছে ইরান, তবে ওয়াশিংটন এই তথ্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মধ্যেই এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলো। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন যে, বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আটক করতে সক্ষম হয়েছে। লারিজানি অভিযোগ তুলেছেন যে, হোয়াইট হাউস এই ঘটনাটি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আলী লারিজানি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে ওই সেনারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো তারা বর্তমানে ইরানের হেফাজতে বন্দি অবস্থায় আছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মার্কিন সরকার এই সত্য খুব বেশিদিন গোপন রাখতে পারবে না এবং শীঘ্রই সব প্রকাশ পাবে। ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোনো মার্কিন সেনা আটক হওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। তিনি ইরানের এই দাবিকে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর ‘মিথ্যাচার ও প্রতারণার’ একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্কুলছাত্রীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহতের ঘটনায় ইরান চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে। ওই হামলার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় অনবরত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমান এই বন্দি নাটক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।


ইরানের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত

শরিফুল ইসলাম
শরিফুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:৫৪:০০
ইরানের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় মোট প্রায় ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত বা আহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার ফলে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন।

এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। যদিও এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর। ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এর কয়েক মাস আগে থেকেই ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যদিও এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং কৌশলগত স্বার্থ। তাদের দাবি, যেসব দেশের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের কোনো বৈরিতা নেই এবং তারা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে।


ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মুখে দিশেহারা আইডিএফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:৫০:২৮
ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মুখে দিশেহারা আইডিএফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় ২৭তম দফা শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এই সমন্বিত আক্রমণে ইসরায়েলের অধিকৃত উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে যে, এবারের অভিযানে তাদের মহাকাশ বিভাগ প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ও কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েলের হাইফা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ড্রোন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ‘মেরিনা’ নামক একটি এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে সশস্ত্র বাহিনীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাল্টা এই অভিযানের পরিধি কেবল স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইআরজিসির নৌবাহিনী বাহরাইনে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাতেও আক্রমণ চালিয়েছে, যার মধ্যে সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সামরিক সহায়তা কেন্দ্রটি অন্যতম।

ইরানের এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলার পর ইসরায়েলের অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার সতর্কবার্তা হিসেবে সাইরেন বেজে উঠছে এবং সেখানে এক ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত গত সপ্তাহে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করে তেহরান, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সমর সমীকরণকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় ১০৮ বার কম্পন! আমেরিকাজুড়ে কি বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:১২:৫৮
২৪ ঘণ্টায় ১০৮ বার কম্পন! আমেরিকাজুড়ে কি বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হঠাৎ করেই ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৮টি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ১০৮টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রবণতা গত এক সপ্তাহ ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং গত সাত দিনে মোট ভূমিকম্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩১টিতে। এছাড়া গত ৩০ দিনের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ৭০৭টি ছোট-বড় ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই ছিল তুলনামূলক কম মাত্রার এবং সেভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, নেভাদার লাভলকে ১.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে যার গভীরতা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার। এর আগে টেক্সাসের ভ্যান হর্নে ১.৯ মাত্রার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সোলেদাদে ২.০ মাত্রার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি প্রবণ এলাকা, আলাস্কার সোলডোটনা ও হ্যাপি ভ্যালি, নিউ মেক্সিকোর লাভিং এবং টেক্সাসের বেশ কিছু অঞ্চলেও স্বল্প মাত্রার কম্পন রেকর্ড করেছে পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে লুইজিয়ানার কুশাট্টায় যার মাত্রা ছিল ৪.৯। তবে চলতি মাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে আলাস্কার উনালাস্কায় যার মাত্রা ছিল ৬.১। অন্যদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে আলাস্কার স্যান্ড পয়েন্ট এলাকা যেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৩। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় সেখানে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো বড় কোনো বিপদ বা ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না।

/আশিক


ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১০:২০:৫০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শক্তি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, বর্তমান আকার ও তীব্রতার যুদ্ধ ইরান অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনির এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। নাইনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের বর্তমান যে মাত্রা রয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো রসদ ও শক্তিমত্তা তেহরানের ভাণ্ডারে ‘অন্তত’ আগামী আধা বছরের জন্য মজুদ রয়েছে।

ইরানি মুখপাত্রের এই দাবিটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানগুলো অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তেহরানের কোমর ভেঙে গেছে। চলতি সপ্তাহেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, তারা এই যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করছেন এবং ইরানের তথাকথিত ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ তারা প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন দাবির পর আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই পাল্টা যুদ্ধের সক্ষমতার ঘোষণা দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য যে, আইআরজিসি কেবল ইরানের একটি সাধারণ সামরিক বাহিনী নয়, বরং এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের শিক্ষা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বাহিনীর বিশাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে যখন যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়, তখন তা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসের বিপরীতে ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও প্রলম্বিত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:৪৯:৫৪
আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা প্রতিবেশী তিনটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি শনিবার এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের এই মরণপণ হামলায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘ফিফথ ফ্লিট’-এ চালানো ইরানি হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটিতে চালানো আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজকেও ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং সেখানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে ইরান বলছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এর প্রায় আট মাস আগেও উসকানিমূলকভাবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল এই জোট। তেহরানের ভাষ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইসলামি বিপ্লবের পরম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শত শত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।

এই শোকাবহ ঘটনার দ্রুত প্রতিশোধ নিতেই ইরান বর্তমানে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই আক্রমণগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং যেসব দেশে এসব মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরানের পূর্ণ সম্মান রয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:২৭:৩৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হামলার সময় ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর পরপরই সেখানে ব্যাপক বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলোকে আকাশেই প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল যার ফলে এই গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এই ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা ইরাকি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনিবার রাতে তারা উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় এই রকেট হামলা চালানো হয়। এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেও তারা ওই শহরটিকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।

সূত্র: ইরাকি নিউজ

পাঠকের মতামত: