‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি আজ রোববার মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের ভেতরে একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এখনো কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যা নিরসনের কাজ চলছে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা বা ভোট দেওয়া পরিষদের সদস্যদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নূর নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি জানিয়েছেন যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া একটি বিশেষ পরামর্শ অনুসরণ করে ইতিমধ্যে একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ইরানের পরবর্তী শীর্ষ নেতা এমন একজন হওয়া উচিত যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’ এবং কখনো প্রশংসা করবে না।
বাছাই করা এই সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে আলেকাসি আরও বলেন যে, এমনকি খোদ ‘বড় শয়তান’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর নাম উল্লেখ করেছে। এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাঁর কাছে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বিরোধিতার পর ইরানি আলেমদের এই মন্তব্য মোজতবা খামেনিরই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব।
সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তবেই ইরান নতুন দফার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হবে। ইরানের সংবাদমাধ্যম শার্গ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতির পরিবর্তন ছাড়া অর্থবহ সংলাপ সম্ভব নয়।
ইরাভানির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অবরোধ শিথিল করলেই হবে না, বরং তাদের “বৈরী আচরণ” এবং যুদ্ধবিরতির পরও চাপ প্রয়োগের কৌশল বন্ধ করতে হবে। তার দাবি, কূটনৈতিক সমাধান চাইলে প্রথমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
ইরানের এই কূটনৈতিক অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাভানির বক্তব্যকে তেহরানের আনুষ্ঠানিক কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় এবং অবরোধ প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু করে, তাহলে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে সামনে আনা আঞ্চলিক ভূরাজনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
ইরাভানি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধকে প্রথম বিকল্প হিসেবে দেখে না। তেহরান সবসময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যদি কোনো পক্ষ সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ব্যবহার করতে পিছপা হবে না।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রেখেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক চাপ মোকাবিলায় দেশটি পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান স্থায়ী শান্তির জন্য কার্যকর প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও পরিষ্কার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ইরান মনে করছে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান আসলে চাপ প্রয়োগের কৌশল, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কূটনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক তেলবাজারকে সরাসরি নাড়িয়ে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে পড়ছে।
-রাফসান
পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্ব রাজনীতির ‘ভয়ংকর শিকারি’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
লন্ডনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই তিন নেতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা কেবল নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ৪০০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে গাজা, ইরান, লেবানন ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে।
এছাড়া লেবাননে ২ হাজার ৪০০, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজারের বেশি এবং চার বছর ধরে চলা রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেতাদের কারণে হত্যাযজ্ঞ এখন বিশ্বে একটি ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অভিযোগ করেন, এই নেতারা অত্যন্ত লোভী এবং তাঁরা বিশ্বের সম্পদ লুণ্ঠন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করছেন। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ সরকার এই ‘শিকারিদের’ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে উল্টো তাঁদের তোষণ করছে।
তবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেনের সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিল। হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরান থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না মেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
একদিকে পাকিস্তানে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্সের বিমান প্রস্তুত ছিল, অন্যদিকে ইরানের নীরবতা প্রশাসনকে উভয়সংকটে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোর থাকবে।
ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভেদই আলোচনার প্রধান বাধা। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক মজুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেহরান কোনো একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে "বিভক্ত" বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। ইরানের আলোচক প্রতিনিধি মাহদি মোহাম্মদী সাফ জানিয়েছেন, "অবরোধ চালিয়ে যাওয়া বোমাবর্ষণের মতোই অপরাধ।" তেহরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না।”
এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তাদের অব্যাহত চাপের মুখেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরানের পক্ষ থেকে সময়ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি আগের সব চুক্তির চেয়েও "উন্নত ও শক্তিশালী সমাধান" নিশ্চিত করবেন।
সূত্র: সিএনএন
ফুরিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র! ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের ভাণ্ডারে টান
ইরানের সঙ্গে চলমান সাত সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোলাবারুদের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকি’ তৈরি করেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাত সপ্তাহের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের অন্তত ৪৫ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য ব্যবহৃত ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশই ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। পেন্টাগনের গোপন তথ্যের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
সিএসআইএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যে পরিমাণ বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও চীনের মতো কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করার সক্ষমতা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নেই। বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক চরম দুর্বলতার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করেছে। এছাড়া এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। এসব উন্নত অস্ত্র পুনরায় তৈরি করে আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যে কোনো স্থানে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা ও অস্ত্রের গভীর ভাণ্ডার রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প একদিকে অস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করছেন, আবার অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন চেয়েছেন।
এর আগে যুদ্ধ শুরুর সময় জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে অস্ত্রের মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করার সক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে এই গোলাবারুদ সংকট মার্কিন সিনেটেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক নতুন মোড়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ ঘোষণায় ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এসে রক্তক্ষয়ী হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে।" তবে হামলা স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে চলবে বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই নমনীয়তা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ‘বোমাবর্ষণের মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
তবে নৌ-অবরোধ চলমান থাকায় ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান জানে কীভাবে এই বাধা এড়িয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের ‘বিভাজনের’ দাবিকেও নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার তথ্যমতে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানি নেতৃত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের রূপ নিল। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হিজবুল্লাহ-হামাসকে সমর্থন ত্যাগের মতো কঠিন শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
/আশিক
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও একটি তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চালানো এই অভিযানকে ওমান সাগরের উত্তেজনারই একটি নতুন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পেন্টাগন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় গত রাতে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে কমান্ডো অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কমলা রঙের বিশাল জাহাজটিতে অবতরণ করছে। অভিযানটি প্রশান্ত বা ভারত মহাসাগরের ঠিক কোথায় হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো না হলেও, পেন্টাগন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কোনো জাহাজ নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জব্দ করা এই ‘টিফানি’ জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পর আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, এটি গত কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় নৌ-অভিযান। এর আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানে মার্কিন সেনারা সতর্কতা উপেক্ষা করায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে জাহাজটি মাঝসমুদ্রেই অচল হয়ে পড়ে। একের পর এক জাহাজ জব্দের এই ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
/আশিক
বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই; প্রতিনিধি পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের আর কোনো উপায় নেই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দারুণ চুক্তিতে’ পৌঁছাতে পারবে। তবে আলোচনার পাশাপাশি তিনি সামরিক হুমকি দিতেও ছাড়েননি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা খুব কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোনো কার্যকর চুক্তি না হয়, তবে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর এক মুহূর্তের জন্যও বাড়ানো হবে না।"
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের সুর আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, "আমি মনে করি বোমা হামলা হওয়াই শ্রেয়, কারণ সেটাই হবে এখনকার জন্য সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। চুক্তি করার জন্য হাতে বেশি সময় নেই।" তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে পৌঁছালেই কেবল ইরান শান্তিতে থাকতে পারবে। এর কিছুক্ষণ পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের মুখেও নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান এখনো ইসলামাবাদে আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, "ইরান কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।"
সূত্র: বিবিসি বাংলা
হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আসন্ন শান্তি আলোচনার টেবিলে এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে ঠেকলেও, বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই ইরানের। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ কার্যত এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান একটি স্থায়ী টোল বা মাশুলব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সিদ্ধান্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, কারণ এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ চিত্র
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে মাত্র ৩৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে শিপিং অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার নিশ্চিত করেছে যে, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন অবরোধ আরোপের পর থেকে অন্তত ২৭টি ইরানি জাহাজ এই চ্যানেলটি ব্যবহার করেছে। বিপরীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সমসংখ্যক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
পণ্যমূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিআরইউ গ্রুপ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমানে হাজার হাজার নাবিক এই বিপজ্জনক জলসীমায় আটকা পড়ে আছেন, যা একটি চরম মানবিক সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে চরম সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার টেবিলে আত্মসমর্পণের চাপ বাড়িয়েছেন। সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, "ইরানে বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়ে এগোনোই এখন শ্রেয়।" তিনি আরও দাবি করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা ‘মুখিয়ে আছে’।
ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে। পিবিএস নিউজকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই সুরে কথা বলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্র আর বাড়াবে না। তাঁর মতে, হাতে সময় খুব কম এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি ‘চমৎকার চুক্তি’র দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের কৌশলের বিপরীতে ইরান এখনো দোটানায় রয়েছে। তেহরান এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও রয়টার্স এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো জোরালো এবং সবকিছু সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ট্রাম্প নিজে সরাসরি বা ভার্চুয়ালি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ২২ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২২ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২২ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- ধান-চালের নতুন দাম ঘোষণা সরকারের
- এক লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে বিশেষ উপহার: জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বিতরণ
- এক মাস আগেই সংকেত দেয় শরীর! স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনে রাখুন
- পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?
- হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?
- মোবাইল ডাটা আর নষ্ট হবে না! গ্রাহক স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
- একদিকে দাবদাহ, অন্যদিকে বন্যার হানা! বৈশাখের শুরুতেই চরম সংকটে দেশ
- ফুরিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র! ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের ভাণ্ডারে টান
- দাবার চাল এবার ইরানের? জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশালাকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন
- আজ বুধবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ! বের হওয়ার আগে জেনে নিন
- টাকার জন্য প্রাণ গেল জমি বিক্রেতার! দেবিদ্বারে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
- কালী পূজার বাঁশ ফেরতকে কেন্দ্র করে হামলা; কালিগঞ্জে যুবক আহত, থানায় অভিযোগ
- আজকের ঢাকা: কোথায় কী কর্মসূচি? বের হওয়ার আগে জেনে নিন
- সোনার সাথে রুপার দামেও আগুন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সর্বশেষ আপডেট
- প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ
- তীব্র গরমে হাঁসফাঁস দশা! কতদিন স্থায়ী হবে এই তাপপ্রবাহ?
- ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিপাকে স্বর্ণের বাজার! বাড়ছে দুশ্চিন্তা
- তাসকিন-মোস্তাফিজ ছাড়াই নিউজিল্যান্ড বধের পরিকল্পনা! বিসিবির চমক জাগানিয়া স্কোয়াড
- বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি
- হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট
- জ্বালানির দাম কমান, মানুষ বাঁচান: আখতার হোসেন
- সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট! দুর্নীতির রহস্য উম্মোচনে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
- বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প
- বুধবার টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- মার্কিন অবরোধ গুঁড়িয়ে ইরানি বন্দরে তেলের জাহাজ! সাগরে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মোড়
- বৈদেশিক ঋণের বোঝা কত? সংসদে ঋণের পাহাড়ের তথ্য দিলেন অর্থমন্ত্রী
- বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম
- পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প
- ২১ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মসজিদ-গির্জা কিছুই বাদ যাচ্ছে না! সব ধর্ম অবমাননা করে প্রশ্নের মুখে ইসরায়েলি সেনারা
- অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প
- বিএনপি জোট শরিকদের সাথে প্রতারণা করেছে: সারজিস আলম
- সন্ধ্যার আগেই বড় ঝড়ের আভাস! দেশের দুই অঞ্চলে আবহাওয়া অফিসের বিশেষ সতর্কতা
- ইসরায়েলি প্রভাবের খবর নাকচ! ইরানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প
- টানা একদিন গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়!
- ভোরের আলো ফুটতেই কাঁপল রাজধানীসহ সারাদেশ!
- সারাদেশে এসএসসি’র ডামাডোল! শিক্ষা বোর্ডগুলোর কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা শুরু
- সব রেকর্ড চুরমার: স্বর্ণের দাম বাড়াল বাজুস, আজকের রেট জেনে নিন
- নামাজের সময়সূচি: ২১ এপ্রিল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আপডেট জানুন
- যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চমক দেখাবে ইরান: ট্রাম্পের চাপের মুখে গালিবাফের রহস্যময় পোস্ট
- লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর! উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে এবার ধর্মীয় আবেগে আঘাত
- আজই কি তবে বিশ্বশান্তির দিন? ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের
- সব রেকর্ড চুরমার: স্বর্ণের দাম বাড়াল বাজুস, আজকের রেট জেনে নিন
- রেকর্ড গড়ল স্বর্ণ: স্বর্ণের বাজারে চরম অস্থিরতা
- দেশে স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ: নতুন উচ্চতায় মূল্যবান এই ধাতু
- স্বপ্ন না কি দুঃস্বপ্ন? সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এক ভরি স্বর্ণ
- ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিপাকে স্বর্ণের বাজার! বাড়ছে দুশ্চিন্তা
- আদালতের আদেশ অমান্য! কালিগঞ্জে মসজিদের জমি দখলে নিতেই তুলকালাম
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- সোনার সাথে রুপার দামেও আগুন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- ২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ
- পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প
- তেলের দামে বড় পতন
- ২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- পাঁচ জেলায় শুরু হবে ই-হেলথ সেবা কার্যক্রম, মিলবে যেসব সুবিধা
- ২১ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ








