সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের ক্ষণগণনা শুরু ও মহিমান্বিত রজনী শবেবরাতের তারিখ নির্ধারণে আজ রবিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন চাঁদের সন্ধান করা হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পবিত্র রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। ইসলামের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল সোমবার থেকে শাবান মাস শুরু হবে। অন্যথায় রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে নতুন মাস। তবে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
সংবাদমাধ্যম গালফ টুডের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের বরাতে জানানো হয়েছে, বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আজ রবিবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জ্যোতির্বিদদের মতে, আজ নতুন চাঁদের জন্ম হলেও তা সূর্যাস্তের আগেই দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। ফলে চাঁদ দেখার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি আজ পূরণ হচ্ছে না। এই গাণিতিক হিসাব যদি সঠিক হয়, তবে চলতি রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মেদ শওকত ওদেহ এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, রবিবার চাঁদ দেখা না গেলেও আগামীকাল সোমবার অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খালি চোখেই শাবানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আলবেনিয়ায় সোমবার সন্ধ্যার আকাশে টেলিস্কোপের মাধ্যমে নতুন চাঁদ স্পষ্ট হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে পবিত্র শবেবরাতের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া গেছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে মুসলমানদের এই বিশেষ ধর্মীয় রজনী পালিত হয়। যদি মধ্যপ্রাচ্যে মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হয়, তবে সেখানে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শবেবরাত পালিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যদি সোমবার চাঁদ দেখা যায়, তবে এ দেশেও একই রাতে শবেবরাত হতে পারে। তবে সোমবার যদি দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না যায়, তবে বাংলাদেশে শবেবরাত পালিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে।
ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর। আজ সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার ফলাফল ঘোষণা করবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই অগ্রিম বার্তা ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি নিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আজ রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা দিনপঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৪ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ২৮ রজব ১৪৪৭। মাঘের এই হাড়কাঁপানো শীতের সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা আজ ও আগামীকালের নামাজের নির্ভুল সময়সূচি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আজকের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঠিক সময়ের তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, আজ ১৮ জানুয়ারি রবিবার ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে।
দিন শেষে যখন সূর্য রক্তিম আভা নিয়ে অস্ত যাবে, তখন অর্থাৎ সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিটে শুরু হবে মাগরিবের সময়। রাতের শেষ নামাজ এশার ওয়াক্ত আজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) ফজরের ওয়াক্তের সূচনা হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।
আজকের প্রাকৃতিক আলো-আঁধারির হিসাবে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে। শীতকালীন এই ছোট দিনগুলোতে সূর্যাস্তের সময়ের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে, মাঘের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আগামীকাল সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে।
বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার থেকে সরবরাহকৃত এই সময়সূচি মূলত ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় এই সময়ের সঙ্গে কয়েক মিনিটের ব্যবধান হতে পারে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে প্রতিদিন এই সময়সূচি হালনাগাদ করা হয়ে থাকে, যা ধর্মীয় ইবাদতের সঠিক সময় পালনে বিশেষ সহায়ক। বিশেষ করে পবিত্র রজব মাসের শেষ ভাগে এই দিনপঞ্জি ও সময়সূচি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইসলামি জীবনদর্শনে ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয় নামাজকে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজের অবস্থান দ্বিতীয় এবং এটি ধর্মের অন্যতম প্রধান রুকন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, কিয়ামতের কঠিন দিনে মানুষের আমলনামার মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধান রয়েছে, যা একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তির উৎস। জাগতিক জীবনের শত ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত।
আজ শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি; বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি মতে ২৭ রজব ১৪৪৭। আজকের এই বিশেষ দিনে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের যে সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, তা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আজকের জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে।
দিনের শেষে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিটে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬টা ৫১ মিনিটে।
এ ছাড়া আগামী কাল রোববার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে ৫টা ২৪ মিনিট।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্য বিভাগগুলোর নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ করতে হবে অন্যান্য বিভাগগুলোতে। সে অনুযায়ী খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার সময়ের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো খেয়াল রেখে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ইসরা ও মেরাজ: নবীজির অলৌকিক সফরের পূর্ণ ব্যাখ্যা
ইসলামের ইতিহাসে ইসরা ও মেরাজ বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য অলৌকিক নিদর্শন। এই ঘটনাটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; বরং আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা, নবুয়তের মর্যাদা এবং আখিরাতের বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রমাণ। পবিত্র কোরআনে ইসরা ও মেরাজের ঘটনা আলাদা দুটি সূরায় ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
ইসরা ও মেরাজ কী
ইসরা বলা হয় এক রাতের সেই বিস্ময়কর সফরকে, যেখানে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–কে আল্লাহ তাআলা মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নিয়ে যান। আর মেরাজ হলো মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হওয়া নবীজির উর্ধ্বজগত বা আসমানসমূহে আরোহণ, যেখানে তিনি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেন।
কোরআনে ইসরা: অলৌকিক সফরের ঘোষণা
ইসরা সম্পর্কে কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে সূরা ইসরা–র প্রথম আয়াতে। সেখানে আল্লাহ তাআলা নিজের মহিমা ঘোষণা করে বলেন তিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, যার চারপাশ তিনি বরকতময় করেছেন, যেন তাঁর কিছু নিদর্শন দেখাতে পারেন।
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসরা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ সম্মান ও অলৌকিক ঘটনা। একই সঙ্গে এটি মসজিদুল আকসা ও তার আশপাশের ভূমির পবিত্রতা ও বরকতের কথাও ঘোষণা করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই অঞ্চল কেবল ঐতিহাসিক নয়, বরং ধর্মীয়ভাবেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।
মেরাজ: উর্ধ্বজগতের বিস্ময়কর সাক্ষাৎ
নবীজির (সা.) মেরাজ বা আকাশসমূহে ভ্রমণের বিবরণ এসেছে সূরা নাজম–এ। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি সিদরাতুল মুনতাহার কাছে পৌঁছেছিলেন যা সৃষ্টি জগতের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। এই স্থানেই তিনি হজরত জিবরাইল (আ.)–কে তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে প্রত্যক্ষ করেন।
কোরআন জানায়, সিদরাতুল মুনতাহার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। সে সময় এমন এক আচ্ছাদনে সিদরাতুল মুনতাহা আবৃত ছিল, যার প্রকৃতি মানুষের বোধগম্য নয়। নবীজির দৃষ্টি সেখানে স্থির ছিল; তিনি কোনো সীমা লঙ্ঘন করেননি, কোনো দিকে দৃষ্টি বিচ্যুতও হয়নি। আল্লাহ যা দেখাতে চেয়েছেন, কেবল সেগুলোই তিনি দেখেছেন।
মেরাজের তাৎপর্য
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মেরাজ কোনো কল্পনাপ্রসূত অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সংঘটিত এক বাস্তব অলৌকিক ঘটনা। এতে নবীজির (সা.) আনুগত্য, বিনয় ও সীমারেখা রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে এটি আখিরাত, জান্নাত, ফেরেশতা ও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে মানবজাতির বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে।
ইসরা ও মেরাজ মুসলমানদের জন্য কেবল স্মরণীয় একটি রাত নয়; বরং এটি ঈমানকে দৃঢ় করার, নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করার এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক অনন্য উপলক্ষ। এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহ চাইলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
হিজাব নিয়ে কোরআনের আয়াত ও ব্যাখ্যা
পবিত্র কোরআনে নারীর শালীন পোশাক বা হিজাব বিষয়ে যে আয়াতগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেগুলো মূলত মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক সংযমের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোরআনের এই নির্দেশনাগুলোকে অনেক সময় কেবল পোশাকবিধি হিসেবে দেখা হলেও গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এগুলোর লক্ষ্য ব্যক্তিগত শালীনতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
কোরআনে শালীনতার মূল নির্দেশনা
কোরআনের সূরা নূর (২৪)–এর ৩১ নম্বর আয়াতে মুমিন নারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, শুধু যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। আয়াতটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারীদের তাদের খিমার বক্ষদেশের ওপর টেনে দিতে বলা হয়েছে।
এই আয়াতে কোথাও স্পষ্টভাবে চুল বা মুখ ঢাকার কথা উল্লেখ নেই। বরং এটি বক্ষ ও গলার অংশ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়, যা সে সময়ের সামাজিক বাস্তবতায় শালীনতার একটি মানদণ্ড ছিল। একই সূরার ৩০ নম্বর আয়াতে পুরুষদের প্রতিও একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও আত্মসংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে শালীনতা কেবল নারীদের জন্য নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি নৈতিক বিধান।
সূরা আহযাব ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন
নারীর পোশাক প্রসঙ্গে কোরআনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত এসেছে সূরা আহযাব (৩৩)–এর ৫৯ নম্বর আয়াতে। এখানে নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলেন তারা বাইরে বের হলে নিজেদের ওপর জিলবাব টেনে নেয়।
এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হিসেবে আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যাতে তারা পরিচিত হয় এবং হয়রানির শিকার না হয়। অর্থাৎ, এই আয়াতের মূল লক্ষ্য নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের চলাফেরায় বাধা দেওয়া বা গৃহবন্দি করা নয়।
গবেষকদের মতে, সে সময় সমাজে বিশ্বাসী নারী ও পুরুষ উভয়েই নিপীড়নের শিকার হতেন। তাই জিলবাব ছিল একটি সামাজিক পরিচয় ও নিরাপত্তার চিহ্ন। ফলে যেসব সমাজে এই উদ্দেশ্য অন্য উপায়ে পূরণ হয়, সেখানে আয়াতের মূল দর্শনটি ভিন্ন বাস্তবতায় প্রয়োগযোগ্য হতে পারে।
খিমার ও জিলবাব: পরিভাষার ব্যাখ্যা
কোরআনে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো খিমার ও জিলবাব। খিমার বলতে মূলত সে সময় আরব নারীদের ব্যবহৃত মাথার আবরণকে বোঝানো হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে অলংকার হিসেবেও ব্যবহৃত ছিল। আয়াতে এই খিমার দিয়ে বক্ষদেশ ঢাকার কথা বলা হয়েছে, মাথা ঢাকার বাধ্যবাধকতার কথা নয়।
অন্যদিকে, জিলবাব ছিল একটি ঢিলেঢালা বাইরের পোশাক, যা শরীরের ওপর পরা হতো বাইরে চলাচলের সময়যা দিয়ে মাথা ঢাকা থাকত। এটি আধুনিক অর্থে নির্দিষ্ট কোনো ডিজাইন বা ফ্যাশনের পোশাক নয়; বরং একটি সাধারণ বাহ্যিক আবরণ।
এই আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোরআন মূলত একটি শালীনতার কাঠামো (framework of modesty) তৈরি করেছে। এর কেন্দ্রবিন্দু হলো-
দৃষ্টি সংযত রাখা
আত্মসংযম ও পবিত্রতা রক্ষা
সামাজিক শালীনতা বজায় রাখা
নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
পোশাক এখানে একটি মাধ্যম, লক্ষ্য নয়। তাই বিভিন্ন সমাজে পোশাকের ধরন ভিন্ন হলেও কোরআনের মূল উদ্দেশ্য নৈতিকতা ও নিরাপত্তা।
প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
ইসলামের ইতিহাসে জুমার খুতবার সূচনালগ্নে মুহাম্মদ (সা.) যে বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও মানবজীবনের নৈতিক দিশা হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রথম জুমার খুতবায় তিনি মানুষের মুক্তি, দায়িত্ব ও আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়ে গভীর ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন।
প্রথম খুতবার মূল শিক্ষা
ইসলামের প্রাচীনতম জীবনীকারদের একজন ইবনে ইসহাক আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমানের বর্ণনায় জানা যায়, জুমার প্রথম খুতবা শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণগান করেন। এরপর তিনি উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক মানুষকে নিজের মুক্তির জন্য নিজ দায়িত্বে আমল করতে হবে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, একদিন হঠাৎ মৃত্যু এসে মানুষকে গ্রাস করবে। তখন সে তার সম্পদ, দায়িত্ব কিংবা পার্থিব ব্যস্ততা সবকিছুই ফেলে চলে যাবে। এরপর মানুষ তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। সেদিন তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, কোনো পর্দাও থাকবে না।
সেদিন আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, তাঁর রাসুল কি মানুষের কাছে হেদায়াতের বাণী পৌঁছে দেননি? দুনিয়ায় যে নেয়ামত ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বিনিময়ে মানুষ আখিরাতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছে?
এই জবাবদিহির দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ তখন ডানে-বামে তাকাবে কিন্তু কোনো সহায়তা পাবে না। সামনে তাকালে সে কেবল জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতিই দেখতে পাবে।
এই বাস্তবতার আলোকে তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, কেউ যদি মাত্র একটি খেজুর দান করেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তবে সে যেন সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে। আর যদি কারও পক্ষে দান করাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত উত্তম কথা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। কারণ একটি সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ এক থেকে বহু গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয় খুতবার বার্তা
দ্বিতীয় খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আবারও আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেন, তিনি একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান। মানুষ যেন নিজের নফসের কুপ্রবৃত্তি ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করে।
তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট হতে দেন, তাকে কেউ সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে না। তিনি সাক্ষ্য দেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
রাসুল (সা.) বলেন, মানুষের জন্য সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সেই ব্যক্তি প্রকৃত সফল, যার অন্তর আল্লাহ তাআলা কোরআনের আলো দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং কুফরির অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোয় ফিরিয়ে এনেছেন।
তিনি মানুষকে উপদেশ দেন, আল্লাহ যা ভালোবাসেন, মানুষ যেন তাই ভালোবাসে। আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে অন্তর ভরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর স্মরণে যেন কেউ ক্লান্তিবোধ না করে এবং অন্তর যেন কোরআন থেকে বিমুখ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
রাসুল (সা.) আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে উত্তম বিষয়গুলো নির্বাচন করেন। বান্দার আমলসমূহের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াতকে তিনি সর্বোত্তম আমল হিসেবে পছন্দ করেছেন। কোরআনের মধ্যেই মানুষের জন্য হালাল ও হারামের পূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে।
খুতবার শেষাংশে তিনি তাগিদ দেন, মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক না করে এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে চলে। মুখে উচ্চারিত কথাবার্তার মধ্যেও যেন সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আল্লাহর রহমতের ভিত্তিতে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের পছন্দ করেন না।
শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত সবাইকে শান্তি, রহমত ও বরকতের দোয়া জানান।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪
নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২ মাঘ ১৪৩২, আর হিজরি হিসাবে দিনটি ২৬ রজব ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে। মুসল্লিদের সময়মতো মসজিদে উপস্থিত থাকার জন্য এ সময়ের প্রতি খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আজ আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে। এরপর সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিট থেকে।
রাতের নামাজ হিসেবে এশার সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে। মুসল্লিরা এই সময়ের পর এশার নামাজ আদায় করতে পারবেন।
পরবর্তী দিনের সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে। ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য আগেভাগে সময় জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আজ রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় ঘটবে সকাল ৬টা ৪৩ মিনিটে। দিন ও রাতের এই সময়সূচি রোজকার ইবাদত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।
কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে
শুক্রবার কি শুধু সপ্তাহের আরেকটি দিন, নাকি মুসলমানদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত এক বিশেষ রহমতের সময়? হাদিস ও কোরআনের আলোকে দেখা যায়, জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি এই উম্মতের জন্য এক অনন্য পরিচয়, সম্মান ও আখিরাতমুখী সৌভাগ্যের প্রতীক। দুনিয়ার সময়ক্রমে যেমন শুক্রবারের অবস্থান আলাদা, তেমনি কেয়ামতের দিনও এই উম্মতের অবস্থান হবে অগ্রগণ্য।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতদের জুমার দিনের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখেছিলেন। ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত ছিল শনিবার, খ্রিষ্টানদের জন্য রবিবার। এরপর আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে শুক্রবারকে ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে দান করেন। পৃথিবীর সময়ধারায় যেমন শনিবার ও রবিবার শুক্রবারের পরে এসেছে, তেমনি কেয়ামতের দিনেও ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পরে থাকবে, যদিও দুনিয়াতে মুসলমানরা এসেছে সর্বশেষ (সহিহ মুসলিম: ১৪৭৩)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, পৃথিবীতে সূর্য উদিত হওয়া সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং আবার জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়েছে। এমনকি কেয়ামতও সংঘটিত হবে এই শুক্রবারেই (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)। এ কারণেই ইসলামি দৃষ্টিতে শুক্রবার কেবল ইবাদতের দিন নয়, বরং মানব ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দিন।
হাদিসে শুক্রবারকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জুমার দিনকে এই উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন (সহিহ ইবনে মাজাহ: ৯০৮)। ঈদের মতোই এ দিন পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সম্মিলিত ইবাদতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জুমার দিনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুনাহ মাফের সুযোগ। যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, আগে আগে মসজিদে আসে, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দিয়ে মনোযোগসহকারে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকে, তার আগের জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় (আবু দাউদ: ৩৪৩)।
এই দিনের প্রতিটি আমলের সওয়াবও অসাধারণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও এক বছরের নামাজের সওয়াব দান করেন (তিরমিজি: ৪৫৬)।
হাদিসে আরও এসেছে, কোনো মুসলমান যদি শুক্রবার দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন (তিরমিজি: ১০৭৪)। এ কারণেও শুক্রবারকে রহমত ও নিরাপত্তার দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামাতে ফজরের নামাজ আদায়, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জুমার দিনে আজান দেওয়া হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হবে (সুরা জুমা: ৯)।
এ দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত করা হবে (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল: ৯৫২)। পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পেশ করা হয় (আবু দাউদ: ১০৪৭)।
জুমার খুতবা ও নামাজের শৃঙ্খলা ইসলামি সমাজব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। খুতবার সময় কথা বলা তো দূরের কথা, কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (বুখারি: ৯০৬)। তাফসিরবিদরা বলেন, সুরা জুমার আগের সুরা ‘সফ’ এবং পরের সুরা ‘মুনাফিকুন’। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, জুমার নামাজে কাতারবদ্ধ হওয়া ঈমানি ঐক্যের প্রতীক এবং জুমা পরিত্যাগ করা কপটতার লক্ষণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, বিনা কারণে যারা ধারাবাহিকভাবে জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম)। এমনকি তিন জুমা অবহেলা করলে অন্তর সিলমোহর হয়ে যাওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে (তিরমিজি)।
সব মিলিয়ে শুক্রবার মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সামষ্টিক ইবাদত, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় এবং ঈমান নবায়নের এক অনন্য সুযোগ। নারী-পুরুষ সবার জন্যই শুক্রবারের আমল সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই এই দিনের ফজিলত উপলব্ধি করে সচেতনভাবে আমল করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।
২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি
মুসলিম উম্মাহর জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস পবিত্র রমজান ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ইতোমধ্যে সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি ও আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের ইসলামিক ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ করে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুবাইয়ের Islamic Affairs and Charitable Activities Department প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি ও ধর্মীয় ইভেন্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রমজানের সম্ভাব্য প্রথম দিন হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় এ তারিখ চূড়ান্ত নয়।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, রমজান মাসের সূচনা নির্ধারিত হয় শাবান মাসের শেষের চাঁদ দেখার মাধ্যমে। সে কারণে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর ভিত্তি করে রোজা এক দিন আগে বা পরে শুরু হতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য শেষ দিন হতে পারে ১৯ মার্চ, যা বৃহস্পতিবারে পড়তে পারে। সে হিসেবে পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হলে ঈদের তারিখ এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়েও যেতে পারে।
হিজরি বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণভাবে চন্দ্রচক্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি হিজরি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। বর্তমানে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলছে পবিত্র রজব মাস, যা রমজানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। রজব ও শাবান মাসকে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখেন।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে ইতোমধ্যে রমজানকে সামনে রেখে ধর্মীয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজ, ইফতার কার্যক্রম এবং দান-সদকার আয়োজনকে ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। পবিত্র রমজান মুসলিম সমাজে কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও নৈতিক পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবেও বিবেচিত।
-রফিক
আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইসলামের পাঁচটি মূল রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমান বা বিশ্বাসের পর একজন মুসলমানের জন্য নামাজই হলো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং কিয়ামতের দিন ইবাদতের মধ্যে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজের। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজেরও বিধান রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ওয়াক্ত অনুযায়ী ফরজ নামাজ আদায় করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখটি বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডার মতে ২৫ রজব ১৪৪৭।
রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আজ জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে।
দিনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আসর নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে।
সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে এবং দিনের শেষ ফরজ ইবাদত এশা নামাজের সময় হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে।
এছাড়া আগামীকালের অর্থাৎ শুক্রবারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে।
রাজধানী ঢাকার সময়ের সাথে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মুসল্লিদের নামাজের সময়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, যা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কয়েক মিনিট আগে বা পরে হয়ে থাকে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ এই দুই বিভাগে ঢাকার চেয়ে কিছুটা আগেই নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে। অন্যদিকে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হয়।
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে খুলনার মুসল্লিদের ঢাকার সময়ের সাথে ৩ মিনিট এবং বরিশালের মুসল্লিদের ১ মিনিট সময় যোগ করতে হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভাগগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের সঠিক ওয়াক্ত নির্ণয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করার জন্য এই সময়সূচিটি অনুসরণ করা মুমিনদের জন্য সহায়ক হবে, যা তাদের ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের মতামত:
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- স্মৃতিশক্তি থাকবে অটুট; মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের ৬ পরামর্শ
- তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
- সাড়ে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করল জামায়াত
- বিশ্বকাপ জট খুলতে আইসিসিকে এবার নতুন এক ফর্মুলা দিল বাংলাদেশ
- বোর্ড অব পিস-এ এরদোয়ান ও সিসিকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের; গাজায় নতুন মোড়
- ফেসবুকের শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরে তারেক রহমান, ছাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও
- ইপিএস ও ক্যাশ ফ্লোতে বড় উন্নতি লাভেলোর
- টেলিভিশন পর্দায় আজ যে সব গুরুত্বপূর্ণ খেলা দেখা যাবে
- একাধিক ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ডিএসই পরিদর্শনে বন্ধ পাওয়া গেল কয়েকটি কারখানা
- প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ ফরচুন শুজের
- নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- চরভদ্রাসনে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান; ফেঁসে গেলেন দুই সাংবাদিক
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়
- ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য
- এক বছরে দুই বিপর্যয়; ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় নজিরবিহীন অন্ধকার
- মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান
- বিএনপি নেতাকর্মী ও নারীদের ওপর হামলা উল্টো মামলা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
- নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
- গ্রুপ বদল না ভেন্যু পরিবর্তন? বিশ্বকাপ সংকট কাটাতে বিসিবির নতুন প্রস্তাব
- পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
- শুধু এক দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস
- ফাহাদের বোলিং তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারত; যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা
- রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার পথে সৌদি আরব: নতুন খনি থেকে মিলল বিশাল স্বর্ণের মজুদ
- জুলাই সনদ লেখা হয়েছে রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে, কালি দিয়ে নয়: আলী রীয়াজ
- নীলনদ ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের নতুন বার্তা; মধ্যস্থতায় ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ভারতীয় কর্মকর্তার ভিসা আটকে দিল বাংলাদেশ, কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশের!
- হাসনাত আব্দুল্লাহর চ্যালেঞ্জে হারলেন মঞ্জুরুল মুন্সী
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ইসলামোফোবিয়া: বাংলাদেশে বাস্তবতার নাম, না রাজনৈতিক ঢাল
- চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্টি? ৯০ মিনিটের এই সূত্র বদলে দিতে পারে আপনার জীবন
- ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- নির্বাচনী মিশনে জামায়াত আমির: ঢাকা-১৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী সফর
- সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
- কুমিল্লার একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানী
- প্রতিদিন মাত্র ১টি লবঙ্গ: নিয়মিত খেলে শরীরে ঘটে এই ১১টি চমকপ্রদ উপকার!
- স্লো পয়জন প্রয়োগ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকের বিস্ফোরক তথ্য
- বাতাসে শুধু ধূলিকণা নয়, ভাসছে মৃত্যুও: আইকিউএয়ারে শীর্ষে ঢাকা
- রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি
- ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ
- স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১১টি খেজুর
- আজ ৮ ঘণ্টা যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ; এক নজরে আজকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ








