অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ০৯:০৩:৩৪
অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রথমবারের মতো এই প্রাণহানির মাত্রা 'হাজারের ঘরে' বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে এই বিপুল পরিমাণ মৃত্যুর জন্য তিনি নিজ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চেয়ে বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকেই সরাসরি দায়ী করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার তেহরানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে খামেনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তিগুলোর সুপরিকল্পিত এবং সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।

বক্তব্য চলাকালে খামেনি বিক্ষোভের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপশক্তিগুলো ইরানের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।” স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, খামেনি তাঁর ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানবিরোধী সর্বশেষ এই রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনাটি অতীতের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে আলাদা ছিল, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এবং সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। খামেনির এই অভিযোগ মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে দেশটি তাদের যেকোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘মাঠপর্যায়ের অপারেশন’ এবং ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে আসছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিশেষ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ এর আগে ইরান সরকারের কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ এবং এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টিই প্রাধান্য দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, এই বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার। খামেনি যখন প্রকাশ্যে ‘হাজার হাজার’ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন, তখন তা প্রকারান্তরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে বিক্ষোভের মাত্রা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ইরান সরকারের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে খামেনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সীমান্তের বাইরে নতুন করে কোনো সংঘাত বাড়াতে চায় না বা দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধে টেনে নিতে আগ্রহী নয়। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না; কিন্তু একই সঙ্গে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেসব অপরাধী এই অস্থিরতা ও হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা কোনোভাবেই শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না।” আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে।


রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার পথে সৌদি আরব: নতুন খনি থেকে মিলল বিশাল স্বর্ণের মজুদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৮:৩৭:১৫
রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার পথে সৌদি আরব: নতুন খনি থেকে মিলল বিশাল স্বর্ণের মজুদ
ছবি: গালফ নিউজ

সৌদি আরবের খনি শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনি কোম্পানি মা’আদেন (Ma'aden) তাদের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, নতুন করে চারটি খনি এলাকা থেকে তারা রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি মোট ৭৮ লাখ আউন্স স্বর্ণ আহরণ করেছে, যা কেজির হিসেবে প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার কেজির সমান (প্রতি কেজিতে ৩৫ আউন্স হিসেবে)। সৌদি আরবের খনি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সাফল্যকে বড় ধরণের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মা’আদেনের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কোম্পানিটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ লাখ আউন্সেরও বেশি স্বর্ণ উত্তোলন করা। তবে বার্ষিক হিসাব-নিকাশের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক খনি পরিচালনা পদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। স্বর্ণ উত্তোলনের এই কার্যক্রম মূলত চারটি প্রধান খনি এলাকায় পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মানসুরাহ মাসসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং ওয়াদি আল জাও। এই চারটি খনির মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে মানসুরাহ মাসসারাহ খনি থেকে, যেখানে মোট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণ উত্তোলিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তালিকায় থাকা উরুক ২০/২১ এবং উম্ম আস সালাম খনি দুটি থেকে সম্মিলিতভাবে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স স্বর্ণ আহরণ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে নতুন খনি এলাকা ওয়াদি আল জাও। এই এলাকাটি থেকে মা’আদেন এবারই প্রথম স্বর্ণ উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রথমবারই সেখান থেকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণ আহরণ সম্ভব হয়েছে। নতুন এই খনিটির উৎপাদন সক্ষমতা মা’আদেনের সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মা’আদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট এই অভাবনীয় ফলাফলে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন যে, চার খনি এলাকা থেকে ৭৮ লাখ আউন্স স্বর্ণ উত্তোলনের ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সাফল্যের কারণেই সৌদি আরবের স্বর্ণের ভাণ্ডারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে কোম্পানিটি উৎসাহিত হচ্ছে। উইল্টের মতে, চারটি এলাকায় খননকাজের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সেরও বেশি স্বর্ণ উত্তোলনের এই ঘটনাটি স্বর্ণ আহরণে মা’আদেনের সুপ্ত সম্ভাবনাকেই বিশ্বদরবারে প্রতিফলিত করছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়নের যে মহাপরিকল্পনা বা ভিশন ২০৩০ রয়েছে, সেখানে খনি খাতের এই জোরালো অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নীলনদ ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের নতুন বার্তা; মধ্যস্থতায় ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৭:৩২:১০
নীলনদ ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের নতুন বার্তা; মধ্যস্থতায় ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: গ্রাফিক্স ইত্তেফাক

আফ্রিকার প্রধান জীবনরেখা নীলনদের পানি বণ্টন নিয়ে মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপড়েন নিরসনে আবারও মধ্যস্থতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে লেখা এক বিশেষ চিঠিতে ট্রাম্প এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে মার্কিন মধ্যস্থতা পুনরায় শুরু করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত চিঠির বার্তাটি তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নীলনদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই গভীর সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের পুনরায় সক্রিয় হওয়া ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির এক বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে বর্তমান উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আদ্দিস আবাবায় নির্মিত ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’ (GERD)। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল জলবিদ্যুৎ বাঁধটির উদ্বোধন ঘোষণা করে, তখন থেকেই ভাটির দেশ মিসর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। ১২ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া মনে করে, নীলনদের একটি উপনদীর ওপর নির্মিত ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাঁধটি তাদের জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, কৃষি ও পানির জন্য নীল নদেই ওপর প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল মিসর শুরু থেকেই এই বাঁধের বিরোধিতা করে দাবি করছে যে, এটি আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি লঙ্ঘন করার পাশাপাশি দেশটিতে খরা ও বন্যার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে ইথিওপিয়া বরাবরই মিসরের এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও এই বিরোধ মেটাতে বড় ধরণের কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান অধরাই থেকে গিয়েছিল। তবে মিসরীয় প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বরাবরই আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবরে গাজা সংঘাত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করতে ট্রাম্প যখন মিসর সফর করেছিলেন, তখন তিনি নীলনদ ইস্যুতে মিসরের পানি নিরাপত্তার উদ্বেগের প্রতি গভীর একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে ইথিওপিয়ার জ্বালানি চাহিদা এবং মিসরের পানির নিরাপত্তা—উভয় দেশের স্বার্থই সুরক্ষিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ইথিওপিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ মিসরের মধ্যে এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নীলনদের ইস্যুটিকে পুনরায় কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যদিও তাঁর এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তবে অনেকেই মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই সক্রিয়তা দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার একটি নতুন ও শক্তিশালী সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মধ্যস্থতা যদি সফল হয়, তবে তা উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় এক দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা বয়ে আনবে।

সূত্র: রয়টার্স।


রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১০:০৩:২৪
রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

গাজায় টানা দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ সামরিক অভিযানের রেশ ধরে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং আত্মহত্যার প্রবণতা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ইসরায়েলি বাহিনীর ভেতরে এক গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজা ও লেবানন সীমান্তে মোতায়েন করা কয়েক লাখ সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বড় একটি অংশ এখন দীর্ঘমেয়াদী মানসিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের বিস্তৃতি যখন লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে রূপ নিয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন ইসরায়েলি সামরিক কাঠামোর ওপর এই মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে ইসরায়েলি অভিযানে সেখানে ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে ৪ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর থেকে তাদেরও ১ হাজার ১০০-এর বেশি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধের এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় কেবল প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধাহত হিসেবে চিকিৎসাধীন প্রায় ২২ হাজার ৩০০ সেনাসদস্যের মধ্যে ৬০ শতাংশই পোস্ট-ট্রমা জনিত গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের আওতায় থাকা সামরিক সদস্যদের ৩৯ শতাংশ মানসিক সহায়তা গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় ২৬ শতাংশ বিষণ্ণতার লক্ষণগুলোর কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন।

এই মানসিক সংকটের পেছনে কেবল মৃত্যুভয় নয়, বরং এক ধরণের ‘নৈতিক আঘাত’ বা মরাল ইনজুরি কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর ইসরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রোনেন সিদি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সেনারা একদিকে যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের জীবন হারানোর অভিজ্ঞতায় বিপর্যস্ত, অন্যদিকে নিরীহ মানুষের ক্ষতির দায়বোধ তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নারী ও শিশু নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো অনেক সেনার মনে অপরাধবোধের জন্ম দিচ্ছে, যা থেকে মুক্তি পাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ বছর বয়সী একজন রিজার্ভ সেনা পল তার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন যে, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় দায়িত্ব পালনের পর যুদ্ধের শব্দগুলো এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে এবং তিনি সারাক্ষণ এক ধরণের তীব্র সতর্ক অবস্থায় থাকতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাদের এই ট্রমা বা মানসিক আঘাত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি। মানসিক সহায়তা পাওয়ার জন্য সেনাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি মূল্যায়ন কমিটির সম্মুখীন হতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে সেনাদের সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করে। এই চিকিৎসাহীন ট্রমার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বাড়ছে আত্মহত্যার হার। ইসরায়েলি সংসদীয় এক কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০২৪ সালে ইসরায়েলে মোট আত্মহত্যার ঘটনার ৭৮ শতাংশই ছিল যুদ্ধরত সেনাদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে ধরণের তীব্র চাপের মুখে পড়েছে, তাতে অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকা এবং ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে এই মানসিক বিপর্যয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ইরান সংকট নিয়ে পুতিন–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, আলোচনায় যা ছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৬:৪৫:১৭
ইরান সংকট নিয়ে পুতিন–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, আলোচনায় যা ছিল
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সম্ভাব্য ইরানি হামলার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানকেন্দ্রিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)।

রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোনালাপে ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, অঞ্চলটিতে অস্থিরতা এড়াতে মস্কো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও সক্রিয় করতে প্রস্তুত।

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। আলোচনায় পুতিন জোর দেন যে, সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্তরে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

এই ফোনালাপের পেছনে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া। গত বছরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তোলে।

এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন আশঙ্কা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, দেশটিতে অস্থিরতা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় ধরনের বিক্ষোভ আর নেই।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেশেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি চলমান সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন এবং দাবি করেন, বিদেশি শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান, যাতে উগ্রপন্থীরা জনগণের প্রকৃত দাবি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে।

-রফিক


নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১০:২২:০৩
নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী মুহূর্তের জন্ম দিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–এর হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়ে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্যই প্রকাশ করেননি, বরং ভেনেজুয়েলা সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করেন মাচাদো। বৈঠক শেষে মাচাদো নিজেই জানান, তিনি তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন। এ ঘটনাকে তিনি ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পদক গ্রহণের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক চমৎকার নিদর্শন। নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি মাচাদোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তিনি একজন অসাধারণ নারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা সহ্য করে আসছেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তাঁর করা কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই মাচাদো তাঁকে এই পদক উপহার দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাচাদো স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারে। পরে সাংবাদিকদের ইংরেজিতে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন।

এই সাক্ষাৎ এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ভেনেজুয়েলার রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় দাবি করা মাচাদো আশা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro–কে সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাঁর বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে। তবে ট্রাম্প সে সময় মাচাদোর পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতিনিধি Delcy Rodríguez–এর সঙ্গে কাজ শুরু করেন, যা বিরোধী শিবিরে হতাশা তৈরি করেছিল।

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গেও রয়েছে আলাদা মাত্রা। মাচাদো ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ট্রাম্প নিজে বহুবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। গত বছর মাচাদো এই সম্মান পাওয়ার সময় তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি তাঁর নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কার বাতিল, ভাগ বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। নোবেল পিস সেন্টারও এক্সে লিখেছে, পদকের মালিক বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বদলায় না।

ওয়াশিংটন সফরে মাচাদো মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো যে রদ্রিগেজ নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে সমর্থন করা একটি কৌশলগত ভুল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব বিরোধী জোটের হাতেই থাকা উচিত।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য এক সাহসী কণ্ঠস্বর এবং ট্রাম্প দেশটির বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন।

এদিকে মাদুরোকে ৩ জানুয়ারি আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম বিক্রি সম্পন্ন করেছে এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বহনের অভিযোগে একাধিক ট্যাংকার জব্দ করেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প ও দেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপ হয়, যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনাকে সৌজন্যমূলক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, নোবেল পদক উপহারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্যের ঘটনা নয়; বরং ভেনেজুয়েলা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণের দিকনির্দেশনাও এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৯:১৭:৪৪
এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না: ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি 
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর এবং সরাসরি এক খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের একটি রক্তাক্ত ছবি প্রচারের পাশাপাশি এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলা হয়েছে যে, পরবর্তী আক্রমণ আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এই হুমকিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি এবং প্রকাশ্য উসকানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শত্রুতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে দেশটির প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চরম বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রচারিত ওই হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর চালানো হামলার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ওই হামলায় বন্দুকধারী থমাস ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, যা তার কানে আঘাত করেছিল। এবার সেই ঘটনাকেই মনে করিয়ে দিয়ে তেহরান ঘোষণা করেছে যে, তাদের পরবর্তী প্রচেষ্টা আর ব্যর্থ হবে না।

ট্রাম্পের ওপর ইরানি প্রশাসনের এমন বিষোদগার ও খুনের হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০২২ সালে ইরানের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওতে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো গলফ কোর্সে তাকে ড্রোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে হত্যার চেষ্টার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। পরে একই গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগে রায়ান রাউথ নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে ওই পুরোনো ভিডিওটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালে ইরানের নেতৃত্বাধীন একটি বড় ধরণের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা এফবিআই নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই ঘটনায় ফারহাদ শাকেরি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সরাসরি ট্রাম্পকে হত্যার দায়িত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সরকারপন্থী সমাবেশগুলোতে আমেরিকার প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করছে এবং যেকোনো মূল্যে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিহত করার শপথ নিচ্ছে। এই প্রকাশ্য হুমকি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবননাশের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র যখন নতুন কোনো সংঘাতের অপেক্ষায়, তখন ট্রাম্পের প্রতি ইরানের এই সরাসরি হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।

সূত্র: কমো


"এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১২:৩৭:৩৭
"এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে লক্ষ্য করে প্রচারিত একটি বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ হুমকি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার বাটলার শহরে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে সংঘটিত হত্যাচেষ্টার একটি দৃশ্য ব্যবহার করা হয়। ওই ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ভয়াবহ ক্যাপশন “এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।” বার্তাটির প্রতীকী ভাষা এবং সময় নির্বাচন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, এই সম্প্রচার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মূল চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে, যা কেবল অভ্যন্তরীণ নয় বরং বৈশ্বিক শ্রোতাদের উদ্দেশেও একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা বহনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

ট্রাম্প ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই তিক্ত। বিশেষ করে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকে এই শত্রুতা আরও গভীর হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর ঘনিষ্ঠ মহল অতীতে একাধিকবার ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী করেছে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরান সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর জেরে কাতারসহ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের কড়া অবস্থান, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত হুমকির বার্তা এই তিনের সমন্বয়ে ওয়াশিংটন–তেহরান সম্পর্ক এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র:আরব নিউজ


ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১২:০৬:৩৯
ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে সামরিক উত্তেজনার পারদ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং তার বিশেষায়িত ‘আক্রমণ করো আর সটকে পড়ো’ বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো এখন চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর পূর্বসূরিদের মতো দীর্ঘমেয়াদী সেনা মোতায়েন বা রাষ্ট্র গঠনের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পথে হাঁটতে রাজি নয়। বরং তারা ক্ষিপ্র গতির সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক ও সামরিক জয় হাসিল করার নতুন এক নীতি গ্রহণ করেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সফলভাবে অপহরণের ঘটনা ট্রাম্পকে এই আগ্রাসী কৌশলে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সেই অভিযানে কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ বা আন্তর্জাতিক বড় ধরণের বাধা না আসায়, ট্রাম্পের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা ওয়াশিংটনকে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান তীব্র বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশটিতে সরাসরি বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। যদিও গত বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে বলেছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা থামানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে পর্দার আড়ালে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করতে আকাশপথে বড় ধরণের অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই নতুন মডেলটি হলো ‘স্বল্প খরচে সরকার পরিবর্তন’। যেখানে আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর পড়ে থাকত এবং বিপুল জনবল ও অর্থের ক্ষয় হতো, ট্রাম্প সেখানে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে অতি দ্রুত উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল দেশটির ভঙ্গুর সামরিক ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে ভেতর থেকে ফেটে পড়া শাসনকাঠামো। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরণের কাঠামোগত দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়। বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত ইরান এখন ভেতর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে সরাসরি স্থলযুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আকাশপথের নিরঙ্কুশ শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে কোণঠাসা করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল রণকৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংগঠিত হওয়ায় এই সম্ভাব্য অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকির কারণও হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী একই সাথে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের মতো দুটি ভিন্ন মহাদেশের বড় ফ্রন্টে জটিল সামরিক পরিকল্পনা পরিচালনা করার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। তা সত্ত্বেও, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকা এবং চীন তাইওয়ান নিয়ে বেশি মনোযোগী থাকায় বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই একাধিপত্য বিস্তার করা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক দর্শন ইরানের ওপর প্রয়োগ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দেয়, না কি অঞ্চলটিকে এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হামলা? খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ০৯:৫৬:০৩
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হামলা? খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুমকির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগামী মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।

এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরণের বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ ঘোষণা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের হঠকারী হামলা চালায়, তবে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেবে। বুধবার রয়টার্স ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই যুদ্ধাবস্থার চিত্র তুলে ধরেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। এমন এক উত্তাল সময়ে এরফান সোলতানি নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারের মাত্র দুই দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও তা কার্যকর করার খবর প্রকাশ পায়।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি অত্যন্ত ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেবেন। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কেবল মৌখিক হুমকিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানে হামলার একাধিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু প্রকল্পগুলো ধ্বংস করা, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সাইবার লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা।

বর্তমানে লোহিত সাগরে ইউএসএস রুজভেল্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে, যা সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাতারসহ অন্যান্য দেশের ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সমাধানের পথও এখন পুরোপুরি রুদ্ধ হওয়ার পথে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সব ধরণের যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ তার দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন যে, কোনো বিদেশি আক্রমণ বা চাপের মুখে তেহরান বিন্দুমাত্র পিছু হটবে না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মহলে এই উত্তেজনা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া ও চীন স্পষ্টভাবে ইরানে যেকোনো ধরণের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানে হামলা চালানো হবে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি ঐতিহাসিক ‘বড় ভুল’।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো সরাসরি বড় ধরণের স্থল যুদ্ধে জড়াবেন না। পরিবর্তে তিনি ২০২০ সালের মতো ইরানের শীর্ষ সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশানা করে ড্রোন কিংবা বিমান হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: