অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রথমবারের মতো এই প্রাণহানির মাত্রা 'হাজারের ঘরে' বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে এই বিপুল পরিমাণ মৃত্যুর জন্য তিনি নিজ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চেয়ে বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকেই সরাসরি দায়ী করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার তেহরানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে খামেনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তিগুলোর সুপরিকল্পিত এবং সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
বক্তব্য চলাকালে খামেনি বিক্ষোভের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপশক্তিগুলো ইরানের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।” স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, খামেনি তাঁর ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানবিরোধী সর্বশেষ এই রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনাটি অতীতের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে আলাদা ছিল, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এবং সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। খামেনির এই অভিযোগ মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে দেশটি তাদের যেকোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘মাঠপর্যায়ের অপারেশন’ এবং ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে আসছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিশেষ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ এর আগে ইরান সরকারের কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ এবং এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টিই প্রাধান্য দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, এই বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার। খামেনি যখন প্রকাশ্যে ‘হাজার হাজার’ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন, তখন তা প্রকারান্তরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে বিক্ষোভের মাত্রা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ইরান সরকারের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে খামেনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সীমান্তের বাইরে নতুন করে কোনো সংঘাত বাড়াতে চায় না বা দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধে টেনে নিতে আগ্রহী নয়। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না; কিন্তু একই সঙ্গে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেসব অপরাধী এই অস্থিরতা ও হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা কোনোভাবেই শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না।” আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে।
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার একতরফা ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে এ সপ্তাহেই এক দ্বিদলীয় প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক অধিকার সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে এই প্রচেষ্টা সফল করা অত্যন্ত দুরূহ ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে।
সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপিটল হিলের এই উদ্যোগে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের বড় অংশের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রতিনিধিও সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েলে পরিচালিত হামলার প্রেক্ষাপটেই এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনারা হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই বিলটি যদি কংগ্রেসে পাস হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার আগে আইনসভার অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকবেন। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে কংগ্রেসের হারানো ভূমিকা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনগত পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
/আশিক
নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে গত সোমবার এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র (CIA) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অবস্থিত। বুধবার (৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই ড্রোনটি সম্ভবত ইরান থেকেই ছোড়া হয়েছিল। যদিও সিআইএ স্টেশনটিই এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে সিআইএ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত শনিবার থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলার ফলে মার্কিন দূতাবাসের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সিআইএ স্টেশনটি সরাসরি আক্রান্ত না হলেও দূতাবাসের ভেতরে এর অবস্থান হওয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলার উৎস ও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় এই ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে কোনো স্থানই হামলার আওতামুক্ত নয়। ইরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব জায়গাতেই আঘাত হানবে, যার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের এত কাছে হামলা চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী, জটিল এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স
বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ‘এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না’।
কেপলারের তথ্যমতে, প্রতিদিন সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এরই মধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মূলত এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি এলএনজি ঘাটতি রয়েছে এবং সীমিত মজুতের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। ভারতও তাদের এলএনজি আমদানির ৫৩ শতাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কাতার সোমবার তাদের প্রধান দুটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ড্রোন হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হওয়ায় তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যদিও চীনের কাছে ৭.৬ মিলিয়ন টন এলএনজি মজুত রয়েছে, তবে সংকট দীর্ঘ হলে তাদের আটলান্টিক কার্গোর জন্য ইউরোপের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।
অন্যদিকে, জাপানের মোট তেল আমদানির ৭৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই দুই দেশের কাছে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের এলএনজি মজুত থাকলেও জ্বালানির দাম বাড়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো উচ্চ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নোমুরা।
/আশিক
পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরই মেজ ছেলে মুজতবা খামেনি। বুধবার (৩ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর ব্যাপক চাপে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মুজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন পরবর্তী নেতা, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা চলছিল, মুজতবার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত বিদায়ী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স। খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান এবং শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। মাশহাদের বিখ্যাত ‘ইমাম রেজা মাজার’ প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই একই মাজারে খামেনির বাবাও সমাহিত রয়েছেন। মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
মুজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। আইআরজিসি-র সঙ্গে তাঁর গভীর সুসম্পর্কের কারণেই বিশেষজ্ঞ পরিষদ এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান যখন এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নতুন নেতার এই অভিষেক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তেহরানে মুজতবা খামেনির নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
/আশিক
ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জোরালো অভিযোগ তোলা হলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিদর্শকরা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ‘সমন্বিত’ বা ‘পদ্ধতিগত’ কর্মসূচির প্রমাণ পাননি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান, তেহরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কাঠামোবদ্ধ উপাদানের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবে গ্রোসি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরান ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণ বেসামরিক জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও পরিদর্শকরা এটি নিশ্চিত করতে পারেননি যে ইরান সরাসরি বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, তবুও এই বিপুল পরিমাণ মজুত আন্তর্জাতিক মহলে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধকরণই বর্তমানে আইএইএ-র উদ্বেগের প্রধান কারণ, কারণ এই মাত্রায় উপাদান জমা করার পেছনে কোনো ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গ্রোসি আরও জানান, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্রমাগত ইউরেনিয়ামের উপাদান উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে এই মজুত ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হতে পারত। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে বাস্তবে এমন কোনো অস্ত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলে উত্তর দিয়েছেন। আইএইএ মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলো।
/আশিক
পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আংশিক লক্ষ্য অর্জন করলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা আছে; হয় খামেনির মৃত্যুকে চূড়ান্ত বিজয় ধরে যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা, নতুবা শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে আক্রমণের মাত্রা দ্বিগুণ করা। সম্প্রতি ট্রাম্প এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পেন্টাগনের কমান্ডাররা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সামরিক শক্তি দিয়ে বড়জোর এক বা দুই সপ্তাহ যুদ্ধ চালানো সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে খোদ পেন্টাগনের ভেতরেই সংশয় দেখা দিয়েছে।
এই যুদ্ধকে বিশ্লেষকরা একটি ‘অসম যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে মিলিয়ন ডলারের দামী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীন সমরকৌশল অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছে, কারণ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক হারে ফুরিয়ে আসছে। ইরানের বহুমাত্রিক আক্রমণের কৌশল এবং উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধে জেতা মানেই হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। কিন্তু ইরানের জন্য টিকে থাকাই হলো তাদের বিজয়। আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের বিভিন্ন অংশকে দুর্বল করলেও স্থলভাগে বিদ্রোহ বা গৃহযুদ্ধ শুরু না হলে শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা তেহরানের জন্য কঠিন হবে না। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে মার্কিন জনগণের সমর্থন হারানোর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে, আর সেই সীমা পর্যন্ত ইরান যদি টিকে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
(লেখক: ডমিনিক ওয়াগহর্ন, স্কাই নিউজের আন্তর্জাতিক বিভাগের সম্পাদক)
খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বা মিসইনফরমেশন।
তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, খামেনির কথিত মরুভূমিতে অবস্থানের ছবিটি বর্তমান সময়ের কোনো ঘটনা নয়। মূলত এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি, যার সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো নূন্যতম সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণেও তাঁর জীবিত থাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিছক ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। খামেনির মৃত্যুর খবরটি যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তখন এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। উল্লেখ্য যে, ইরান গত শনিবার এই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই পথে চলাচল স্থগিত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করে এবং চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় দেশটি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
/আশিক
২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার বিখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হওয়া তার এক কথিত ভবিষ্যদ্বাণীতে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শুরুতেই একটি ‘মহাযুদ্ধ’ শুরু হবে, যা পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণকারী বাবা ভাঙ্গা ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হারান এবং পরবর্তীতে দাবি করেন যে তিনি অলৌকিক দর্শনশক্তি লাভ করেছেন। তাকে অনেকেই ‘বালকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস’ বলে অভিহিত করেন এবং তার অনুসারীরা দাবি করেন যে তিনি ৯/১১ হামলা বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের মতো বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তবে বাবা ভাঙ্গার এই ২০২৬ সালের মহাযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা ভাঙ্গার নিজের লেখা বা নথিভুক্ত কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যেখানে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে যা প্রচারিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোনো সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, যার কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। অনেক গবেষক মনে করেন, এসব দাবির বেশিরভাগই পরবর্তীকালে গুজব বা লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি হিসেবে তার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার এই সময়ে রহস্যময় এসব বাণীর সত্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যুদ্ধ বা অস্থিরতার মতো ভয়াবহ সময়ে মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা নিয়ন্ত্রণবোধ খোঁজে, যা তাদের মানসিকভাবে এক ধরণের আশ্রয় দেয়। অজানা ভবিষ্যতের ভয় থেকেই মানুষ এই ধরনের রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে আকৃষ্ট হয়, যদিও বাস্তবে এর কোনো তথ্যনির্ভর প্রমাণ থাকে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে, বর্তমান জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন, কোনো রহস্যবাদ নয়। সব মিলিয়ে বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের ‘মহাযুদ্ধ’ নিয়ে চর্চা বাড়লেও এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ৪ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৪ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ৪ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন নিয়ে যা জানাল ফার্স নিউজ
- স্বাদ ও পুষ্টির মেলবন্ধন: ঘরেই তৈরি করুন দারুণ মজার খেজুরের হালুয়া
- ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ
- অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
- রোজা রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: সেহরি ও ইফতারে যা জানা জরুরি
- সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উন্মোচন
- নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ ঘণ্টায় ১০৪টি হামলা: ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইরানের শহরগুলো
- ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন সাবেক উপদেষ্টা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ মার্চ ২০২৬
- পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি
- ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য
- গণভোটের রায় নিয়ে আদালতে খেলা চলবে না: নাহিদ ইসলাম
- পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- কালিগঞ্জে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
- আকাশে দেখা যাবে রক্তাভ চাঁদ: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
- ২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
- জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
- আলভীর সঙ্গে প্রেম না কি বন্ধুত্ব? দেশে ফিরে যা বললেন তিথি
- পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম
- গোপনে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে বিশেষ সুবিধা নিলেন ড. ইউনূস
- ৫ বছরের জন্য এসে ৩ মাসেই বিদায়: দুদক কমিশনের নাটকীয় পদত্যাগ
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- বিলবোর্ডে নিজের ছবি সরাতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আজকের মুদ্রার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৩ মার্চের সর্বশেষ টাকার মান
- চাঁদ হবে লালচে তামাটে: বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ
- ইফতারে আনুন নতুন স্বাদ: বানিয়ে ফেলুন মচমচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পেঁয়াজু
- ইফতারে স্বাদ বাড়াতে ঘরেই বানান ক্রিস্পি কাবাব স্টিকস
- জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি
- বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
- মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
- বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
- ১২ মার্চ কি নতুন ইতিহাস? প্রথম অভিশংসনের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- ঈদের অগ্রিম টিকিট যুদ্ধ শুরু! অনলাইনে মিলছে ট্রেনের শতভাগ টিকিট
- রেকর্ডের পর রেকর্ড: বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী হলো আজ থেকে স্বর্ণ
- বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল সৌদি রাজধানী
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধ, কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল








