১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৫:১৪:২৩
১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (Dhaka Stock Exchange PLC) লেনদেন শেষ হয়েছে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু অনিশ্চিত প্রবণতার মধ্য দিয়ে। দিন শেষে মোট ৩৯০টি সিকিউরিটিজ লেনদেনের আওতায় আসে, যার মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির এবং দর কমেছে ১৫৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৭৫টি শেয়ার। এই পরিসংখ্যান বাজারে ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যে প্রায় সমতা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ছিল। এই শ্রেণিতে লেনদেন হওয়া ২০৩টি শেয়ারের মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে এবং ৬৩টির দর কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো বজায় রয়েছে, যার প্রতিফলন এ ক্যাটাগরির ফলাফলে দেখা গেছে।

অন্যদিকে বি ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ৮২টি শেয়ারের মধ্যে দর কমেছে ৪৭টির, যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ২০টির। জেড ক্যাটাগরিতেও একই ধরনের মিশ্র কিন্তু দুর্বল প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে ৪১টি শেয়ার দর বাড়লেও ৪৬টি শেয়ারের দর কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের দূরে থাকার প্রবণতাকেই তুলে ধরছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দিনটি ছিল কিছুটা নেতিবাচক। লেনদেন হওয়া ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে ১১টির দর কমেছে, বিপরীতে ৫টির দর বেড়েছে এবং ১৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডে লেনদেন ছিল সীমিত, যেখানে একটি বন্ড অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে তিনটি ইস্যু লেনদেনের আওতায় আসে, যার মধ্যে দুটি দর কমেছে এবং একটি দর বেড়েছে।

লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৬১ লাখ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই লেনদেনের পরিমাণ মাঝারি মাত্রার এবং বড় ধরনের আক্রমণাত্মক বিনিয়োগের প্রবণতা এখনো গড়ে ওঠেনি।

বাজার মূলধনের দিক থেকে দিন শেষে ইকুইটি খাতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বাজার মূলধন ছিল প্রায় ২ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা এবং ঋণপত্র খাতে বাজার মূলধন ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ব্লক মার্কেটের লেনদেন। এদিন ব্লকে ২৮টি কোম্পানির মোট ৭২টি লেনদেনে প্রায় ২৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস, জিকিউ বল পেন, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং বিএক্সজিএস সুকুকে। বিশেষ করে ফাইন ফুডসে এককভাবে প্রায় ৮৯ কোটি টাকার লেনদেন বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বাজারচিত্র স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা এখনো পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক দরপতন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তারা বাছাই করা শেয়ারে সীমিত বিনিয়োগেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ার বাছাই, খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত লিভারেজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল বলে মত দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:৩১:১২
ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাপ্তাহিক লেনদেনে প্রধান পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি শেয়ার ও বন্ডের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, দরপতনের শীর্ষে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সপ্তাহজুড়ে ফান্ডটির ইউনিটদর ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩ টাকা ৩০ পয়সা, যা বিদায়ী সপ্তাহের শেষে নেমে আসে ৩ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ কার্যদিবসে ৩০ পয়সা কমেছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা শাহজালাল ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ডের মূল্য ৫ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৮ টাকায়। এতে এক সপ্তাহে ৪২৯ টাকা বা ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ১৮ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে, যা শতাংশ হিসেবে ৬ দশমিক ৬০ হ্রাস।

দরপতনের তালিকায় মেঘনা সিমেন্ট ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৩৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমেছে। এবিবিএল পারপেচ্যুয়াল বন্ড ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং এপিএসসিএল বন্ড ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ মূল্যহ্রাস পেয়েছে।

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারদর ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। ন্যাশনাল লাইফ বন্ড ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং পিপিবিএল পারপেচ্যুয়াল বন্ড ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে। আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর কমেছে ৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং তারল্য সংকটের প্রভাব এ দরপতনের অন্যতম কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সাপ্তাহিক দরপতন বাজারে আংশিক চাপের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি, মুনাফা প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

-রাফসান


ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:২৭:১৪
ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার
ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী সপ্তাহ ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দরবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিআইএফসি।

সপ্তাহজুড়ে বিআইএফসি’র শেয়ারদর বেড়েছে ৫২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম ছিল ৩ টাকা ৬০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ দিনে ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ১ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যসংযোজন হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে প্রাইম ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ উত্থান ঘটেছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। শতাংশ হিসেবে বৃদ্ধি ৩৬ দশমিক ১১।

শুধু এই তিন প্রতিষ্ঠানই নয়, আর্থিক ও লিজিং খাতের আরও কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর ৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় গিয়ে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স ও পিপলস লিজিং উভয়েই ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সোনারগাঁও টেক্সটাইলও ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৪৪ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে প্রায় ২৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের আর্থিক ও লিজিং খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার ফলে এ উত্থান দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির জন্য কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন ও ঋণমান পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


২৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:৫৬:০২
২৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৯১টি ইস্যুর লেনদেনের মধ্যে ২৩৯টির দর বেড়েছে, ৯৩টি কমেছে এবং ৫৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরির ২০৩টি কোম্পানির মধ্যে ১১৫টির দরবৃদ্ধি হয়েছে, যা বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিক শেয়ারে আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে ৮০টির মধ্যে ৫৪টি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।

জেড ক্যাটাগরিতেও শক্তিশালী প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১০টি ইউনিট বেড়েছে এবং ৮টি কমেছে। করপোরেট বন্ডে ৪টির মধ্যে ১টি বেড়েছে ও ৩টি কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ২টির একটি বৃদ্ধি ও একটি পতন হয়েছে।

লেনদেন ও তারল্য

দিনভর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৬৭৮টি ট্রেডে ৩১ কোটি ২২ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টে প্রায় ৩ লাখ ৬১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা এবং ঋণ সিকিউরিটিজে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকার মূল্য রয়েছে।

ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন

ব্লক মার্কেটে ৪৩টি সিকিউরিটিজে ১২৪টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৬১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ইনফিউশন, রেনাটা, মারিকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো, ব্র্যাক ব্যাংক, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে।

বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশন ও গ্রামীণফোনে বড় আকারের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণের ভিত্তি

ডিএসইর বাজার সারসংক্ষেপে ‘অ্যাডভান্সড’, ‘ডিক্লাইন্ড’ ও ‘আনচেঞ্জড’ হিসাব ক্লোজিং প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। ক্লোজিং প্রাইস হলো শেষ ৩০ মিনিটের সব লেনদেনের ওজনিত গড় মূল্য। নির্দিষ্ট সময়ে লেনদেন না হলে পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ২০টি লেনদেনের ওজনিত গড়কে সমাপনী মূল্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এলটিপি ও সিপির মধ্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাজারে শক্তিশালী রিবাউন্ড দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এ ও বি ক্যাটাগরির শেয়ারে ক্রয়চাপ বেড়েছে। তারল্য বৃদ্ধি ও বড় ব্লক ট্রেড বাজারে আস্থার প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বল্পমেয়াদি উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বিচক্ষণ কৌশল।

-রাফসান


২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:৫৩:৫৭
২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

Dhaka Stock Exchange-এ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ১১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি শেয়ারের দরপতনের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় এসব কোম্পানির শেয়ারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস। শেয়ারটির দর ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ১৮ দশমিক ৪০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের সমাপনী মূল্য ছিল ১৯ দশমিক ৫০ টাকা। দিনের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৭ দশমিক ৭০ টাকা, যা উল্লেখযোগ্য বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পিডিএল ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারিয়ে ৪ দশমিক ৪০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। একইভাবে আইসিবি ইপিএমএফ১এস১ ইউনিট ৪ শতাংশ কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ও আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান-এর ইউনিটেও ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি দরহ্রাস দেখা গেছে।

টেক্সটাইল খাতের জাহীন স্পিনিং ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ১০ টাকায় নেমেছে। শিল্প খাতের এএনএলআইএম ইয়র্ন ৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের এসিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৫৯ দশমিক ১০ টাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া রিং শাইন টেক্সটাইলস এবং সামতা লেদার কমপ্লেক্স-এর শেয়ারেও ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কিছু নির্বাচিত শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা থাকায় দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে মাঝারি ও স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দরহ্রাস বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে সামগ্রিক বাজারে একই দিনে গেইনার তালিকায় উল্লেখযোগ্য শেয়ার থাকায় এটি একমুখী নিম্নমুখী প্রবণতা নয়, বরং আংশিক সংশোধন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:৫০:০০
২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

Dhaka Stock Exchange-এ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ১১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় এসব শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান রেকর্ড হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইনটেক লিমিটেড। আগের দিনের ৩৪ দশমিক ১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৭ দশমিক ৫০ টাকা। তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট এই কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এসপি সিরামিকস, যার দর ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ১৭ দশমিক ১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শিল্প খাতে এই উত্থান নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতের চাহিদা প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আইএসএন লিমিটেড ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮১ দশমিক ২০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। একইভাবে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি (কেবিপিপিডব্লিউবিল) ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি ও শিল্প খাতে এ প্রবণতা বাজারে আংশিক আস্থার প্রতিফলন।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক সুর দেখা গেছে। পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং এবিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া কনফিডেন্স সিমেন্ট, বিডি অটোকার্স, আইএফআইসি ব্যাংক এবং বিডিকম অনলাইন যথাক্রমে ৪ থেকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচিত কিছু খাতে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, অবকাঠামো ও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীরা অবস্থান নিচ্ছেন। ক্লোজিং প্রাইস ভিত্তিক হিসাব বাজারে স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একদিনের দরবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

-রাফসান


২৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:৫২:৩১
২৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে লেনদেনের সার্বিক চিত্রে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ৩৯৩টি ইস্যুর লেনদেনের মধ্যে ১৫৪টির দাম বেড়েছে, ১৬৭টির দর কমেছে এবং ৭২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে স্পষ্ট কোনো একমুখী প্রবণতা তৈরি হয়নি।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণ

এ ক্যাটাগরির ২০৫টি কোম্পানির মধ্যে ১০৭টির দরপতন হয়েছে, বিপরীতে ৬৪টি বেড়েছে। এটি বড় ও মৌলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে তুলনামূলক ইতিবাচক চিত্র দেখা যায়। ৭৯টির মধ্যে ৩৭টি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২৭টি কমেছে।

জেড ক্যাটাগরিতে ৫৩টি বেড়েছে এবং ৩৩টি কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারেও কিছুটা কেনার আগ্রহের প্রতিফলন।

এন ক্যাটাগরিতে মাত্র একটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে এবং সেটি অপরিবর্তিত ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১৭টির দর কমেছে, ৩টি বেড়েছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডে ৬টির মধ্যে ৩টির দরপতন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ২টির উভয়ই নিম্নমুখী ছিল।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনভর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি। মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ২৭৯টি ট্রেডে প্রায় ২৩ কোটি ৩৫ লাখ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজার মূলধন দিনশেষে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার বেশি, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকার কাছাকাছি এবং ঋণ সিকিউরিটিজে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্য রয়েছে।

ব্লক মার্কেটে সক্রিয়তা

ব্লক ট্রেডে ২৯টি সিকিউরিটিজে ৫৯টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১১১ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক, বিডি থাই ফুড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, প্রাগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এমএল ডাইং এবং লাভেলো আইসক্রিম-এর শেয়ারে।

বিশেষ করে ট্রাস্ট ব্যাংকে একাধিক বড় ব্লক ট্রেড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণ পদ্ধতি

ডিএসইতে ইস্যুগুলোর ‘অ্যাডভান্সড’, ‘ডিক্লাইন্ড’ ও ‘আনচেঞ্জড’ হিসাব ক্লোজিং প্রাইসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারিত হয় লেনদেনের শেষ ৩০ মিনিটের সব ট্রেডের ওজনিত গড় দামে। নির্ধারিত সময়ে লেনদেন না হলে আগের সর্বোচ্চ ২০টি ট্রেডের ওজনিত গড় মূল্যকে সমাপনী দাম হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত শেষ লেনদেন মূল্য (এলটিপি) এবং সমাপনী মূল্য (সিপি) ভিন্ন হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা আংশিক মুনাফা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত কিছু শেয়ারে অবস্থান নিচ্ছেন। তারল্য কিছুটা কমলেও লেনদেনের পরিমাণ এখনো উল্লেখযোগ্য।

তবে মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ড খাতে ধারাবাহিক দরপতন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ এবং মৌলভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:৪৮:২২
২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

Dhaka Stock Exchange-এ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ০৭ মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনের তথ্যে শীর্ষ ১০টি শেয়ারের উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় এসব কোম্পানির শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে আইএলএফএসএল। শেয়ারটির দর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের সমাপনী মূল্য ছিল ১ দশমিক ৬০ টাকা। স্বল্পমূল্যের এই শেয়ারে বিক্রির চাপ বেশি ছিল বলে বাজার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারিয়ে ৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। একইভাবে পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড-এর মতো ফান্ডভিত্তিক সিকিউরিটিজেও ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত দরহ্রাস হয়েছে। এতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সাময়িক চাপের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আর্থিক খাতের ফার্স্ট ফাইন্যান্স ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৫ টাকায় অবস্থান করছে। শিল্পখাতের আরএসআরএম স্টিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ দর হারিয়েছে। টেক্সটাইল ও ভোক্তাপণ্য খাতের তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং এবং নূরানি ডাইং-এর শেয়ারেও সমপরিমাণ পতন দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্লোজিং প্রাইস ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এই দরপতন মূলত বিক্রির চাপের ফল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেসব কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল বা লভ্যাংশ প্রবণতা অনিশ্চিত, সেসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একইসঙ্গে তারল্য সংকোচন ও পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসও দরহ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি পতনকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা না করে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:৪৪:৫৫
২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

Dhaka Stock Exchange-এ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ০৭ মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত লেনদেনের চিত্রে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০টি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ)-এর শেয়ারে। আগের দিনের ৪৬৮ দশমিক ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০৩ দশমিক ৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৫০৯ টাকা। উচ্চমূল্যের এই শেয়ারে সক্রিয় কেনাবেচা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এমএইচএসএমএল, যার দর ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩৩ দশমিক ২০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। উৎপাদন ও ভোক্তাপণ্য খাতে এ উত্থান বাজারে আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শিল্প খাতের ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৬৩ দশমিক ৯০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে প্রাইম টেক্সটাইল লিমিটেড (পিটিএল) ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ব্যাংক এশিয়া ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতে এই উত্থান আর্থিক খাতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা দিচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ দশমিক ৪০ টাকায় অবস্থান করছে। বিবিএস কেবলস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস (বিএক্স ফার্মা) যথাক্রমে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে বাজারে স্বল্পমেয়াদি সংশোধনের পর কিছু শেয়ারে পুনরুদ্ধার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতে কেনার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লোজিং প্রাইস ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এই উত্থান বাজারে আংশিক আস্থার প্রত্যাবর্তন নির্দেশ করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি দরবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মৌলভিত্তি, আয়ের প্রবৃদ্ধি ও খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বিচক্ষণ কৌশল।

-রাফসান


২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৫:১২:২০
২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে সার্বিকভাবে দরপতনই প্রাধান্য পেয়েছে। দিনশেষের চিত্রে দেখা যায়, মোট ৩৯৭টি ইস্যুর লেনদেনের মধ্যে ২২১টির দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ১১৯টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টি। অর্থাৎ বাজারের অধিকাংশ শেয়ারই নিম্নমুখী প্রবণতায় দিন শেষ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ইঙ্গিত বহন করে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরির ২০৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৩৩টির দর কমেছে এবং মাত্র ৪৫টি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ব্লু-চিপ ও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারেও বিক্রির চাপ থাকার প্রমাণ দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি ইস্যুর মধ্যে ৫০টির দরপতন হয়েছে, যেখানে বেড়েছে ২১টি।

জেড ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভারসাম্য দেখা গেলেও ১০৮টি ইস্যুর মধ্যে ৩৮টির দর কমেছে এবং ৫৩টি বেড়েছে।

এন ক্যাটাগরিতে কোনো লেনদেন হয়নি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৩টির মধ্যে ৯টির দর কমেছে, ৭টি বেড়েছে এবং ১৭টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডে ৪টির মধ্যে ১টি বেড়েছে, ১টি কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারি সিকিউরিটিজে (জি-সেক) ৭টির সবকটিতেই দরপতন হয়েছে, যা স্থির আয়ের খাতেও চাপের প্রতিফলন।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনভর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি। মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩১টি ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ২৮ কোটি ৫৩ লাখ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার বেশি এবং ঋণ সিকিউরিটিজে প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

ব্লক মার্কেটে সক্রিয়তা

ব্লক ট্রেডে ২৬টি সিকিউরিটিজে মোট ৯৩টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২৯৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, গ্রামীণফোন, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ফাইন ফুডস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, গিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে।

বিশেষ করে গ্রামীণফোন ও ফাইন ফুডসে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণ পদ্ধতি

ডিএসইতে ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারিত হয় শেষ ৩০ মিনিটের সকল লেনদেনের ওজনিত গড় দামের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ে লেনদেন না হলে পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ২০টি লেনদেনের ওজনিত গড় মূল্যকে সমাপনী দাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত শেষ লেনদেন মূল্য (এলটিপি) এবং সমাপনী মূল্য (সিপি) কখনো ভিন্ন হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য থাকায় বাজারে তারল্য পুরোপুরি সংকুচিত হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রিটার্ন পেতে বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত: