রাস্তা বন্ধ করলেই অ্যাকশন: জনদুর্ভোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৬:৫৯:৫৬
রাস্তা বন্ধ করলেই অ্যাকশন: জনদুর্ভোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর রাস্তাঘাট বা জনপদ অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কাউকে কোনো ধরণের ছাড় না দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনজীবন বিপর্যস্ত করার অপচেষ্টাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো কার্পণ্য করা হবে না।”

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্তের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবেন। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে মাঠপর্যায়ে আরও অধিক সক্রিয় ও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল এবং যারা এই প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার এবং একটি সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতার অনুরোধ জানান তিনি।


সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৭:০৪:১০
সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র এবং ৩০ শতাংশ গুলি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের সময় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ত্রের ঝনঝনানি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে দেওয়া হবে। একই সাথে সীমান্ত এলাকাগুলোতেও কড়া নজরদারি ও সিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “এক এলাকার সন্ত্রাসীরা যাতে অন্য এলাকায় গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।” সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।


যেসব এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:১১:৩৬
যেসব এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
ছবি : সংগৃহীত

চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে তীব্র শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল নাগাদ দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলসহ ৫টি বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দেশের জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তাঁর পূর্বাভাসে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ৬টার দিকে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এর ফলে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে হিমেল বাতাসের প্রকোপ বাড়তে পারে। এছাড়া ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে সকাল ১০টার পর রোদের কিছুটা ঝলক দেখা যেতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসেই দেশের ওপর দিয়ে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, সোমবার রাত থেকেই তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করবে। এই মাসে ১ থেকে ২টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কোনো কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। আজ সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস আরও সতর্ক করেছে যে, ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে আসায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য এই শৈত্যপ্রবাহ বড় ধরণের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর! কোন স্কিমে কত মুনাফা 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:২৭:১১
সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর! কোন স্কিমে কত মুনাফা 
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি খাতের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে সরকার। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রেণির স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা আগের নির্ধারিত সুদহারেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে প্রায় দেড় শতাংশ কমানো হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বহু ক্ষুদ্র ও নির্ভরশীল বিনিয়োগকারীর আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে রোববার বিকেলে স্বাক্ষর করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো সুপারিশ পর্যালোচনার পর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি খাতের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। নতুন নীতিমালায় প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের সুদহার পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়। এর অংশ হিসেবেই গত বছরের জুলাইয়ে এক দফা সুদ কমানো হয় এবং জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফা কমানো হয়েছিল।

এই দফায় পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট স্কিমের সুদহার হ্রাস করা হয়েছিল। তবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব, ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সব স্কিমেই বিনিয়োগকারীদের দুইটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা এবং দ্বিতীয় ধাপে রয়েছেন এর বেশি বিনিয়োগকারীরা। এই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী সুদহারে সামান্য তারতম্য রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে প্রায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে পঞ্চম বছরে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা কম হলেও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একই কাঠামোয় সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হারও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিয়মিত আয়প্রত্যাশী বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

-রফিক


বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২১:৩৪:০১
বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতের তথ্য অবকাঠামোকে নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাপানভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইফার কোর লিমিটেডের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন জাপানের প্রখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা বিজ্ঞানী এবং এমআইটি-ভিত্তিক গবেষক প্রফেসর তাকাতোশি নাকামুরা। আলোচনায় গুরুত্ব পায় জাতীয় তথ্য-নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারকরণ এবং সরকারি ডিজিটাল সিস্টেমের সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

বৈঠকের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী’ প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রফেসর নাকামুরা এবং প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান বিশ্বের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ এনক্রিপশনের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কোয়ান্টাম চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে ‘ডিজিটাল ক্যাশ’ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বৈঠকে চামড়া শিল্পে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও কার্যকর মতবিনিময় হয়। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এক নতুন ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাপানের সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোতোইউকি ওদাচি এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফার কোর লিমিটেডের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহী ইসলাম। সাইফার কোর লিমিটেড মূলত তাদের উদ্ভাবনী তথ্য সুরক্ষা প্রযুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের এই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সমন্বয় দেশের সাইবার স্পেসকে যেমন নিরাপদ করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আইটি খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।


৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২১:১৫:৩১
৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আগের উচ্চ মুনাফার হারই পুনরায় কার্যকর হলো। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে সরকারি সিদ্ধান্তের এমন পরিবর্তনকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিমে মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পূর্ণ মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরাও পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।

প্রজ্ঞাপনে ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের হারের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রেও একই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার কিছুটা কম হলেও তা আগের সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি। মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা ধরে রাখতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই সরকার আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানো হলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকমুখী হওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারতেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আজ থেকে সকল অনুমোদিত ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরো অফিসগুলোতে এই নতুন (পুরানো) হার অনুযায়ী লেনদেন শুরু হবে।


এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:৫৪:৫০
এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে বহুল আলোচিত ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আগামী তিন মাস এই পদ্ধতি কার্যকর থাকবে না এবং এই সময়ে কোনো মোবাইল ফোন ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা বন্ধ করা হবে না।

এর আগে আজ সকাল থেকেই এনইআইআর কার্যক্রম বাতিল, ব্যবহৃত (পুরাতন) মোবাইল আমদানির অনুমতি এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শত শত ব্যবসায়ী। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর কার্যকর হলে খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় বিটিআরসি ভবনে একদল লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে ডিসি মাসুদ আলম আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদিও এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না, তবে আজকের বৈঠকের পর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিন মাসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ এলো।

এনইআইআর পদ্ধতিটি মূলত অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত করে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি কারিগরি প্রক্রিয়া। স্থগিতাদেশের এই তিন মাস সময়কে ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ থাকা পুরোনো হ্যান্ডসেটগুলো বিক্রির ‘গ্রেস পিরিয়ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিন মাস পর এটি পুনরায় কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনার অবকাশ রয়েছে বলে জানা গেছে। আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুপুর থেকে কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৭:২৩:৩১
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সভা–সমাবেশ সংক্রান্ত নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকা, পাশাপাশি বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কর্মসূচি আপাতত বন্ধ থাকছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং এবং মিন্টু রোড ক্রসিং এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রাসহ যেকোনো জনসমাগমমূলক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, এসব এলাকা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

-রাফসান


জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:৪৩:০১
জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আজ রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সারা দেশে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিযোগিতামূলক চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা অথবা প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিল গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদনের সঙ্গে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের সুস্পষ্ট কারণসম্বলিত বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আপিল আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে। এসব আবেদন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল গ্রহণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বুথে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য আলাদা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, যা কেন্দ্রীয় আপিল বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দাখিলকৃত আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি কমিশনের সিদ্ধান্তের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী আচরণ বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলীয় মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে কাজ করা যে কোনো ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ মেনে চলতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইসি সতর্ক করেছে।

-রাফসান


বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:৩৮:৩৮
বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংবাদকর্মীরা যে পরিমাণ ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এক শতাংশও ঘটছে না। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান যেন তারা মানুষের মনে আশা জাগাতে বিগত সময়ের সেই কঠিন বাস্তবতাগুলো বারবার তুলে ধরেন।

নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোট হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত ও অপশক্তি নানাভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের সময় কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু স্বৈরাচারকে হঠানো সম্ভব হয়েছে, তাই ছোটখাটো বাধাগুলো অতিক্রম করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া কঠিন হবে না।

গণমাধ্যমে ‘মব আক্রমণ’ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার নিজের বাসার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হয়ে অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে চলাচল শুরু করিনি।” তিনি সাংবাদিকদের ‘ফাইটিং ব্যাক’ বা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও হামলার পরও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো কাজ থামিয়ে রাখেনি। অপশক্তিকে শুভশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক শক্তিকে সংগঠিত করতে পারলেই পরাজিত শক্তির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণমাধ্যম ও সরকার একযোগে কাজ করলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত