Banner

৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৩৬:৪৩
৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও রাষ্ট্রীয় শোক ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটির কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে, তবুও কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গ্রেড পুনর্বিন্যাস এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

কমিশন সূত্র জানায়, স্থগিত হওয়া সভাটির বিকল্প তারিখ খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে এবং সেই বৈঠকেই পে স্কেলের কাঠামোগত রূপরেখা চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

নবম পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে চালু থাকা ২০টি গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।

প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো যেতে পারে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা প্রশমিত করতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো গ্রেড কাঠামোকে আমূল সংস্কার করে ১৪টি গ্রেডে সীমিত করা। কমিশনের একটি বড় অংশের মত, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য দূর হবে এবং একটি আধুনিক, যুক্তিসংগত ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিচের ধাপের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একই প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে বৈষম্য ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

-রাফসান


এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:৫৪:৫০
এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে বহুল আলোচিত ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আগামী তিন মাস এই পদ্ধতি কার্যকর থাকবে না এবং এই সময়ে কোনো মোবাইল ফোন ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা বন্ধ করা হবে না।

এর আগে আজ সকাল থেকেই এনইআইআর কার্যক্রম বাতিল, ব্যবহৃত (পুরাতন) মোবাইল আমদানির অনুমতি এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শত শত ব্যবসায়ী। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর কার্যকর হলে খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় বিটিআরসি ভবনে একদল লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে ডিসি মাসুদ আলম আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদিও এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না, তবে আজকের বৈঠকের পর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিন মাসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ এলো।

এনইআইআর পদ্ধতিটি মূলত অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত করে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি কারিগরি প্রক্রিয়া। স্থগিতাদেশের এই তিন মাস সময়কে ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ থাকা পুরোনো হ্যান্ডসেটগুলো বিক্রির ‘গ্রেস পিরিয়ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিন মাস পর এটি পুনরায় কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনার অবকাশ রয়েছে বলে জানা গেছে। আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুপুর থেকে কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৭:২৩:৩১
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সভা–সমাবেশ সংক্রান্ত নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকা, পাশাপাশি বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কর্মসূচি আপাতত বন্ধ থাকছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং এবং মিন্টু রোড ক্রসিং এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রাসহ যেকোনো জনসমাগমমূলক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, এসব এলাকা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

-রাফসান


জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:৪৩:০১
জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আজ রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সারা দেশে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিযোগিতামূলক চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা অথবা প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিল গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদনের সঙ্গে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের সুস্পষ্ট কারণসম্বলিত বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আপিল আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে। এসব আবেদন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল গ্রহণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বুথে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য আলাদা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, যা কেন্দ্রীয় আপিল বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দাখিলকৃত আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি কমিশনের সিদ্ধান্তের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী আচরণ বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলীয় মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে কাজ করা যে কোনো ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ মেনে চলতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইসি সতর্ক করেছে।

-রাফসান


বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:৩৮:৩৮
বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংবাদকর্মীরা যে পরিমাণ ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এক শতাংশও ঘটছে না। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান যেন তারা মানুষের মনে আশা জাগাতে বিগত সময়ের সেই কঠিন বাস্তবতাগুলো বারবার তুলে ধরেন।

নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোট হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত ও অপশক্তি নানাভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের সময় কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু স্বৈরাচারকে হঠানো সম্ভব হয়েছে, তাই ছোটখাটো বাধাগুলো অতিক্রম করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া কঠিন হবে না।

গণমাধ্যমে ‘মব আক্রমণ’ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার নিজের বাসার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হয়ে অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে চলাচল শুরু করিনি।” তিনি সাংবাদিকদের ‘ফাইটিং ব্যাক’ বা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও হামলার পরও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো কাজ থামিয়ে রাখেনি। অপশক্তিকে শুভশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক শক্তিকে সংগঠিত করতে পারলেই পরাজিত শক্তির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণমাধ্যম ও সরকার একযোগে কাজ করলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।


কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব? 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৫৩:০৪
কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব? 
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে শীতের ভয়ংকর রূপের আগাম বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ ‘তীব্র’ আকার ধারণ করতে পারে যেখানে দেশের উত্তর ও নদী অববাহিকার কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ পূর্বাভাস প্রদান করা হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে যা জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ঘন কুয়াশা বজায় থাকবে যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের অনুভূতি হবে অসহনীয়।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের দাপট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার যশোরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা এর নিচে নেমে গেলে তা ‘অতি তীব্র’ পর্যায়ে পৌঁছায়।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন যে আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে যা শীতের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনবে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না কারণ আগামীকাল রবিবার থেকেই তাপমাত্রা পুনরায় কমতে শুরু করবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে পঞ্চগড়ে টানা কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। জানুয়ারির এই হাড়কাঁপানো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১০:৫৬:৪৬
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার এক বিরল চিত্র ফুটে উঠেছে পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। নিজস্ব কয়লা মজুত শেষ হয়ে আসায় কেন্দ্রটি সচল রাখতে এখন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা ধার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশ দিলেও আরপিসিএলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির বিষয়টি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।

বর্তমানে আরপিসিএল কেন্দ্রে যে পরিমাণ কয়লা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে চলতি মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট চালানো সম্ভব। অথচ এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এই সংকট কাটাতে আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে কিছু কয়লা ধার নেওয়া। মাতারবাড়ীতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি উদ্বৃত্ত কয়লা মজুত রয়েছে, যা আরপিসিএল পরে মূল্য পরিশোধের শর্তে ব্যবহার করতে চায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরপিসিএল কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহে চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রতিবারই অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াংথাই বারবার সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা না হওয়ায় সরবরাহকারী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইয়াংথাই একক বিডার হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতার মাশুল দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে এখন এক কেন্দ্রের কয়লা দিয়ে অন্য কেন্দ্র চালানোর মতো অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুততম সময়ে কয়লা ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয় বা নতুন সরবরাহকারী চূড়ান্ত না হয়, তবে শীত শেষে গরমের শুরুতে এবং আসন্ন রমজানে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, মাতারবাড়ীর কয়লা ধারের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগ সম্মতি দেয় কি না।


আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৯:৩৩:৩৯
আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি জানুয়ারি মাসে দেশের কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। এর মধ্যে এক থেকে দুটি হবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসতে পারে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যেখানে পারদ নেমেছে ৮ ডিগ্রিতে। মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়সহ ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ, সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ৯টি ফ্লাইট কলকাতা, চট্টগ্রাম ও ব্যাংককে ডাইভার্ট করতে হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বাতাসও আজ অস্বাভাবিক শীতল; এখানে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বায়ুদূষণও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, ফলে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা আজ ১৫তম অবস্থানে রয়েছে। আগামী ৫ দিন এই কনকনে শীতের আমেজ অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।


অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৯:১৫:৫১
অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পূর্বাচলে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। মেলা উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অংশগ্রহণকারী সকল দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মেলা বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য যে, মেলাটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাণিজ্য মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রচার, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এই মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাসব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা যেমন বিশ্ববাজারের আধুনিক নকশা ও প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন, তেমনি বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন। মেলাটি যেন সুন্দর, ক্রেতাবান্ধব ও উৎসবমুখর হয়—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৫:৫৩:৩৪
এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই হারে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক আয়ে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট পড়ছে, যা সঞ্চয়পত্রনির্ভর পরিবারগুলোর দৈনন্দিন অর্থব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত করবে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে একই অঙ্কের বিনিয়োগে মাসে প্রায় ১১০ টাকা কম মুনাফা মিলবে।

আগের কাঠামোতে পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা রাখলে মাসিক মুনাফা পাওয়া যেত ৯৪৪ টাকা। সংশোধিত হারে সেই অঙ্ক নেমে এসেছে ৮৩৪ টাকায়। অর্থাৎ মাস শেষে সংসারের ব্যয় মেটাতে যেসব পরিবার এই আয়কে নির্ভরযোগ্য ভরসা হিসেবে ব্যবহার করত, তাদের জন্য নতুন বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে উঠল।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সংশোধিত মুনাফার হার ঘোষণা করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাইয়েও একইভাবে হার কমানো হয়েছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাস অন্তর এই হার পর্যালোচনা করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগের অঙ্কভেদে মুনাফার হারে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি সুদ দেওয়া হলেও বড় অঙ্কে বিনিয়োগে হার কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে কিছুটা বেশি মুনাফা মিলবে, তবে সীমা অতিক্রম করলেই সুদের হার নেমে যাবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, রাজস্ব আদায় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সমন্বয় করা হয়। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদের ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং সরকারের সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকে আমানত প্রবাহ বাড়ানো এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা। তার মতে, এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর ওপর। কারণ দেশের বিনিয়োগ বাজারে তাদের জন্য ঝুঁকিহীন বিকল্প খুবই সীমিত। ব্যাংক আমানতের সুদ কম, আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সঞ্চয়পত্রই এতদিন তাদের প্রধান আশ্রয় ছিল।

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। একই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে।

এ ছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একইভাবে সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই বিনিয়োগকারীদের আয় কমছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে যেসব সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইস্যুকালীন নির্ধারিত মুনাফার হারই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। শুধু মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের সময় তখনকার নতুন হার প্রযোজ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পর আবারও মুনাফার হার পুনর্বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের নিয়মিত খরচ চালানো, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই মুনাফাই অনেক পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রের সুদ কমার খবর এসব পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াল।

-রাফসান

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত