২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১২:৪৩:২২
২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের সঠিক মান বুঝতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে। লেনদেনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী শক্তিশালী ইউএস ডলারের মান দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫২ পয়সায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর বিনিময় হার ১৪১ টাকা ৮ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ১৬২ টাকা ২৬ পয়সা। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ২৫ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি জাপানের মুদ্রার মান ৭৮ পয়সা এবং চীনা ইউয়ান রেনমিনবির দর ১৭ টাকা ৩৩ পয়সা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩৭ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপির দর ২ টাকা ৫১ পয়সা। সুইডিশ ক্রোনা ১২ টাকা ৯০ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের ব্যাংক রেট ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

অন্যদিকে গুগল ও খোলা বাজারের তথ্য অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রার দরেও ভিন্নতা দেখা গেছে। সৌদি আরবের রিয়ালের আজকের দর ৩২ টাকা ৫৪ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের দর ৩৯৭ টাকা ৭৯ পয়সা যা টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের দর ২৯ টাকা ৫৫ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের আরেকটি দর ৯৩ টাকা ১২ পয়সা দেখা যাচ্ছে। তবে যেকোনো সময় মুদ্রার এই বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর শোনালেন ১০ বছরের কঠিন বাস্তবতার কথা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১৫:০৪:৫৭
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর শোনালেন ১০ বছরের কঠিন বাস্তবতার কথা
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে তৈরি হওয়া খেলাপি ঋণের সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডক্টর আহসান এইচ মনসুর। তাঁর মতে বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে। শনিবার ২৯ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন খেলাপি ঋণ কোনো ছোট সমস্যা নয়। দেশের মোট ব্যাংক ঋণের এক তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি। বাকি অংশের ওপর ভর করেই ব্যাংকগুলো টিকে আছে যা সামগ্রিক আর্থিক খাতকে প্রচণ্ড চাপে ফেলেছে। তিনি জানান নতুন তথ্য ও নতুন শ্রেণিকরণ নীতি প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। দুই বছর আগে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হলেও সেই সময়কার সরকারি হিসাব ছিল ৮ শতাংশ কিন্তু বর্তমানে তা ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবে স্বস্তির খবর দিয়ে গভর্নর জানান আমদানি এলসি খোলার জন্য পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে এবং রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানিতে কোনো ঝুঁকি নেই। গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি এলসি ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সম্মেলনে বিআইডিএস মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা চোর ধরার মনোভাবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা ব্যবসায় আস্থার সংকট তৈরি করে। তাঁর ভাষায় অর্থনীতিতে আস্থা না থাকলে বিনিয়োগ সামনে এগোতে পারে না। তিনি কর প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন নানা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর দায়বদ্ধতা নেই এবং কর প্রশাসন আজও জমিদারি মানসিকতায় চলছে যেখানে উন্নয়ন নয় বরং মূল ফোকাস শুধু কর আদায়।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হা মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ বলেন সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। কঠোর মুদ্রানীতিতে সুদের হার বেড়েছে যা বিনিয়োগকে চাপের মুখে ফেলছে। বেসরকারি খাতে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি শিল্পায়নকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিএসএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক মাশুলের পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর দিতে হচ্ছে। আবার টার্নওভার করও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। কোম্পানি লাভ লোকসান যাই করুক কর দিতে হচ্ছে যা বিশ্বের কোথাও দেখা যায় না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন অবশ্য কিছুটা আশার বাণী শোনান। তিনি বলেন ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরতে শুরু করেছে। আগের মতো বোর্ডরুমে বসে ঋণ বিতরণ না হয়ে এখন নিয়ম অনুসারেই অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জাতীয় নির্বাচনের পর বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।


বিনিয়োগে খরা আর ব্যবসায় মন্দার জেরে ঋণচক্রে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:৫৭:৪৮
বিনিয়োগে খরা আর ব্যবসায় মন্দার জেরে ঋণচক্রে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দেশ এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক আন্দোলন দাবিদাওয়া এবং অন্তহীন বিক্ষোভে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি চরমে পৌঁছেছে। সবকিছুর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে এবং ব্যবসা বাণিজ্যে। বিনিয়োগ স্থবিরতা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারসহ নানা কারণে অর্থনীতিতে এক প্রকার নীরব মন্দা চলছে যার ফলে মানুষের আয় কমে গেছে। ব্যবসায় লাভের বদলে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে এবং যারা পারছে না তাদের ব্যবসা বা উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

একে একে অসংখ্য কারখানা বন্ধ আর বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাকরি হারানোর ঘটনাও অহরহ ঘটছে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। চলতি অর্থবছরের চার মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবে করও দিতে পারছেন না করদাতারা। সবশেষ হিসাবে রিটার্ন জমা করদাতাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই শূন্য রিটার্ন জমা দিয়েছেন বা কোনো করই দেননি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় বেশি ভ্যাট পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে খরা চলছে। আমদানি শুল্কেও মোটা অঙ্কের ঘাটতি পড়ছে। ফলে সরকারের নিজস্ব আয়ের জায়গাটিও ঝুঁকিতে রয়েছে।

তথ্য বলছে চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ১৭ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এ সময় রাজস্ব আয়ের তিনটি অনুবিভাগেই নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে তবে বাজারদরের আগুনে বাজারের ব্যাগ খালিই থাকছে ক্রেতার। বাসাভাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে উচ্চ সুদের হার বহাল রেখে মূল্যস্ফীতি কমানোর নীতির কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।

নিয়মানুযায়ী নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আয়কর জমা দিয়েছেন মাত্র ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪২১ জন। এর আগের সাড়ে ১১ লাখ করদাতার জমা দেওয়া রিটার্নের তথ্য মতে ১০ লাখ ২৫ হাজার জনই শূন্য রিটার্ন জমা দেন বা তাঁরা কোনো করই দেননি যা শতকরা হিসাবে ৮৮ শতাংশের বেশি। গত করবর্ষে ৪৫ লাখ মানুষ আয়কর দিয়েছিলেন। সে হিসাবে চলতি বছর এই রিটার্ন জমা দেওয়ার হার অনেক কম।

বিশ্লেষকরা মনে করেন বেসরকারি খাত স্থবির এবং কোনো বিনিয়োগ নেই। শিল্পের উৎপাদন সংকুচিত এবং একে একে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। উচ্চ সুদে কেউ ব্যবসার প্রসার ঘটাতে চাচ্ছেন না আবার নতুন কারখানায়ও বিনিয়োগ করছেন না। ফলে কমছে আমদানি বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি কমছেই। আপাতদৃষ্টিতে রিজার্ভ বাড়া অর্থনীতির জন্য ভালো মনে হলেও অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় আমদানি না হলে সার্বিক অর্থনীতির সাপ্লাই চেইনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ডক্টর মুস্তফা কে মুজেরি বলেন ঘাটতি মেটানোর জন্য ঋণ নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় নেই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ডক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতির মুখে থাকলে দেশ একটা ঋণচক্রের মধ্যে পড়ে যাবে। তিনি রাজস্ব আদায় চাঙ্গা করতে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চাঞ্চল্য আনার ওপর জোর দেন।

দেশের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলছেন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক ব্যবসা ও অর্থনীতিতে একটা প্রাণচাঞ্চল্য আসতে পারে। তখন ব্যবসা বিনিয়োগ আমদানি রপ্তানি গতি পেলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু হতাশা প্রকাশ করে বলেন তৈরি পোশাকসহ দেশের সামগ্রিক উৎপাদনমুখী শিল্প এখন এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি চার মাস ধরে বারবার সময় চেয়েও প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাননি বলে অভিযোগ করেন।

সৌজন্যে - কালের কণ্ঠ।


গত বছরের রেকর্ড ভেঙে নভেম্বরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে বড় জোয়ার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:২০:৪৮
গত বছরের রেকর্ড ভেঙে নভেম্বরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে বড় জোয়ার
ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এ সময় প্রবাসীরা দেশে ২ হাজার ৪৪১ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। অথচ গত বছর একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১ হাজার ৮৯৭ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে এই বড় প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিক হিসাব বা কিউমুলেটিভ ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে মোট ১২ হাজার ৫৯০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮৩৫ মিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে অর্থনীতির সূচকে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ব্যাংকিং খাতে মহাসংকট, এক বছরে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:৪১:০৮
ব্যাংকিং খাতে মহাসংকট, এক বছরে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের চাপ অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই হার ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ এখন ব্যাংকগুলোর জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে’ পরিণত হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এক বছরে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়াকে বিশ্লেষকরা ব্যাংকিং খাতে সুশাসনহীনতা ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের ‘ঋণখেলাপি সংস্কৃতি’ এখন ব্যাংক খাতকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বর শেষে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। জুনে যে পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ কোটি, মাত্র তিন মাসেই খেলাপি বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে অর্থনীতিবিদরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিতরণকৃত মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশই খেলাপি। সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে, কোনো ত্রৈমাসিকে এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি।

অন্যদিকে প্রকৃত খেলাপির চিত্র আরও উদ্বেগজনক। প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ১৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা, যা প্রকৃত বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। অথচ একই সময়ে প্রকৃত ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু খেলাপি বেড়েছে ২৭ হাজার কোটি। অর্থাৎ ঋণ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, খেলাপির গতি তার থেকেও বেশি।

রাইট-অফ, পুনঃতফসিল, আদালতে চলমান ঋণ এবং স্থগিত সুদসহ ব্যাংক খাতে মোট ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট’ শিগগিরই ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র স্থগিত সুদের পরিমাণই সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ হার ছিল ১৯৯৯ সালে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর নানা সংস্কার ও নীতিমালার কারণে তা কমে আসে ২০১১ সালে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। কিন্তু গত এক দশকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা খেলাপি এখন আবার সেই পুরনো সংকটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে খেলাপির হিসাব করার কারণে প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে। ব্যাংকগুলো খেলাপি আদায় করতে না পারায় নতুন বিনিয়োগেও সক্ষমতা হারাচ্ছে।”

তবে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে প্রভিশন সংকট। ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করতে পেরেছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ

  • রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের দায়মুক্তি
  • পুনঃতফসিলের নামে দায় এড়ানোর সুযোগ
  • ব্যাংক পরিচালনায় দুর্বল সুশাসন
  • ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়নে ঘাটতি
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল তদারকি

তারা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট থেকে সাধারণ মানুষের আমানত পর্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বেশি।

একজন সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “এটি কেবল ব্যাংক খাতের সংকট নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। খেলাপি ঋণ যত বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি ততই ব্যাহত হবে।”

ব্যাংকিং খাতের এই অভীষণ অবস্থাকে বিশেষজ্ঞরা ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা মনে করেন, জরুরি ভিত্তিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্বচ্ছ আর্থিক শৃঙ্খলা ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।


নভেম্বরেই রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ডের আভাস

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:৩২:২২
নভেম্বরেই রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ডের আভাস
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চলমান ঊর্ধ্বমুখী ধারা নভেম্বর মাসে আরও দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে। চলতি নভেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই বাংলাদেশে এসেছে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা সমপরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৫১ কোটি ডলার বেশি, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোর প্রবাহ একই ধারায় অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছরে মাত্র একবার, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন অতিক্রম করেছিল। এবার বছরের শেষপ্রান্তে এসে আবারও সেই রেকর্ড ছোঁয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের দেয়া ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা, ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার সহজ হওয়া, বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের কার্যকর সমন্বয় এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির ফলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। চলতি মাসের ২৪ দিনে দেশে যে ২৩৫ কোটি ডলার এসেছে, সেটি প্রতিদিনের হিসেবে দাঁড়ায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ের এই পরিমাণ ছিল ১৮৪ কোটি ডলার, যা প্রবাসী আয়ে ২৮ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, আমদানি ব্যয়, ডলারের দাম, রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং খাতের চলমান চাপের মধ্যে রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তারা মনে করেন, এই ধারা বজায় থাকলে বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া, ডলার সংকট কমা এবং অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-শরিফুল


এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পরিবর্তন স্বর্ণের দামে নতুন সমন্বয়

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১০:২৬:১০
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পরিবর্তন স্বর্ণের দামে নতুন সমন্বয়
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আজ মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং তেজাবি স্বর্ণের মূল্যহ্রাস বিবেচনায় ভরিতে ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন এই দাম আজ থেকে দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ভরি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ আজ বিক্রি হবে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকায়।

স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারের সার্বিক অবস্থা তেজাবি স্বর্ণের মূল্যহ্রাস এবং আমদানি প্রবণতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গহনার ডিজাইন জটিলতা ও মান অনুযায়ী মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

এর আগে বুধবার ১৯ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ৬১২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম হয়েছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা। ২০ নভেম্বর থেকে সেই দাম কার্যকর হয়।

স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা দেখা গেলেও রুপার বাজার সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

-রাফসান


ভারতীয় চাল কেনা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে: বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন কৌশল

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১৫:২০:৫৬
ভারতীয় চাল কেনা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে: বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন কৌশল
ছবিঃ সংগৃহীত

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সিঙ্গাপুরের সরবরাহকারীর মাধ্যমে ভারত থেকে চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

তিনি জানান চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আবার কিছুটা বাড়ছে তাই কোনোক্রমে যেন চালের দাম না বাড়ে সেজন্য সরকার নন বাসমতি চাল আবার আমদানি করবে। কোন দেশ থেকে চাল আসবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে নন বাসমতি চালটা ভারত থেকে আসবে তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরের। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেননি বরং চালের মান সময়মতো সরবরাহ আর দামটা দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার সংশোধিত বাজেট করে ফেলতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণভোট ও ত্রয়োদশ নির্বাচন একই দিনে হওয়ায় বাড়তি খরচ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন নির্বাচনের ও গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়বে কারণ সেখানে লোকবল ও সিকিউরিটি লাগবে। তিনি জানান বাজেট এখন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে তবে নির্বাচনের বাজেটটা সরকার এখনও উন্মুক্ত রেখেছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটের জন্য একটি সময়সীমা দেওয়া হলেও নির্বাচনের বাজেটের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি খোলা রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে জানুযারিতে তাঁরা পরবর্তী সরকারের জন্য বাজেট প্রস্তুত করে রাখবেন এবং নির্বাচন নিয়ে অর্থের জোগান বা চিন্তার কোনো কারণ নেই।

গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে করা চ্যালেঞ্জ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন এটি চ্যালেঞ্জ হলেও গ্রহণ করতে হবে। তিনি জানান সরকার থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টাও বলে দিয়েছেন যে ভোট একদিনেই হবে। তিনি যুক্তি দেখান যে দুই দিন ভোট করা মানে রিটার্নিং অফিসার মোবিলাইজ করা থেকে শুরু করে ব্যাংক অফিসার ও স্কুল শিক্ষকদের ডিউটিতে আনা যা অনেক কঠিন কাজ। পৃথিবীর অনেক দেশেই গণভোট আর সাধারণ ভোট একই দিনে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন লজিস্টিক্যালি বা কারিগরি দিক থেকে একবারে করাটাই ভালো এবং এতে সুষ্ঠুভাবে ভোট করা সম্ভব। এছাড়া এদিন বৈঠকে সার ও পরিশোধিত তেল কেনা এবং তিনটি সড়ক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।


২১–১৮ ক্যারেটেও দাম কমছে, কেমন হবে বাজারের পরবর্তী ধাপ?

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১১:৪৪:১৪
২১–১৮ ক্যারেটেও দাম কমছে, কেমন হবে বাজারের পরবর্তী ধাপ?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের স্বর্ণবাজারেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য শুক্রবার (২১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে, যা আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) একইভাবে বহাল থাকবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের তুলনায় প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ১,৩৫৩ টাকা, যার ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। আগের দাম ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। এর বাইরে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, যা বৃহস্পতিবার ছিল ২ লাখ ৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিপ্রতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৭ টাকা, আগের মূল্য ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৭ টাকা, যা আগের দিনে ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা।

নতুন এই মূল্যহার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর রাখতে হবে। বাজুস জানিয়েছে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মান এবং নির্মাণের জটিলতার কারণে মজুরি ভিন্ন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

-রাফসান


আজ থেকেই যেসব গ্রাহকসেবা বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১২:১৮:৪৩
আজ থেকেই যেসব গ্রাহকসেবা বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের
ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক তার সব অফিসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি, প্রাইজবন্ড বিক্রি ও পরিশোধ, ছেঁড়া–ফাটা নোট বিনিময়, অটোমেটেড চালান গ্রহণসহ সকল ধরণের সরাসরি গ্রাহকসেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) থেকে মতিঝিলসহ দেশের নয়টি অফিসেই সেবাবন্ধের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে গ্রাহক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট সেবা দিতে পারে, সে জন্য মনিটরিং আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কেপিআইভুক্ত (Key Point Installation) প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সরাসরি সাধারণ জনগণকে কাউন্টার সেবা দেয় না এই আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস অনুসরণ করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এসেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দূরে রাখতে এই পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল ৩০ নভেম্বরকে লক্ষ্য রেখে মতিঝিল অফিসে সেবা বন্ধ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য অফিসে। তবে সর্বশেষ মূল্যায়নের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময় এগিয়ে এনে সব অফিসে একই দিন থেকে সরাসরি গ্রাহকসেবা বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এর ফলে এতদিন যেসব অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কার্যক্রম, ক্ষতিগ্রস্ত নোট বিনিময় এবং বৈদেশিক লেনদেন-সংক্রান্ত চালান কার্যক্রম পরিচালিত হতো যেমন মতিঝিল, সদরঘাট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও সিলেট সেসব শাখায় সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার কার্যত বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে এসব কার্যক্রম শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি বা জট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কার্যক্রম তদারকিতে বিশেষ স্কোয়াড ও মনিটরিং টিম কাজ করবে। নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন মূলত মুদ্রানীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং সেক্টরের নজরদারিতে অধিক মনোযোগ দেবে এমনটাই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র বা প্রাইজবন্ড সংশ্লিষ্ট সকল লেনদেন এখন কেবল অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময়সহ নগদ মুদ্রা সংক্রান্ত সেবা সম্পূর্ণভাবে তাদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত