মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১৭:০০:৩৫
মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকায় আরও একটি সংগঠনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার কথিত কার্টেল দে লস সোলেসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন বা এফটিও হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। সোমবার ২৪ নভেম্বর আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে কার্টেল দে লস সোলেস বাস্তবে কোনো সংগঠিত বা প্রথাগত কার্টেল নয়। বরং ভেনেজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তাদের এবং সরকারি ব্যক্তিদের অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এক প্রচলিত নাম এটি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যারিবিয় সাগরে ভেনেজুয়েলা ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার মাঝে সম্ভাব্য সরাসরি সামরিক হামলার জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন শিগগিরই ওই অঞ্চলে নতুন পর্যায়ের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে অভিযান কবে শুরু হবে বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়। একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান ভেনেজুয়েলা নিয়ে তারা কোনো কিছুই বিবেচনার বাইরে রাখছেন না। দুজন কর্মকর্তা আরও বলেন নতুন পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গোপন অভিযান চালানো হতে পারে যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের প্রচেষ্টাও থাকতে পারে।

কার্টেল দে লস সোলেস এর পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় ১৯৯০ এর দশকে ভেনেজুয়েলার জনগণ সামরিক কর্মকর্তাদের মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার শুরু করে। পরে দুর্নীতি ও অবৈধ খনিসহ নানা অপরাধে জড়িত পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বর্ণনাতেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সোলেস বা সূর্যচিহ্ন বলতে মূলত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ইউনিফর্মে থাকা বিশেষ প্রতীককে বোঝায়।

২০২০ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ মাদুরো ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে নার্কো টেরোরিজমসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করে এই শব্দটিকে একটি কথিত আন্তর্জাতিক মাদক চক্র হিসেবে আরও পরিচিত করে তোলে। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বরাবরই দাবি করে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসন তাকে উৎখাত করতে চায় এবং দেশটির জনগণ ও সামরিক বাহিনী এমন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৯:০১:৩৬
যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার থেকে।

ইসরাইলি আদালতের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে মামলার শুনানি নিয়মিতভাবে চলবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ফলে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল, অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে।

আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তা বারবার বিলম্বিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর কাছে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইসরাইলে নতুন করে কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, যা সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৮:৫০:০৩
হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান, যা বৈশ্বিক তেল ও বাণিজ্য বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে তেল সরবরাহ হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করত। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত এই পথ অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল শুধু সীমিতই নয়, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি জাহাজের চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।

এই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারকি করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে।

এই প্রণালি শুধু তেলের জন্য নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনের জন্যও অপরিহার্য। ফলে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

-রফিক


পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৮:৩৯:৩৫
পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ-এর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। এক বার্তায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কার্যালয় জানায়, ইসরাইলকে নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, যখন সংশ্লিষ্ট দেশ নিজেকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। তাদের মতে, শান্তি প্রক্রিয়ার সময় এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ ইসরাইলকে ‘অশুভ শক্তি’ এবং ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও লেবাননে ইসরাইল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রফিক


শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:৪৪:৪১
শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে, যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিফোনে আলোচনায় অংশ নেন। এই সংলাপকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন এবং সংঘাত-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন।

তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কীভাবে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়। বিশেষ করে উত্তেজনা কমিয়ে আনার কৌশল এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট, যেখানে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হয়ে ওঠে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:১০:০০
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরপরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই হামলাকে ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যা পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের এই আক্রমণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে শান্তি আলোচনার অর্থই হারিয়ে যাবে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়বে।

তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, লেবাননের জনগণের পাশে ইরান সবসময় থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবানন এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ ইরানের কৌশলগত অংশীদার এবং এই সমীকরণকে উপেক্ষা করে কোনো যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে পারে না।

তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন, যখন ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রয়োজন হলে যেকোনো স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েল সংঘাতের পরিসর সীমিত রাখতে আগ্রহী নয়।

সূত্র:আল-জাজিরা


ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:০২:২৯
ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তবে এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরে ইরানবিরোধী অবস্থান এবং কঠোর সামরিক কৌশল গ্রহণের পরও শেষ পর্যন্ত একটি অস্পষ্ট ও নাজুক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো তার পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা মহল শুরু থেকেই ইসরাইলের ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন’ সংক্রান্ত ধারণাকে বাস্তবতাবিবর্জিত হিসেবে দেখেছিল। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

ইসরাইলের সামরিক পরিকল্পনা ছিল স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে দ্রুত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে এক মাসব্যাপী সংঘাতে রূপ নেয়, যা তাদের হিসাব-নিকাশকে সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণ করে। এমনকি যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে পর্যন্ত নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসন নিজস্ব কৌশলগত বিবেচনায় অবস্থান পরিবর্তন করে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে ইসরাইল কার্যত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরাইল আলোচনার টেবিলে কার্যকর উপস্থিতি রাখতে পারেনি, যা সরকারের কৌশলগত ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে।

একই ধরনের সমালোচনা এসেছে বামপন্থি রাজনীতিক ইয়ার গোলান-এর কাছ থেকেও। তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার বিচ্ছিন্ন মূল্যায়ন ইসরাইলকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষিত মূল লক্ষ্যগুলো যেমন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন, ইউরেনিয়াম মজুদ দখল কিংবা রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল করা কোনোটিই অর্জিত হয়নি। বরং দীর্ঘস্থায়ী হামলার পরও টিকে গিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে কিছু কৌশলগত সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে হিজবুল্লাহর মতো সুসংগঠিত বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির ভাবমূর্তি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এই নতুন ব্যর্থতা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরার পরও বাস্তবে সেই সংকটের সমাধান না হওয়ায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

-রাফসান


যুদ্ধবিরতির পর প্রথম ইরান-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৮:৫৭:৫৬
যুদ্ধবিরতির পর প্রথম ইরান-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে, যেখানে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবারও সক্রিয় হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি আলোচনা করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ টেলিফোনে কথা বলেন বলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই পক্ষ বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়।

এই যোগাযোগের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, যা শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে। ওই হামলার পর ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির পরই প্রথমবারের মতো ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো, যা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যদি উত্তেজনা কমাতে যৌথভাবে কাজ করে, তবে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র:আল–জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:১৩:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র কৌশলগত চাপে পড়েছিলেন। এই অবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আকস্মিকভাবে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসে, যা প্রথমে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপিত হলেও পরে এর পেছনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিনানসিয়াল টাইমস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই মধ্যস্থতা পাকিস্তানের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক উদ্যোগ ছিল না। বরং ওয়াশিংটন থেকেই ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এই ভূমিকা গ্রহণের জন্য। ফলে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখা ছিল এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে একটি কার্যকর যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইসলামাবাদ সরাসরি কোনো চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুত করা বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা পাঠালে তা ইরানের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়।

ফলে পাকিস্তানের ভূমিকা মূলত মধ্যস্থতার কাঠামো নির্ধারণে নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাব উপস্থাপন ও সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে গিয়ে একই সঙ্গে চাপ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই গোপন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন, যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সহজ ছিল না। ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্র, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভেতরে মতবিরোধ আলোচনাকে জটিল করে তোলে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভুলবশত একটি খসড়া বার্তা প্রকাশ করে ফেলায় পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে বোঝা যায় যে, কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছিল।

-রাফসান


চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১২:৫৬:১২
চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার সেনা সদস্য এখনই প্রত্যাহার করা হবে না। বরং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এসব বাহিনী কৌশলগত অবস্থানে থেকেই নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রার সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে, যা অতীতে কখনো প্রত্যক্ষ করা হয়নি। তার ভাষায়, সম্ভাব্য হামলা হবে আগের যেকোনো অভিযানের তুলনায় আরও বড়, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এবং শক্তিশালী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে ঘিরে থাকা সমুদ্র ও আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রেখেছে। এতে অতিরিক্ত গোলাবারুদ, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এবং কৌশলগত যুদ্ধ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।

চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে ট্রাম্প বিশেষভাবে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রথমত, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে; দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা ও নিরাপদ রাখতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার বক্তব্যে ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ এই বার্তাটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: