১৪ নভেম্বরের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি: জানুন আজকের সব ওয়াক্ত

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আজ শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫-এর দৈনিক নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে বসুন্ধরাস্থ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২৯ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি। মুসল্লিদের সুবিধার্থে কেন্দ্রটি দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি জানিয়েছে।
আজ জুমার নামাজ শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৬ মিনিটে। আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে। মাগরিবের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৫টা ১৭ মিনিটে। এশার নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে। পরবর্তী দিনের প্রথম নামাজ ফজর শুরু হবে ভোর ৪টা ৫৯ মিনিটে।
আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৫ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ০৯ মিনিটে। সময়সূচিটি দৈনিক ধর্মীয় পালন, মসজিদ পরিচালনা, নামাজের প্রস্তুতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়সহ আজকের নামাজের সময়সূচী প্রকাশ
আজ রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২৬ শাবান ১৪৪৭। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে নামাজের সময়সূচিতেও।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নির্ধারিত সালাতের সময়সূচি অনুযায়ী, জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। বিকেলের আসর শুরু হবে ৪টা ১৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিব আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৭ মিনিট থেকে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ১১ মিনিটে।
আগামীকাল ভোরের ফজরের নামাজ শুরু হবে ৫টা ১৯ মিনিটে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে ৫টা ৫১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে।
-রফিক
জিন, জাদু, হিংসা ও মানসিক অস্থিরতার প্রতিকার: সূরা নাস
সূরা আন-নাস কুরআনুল কারিমের ১১৪তম ও সর্বশেষ সূরা। এটি মাত্র ৬টি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত নিয়ে গঠিত। এই সূরার মূল বিষয়বস্তু হলো—মানুষের অন্তরে প্রবেশকারী শয়তানি কুমন্ত্রণা, সন্দেহ, ভয় ও পাপপ্রবণ চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা। অধিকাংশ তাফসিরকারের মতে এটি মক্কায় অবতীর্ণ, যদিও কিছু বর্ণনায় একে মাদানীও বলা হয়েছে। সূরা আল-ফালাকের সঙ্গে একত্রে এই দুই সূরাকে “মু‘আওয়িযাতাইন” বলা হয়, অর্থাৎ আশ্রয় প্রার্থনার দুটি সূরা।
এই সূরায় আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-কে নির্দেশ দেন যেন তিনি ঘোষণা করেন: “আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে।” এখানে “রববিন্নাস” শব্দটি আল্লাহর পালনকর্তা ও প্রতিপালক সত্তাকে নির্দেশ করে। তিনি মানুষের স্রষ্টা, লালনকারী ও রক্ষাকর্তা। পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে “মালিকিন্নাস”—অর্থাৎ মানুষের প্রকৃত অধিপতি ও শাসক। সব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে। এরপর বলা হয়েছে “ইলাহিন্নাস”—মানুষের একমাত্র উপাস্য। এই তিনটি গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, মালিকানা ও উপাস্যত্ব একত্রে ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপর সূরার কেন্দ্রীয় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে: “মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস”—সে কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যে গোপনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করলে সরে যায়। “খান্নাস” শব্দটি নির্দেশ করে এমন এক সত্তাকে, যে সুযোগ বুঝে মানুষের অন্তরে সন্দেহ ও পাপের বীজ বপন করে, কিন্তু যিকির ও আল্লাহর স্মরণে পিছিয়ে যায়। পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে, এই কুমন্ত্রণা মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে। অর্থাৎ শয়তানি প্ররোচনা বাহ্যিক নয়, বরং অন্তর্গত—মনের গভীরে সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। শেষ আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই কুমন্ত্রণাদাতা কেবল জিনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যেও এমন অনেকে আছে, যারা অন্যদের পাপ ও বিভ্রান্তির দিকে প্ররোচিত করে।
শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট
কিছু সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, লাবীদ ইবনে আসাম নামক এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর ওপর জাদু প্রয়োগ করেছিল। এর প্রভাবে তিনি সাময়িক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস নাযিল করেন। নবী (সা.) এই সূরাগুলো তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ তাঁর ওপর থেকে সেই প্রভাব দূর করে দেন। এই ঘটনা মুসলিমদের জন্য শিক্ষা দেয় যে, যেকোনো অদৃশ্য বা মানসিক অনিষ্ট থেকে রক্ষার প্রকৃত উপায় হলো আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন।
মর্যাদা ও ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য এই দুই সূরার সমতুল্য কিছু নেই। তিনি ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এবং শয়নের পূর্বে সূরা ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পাঠ করতে উৎসাহিত করতেন। হাদিসে এসেছে, নিয়মিত পাঠ মানুষের জন্য জাদু, কুদৃষ্টি, হিংসা ও শয়তানি প্ররোচনা থেকে সুরক্ষার কারণ হয়।
সূরা আন-নাস বিশেষভাবে মানুষের অন্তর্জগতের নিরাপত্তার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। এটি কেবল বাহ্যিক বিপদ থেকে নয়, বরং সন্দেহ, অবিশ্বাস, ভয়, পাপপ্রবণ চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকেও মুক্তির দোয়া। সংক্ষিপ্ত আয়াতগুলোর মধ্যে ঈমান, তাওহিদ ও আত্মরক্ষার গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে।
সূরা আন-নাস মূলত এক আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল। এটি ঈমানদারদের শেখায় যে মানুষের প্রকৃত শত্রু অনেক সময় অদৃশ্য এবং অন্তর্গত। তাই নিরাপত্তা কেবল বাহ্যিক শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা ও স্মরণে নিহিত। নিয়মিত তিলাওয়াত ও অর্থ অনুধাবন করলে এই সূরা একজন মুসলিমের হৃদয়কে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করার শক্তিশালী দুর্গে পরিণত করে।
আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পরকালে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই একজন মুমিনের জীবনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে যা আত্মিক প্রশান্তি ও সওয়াব অর্জনে সহায়ক। আজ শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি; ০১ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা এবং ২৪ শাবান ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
ঢাকার নামাজের সময়সূচি (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
আজ জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে।
আসর নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে।
মাগরিবের আজান ও ইফতারের সময় (যদি কেউ রোজা রাখেন) হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে।
এশা নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ০৮ মিনিটে।
এছাড়া আগামীকালের (রোববার) ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে।
বিভাগীয় সময়ের পার্থক্যঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগের মুসল্লিদের কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে নিতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মুসল্লিদের ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের মুসল্লিদের ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের ক্ষেত্রে ৭ মিনিট, রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগের ক্ষেত্রে ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে। সময়মতো নামাজ আদায় করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তাই নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় জেনে নামাজে শরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
জুমার দিন দরুদ পাঠের অফুরন্ত ফজিলত
ইসলামে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাদিসে এ দিনের নানা ফজিলত ও আমলের কথা উল্লেখ আছে। প্রিয়নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত আছে, এ দিনে পড়া দরুদ তাঁর দরবারে পেশ করা হয় এবং দরুদ পাঠকারী বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা দশটি রহমত নাজিল করেন।
জুমার দিন দরুদ পাঠের মর্যাদা
হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জুমার দিন শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিন হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁর ইন্তেকাল এবং কেয়ামতের শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হবে। তাই এ দিনে নবির প্রতি অধিক দরুদ পাঠের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, আল্লাহ তাআলা নবিগণের দেহকে জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন; ফলে উম্মতের দরুদ তাঁর নিকট পৌঁছানো হয়।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করলে বিশেষ সওয়াব অর্জিত হয়। যে ব্যক্তি একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। আর কেউ যদি আসরের নামাজের পর নির্দিষ্ট দরুদ ৮০ বার পাঠ করে, তার বহু বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে—যদিও আলেমদের মতে, এখানে সগিরা গুনাহ উদ্দেশ্য।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
জুমার দিনের অন্যতম বড় ফজিলত হলো এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এ দিনের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে যদি কোনো মুমিন আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু প্রার্থনা করে, তা কবুল হওয়ার আশা থাকে। অধিকাংশ আলেমের মতানুসারে, আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিই সে মহামূল্যবান মুহূর্ত।
হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, এই সময়টিতে দোয়া খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই মুসলমানরা এ সময় অধিক ইবাদত ও জিকিরে মনোনিবেশ করেন।
সুরা কাহফ তেলাওয়াতের আমল
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহফ তেলাওয়াত। হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত নূর হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ তেলাওয়াত ফেতনা থেকে সুরক্ষার কারণ হয় এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকেও রক্ষা পেতে সহায়ক।
দরুদ পাঠের অতিরিক্ত ফজিলত
বিভিন্ন রেওয়ায়েতে এসেছে, জুমার দিনে অধিক দরুদ পাঠকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রাসুলের নিকটতমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ১০০ বার দরুদ পাঠ করে, কেয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল নূরে উজ্জ্বল থাকবে।
তাই জুমার দিনে নিম্নোক্ত দরুদ পাঠ করা উত্তম-
اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّد
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
জুমার দিনটি তাই কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, দরুদ পাঠ, দোয়া কবুলের প্রত্যাশা এবং কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ সুযোগের দিন। আলেমরা বলেন, এ দিনের সময়কে মূল্যায়ন করে ইবাদতে কাটালে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ অর্জন সম্ভব।
আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
আজ শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি সন অনুযায়ী ২৪ শাবান ১৪৪৭। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। সপ্তাহের বিশেষ এই দিনের খুতবা ও জামাতে অংশ নিতে মসজিদগুলোতে আগেভাগেই মুসল্লিদের সমাগম শুরু হয়। আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে, যা সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর আদায় করা হবে। এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৭টা ১০ মিনিটে।
এ ছাড়া আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৫টা ৫১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের ওপর ভিত্তি করেই দৈনিক নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারিত হয়।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করা ফরজ ইবাদতের অন্যতম শর্ত। তাই সঠিক সময় জেনে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে অতিরিক্ত মুসল্লিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
যাদের ওপর রোজা ফরজ নয় এবং তাদের করণীয়
রমজান মাসে সিয়াম পালন ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা রাখা আবশ্যিক। তবে ইসলাম একটি বাস্তবধর্মী জীবনব্যবস্থা; তাই মানবিক ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় রেখে কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ছাড় কোনো অবহেলা নয়, বরং শরিয়তের করুণা ও ভারসাম্যের প্রকাশ।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন যে, অসুস্থ বা সফররত ব্যক্তি পরবর্তীতে অন্য দিনে রোজা পূরণ করবে। সূরা আল-বাকারা (১৮৪–১৮৫) আয়াতে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ফিকহবিদদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, যেসব ওজর সাময়িক, সেসব ক্ষেত্রে কাজা করতে হয়; আর যেসব অক্ষমতা স্থায়ী, সেক্ষেত্রে ফিদিয়া প্রযোজ্য।
প্রথমত, অসুস্থ ব্যক্তির কথা বলা যায়। যদি রোজা রাখলে রোগ বৃদ্ধি পায়, আরোগ্য বিলম্বিত হয় অথবা তীব্র দুর্বলতার আশঙ্কা থাকে, তাহলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে গেলে সেই রোজাগুলো কাজা করতে হবে। ইসলাম মানুষের ক্ষতি চায় না; বরং কষ্ট থেকে রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয়ত, সফররত ব্যক্তির জন্যও রোজা ভঙ্গের অনুমতি রয়েছে। শরিয়তের আলোচনায় সাধারণভাবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্ব অতিক্রম করলে তাকে মুসাফির ধরা হয়। সফরে রোজা রাখা কষ্টকর হলে ভাঙা উত্তম, তবে পরে কাজা করতে হবে। যদি কেউ চার দিনের বেশি কোনো স্থানে থাকার নিয়ত করেন, তাহলে তিনি মুকিম গণ্য হবেন এবং রোজা রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব চলাকালে নারীদের জন্য রোজা রাখা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ঋতু শেষে তাদের রোজা কাজা করতে হবে, তবে নামাজের কাজা করতে হয় না। এটি শরিয়তের একটি স্বীকৃত ও সর্বসম্মত বিধান।
চতুর্থত, দীর্ঘস্থায়ী রোগী, যাদের আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই এবং রোজা রাখা একেবারেই অসম্ভব, তাদের ওপর রোজা ফরজ নয়। তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন অভাবীকে খাদ্য প্রদান করবেন। এটিই ফিদিয়া নামে পরিচিত। এ ক্ষেত্রে কাজা নেই, কারণ শারীরিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে অনুপস্থিত।
পঞ্চমত, অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি, যিনি রোজা পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম, তার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। তিনি প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে আহার করাবেন। যদি মানসিক সক্ষমতাও না থাকে, তবে তার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা অবশিষ্ট থাকে না।
ষষ্ঠত, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোজা রাখলে মা বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। পরবর্তীতে তারা কাজা করবেন। তবে যদি কেবল সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় রোজা ভাঙা হয়, অধিকাংশ আলেমের মতে কাজার পাশাপাশি ফিদিয়াও প্রদান করতে হবে।
এছাড়া শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ নয়। তবে তারা যদি সুস্থ ও সক্ষম হন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে রোজা ফরজ হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, ইসলাম রোজাকে একটি মহান ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করলেও মানুষের সামর্থ্যকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়েছে। সাময়িক অক্ষমতা থাকলে কাজা, আর স্থায়ী অক্ষমতায় ফিদিয়া এই দুই ব্যবস্থার মাধ্যমে শরিয়ত ভারসাম্য রক্ষা করেছে।
অতএব, যাদের ওপর রোজা ফরজ নয়, তাদের জন্য নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী কাজা বা ফিদিয়া আদায় করাই কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা সহজতা পছন্দ করেন এবং বান্দার কষ্ট চান না। রমজানের শিক্ষা কেবল উপবাস নয়; বরং তাকওয়া, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ।
উত্তম রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য হাদিসের আলোকে দোয়া
ইসলামে ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু নেতৃত্বের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে। একটি সুপরিচিত দোয়ায় রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের জন্য এমন রাষ্ট্রপ্রধানের কামনা করেছেন, যিনি জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দোয়াটি হলো-اللهم لَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَاউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তুসাল্লিত আলাইনা মান লা ইয়ারহামনা
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদের ওপর এমন কাউকে কর্তৃত্ব দান করবেন না, যে আমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না।”
এই দোয়ার বর্ণনা পাওয়া যায় জামে তিরমিজি–তে (হাদিস নম্বর ৩৪০২)। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি কেবল ব্যক্তিগত কল্যাণের দোয়া নয়; বরং সামষ্টিক কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার জন্য একটি মৌলিক প্রার্থনা।
ইসলামে শাসনক্ষমতা একটি আমানত। কুরআন ও হাদিসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাসকের প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুর্বলদের সুরক্ষা এবং সমাজে ভারসাম্য রক্ষা। দয়াহীন ও জুলুমকারী নেতৃত্ব সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এই আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের দোয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
ইতিহাসে দেখা যায়, ন্যায়পরায়ণ শাসকের সময় সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্যে খলিফায়ে রাশেদিনদের উদাহরণ প্রায়ই তুলে ধরা হয় ন্যায়, জবাবদিহি ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে।
সমসাময়িক বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে উম্মাহর জন্য এমন নেতৃত্ব কামনা করা, যারা দয়া, ন্যায় ও ক্ষমাশীলতার গুণে সমৃদ্ধ তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এই দোয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও জবাবদিহিতার সমন্বয়।
জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
আজ বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ মাঘ ১৪৩২ এবং হিজরি সনের পবিত্র ২৩ শাবান ১৪৪৭। রমজান মাসের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, এই সময়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে প্রতিটি নামাজের ওয়াক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আজ সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলায় মুসল্লিদের যাতায়াত ও ইবাদতের সময় সমন্বয় করাটা জরুরি। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,
আজ ঢাকায় জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে। যারা সকালে ভোট দিয়ে ফিরবেন বা দুপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা এই সময়ের মধ্যেই জোহরের নামাজ আদায় করে নিতে পারেন।
আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। ভোটগ্রহণের শেষ সময় যেহেতু বিকেল সাড়ে ৪টা, তাই ভোটাররা ভোট দিয়ে ফিরেই আসরের ইবাদতে শামিল হতে পারবেন।
আজকের সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫১ মিনিটে এবং মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে ৫টা ৫৫ মিনিটে। দিনের ভোটগণনা এবং উত্তেজনার মধ্যেই মুসল্লিরা মাগরিবের জামাতে শরিক হতে পারবেন।
এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৭টা ১০ মিনিটে। যারা দীর্ঘ সময় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন বা ফলাফল দেখার অপেক্ষায় থাকবেন, তাদের জন্য এশার সময়টি দীর্ঘ হওয়ায় ইবাদত সম্পন্ন করা সহজ হবে।
আগামীকাল শুক্রবারের ফজর শুরু হবে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে। শাবান মাসের এই ফজিলতপূর্ণ সময়ে নামাজের এই সূচি অনুযায়ী ইবাদত পালন করা মুমিনদের জন্য বরকতময় হবে।
রমজানে ওমরাহ করার ফজিলত: হাদিসের আলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ সময় নেক আমলের প্রতিদান বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। ইবাদতের এ মৌসুমে ওমরাহ আদায়ের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে সহিহ হাদিসে। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) রমজানের ওমরাহকে এমন এক উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন, যা মুমিনের অন্তরে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “রমজানে আদায়কৃত ওমরাহ আমার সঙ্গে হজ করার সমান।”এই হাদিসটি সহিহ বুখারি–তে বর্ণিত হয়েছে (হাদিস নম্বর ১৭৮২)। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে সওয়াবের দিক থেকে তুলনা করা হয়েছে, ফরজ হজের বিধান বাতিল করা হয়নি। অর্থাৎ, রমজানের ওমরাহ ফরজ হজের বিকল্প নয়; তবে ফজিলত ও প্রতিদানের বিচারে তা অত্যন্ত মহিমান্বিত।
রমজানে ওমরাহর বিশেষ ফজিলত
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) রমজানের ওমরাহকে এমন এক উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন, যা মুমিনের অন্তরে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
১️) সওয়াবের বহুগুণ বৃদ্ধি
রমজান এমন সময় যখন প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি পায়। ওমরাহ নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত; ফলে এ মাসে তা আদায় করলে সওয়াবের পরিমাণ অসীমভাবে বৃদ্ধি পায়।
২️) গুনাহ মোচনের সুবর্ণ সুযোগ
হাদিসে এসেছে, একটি ওমরাহ পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত সংঘটিত ছোট গুনাহসমূহ মাফের মাধ্যম হয়। রমজানের বরকত যুক্ত হলে বান্দার জন্য তওবা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ আরও প্রসারিত হয়।
৩️) রুহানিয়াতের গভীর অনুভব
রমজানে মসজিদুল হারাম–এ কোরআন তিলাওয়াত, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের ধ্বনি এক অপার্থিব আবহ তৈরি করে। একইভাবে মসজিদে নববী–তে ইবাদতের পরিবেশ হৃদয়কে আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে ভরিয়ে তোলে।
৪️) লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনা
রমজানের শেষ দশকে মক্কায় অবস্থান করলে কদরের রাত ইবাদতের সুযোগ পাওয়া যায়। কুরআনে বর্ণিত এই রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
৫️) তাকওয়া অর্জনের বাস্তব অনুশীলন
রোজা আত্মসংযম শেখায়, আর ওমরাহ ধৈর্য ও আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। এই দুইয়ের সমন্বয়ে একজন মুসলমান তাকওয়ার উচ্চতর স্তরে পৌঁছাতে পারেন।
৬️) দোয়া কবুলের অনুকূল পরিবেশ
হাজরে আসওয়াদ, মুলতাজ্জাম, মিজাবে রহমাহ প্রভৃতি স্থান দোয়া কবুলের জন্য প্রসিদ্ধ। রমজানের বরকত যুক্ত হলে দোয়ার গ্রহণযোগ্যতার আশা আরও বৃদ্ধি পায়।
রমজানে মক্কা–মদিনার পরিবেশ
রমজানে মক্কার বাতাসেও যেন ইবাদতের আবেশ অনুভূত হয়। ইফতারের সময় হাজার হাজার মুসল্লির একসঙ্গে রোজা ভাঙার দৃশ্য হৃদয়গ্রাহী। তারাবীহ নামাজে দীর্ঘ কিরাত, তাহাজ্জুদের আবেগঘন মুহূর্ত এবং সারারাত জেগে থাকা ইবাদতকারীদের দৃশ্য মুসলমানের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
মদিনায় রাউজায়ে রাসূল (সা.)–এ দরুদ ও সালামের ধ্বনি এক শান্তিময় অনুভূতি সৃষ্টি করে। এ সময় অনেকেই জীবনের নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পান।
কেন রমজানের ওমরাহ জীবন বদলে দেয়
অনেক হাজি ও ওমরাহকারী অভিজ্ঞতায় বলেছেন, রমজানের ওমরাহর পর তাঁদের জীবনদৃষ্টিতে পরিবর্তন এসেছে। ইবাদতের নিবিড় পরিবেশ, তওবার আবেগ এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিচ্ছিন্নতা মানুষকে নিজের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হতে সহায়তা করে।
এ সময় আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়, নফস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
রমজানে ওমরাহর প্রস্তুতি
রমজানের সফর সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি ভিড়পূর্ণ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই কিছু বিশেষ প্রস্তুতি জরুরি-
স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রাখা
পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা
ইবাদতের সময়সূচি পরিকল্পনা
ভিড়ের মাঝে ধৈর্য ও সহনশীলতা
রমজানের ওমরাহ শুধু একটি সফর নয়; এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, ঈমানের নবায়ন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিরল সুযোগ।
পাঠকের মতামত:
- শপথের আগে নয়া মেরুকরণ: শফিকুর রহমানের ডেরায় বিএনপি প্রধান
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য তিতাসের বিশেষ সতর্কতা
- কলম্বোয় ফিরল হ্যান্ডশেক বিতর্ক: যুদ্ধের আগে দুই অধিনায়কের ঠান্ডা লড়াই
- তারেক রহমানের শপথে ওম বিড়লা: বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিচ্ছে ভারত
- কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান মানেই আমার বাবাকে অপমান: জামায়াত আমির
- মঞ্জুর দুর্গে জামায়াতের হানা: যে ভুলে কপাল পুড়ল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর
- শপথের আগেই বড় বাধা: মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ইসিতে নাসীরুদ্দীন
- নির্বাচনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা ফিরল পুলিশের: প্রেস সচিব
- রাষ্ট্রপতি নাকি সিইসি? শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন আইন উপদেষ্টা
- বয়ান বদলের রাজনীতি: বিএনপির নতুন কমিউনিকেশন স্থাপত্য ও আগামীর শাসনচিন্তা
- আদালতের গ্রিন সিগনাল পেলেই ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বিনিয়োগকারীর ভিড়
- নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ: ঢাকাকে বড় স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
- আজকের মুদ্রার হার: ডলারের বিপরীতে টাকার মান কত? জেনে নিন বিনিময় হার
- কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
- ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে গুচ্ছের ভর্তিযুদ্ধ: প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবেন যেভাবে
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- বদলা নাকি দাপট? হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৫টি ব্যক্তিগত দ্বৈরথ কাঁপাবে ক্রিকেটবিশ্ব
- সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
- ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
- রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার গোপন মন্ত্র: পাতে রাখুন এই ৪ ধরনের খাবার
- ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ লড়াই: কেমন হতে পারে দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ?
- লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
- সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহারেই বিপদ! ত্বকের সুরক্ষায় জানুন সঠিক নিয়ম
- হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
- ব্যক্তিগত মুহূর্ত বেচবেন না বিজয়-রাশমিকা: মোটা অঙ্কের অফার নাকচ
- এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
- ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার নিয়ে প্রস্তুত শায়খ আহমাদুল্লাহ: এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ উপহার
- কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
- আজকের আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- শপথে যে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
- শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
- রবিবার কেনাকাটায় সতর্কতা জরুরি, বহু মার্কেট বন্ধ আজ
- ঢাকায় আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার
- সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়সহ আজকের নামাজের সময়সূচী প্রকাশ
- জিন, জাদু, হিংসা ও মানসিক অস্থিরতার প্রতিকার: সূরা নাস
- রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য ক্যাবিনেটে একঝাঁক নতুন মুখ: দৌড়ে এগিয়ে যারা
- জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার শপথের পালা: চূড়ান্ত হলো দিনক্ষণ
- বৃহস্পতির আকার নিয়ে পুরোনো সব হিসাব ভুল: নতুন তথ্য দিল নাসা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক রেকর্ড
- কাল শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান: নতুন রাজনীতির সংকেত?
- খালি পেটে না ভরা পেটে? লেবু পানি পানের আসল সময় জানালেন পুষ্টিবিদরা
- আল্লাহ আমার ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন: মির্জা আব্বাস
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড
- রুপা স্থির, তবে কেন অস্থির শুধু সোনা








