নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন উপদেষ্টা আসিফ: দিলেন পদত্যাগের ইঙ্গিতও

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৯ ১৬:৪৬:৫৫
নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন উপদেষ্টা আসিফ: দিলেন পদত্যাগের ইঙ্গিতও
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে, তবে কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডি নির্বাচন অফিসে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হওয়ার আবেদনপ্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা নয়, ঢাকা-১০ এখন নতুন ঠিকানা

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নিশ্চিত করেন, "নির্বাচন করব নিশ্চিত।" তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।" কোনো দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কোনো দলে যোগ দেব কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো দলের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।"

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে কুমিল্লা-৩ আসন (মুরাদনগর উপজেলা) এর ভোটার ছিলেন। ধানমন্ডি এলাকার ভোটার হওয়া নিয়ে তরুণ এই উপদেষ্টা বলেন, "দুবার যেহেতু ভোট দিতে পারিনি, আগামীতে ধানমন্ডিতেই থাকার ইচ্ছা। সে কারণেই ঢাকা-১০ এর ভোটার হওয়া।"

ঢাকা-১০ নির্বাচনী আসনটি ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত।

পদত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

তবে সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে কবে পদত্যাগ করছেন, সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু জানাননি আসিফ মাহমুদ।

এই আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে সরকার থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে পারেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক।


আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:৫৪:১০
আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

একসঙ্গে বিশাল অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে সরকার নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার বিষয়ে কাজ চলছে। প্রথম ধাপে কেবল কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে।

পরবর্তীতে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এই মেগা বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল কার্যকরের পর গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি হিমশিম খাচ্ছেন। এই তীব্র চাপ সামলাতে তাঁরা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক নজরে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল

গ্রেড ১: ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)

গ্রেড ২ থেকে ৫: সর্বোচ্চ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন স্কেল সর্বনিম্ন ৮৬,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১,৫৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রেড ৬ থেকে ১০: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের স্কেল সর্বনিম্ন ৩২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১,৩৪,০০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

গ্রেড ১১ থেকে ১৫: মধ্যম সারির কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২২,৮০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০,৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাবিত।

গ্রেড ১৬ থেকে ২০: নিম্ন আয়ের বা সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০,০০০ টাকা, যা ভাতাসহ সর্বোচ্চ ৫২,৯০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।

/আশিক


ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:৩২:৩৬
ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং ভারতের ভেতরেও তীব্রভাবে পড়ছে এবং সে দেশের অনেক রাজনীতিবিদই এখন এই ব্যারাজ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পানি ও পরিবেশ সংকটের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করবো না, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকবো না।" আঞ্চলিক সহাবস্থান বজায় রাখলেও দেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসেই ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের পানি সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের পানিবণ্টন সমস্যার একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, গঙ্গার পানির অধিকার আদায়ে এবার আর কোনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি করা প্রয়োজন। একই সাথে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অববাহিকার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারের 'পদ্মা ব্যারাজ' নির্মাণের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পেতে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করায় দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ, প্রকৃতি ও কৃষি খাত মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এর প্রতিবাদে এবং পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা আজও বাংলাদেশের পানির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।

/আশিক


আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:২৮:১১
আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।"

দেশের খাদ্য সংকট নিরসন এবং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে সমগ্র দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। শাহরাস্তির এই খোর্দ্দ খালটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে; এটি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করেছিলেন।

দীর্ঘ ৪২ বছর পর ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ১৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পুনর্খনন কাজ শুরু করায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জিয়াউর রহমানের শুরু করা সেই কাজের সূত্র টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা পূরণ করা হবে।"

সমাবেশে তারেক রহমান বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জনগণই হচ্ছে সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন থাকলে দেশ গড়ার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন স্লোগান দেন—‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফলক উন্মোচন করে খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পর তিনি নিজে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।

/আশিক


মেগা সফরে চাঁদপুর গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সড়কপথে যাত্রা শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১০:৪৯:১০
মেগা সফরে চাঁদপুর গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সড়কপথে যাত্রা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টার পর রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

দুপুর পৌনে দুইটায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই দুটি খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিকাজ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ হবে। সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১১:২১:০১
নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, আলোচনা এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয় ১৯৭৩ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো চালু করা হয়েছে। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

২০২৬ সালে এসে আবারও নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সামনে আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আর্থিক সংস্থার মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি সম্ভাব্য বেতন কাঠামো, আর্থিক প্রভাব, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের সম্ভাব্য মূল বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন হতে পারে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার মধ্যে। তৃতীয় গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন কাঠামো ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

চতুর্থ গ্রেডে বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রস্তাবিত তালিকায় ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া নবম গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। দশম গ্রেডে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডেও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। একাদশ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত সব পর্যায়েই বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীরাও সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাজেট, রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

-রফিক


কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১১:১৩:০৯
কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে অন্তত ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন, যা দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বরগুনা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার চায় দেশের মানুষ যেন খেয়ে-পরে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে। সেই লক্ষ্য থেকেই কৃষকদের জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।

চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা সার, বীজ, সেচ, প্রশিক্ষণ, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাবেন। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ভাষণে তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার মতে, কৃষি উৎপাদনে টেকসই উন্নয়ন ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

নুরুল ইসলাম মনি জানান, সেচব্যবস্থা সহজ করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা সময়মতো পানি পাবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের স্বস্তি দিতে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর ঋণের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

তিন দিনব্যাপী এই কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা এবং কৃষি উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

এছাড়া কৃষি তথ্য সার্ভিসের সহযোগিতায় মেলায় কৃষিবিষয়ক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও কৃষকরা মেলাটি ঘুরে দেখতে পারবেন।

-রফিক


ঈদে বাড়ি ফেরা: ট্রেন টিকিটের নতুন আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১১:০১:১৪
ঈদে বাড়ি ফেরা: ট্রেন টিকিটের নতুন আপডেট
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) তৃতীয় দিনের মতো বিক্রি করছে ২৫ মে’র ট্রেনযাত্রার টিকিট। সকাল থেকেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। কাউন্টার থেকে কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। যাত্রীদের ঘরে বসেই টিকিট সংগ্রহের সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে গত ১৩ মে থেকে টানা পাঁচ দিনের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (১৬ মে) বিক্রি হবে ২৬ মে’র টিকিট এবং ১৭ মে বিক্রি হবে ২৭ মে’র টিকিট।

রেলওয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন যাত্রী অগ্রিম যাত্রার জন্য একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ঈদের অগ্রিম টিকিট কোনো অবস্থাতেই ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা ব্যাপক হওয়ায় ট্রেন টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও দক্ষিণাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোর টিকিটের জন্য অনলাইনে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। একইসঙ্গে সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাইবার নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেশিরভাগ জনপ্রিয় রুটের আসন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না।

-রফিক


কোচিং সেন্টার বন্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:১৪:০১
কোচিং সেন্টার বন্ধ করার ক্ষমতা আমার নেই: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত বা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় সেগুলো সরাসরি বন্ধ করার এখতিয়ার সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আইনি কাঠামোর বাইরে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকছে মূলত শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত ও পর্যাপ্ত পাঠদান না পাওয়ার কারণে। তিনি মনে করেন, যদি ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করা যায়, তবে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা একসময় এমনিতেই ফুরিয়ে আসবে। পরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যকার দীর্ঘ বিরতি কমিয়ে আনাও কোচিংনির্ভরতা কমানোর একটি উপায় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাইরের কোচিং বাণিজ্যে লাগাম টানতে সরকার ভবিষ্যতে ‘ইন-হাউজ কোচিং’ বা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমেই অতিরিক্ত পাঠদানের পুরোনো পদ্ধতিকে পুনরায় চালুর কথা ভাবছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নামীদামি কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কিছুটা রসিকতার ছলে বলেন, “আমি তো এত স্মার্ট না, বুঝি নাই যে কোচিং সেন্টার প্রশ্ন ফাঁস করে।” তবে এই মন্তব্যের আড়ালে তিনি মূলত এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতিবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের অপকর্মের দায়ভার শিক্ষা প্রশাসনের ওপর সরাসরি বর্তায় না।

/আশিক


ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মেগা পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:১০:৩৬
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মেগা পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা শহরের চিরচেনা যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যানজট নিরসনের উপায় খুঁজতে এটি ছিল বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বিশেষ সভা।

সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। এ ছাড়া দুই সিটির প্রশাসকদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এমপি এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে কেবল সড়ক নয়, বরং রেল ও নৌপথকেও সমন্বিতভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেম এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সুফল পেতে শুরু করে।

যানজট নিয়ে এটি দ্বিতীয় সভা হওয়ার কারণে আগের সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো সুগম করা এবং গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি তদারকির ফলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: