ইসলামের ইতিহাস

বোনের কোরআন পাঠে হার মানল দম্ভ; হজরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের বিস্তারিত ঘটনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৩ ২১:২৭:৪৭
বোনের কোরআন পাঠে হার মানল দম্ভ; হজরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের বিস্তারিত ঘটনা
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলামের মহান চার খলিফার অন্যতম দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণকে ইসলামের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ তাঁর ইসলাম গ্রহণের পরই মুসলমানেরা প্রকাশ্যে তাদের ধর্ম প্রচারের সুযোগ পান। হজরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম অসামান্য সাহসী এবং বাগ্মী নেতা। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দাপটের কারণে কাফেররা তাঁর মুখোমুখি হতে বা মোকাবিলা করতে ভয় পেত।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, যদি তাঁর পরে কাউকে নবী করা হতো, তবে তিনি হতেন হজরত ওমর (রা.)।

আল্লাহর কাছে রসুল (সা.)-এর বিশেষ দোয়া

রসুল (সা.)-এর কাছে ইসলামের প্রথম দিকে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তাদের ওপর নেমে আসে মক্কার প্রভাবশালী নেতাদের ভয়াবহ ও অমানবিক নির্যাতন। সেই কঠিন সময়েও দুর্বল সাহাবিরা ইমানের ওপর ছিলেন অটল। মক্কার প্রভাবশালীদের উৎপীড়নে ব্যথিত হয়ে রসুল (সা.) একপর্যায়ে আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! ওমর ইবনে খাত্তাব এবং আবু জেহেলের মধ্যে তোমার কাছে যে বেশি পছন্দনীয়, তাকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দাও এবং তার দ্বারা ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করো।" মহান আল্লাহ্‌র কাছে রসুল (সা.)-এর এই বিশেষ দোয়াটি অচিরেই কবুল হয় এবং আল্লাহ্‌ হজরত ওমর (রা.)-এর অন্তরকে ইসলামের জন্য পরিবর্তন করে দেন।

ইসলাম গ্রহণের ঘটনা

হজরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের গুটিকয় শিক্ষিত লোকের অন্যতম। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন কুস্তিগির, মল্লযোদ্ধা ও একজন সুপরিচিত বক্তা। একসময় তিনি রসুল (সা.)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে মক্কার পথে রওনা হয়েছিলেন।

পথিমধ্যে তিনি সাহাবি নাইম বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নাইম হজরত ওমর (রা.)-এর উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরে তাকে জানান, রসুলকে হত্যার আগে নিজের বোন ফাতিমা এবং ভগ্নিপতি সাইদের খোঁজ নেওয়া উচিত, কারণ তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ কথা শুনে ক্রোধে ফেটে পড়ে ওমর (রা.) ছুটে চললেন বোনের বাড়ির দিকে।

ঘরে ঢোকার আগেই তিনি শুনতে পান যে তার বোন ফাতিমা রসুল (সা.)-এর ওপর নাজিল হওয়া কোরআন পাঠ করছেন। পায়ের শব্দ কানে আসা মাত্রই ফাতিমা চুপ হয়ে যান এবং কোরআনের পাতা লুকিয়ে ফেলেন। ঘরে ঢুকেই ক্ষুব্ধ ওমর (রা.) জানতে চান, তারা কী পড়ছিলেন। এরপর তিনি তাদের ধর্মত্যাগী হওয়ার জন্য দোষারোপ করে ভগ্নিপতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বামীকে রক্ষা করতে বোন এগিয়ে এলে ওমর (রা.) তাকেও আঘাত করেন, ফলে ফাতিমা এবং তার স্বামী দু'জনেই রক্তাক্ত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায়ও ইমানের বলে বলীয়ান হয়ে বোন ফাতিমা দৃঢ়কণ্ঠে তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, "ভাই, তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো। আমরা সব সহ্য করব। শুধু জেনে রাখো, আমরা ইসলাম ত্যাগ করব না।"

বোনের এমন তেজোদীপ্ত কথা শুনে দম্ভ ও ক্রোধে থাকা ওমর (রা.) থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর কঠিন হৃদয় মোমের মতো গলে গেল। তিনি শান্ত হয়ে বললেন, "আচ্ছা! তোমরা যা পাঠ করছিলে, আমাকে একটু পড়তে দাও দেখি, তাতে এমন কী আকর্ষণ আছে, যা তোমাদের এমন দৃঢ়চেতা করে তুলেছে।"

কিন্তু তাঁর বোন ফাতিমা বললেন, "তুমি এখন নাপাক। এ কিতাব শুধু পাক-পবিত্র লোকই স্পর্শ করতে পারে।" তখন হজরত ওমর (রা.) গোসল করে পবিত্র হলেন। তারপর কোরআন পাঠ করে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। কুরাইশদের অন্যতম এই প্রভাবশালী নেতা মুহূর্তেই পাল্টে যান।

প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা

হজরত ওমর (রা.) সেই তলোয়ার হাতেই রসুল (সা.)-এর দরবারে ছুটে চললেন। তাঁর পায়ের শব্দ শুনে সাহাবিরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও, আরবের অন্যতম সেরা বীর হজরত হামজা (রা.) সাহসের সঙ্গে বললেন, "ওমর এসেছে তো কী হয়েছে, দরজা খুলে দাও। যদি খারাপ উদ্দেশ্যে এসে থাকে, তবে তার তলোয়ার দিয়েই আমরা তাকে শেষ করে দেব।"

এই ঘটনার সময় রসুল (সা.) দরবারের ভিতরের দিকে ছিলেন এবং সে সময় তাঁর ওপর ওহি নাজিল হচ্ছিল। ওহি নাজিল হওয়ার পর রসুল (সা.) হজরত ওমরের কাছে এলেন এবং তাঁর পরিধানের পোশাক ও তলোয়ারের একাংশ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, "হে আল্লাহ! ওমর ইবনে খাত্তাবের দ্বারা দীনের শক্তি ও সম্মান দান করো।"

এ কথা শুনে হজরত ওমর (রা.) রসুল (সা.)-এর হাত ধরে বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রসুল।" হজরত ওমরের কলমা পাঠ শোনামাত্র ভিতরে উপস্থিত সকল সাহাবিরা উচ্চস্বরে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে উঠলেন।

হজরত ওমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। তিনি বাদে অন্য সবাই প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন গোপনে। কিন্তু ওমরের ইসলাম গ্রহণ এবং মুসলমান হিসেবে তৎপরতা ছিল সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে। তাঁর ইমানদারির মধ্যে ছিল কুরাইশদের বিরুদ্ধে এক প্রকার বিদ্রোহের সুর।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের আগে তিনি প্রথমে কাবা তাওয়াফ করলেন। তারপর কুরাইশদের মজলিসে গিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, "আমি মদিনায় হিজরত করব। যদি কেউ তার মাকে পুত্রশোক দিতে চায়, সে যেন এ উপত্যকার অন্য প্রান্তে আমার মুখোমুখি হয়।" এমন একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি মদিনার পথে রওনা দেন। কিন্তু তাঁর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


হজযাত্রীদের বড় সুখবর: হজের বিমান টিকিটের দাম আরও কমাল সরকার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২০:৩৪:৪৮
হজযাত্রীদের বড় সুখবর: হজের বিমান টিকিটের দাম আরও কমাল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজ পালনের ব্যয় আরও সাশ্রয়ী করতে বিমান টিকিটের মূল্য এক লাফে ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে সরকার। এর ফলে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের জন্য বিমান টিকিটের নতুন মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এই মেলার আয়োজন করে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি যৌক্তিক ও সহনশীল হজ প্যাকেজ উপহার দেওয়াকে সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরে বিমান টিকিটের দাম প্রতি ক্ষেত্রে ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবার ধারাবাহিক ধারাবাহিকতায় টিকিটের মূল্য আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি হাজিদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সে দেশের বিমানবন্দর নির্মাণ কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বাংলাদেশের মোট হজযাত্রীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব সফর করেন, আর মাত্র ৫ শতাংশ যান সরকারি ব্যবস্থাপনায়। তাই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন যেকোনো বিতর্কিত বা অসাধু কাজ থেকে বিরত থাকতে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হাবের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য হজপ্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:১১:০৫
হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে যে, এই সময়ের মধ্যেই হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট জটিল বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবার হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. আবুবকর সিদ্দীকের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসরণ করেই নিবন্ধনের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তবে এর পূর্বে ৩০ হাজার টাকা ফি পরিশোধ করে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষিত হজ প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। এই ক্ষেত্রে নিবন্ধনের অর্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিতে হবে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্থ জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে, যা হজ পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবারও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ছাড়াও হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গুরুতর মানসিক বা স্নায়ুবিক সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তরা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যান্সার রোগী, যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা ফিটনেস সনদের অভাবে হজে যেতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধনের সুবিধার্থে হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়ই প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা এবং কাঙ্ক্ষিত হজ প্যাকেজ বাছাই করে নিতে হবে।

/আশিক


কোরআনের চোখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারা?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২০:৫০:২২
কোরআনের চোখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনে যেখানে ‘ক্ষতি’ (খুসরান)-এর কথা এসেছে, তা মূলত দ্বিনের ক্ষতিকেই নির্দেশ করে। কোরআনের পরিভাষায় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ মূলত তারাই, যারা নিজেদের আখিরাত ও ঈমান হারিয়েছে।

কোরআনের আলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের ধরন ও তাদের পরিচয় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

১. কুফরিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি

আল্লাহ তাআলার প্রতি কুফরই মানবজীবনের সর্ববৃহৎ ক্ষতি। এটি এমন এক চিরস্থায়ী ব্যর্থতা, যা মানুষকে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

‘যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করেছে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।’

(সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত : ৫২)

২. সম্পদ ও সন্তানের কারণে বিভ্রান্তি

ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অনেক মানুষের চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নুহ (আ.) তাঁর জাতির কাফিরদের সম্পর্কে বলেছিলেন:

‘তারা আমার অবাধ্য হয়েছে এবং এমন লোকদের অনুসরণ করেছে, যাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে।’

(সুরা : নুহ, আয়াত : ২১)

৩. সৃষ্টিগত নিদর্শন ও শরিয়ত অস্বীকার

যে কুফর মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তার অন্যতম হলো আল্লাহর সৃষ্টিগত নিদর্শন ও শরিয়তের বিধানসমূহ প্রত্যাখ্যান করা। আল্লাহ বলেন:

‘যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’

(সুরা : আয-যুমার, আয়াত : ৬৩)

৪. মনগড়া কাজ ও আত্মমুগ্ধতা

কিছু মানুষ এমন অনেক আমল করে, যা তারা সৎকর্ম মনে করে। কিন্তু তাদের সব পরিশ্রম দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে; আখিরাতে তা কোনো কাজে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

‘বলুন, আমি কি তোমাদের এমন লোকদের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হলো সেইসব মানুষ, যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনেই ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুব ভালো কাজ করছে।’

(সুরা : আল-কাহফ, আয়াত : ১০৩-১০৪)

৫. দুনিয়ার স্বার্থে ঈমান আনয়ন

কিছু মানুষের ঈমান কেবল পার্থিব স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল। ঈমানের মাধ্যমে ধন-সম্পদ বা পদমর্যাদা মিললে তারা দ্বিনের ওপর থাকে, কিন্তু কোনো পরীক্ষা বা বিপদে পড়লেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ বলেন

‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যারা দ্বিধাগ্রস্তভাবে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি তার কোনো কল্যাণ হয়, তবে সে তাতেই সন্তুষ্ট থাকে; আর যদি কোনো পরীক্ষায় পড়ে, তবে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ই হারায়। এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

(সুরা : হজ, আয়াত : ১১)

কোরআনে উল্লেখিত অন্যান্য ক্ষতির কারণসমূহ

অন্যায়ভাবে হত্যা

‘সে নিজের ভাইকে হত্যা করল, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা : আল-মায়িদা, আয়াত : ৩০)

দারিদ্র্য বা লজ্জার ভয়ে সন্তান হত্যা

‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নির্বুদ্ধিতাবশত ও অজ্ঞতার কারণে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করেছে।’ (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ১৪০)

আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা

‘আল্লাহর কৌশল থেকে শুধু ক্ষতিগ্রস্তরাই নিজেদের নিরাপদ মনে করে।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ৯৯)

আল্লাহর স্মরণে উদাসীনতা

‘হে মুমিনরা! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। আর যে এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা : আল-মুনাফিকুন, আয়াত : ৯)

আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা

‘তোমাদের প্রতিপ্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের এই কুধারণাই তোমাদের ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ২৩)

কাফিরদের অন্ধ আনুগত্য

‘হে ঈমানদাররা! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাদের পিছিয়ে দেবে, আর তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৯)

অঙ্গীকার ভঙ্গ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

কোরআনে আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও অন্যায়ভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে ধ্বংসের মূল কারণ বলা হয়েছে

‘সেই সকল লোক, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি পরিপক্ব করার পরও ভেঙে ফেলে এবং যেই সম্পর্ক রক্ষা করতে তিনি আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে; বস্তুত এমন সব লোক অতি ক্ষতিগ্রস্ত।’

(সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ২৭)

এখানে আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার বলতে আলমে আরওয়াহে (রূহের জগতে) মানবজাতির কাছ থেকে নেওয়া তাওহীদের স্বীকৃতিকে বোঝায়, যা সুরা আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে:

‘যখন তোমার রব আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী বানিয়েছিলেন—আমি কি তোমাদের রব নই? সবাই জবাব দিয়েছিল, কেন নয়? আমরা সবাই সাক্ষ্য দিচ্ছি...’

(সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ১৭২)

কোরআনের মূল শিক্ষা হলো—পার্থিব সম্পদ, পদমর্যাদা বা সুযোগ-সুবিধা হারানো প্রকৃত ক্ষতি নয়; বরং ঈমান ও আখিরাত হারানোই হলো সবচেয়ে বড় দেউলিয়াত্ব। আর প্রকৃত সফলতা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আখিরাতে মুক্তি লাভের মধ্যেই নিহিত।

/আশিক


প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১১:২৩:২০
প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে এমন অনেক আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করতে সময় খুব বেশি লাগে না, কিন্তু সওয়াব ও ফজিলতের দিক থেকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন কিছু দৈনন্দিন আমল শিখিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত পালন করলে আল্লাহর রহমত, নিরাপত্তা, ক্ষমা এবং আখিরাতে সফলতার আশা করা যায়। আলেমদের মতে, এসব আমল শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ নয়; বরং একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনকে আল্লাহর স্মরণে পরিচালিত করার একটি সুন্দর পদ্ধতি।

দিনের শুরুতে ফজরের সালাত আদায়কে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ৬৫৭)। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিসের অর্থ হলো, ফজরের সালাত একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও অনুগ্রহের কারণ হতে পারে। তাই সম্ভব হলে জামাআতে ফজরের নামাজ আদায় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা। একটি সহিহ হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।" (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নাসাঈ: ১০০; শাইখ আল-আলবানী রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)। অল্প সময়ের এই আমল একজন মুসলিমের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ বহন করে।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারকে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সহিহ বুখারির বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সকালে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, অথবা রাতে পড়ে সকালে মৃত্যুবরণ করে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)। তাই প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু..." দোয়াটি পাঠ করার কথাও হাদিসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহর ইচ্ছায় তাকে আকস্মিক বিপদ-আপদ ক্ষতি করতে পারবে না (সুনান আবু দাউদ: ৫০৮৮; সুনান তিরমিযী: ৩৩৮৮)। ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাঁর হেফাজত কামনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিকির।

ভ্রমণে বের হওয়ার সময় বা প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলতেন, "আস্তাওদি'উল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতীমা আমালিকা" অর্থাৎ, "আমি তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার জীবনের শেষ আমলগুলো আল্লাহর জিম্মায় সোপর্দ করছি।" (সুনান আবু দাউদ: ২৬০০; সুনান তিরমিযী: ৩৪৪৩)। এই দোয়া শুধু ভ্রমণকারীর জন্য নয়, বরং নিজের ও পরিবারের জন্যও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনার একটি সুন্দর মাধ্যম।


২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১২:০৯:৩৬
২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ পালনের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি পৃথক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নতুন প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম খরচের ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ গ্রহণ করতে হজযাত্রীদের ব্যয় হবে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই প্যাকেজেই হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন, মিনা-আরাফার সেবা এবং সৌদি আরবে অবস্থানকাল বিবেচনায় পৃথক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পান আগ্রহীরা।

হজ প্যাকেজ-১: হারাম শরীফের কাছাকাছি আবাসনের সুবিধা

সরকারি প্যাকেজগুলোর মধ্যে তুলনামূলক উন্নত সুবিধাসম্পন্ন হজ প্যাকেজ-১-এ মক্কায় মসজিদুল হারামের বহিঃচত্বর থেকে ১,০০০ থেকে ১,৪০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মদিনায় হজযাত্রীরা মারকাজিয়া এলাকায় অবস্থানের সুযোগ পাবেন, যা মসজিদে নববীর নিকটবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া মিনায় এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা ও আরাফার কার্যক্রমে ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং অনুমোদিত মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্যাকেজে সাধারণত সৌদি আরবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড কিংবা স্বল্পমেয়াদি (শর্ট) প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

হজ প্যাকেজ-২: কম খরচে সরকারি হজের সুযোগ

অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী এই প্যাকেজে মক্কায় হোটেল থাকবে মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। মদিনায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে মারকাজিয়া এলাকার বাইরে, তবে মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে।

এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা ও আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার পরিবেশনের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সরকার জানিয়েছে, যদি কোনো হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সৌদি আরবের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী হজযাত্রীদের জন্য সালাওয়াত বাস-এর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে যাতায়াতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

প্যাকেজ নির্বাচন করবেন কীভাবে?

হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব হজযাত্রী হারাম শরীফের কাছাকাছি আবাসন, অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থান এবং উন্নত সেবা চান, তারা হজ প্যাকেজ-১ বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে ব্যয় কম রাখতে আগ্রহীরা হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) নির্বাচন করলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিতভাবেই পাবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে হজ নিবন্ধন, কিস্তি পরিশোধ, ভিসা, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সূচি পৃথকভাবে প্রকাশ করা হবে।

-রাফসান


মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ০৯:৪৮:৪৮
মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত
ছবি : সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, আর হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় জোহরের নামাজ আদায়ের সময় দুপুর ১২টা ০৮ মিনিট। আসরের নামাজ বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে এবং এশার নামাজ রাত ৮টা ১৪ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

পরবর্তী দিনের অর্থাৎ বুধবার (২২ জুলাই)-এর ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৩টা ৫৯ মিনিটে। এছাড়া আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই প্রতিদিনের সময়সূচি জেনে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ধর্মীয় অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানীয় মসজিদের অনুসৃত সময় গণনা পদ্ধতি কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডারের কারণে সময়সূচিতে এক থেকে দুই মিনিটের সামান্য পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষিত সময়কেও অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:০৯:২৯
আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিট, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট এবং এশার নামাজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে আদায় করা হবে।

পরবর্তী দিনের অর্থাৎ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)-এর ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৩টা ৫৬ মিনিটে। এছাড়া আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২২ মিনিটে।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময় জেনে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থান, মসজিদের অনুসৃত হিসাবপদ্ধতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডারের কারণে সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষিত সময়সূচিও অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:২৬:৩৭
আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
ছবি : সংগৃহীত

মুসলিমদের দৈনন্দিন ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তাই প্রতিটি ওয়াক্তের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা প্রয়োজন। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা।

আজ ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৩০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নতুন দিনের ইবাদত ও দৈনন্দিন আমল যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে। এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামী দিনের সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৮ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই নামাজ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণ, কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে বাইরে অবস্থানকারীদেরও সময় জেনে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:০৯:২৮
আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২৯ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিদিনের ওয়াক্ত অনুযায়ী সময় জেনে ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া মুসল্লিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও সঠিক সময় সম্পর্কে ধারণা থাকলে নামাজ আদায় সহজ হয় এবং ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে। দিনের শেষ ভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

পরবর্তী দিনের প্রস্তুতির জন্যও সময় জানা জরুরি। বুধবার (১৫ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার নির্ভুল সময় জানতে স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা অথবা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

পাঠকের মতামত: