ইসলামের ইতিহাস

বোনের কোরআন পাঠে হার মানল দম্ভ; হজরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের বিস্তারিত ঘটনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৩ ২১:২৭:৪৭
বোনের কোরআন পাঠে হার মানল দম্ভ; হজরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের বিস্তারিত ঘটনা
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলামের মহান চার খলিফার অন্যতম দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণকে ইসলামের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ তাঁর ইসলাম গ্রহণের পরই মুসলমানেরা প্রকাশ্যে তাদের ধর্ম প্রচারের সুযোগ পান। হজরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম অসামান্য সাহসী এবং বাগ্মী নেতা। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দাপটের কারণে কাফেররা তাঁর মুখোমুখি হতে বা মোকাবিলা করতে ভয় পেত।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, যদি তাঁর পরে কাউকে নবী করা হতো, তবে তিনি হতেন হজরত ওমর (রা.)।

আল্লাহর কাছে রসুল (সা.)-এর বিশেষ দোয়া

রসুল (সা.)-এর কাছে ইসলামের প্রথম দিকে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তাদের ওপর নেমে আসে মক্কার প্রভাবশালী নেতাদের ভয়াবহ ও অমানবিক নির্যাতন। সেই কঠিন সময়েও দুর্বল সাহাবিরা ইমানের ওপর ছিলেন অটল। মক্কার প্রভাবশালীদের উৎপীড়নে ব্যথিত হয়ে রসুল (সা.) একপর্যায়ে আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! ওমর ইবনে খাত্তাব এবং আবু জেহেলের মধ্যে তোমার কাছে যে বেশি পছন্দনীয়, তাকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দাও এবং তার দ্বারা ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করো।" মহান আল্লাহ্‌র কাছে রসুল (সা.)-এর এই বিশেষ দোয়াটি অচিরেই কবুল হয় এবং আল্লাহ্‌ হজরত ওমর (রা.)-এর অন্তরকে ইসলামের জন্য পরিবর্তন করে দেন।

ইসলাম গ্রহণের ঘটনা

হজরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের গুটিকয় শিক্ষিত লোকের অন্যতম। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন কুস্তিগির, মল্লযোদ্ধা ও একজন সুপরিচিত বক্তা। একসময় তিনি রসুল (সা.)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে মক্কার পথে রওনা হয়েছিলেন।

পথিমধ্যে তিনি সাহাবি নাইম বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নাইম হজরত ওমর (রা.)-এর উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরে তাকে জানান, রসুলকে হত্যার আগে নিজের বোন ফাতিমা এবং ভগ্নিপতি সাইদের খোঁজ নেওয়া উচিত, কারণ তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ কথা শুনে ক্রোধে ফেটে পড়ে ওমর (রা.) ছুটে চললেন বোনের বাড়ির দিকে।

ঘরে ঢোকার আগেই তিনি শুনতে পান যে তার বোন ফাতিমা রসুল (সা.)-এর ওপর নাজিল হওয়া কোরআন পাঠ করছেন। পায়ের শব্দ কানে আসা মাত্রই ফাতিমা চুপ হয়ে যান এবং কোরআনের পাতা লুকিয়ে ফেলেন। ঘরে ঢুকেই ক্ষুব্ধ ওমর (রা.) জানতে চান, তারা কী পড়ছিলেন। এরপর তিনি তাদের ধর্মত্যাগী হওয়ার জন্য দোষারোপ করে ভগ্নিপতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বামীকে রক্ষা করতে বোন এগিয়ে এলে ওমর (রা.) তাকেও আঘাত করেন, ফলে ফাতিমা এবং তার স্বামী দু'জনেই রক্তাক্ত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায়ও ইমানের বলে বলীয়ান হয়ে বোন ফাতিমা দৃঢ়কণ্ঠে তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, "ভাই, তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো। আমরা সব সহ্য করব। শুধু জেনে রাখো, আমরা ইসলাম ত্যাগ করব না।"

বোনের এমন তেজোদীপ্ত কথা শুনে দম্ভ ও ক্রোধে থাকা ওমর (রা.) থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর কঠিন হৃদয় মোমের মতো গলে গেল। তিনি শান্ত হয়ে বললেন, "আচ্ছা! তোমরা যা পাঠ করছিলে, আমাকে একটু পড়তে দাও দেখি, তাতে এমন কী আকর্ষণ আছে, যা তোমাদের এমন দৃঢ়চেতা করে তুলেছে।"

কিন্তু তাঁর বোন ফাতিমা বললেন, "তুমি এখন নাপাক। এ কিতাব শুধু পাক-পবিত্র লোকই স্পর্শ করতে পারে।" তখন হজরত ওমর (রা.) গোসল করে পবিত্র হলেন। তারপর কোরআন পাঠ করে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। কুরাইশদের অন্যতম এই প্রভাবশালী নেতা মুহূর্তেই পাল্টে যান।

প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা

হজরত ওমর (রা.) সেই তলোয়ার হাতেই রসুল (সা.)-এর দরবারে ছুটে চললেন। তাঁর পায়ের শব্দ শুনে সাহাবিরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও, আরবের অন্যতম সেরা বীর হজরত হামজা (রা.) সাহসের সঙ্গে বললেন, "ওমর এসেছে তো কী হয়েছে, দরজা খুলে দাও। যদি খারাপ উদ্দেশ্যে এসে থাকে, তবে তার তলোয়ার দিয়েই আমরা তাকে শেষ করে দেব।"

এই ঘটনার সময় রসুল (সা.) দরবারের ভিতরের দিকে ছিলেন এবং সে সময় তাঁর ওপর ওহি নাজিল হচ্ছিল। ওহি নাজিল হওয়ার পর রসুল (সা.) হজরত ওমরের কাছে এলেন এবং তাঁর পরিধানের পোশাক ও তলোয়ারের একাংশ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, "হে আল্লাহ! ওমর ইবনে খাত্তাবের দ্বারা দীনের শক্তি ও সম্মান দান করো।"

এ কথা শুনে হজরত ওমর (রা.) রসুল (সা.)-এর হাত ধরে বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রসুল।" হজরত ওমরের কলমা পাঠ শোনামাত্র ভিতরে উপস্থিত সকল সাহাবিরা উচ্চস্বরে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে উঠলেন।

হজরত ওমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। তিনি বাদে অন্য সবাই প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন গোপনে। কিন্তু ওমরের ইসলাম গ্রহণ এবং মুসলমান হিসেবে তৎপরতা ছিল সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে। তাঁর ইমানদারির মধ্যে ছিল কুরাইশদের বিরুদ্ধে এক প্রকার বিদ্রোহের সুর।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের আগে তিনি প্রথমে কাবা তাওয়াফ করলেন। তারপর কুরাইশদের মজলিসে গিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, "আমি মদিনায় হিজরত করব। যদি কেউ তার মাকে পুত্রশোক দিতে চায়, সে যেন এ উপত্যকার অন্য প্রান্তে আমার মুখোমুখি হয়।" এমন একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি মদিনার পথে রওনা দেন। কিন্তু তাঁর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৩৩:৩৩
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।

তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।

/আশিক


আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৫৪:৩৬
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২০:৪৮:৩৭
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:৪৬:১১
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকলেও আগ্রহীদের সাড়া মিলছে তুলনামূলকভাবে কম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যার তুলনায় এখনো প্রায় সম্পূর্ণ কোটাই খালি পড়ে রয়েছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত এই তারিখের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। হজে গমনেচ্ছুকদের শুরুতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে হবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৫ বছর। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিলতা, ডিমেনশিয়া, স্নায়বিক ও মানসিক রোগ, চলমান থেরাপিতে থাকা ক্যানসার রোগী এবং যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার অনুমোদন পাবেন না। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা শেষ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৪৪:১৩
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ৯ ভাদ্র এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ রবিউল আউয়াল। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের শুরু বিবেচনায় নিয়ে মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিন সময়ের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট এবং মাগরিবের ওয়াক্তও শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে।

পরবর্তী দিন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। ফলে ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের আগেই নামাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি মুসল্লিদের খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকার বাইরে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের ওয়াক্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই অন্য জেলা বা বিভাগে অবস্থানকারী মুসল্লিদের নিজ এলাকার জন্য প্রযোজ্য নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সময় পরিবর্তিত হয়। এ কারণে প্রতিদিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা সুবিধাজনক।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:২৪:৫৭
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং নতুন ইসলামি বর্ষ শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে এসব ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত দিনক্ষণ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈজ্ঞানিক গণনার সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা সরাসরি নির্ভর করে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি আরবি মাস শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় আরব আমিরাতসহ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ স্পষ্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ ওই সময়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশটিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।

পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের শুরুর ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সময় নির্ধারিত হবে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের নতুন চাঁদ আকাশে দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায় এবং রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে; অর্থাৎ ৯ বা ১০ মার্চের যেকোনো একদিন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

পবিত্র হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যার আগের দিন ৯ জিলহজ পালিত হয় পবিত্র আরাফাহ দিবস। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার বা ৭ মে শুক্রবার জিলহজের চাঁদের দেখা মিলতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের ১৬ মে রবিবার কিংবা ১৭ মে সোমবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা ঘটবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ৫ জুন শনিবার থেকে ৭ জুন সোমবারের মধ্যে যেকোনো একদিন নতুন ইসলামি বর্ষের প্রথম দিন বা ১ মহররম সূচিত হতে পারে। তবে সমস্ত ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।

/আশিক


মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২০:২০:২৭
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধাকে ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আবাসন স্থাপনাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানান, সেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানদণ্ডে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অতিথি কক্ষ ও অভ্যর্থনা এলাকার মান এবং জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

সেবার মান বজায় রাখতে লাইসেন্স অনুমোদনের আগে, কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে এবং পরিচালনাকালে—একাধিক ধাপে পরিদর্শন ও তদারকি চালানো হবে। ২০২৭ সালের হজে আবাসনসেবা দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২০:২৪:১৬
চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ায় আগামীকাল ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট (শনিবার) থেকে হিজরি ১৪৪৮ সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু করা হবে।

সেই হিসাব অনুসরণ করে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধর্মীয় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১০:১৬:৫৭
আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায়ের জন্য ওয়াক্তের সঠিক সময় জানা প্রয়োজন। আজ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬; বাংলা পঞ্জিকায় ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ এবং হিজরি হিসাবে ২৭ সফর ১৪৪৮। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সময়সূচির ভিত্তিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় এখানে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১২ মিনিটে। জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিটে। স্থানীয় অবস্থান ও মসজিদের জামাতের সময় ভিন্ন হতে পারে, তাই জামাতে নামাজ আদায় করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নির্ধারিত সময় জেনে নেওয়া ভালো।

আজ ঢাকায় সূর্যোদয়ের সময় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। নামাজের সময় নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও মুসল্লিদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

আগামীকাল বুধবার, ১২ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে। এদিন সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে। অর্থাৎ আজকের তুলনায় আগামীকাল ফজরের সময় এক মিনিট এবং সূর্যোদয়ের সময়ও এক মিনিট পিছিয়ে যাবে।

ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে হিসাব করতে হবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একই বিভাগ বা জেলার মধ্যেও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং নামাজের ওয়াক্তে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও ইশার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে অনুসরণ করা নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং নিকটবর্তী মসজিদের ঘোষিত জামাতের সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।

একনজরে ঢাকার আজকের সময়: ফজর ভোর ৪টা ১২ মিনিট, জোহর দুপুর ১২টা ৭ মিনিট, আসর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, মাগরিব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশা সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিট। সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পাঠকের মতামত: