কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১২:০৫:২১
কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
ছবিঃ সংগৃহীত

আমাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই আসলে সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত। কখনো উদ্বেগে ভোগেন, কখনো সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বেশি ভাবেন, আবার কখনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোটানায় থাকেন। ফলে জীবনে অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়।

একজন শিক্ষকের কথা এখানে প্রাসঙ্গিক। লেখক স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেছেন, স্কুলজীবনে তাঁর শিক্ষক প্রায়ই বলতেন “জীবন হলো তোমার নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল।” তখন এই কথাটি ছাত্রদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি, বরং তাঁকে “choices guy” বলে মজা করা হতো। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কথাটির গভীরতা পরিষ্কার হয়ে গেছে মানুষ আসলেই তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে।

সিদ্ধান্তহীনতার কারণ

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে কারণ তারা ‘Outcome Think’-এ ভোগেন। অর্থাৎ, ফলাফলের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেন। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড মার্কস তাঁর আলোচিত বই The Most Important Thing এ লিখেছেন “একটি সিদ্ধান্তের সঠিকতা কেবল তার ফলাফল দিয়ে বিচার করা যায় না।” কারণ আমরা ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, কেবল আমাদের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

যেমন, কেউ যদি একটি বাড়ি কিনে তা বিক্রি করে ১ লাখ ডলার লাভ করার আশা করেন, তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বাজার পরিস্থিতিকে ফলাফলের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছেন। এতে অযথা উদ্বেগ বাড়বে এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হবে। তাই ফলাফল নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

জটিলতা নয়, সরলীকরণ জরুরি

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বিশ্লেষণ মানুষকে কার্যত অচল করে দেয় যাকে বলা হয় Analysis Paralysis। একইভাবে Decision Fatigue বা সিদ্ধান্ত ক্লান্তিও একটি বড় সমস্যা; যখন পরপর অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন সিদ্ধান্তের গুণগত মান কমে যায়। আবার অনেক তথ্যের ভিড়ে (Information Overload) কিংবা প্রচুর বিকল্প সামনে থাকলে (Overchoice) মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তকে সহজ করতে হবে এবং বিকল্প সীমিত করতে হবে। বিষয়গুলো যত জটিল করা হবে, ততই বিভ্রান্তি বাড়বে। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সরলীকরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পরিস্থিতি থেকে মানসিক বিচ্ছিন্নতা দরকার

অনেক সময় মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও আফসোসে ভোগেন যাকে বলা হয় Buyer’s Remorse। ব্যয়বহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেমন ক্যারিয়ার নির্বাচন, বিয়ে কিংবা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হতে পারে।

গবেষণা বলছে, কোনো সিদ্ধান্তে যত বেশি সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করা হয়, ততই আফসোস বা অনুশোচনার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত থেকে মানসিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে হবে। ব্যর্থতা আসলে তাতে দমে যাওয়ার কিছু নেই সবসময় বিকল্প সুযোগ থাকে। ভুল সিদ্ধান্ত নয়, বরং দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই মানুষের জীবনে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনে।

কেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত জরুরি

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সিদ্ধান্তহীনতাকে দেখা হয়। সম্পর্ক, ক্যারিয়ার, ব্যবসা প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই মনে করেন সিদ্ধান্তহীনতা আত্মবিশ্বাসের অভাবের প্রতিফলন।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো মূল্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যত বেশি বিষয়কে জটিল করে তোলা হবে, ততই পিছিয়ে পড়তে হবে। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে এটি সত্যি “সিদ্ধান্ত নাও এবং এগিয়ে চলো।”


মার্কেটিং ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে গল্প বলার চার বৈজ্ঞানিক নীতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ০৯:০৩:১০
মার্কেটিং ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে গল্প বলার চার বৈজ্ঞানিক নীতি
ছবিঃ সংগৃহীত

সফল নেতা, দক্ষ মার্কেটার কিংবা দূরদর্শী উদ্যোক্তা প্রত্যেকেই মূলত একজন শক্তিশালী গল্পকার। কারণ গল্প বলা কেবল শিল্প নয়, এটি একাধারে মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং আচরণগত নকশায় ভিত্তিক এক বিজ্ঞান। নতুন গ্রন্থ A Story is a Deal থেকে অভিযোজিত চারটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নীতি এখানে তুলে ধরা হলো, যা গল্পকে করে তোলে প্রভাবশালী ও প্ররোচনামূলক।

১. শ্রোতাকে নিজের গল্পের সাথে একাত্ম করা

গল্পের মূল শক্তি নিহিত থাকে পরিচিতি বা Identification-এ। যখন কোনো শ্রোতা বা পাঠক গল্পের নায়ক কিংবা পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান, তখন তারা অবচেতনে সেই অভিজ্ঞতাকে নিজেদের বলে অনুভব করেন। এ কারণে গল্পের বার্তা দীর্ঘমেয়াদে মনে গেঁথে যায়।

স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা এ ধারণাকে সমর্থন করে। বিবিসি স্টোরিওয়ার্কস-এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, আবেগপূর্ণ গল্প দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কার্যকর। বিশেষ করে, গল্পে আবেগের তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি যত বেশি হয়, প্রভাবও তত দীর্ঘস্থায়ী হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, গল্পের শুরুতেই আবেগময় মুহূর্ত রাখলে স্মৃতিতে তার ছাপ আরও গভীর হয়।

ব্যবসায়িক শিক্ষা: গ্রাহক ধরে রাখা ও ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা তৈরি করতে এমন গল্প ব্যবহার করুন, যেখানে আপনার শ্রোতারা নিজেদের জীবন, চ্যালেঞ্জ কিংবা স্বপ্নকে প্রতিফলিত হতে দেখবেন।

২. সরলতায় শক্তি

বাস্তবতা জটিল হলেও, প্ররোচনামূলক গল্পের শক্তি নিহিত থাকে সরলতায়। মানুষের মস্তিষ্ক পরিষ্কার ও সোজাসাপ্টা বার্তা পছন্দ করে। জটিলতা বাড়লে চিন্তার চাপও বাড়ে, ফলে আগ্রহ হারিয়ে যায়। একক নায়ক ও সহজ ভাষাভিত্তিক গল্প অনেক বেশি কার্যকর।

মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন “Identifiable Victim Effect”। যেমন, সিরীয় শরণার্থী শিশু অ্যালান কুর্দির লাশের ছবি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং একটি সংস্থার অনুদান বেড়েছিল ১৫ গুণ। অপরদিকে, চ্যানেল ব্র্যান্ডের অতিমাত্রায় বিমূর্ত বিজ্ঞাপন ব্যর্থ হয়েছে শুধু জটিল ও দুর্বোধ্য ভাষার কারণে। গবেষণা প্রমাণ করে, অতিরিক্ত জার্গন ব্যবহার অনেক সময় বুদ্ধিমত্তার বদলে নিম্নতর অবস্থান প্রকাশ করে।

ব্যবসায়িক শিক্ষা: আপনার উপস্থাপনা, পিচ কিংবা বিজ্ঞাপনে সরল ও সহজবোধ্য ভাষা ব্যবহার করুন। বিমূর্ততা বা কঠিন শব্দ পরিহার করুন, বরং স্পষ্টতা বজায় রাখুন।

৩. বাধা ও লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা

মানুষের গল্প বলার প্রাচীনতম উদ্দেশ্য ছিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল ভাগাভাগি করা। তাই প্রভাবশালী গল্পে সবসময় একজন নায়ক থাকেন, যিনি নির্দিষ্ট বাধার সম্মুখীন হন এবং তা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছান। এখানে চূড়ান্ত জয়ের পাশাপাশি মূল শিক্ষা বা lesson-ও শ্রোতাকে অনুপ্রাণিত করে।

ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষা হতে পারে আপনার পণ্য বা সেবা কীভাবে গ্রাহকের নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করবে এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে পৌঁছে দেবে।

ব্যবসায়িক শিক্ষা: স্পষ্টভাবে গ্রাহকের সমস্যা চিহ্নিত করুন, দেখান কীভাবে আপনার সমাধান কার্যকর, এবং রূপান্তরের ফলাফল তুলে ধরুন। এতে গ্রাহকের বিশ্বাস বাড়ে এবং তারা পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়।

৪. নির্দিষ্ট ও বাস্তবচিত্রময় হওয়া

অস্পষ্ট ও সাধারণীকৃত গল্প মনে থাকে না। বরং নির্দিষ্ট ও বাস্তব চিত্রসমৃদ্ধ গল্প মানুষের মস্তিষ্কে কল্পনা জাগিয়ে তোলে এবং দীর্ঘদিন স্মৃতিতে থাকে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এই কৌশল কার্যকর সুস্পষ্ট ও কংক্রিট ভিশন কর্মীদের প্রেরণা বাড়ায় এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে।

উদাহরণস্বরূপ, জন এফ. কেনেডি যখন ঘোষণা দেন “একজন মানুষকে চাঁদে পাঠানো হবে এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরানো হবে” তখন লক্ষ্যটি হয়ে ওঠে বাস্তব ও অর্জনযোগ্য। একইভাবে, বিল গেটসের স্বপ্ন “প্রতিটি ঘরে ও ডেস্কে একটি কম্পিউটার” ছিল স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট, যা মাইক্রোসফটকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়িক শিক্ষা: আপনার ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে অস্পষ্ট ভাষায় নয়, বরং স্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও বাস্তবভাবে তুলে ধরুন। তবেই আপনার দল ও গ্রাহক উভয়েই সেই ভিশনকে ধারণ করতে পারবেন।

সংক্ষেপে বলা যায়, গল্প বলা শুধুই বিনোদন নয়, বরং নেতৃত্ব, মার্কেটিং ও উদ্যোক্তা জীবনে এটি এক অপরিহার্য বিজ্ঞান। সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে গল্প গ্রাহকের মনে ব্র্যান্ডকে অমর করে তোলে, কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে এবং সাফল্যের পথকে করে আরও সুদৃঢ়।


বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ২২:০২:০৮
বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
ছবিঃ সংগৃহীত

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যম, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, বিনোদনসহ সব কিছুর জন্য আমরা এই একটি ডিভাইসের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এই নির্ভরতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় ফোন বালিশের নিচে বা মাথার পাশে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো একেবারেই উচিত নয়। এই অভ্যাস ঘুমের মান নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো উচিত নয়?

নীল আলোর প্রভাব: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরের মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের মান কমে যায় এবং ধীরে ধীরে অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও, সারারাত ফোনে আসা নোটিফিকেশন বা অ্যালার্টও ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, যার ফলে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।

রেডিয়েশনের ঝুঁকি: স্মার্টফোন থেকে ক্রমাগত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) রেডিয়েশন নির্গত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই রেডিয়েশনের সংস্পর্শে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাহলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ঘুমানোর সময় স্মার্টফোনকে শরীর থেকে কমপক্ষে ৩-৪ ফুট (প্রায় ১ মিটার) দূরে রাখতে হবে। এতে ফোনের রেডিয়েশন, নীল আলো এবং অতিরিক্ত তাপ আপনার শরীরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। প্রয়োজনে অ্যালার্ম সেট করে ফোনটি বিছানার দূরের দিকে বা পাশের টেবিলে রেখে দিন। সুস্থ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য ফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।

/আশিক


 মানসিক প্রশান্তির সঙ্গী বিড়াল: কেন এই প্রাণীটি এত জনপ্রিয়?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ১৭:৪৪:৪৪
 মানসিক প্রশান্তির সঙ্গী বিড়াল: কেন এই প্রাণীটি এত জনপ্রিয়?
ছবিঃ সংগৃহীত

একটি শান্ত দুপুরে জানালার পাশে বসে থাকা এক তরুণীর একাকিত্বের অনুভূতি হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়, যখন তার পোষা বিড়ালটি এসে কোলে উঠে আরামদায়ক ‘গরগর’ শব্দ করতে থাকে। এমন দৃশ্য শুধু গল্পে নয়, প্রতিদিনের জীবনেও ঘটে। বিড়াল পোষা শুধু ভালোবাসার সম্পর্কই নয়, এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের জীবন্ত থেরাপি।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের উপস্থিতি মানুষের জীবনে শান্তি আনে, একাকিত্ব দূর করে এবং শরীরের ভেতর ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৯ মিলিয়ন পরিবারে বিড়াল পোষা হয়, যা এই প্রাণীটির জনপ্রিয়তা এবং এর উপকারিতার একটি বড় প্রমাণ।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

বিড়ালের সংস্পর্শ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা একাকীত্ব ও উদ্বেগ কমায় এবং এক ধরনের স্বস্তিদায়ক সঙ্গ দেয়। তাদের খুনসুটি, অদ্ভুত আচরণ এবং মজার কাণ্ড আমাদের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিড়াল পোষেন, তারা অন্যদের তুলনায় কম একাকীত্বে ভোগেন। বিড়ালের শান্ত বা বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব মানুষের মধ্যে আরও বেশি আবেগ তৈরি করে।

শারীরিক উপকারিতা

বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী ‘কর্টিসল হরমোনের’ মাত্রা কমে যায়, যা দুশ্চিন্তা কমায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। মাত্র ১০ মিনিট বিড়ালের সঙ্গে খেলা করলেই শরীরের ছন্দ ফিরে আসে এবং মন শান্ত হয়।

অন্য একটি গবেষণায় ১২০ দম্পতিকে মানসিক চাপ মাপার পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়। এতে দেখা যায়, বিড়াল পোষা দম্পতিরা মানসিক চাপের পরিস্থিতিতেও তুলনামূলকভাবে স্থির থাকেন। তাদের হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল, এবং তারা চ্যালেঞ্জগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।

বিড়ালের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ‘গরগর’ শব্দ। এই শব্দের কম্পন ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজের মধ্যে থাকে, যা বিশেষভাবে ২৫ থেকে ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে মানুষের হাড় ও পেশি পুনর্গঠনে সহায়তা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এই কম্পন হাড় দ্রুত সেরে ওঠায় সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ, বিড়াল যখন ‘গরগর’ করে, তখন তারা কেবল নিজেদের আরামই দিচ্ছে না, মানুষের শরীরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সামগ্রিক জীবনযাত্রায় বিড়াল

যারা বিড়াল পোষেন, তারা সাধারণত বেশি কল্পনাপ্রবণ, কৌতূহলী ও সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। বিড়াল পোষা জীবনে একটি রুটিন তৈরি করে, যা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। অনেক মালিক এখন তাদের বিড়ালকে বাইরে নিয়ে যান, যাতে প্রাণীটি নিরাপদে প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকতে পারে এবং মালিক নিজেও মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন।

এছাড়াও, বিড়াল পোষা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে, বিড়াল পোষা শুধু ভালোবাসা বা সঙ্গী নয়, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি উপকারী অভ্যাস।

তথ্য সূত্র: হেলথলাইন


কাঁচা পেঁপের উপকারিতা ও সতর্কতা: প্রাকৃতিক ওষুধের ভাণ্ডার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৫ ০৯:৩৩:১৬
কাঁচা পেঁপের উপকারিতা ও সতর্কতা: প্রাকৃতিক ওষুধের ভাণ্ডার
ছবি: সংগৃহীত

কাঁচা পেঁপে শুধু একটি সাধারণ সবজি নয়, বরং এটি এক প্রকার প্রাকৃতিক ওষুধ। এতে রয়েছে নানা ভিটামিন, খনিজ এবং বিশেষ উপাদান, যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকরা বলছেন, কাঁচা পেঁপেতে পাওয়া যায় প্যাপেইন (Papain) নামক এনজাইম, যা শরীরের নানা জটিল সমস্যার সমাধানে আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকর। তবে এর উপকারিতা উপভোগ করার পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও মানা জরুরি। নিচে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে তোলে এবং পেটের ভারীভাব, গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা দূর করে। যারা নিয়মিত হজম সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে এক প্রকার প্রাকৃতিক প্রতিষেধক।

রক্ত পরিষ্কার করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

শরীরে জমে থাকা টক্সিন বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট করে। কাঁচা পেঁপে সেই টক্সিন বের করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সতেজ, উজ্জ্বল ও সুস্থ।

ওজন কমাতে সহায়ক

কাঁচা পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম, তবে ফাইবার রয়েছে প্রচুর। ফাইবার ক্ষুধা দমন করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এর ফলে অযথা খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এ কারণে ওজন কমাতে চান এমন মানুষের জন্য কাঁচা পেঁপে একটি আদর্শ খাবার।

মাসিকজনিত সমস্যা দূর করে

নারীদের মাসিক চক্র নিয়মিত করতে কাঁচা পেঁপে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে মাসিক সহজ করে এবং ব্যথা কমায়। যারা অনিয়মিত মাসিক বা অতিরিক্ত ব্যথায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁচা পেঁপে কার্যকর। এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করে

লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন ও হজমে ভূমিকা রাখে। কাঁচা পেঁপে লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং হেপাটাইটিসসহ নানা লিভারজনিত অসুখ প্রতিরোধ করে।

ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে

কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন A, C ও E, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে নানা সংক্রমণ ও ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কাঁচা পেঁপের ফাইবার অন্ত্রের গতি বাড়ায় এবং মলকে নরম করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া নিয়মিত থাকে।

আলসার ও গ্যাস্ট্রিক প্রতিরোধে সহায়ক

কাঁচা পেঁপে পেটের প্রদাহ কমায়। যারা আলসার বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি আরামদায়ক খাবার।

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক

কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল নামক ক্ষতিকর উপাদানকে প্রতিরোধ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

সতর্কতা

  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাঁচা পেঁপে অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে, ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
  • অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খেলে ডায়রিয়া, পেট খারাপ বা হজমের গোলযোগ হতে পারে।
  • যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিক এক ভেষজ ওষুধ, যা হজম থেকে শুরু করে ওজন কমানো, লিভার ও হৃদপিণ্ড রক্ষা, এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধ পর্যন্ত নানা উপকারে আসে। তবে এর উপকারিতা পেতে হলে সীমিত পরিমাণে খেতে হবে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন গর্ভাবস্থায়, একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।


মেথি দানা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এক প্রাকৃতিক উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৪ ২১:১৯:৫৯
মেথি দানা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এক প্রাকৃতিক উপায়
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্তমানে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি, যা ২০২২ সালের হিসেবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটিরও বেশি।

ডায়াবেটিস তখনই হয়, যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। তবে প্রকৃতিতেই এর কিছু সহজ সমাধান আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মেথি দানা।

ভারতীয় রান্নাঘরে সহজলভ্য এই বীজ আঁশে সমৃদ্ধ। এটি হজমের গতি ধীর করে রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথির তিনটি প্রধান উপকারিতা রয়েছে:

১. ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি করে: ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বলতে বোঝানো হয়, কোষ কতটা কার্যকরভাবে ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিচ্ছে। যদি এই সংবেদনশীলতা কমে যায়, তবে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। মেথি দানার অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে। ২০০৯ সালে জার্নাল অব মেডিক্যাল ফুড-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে।

২. গ্যাস্ট্রিক এম্পটিং বিলম্বিত করে: ডায়েটিশিয়ানদের মতে, মেথি দানা দ্রবণীয় আঁশে সমৃদ্ধ। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং কার্বোহাইড্রেট ও চিনির শোষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ফল ভিটামিন অ্যান্ড নিউট্রিশন রিসার্চ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ গ্রাম মেথি দানা গরম পানিতে ভিজিয়ে খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. গ্লুকোজ শোষণ কমায়: ভেটেরিনারি ওয়ার্ল্ড-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি দানা অন্ত্রে গ্লুকোজের শোষণ কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে হাইপারগ্লাইসেমিয়ার (অতিরিক্ত রক্তে শর্করা) ঝুঁকি কমে এবং টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিসে মেথি ব্যবহারের পদ্ধতি

যদি আপনার রক্তে শর্করা বেশি থাকে বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে, তবে মেথি দানা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম মেথি দানা ৪-৬ মাস খেলে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি কমে। জার্নাল অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডার-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত এই পরিমাণ মেথি খেলে প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে।

মেথি তৈরির পদ্ধতি: এক চা চামচ (প্রায় ৫ গ্রাম) মেথি দানা নিয়ে আধা কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি পান করুন এবং ভেজানো দানাগুলো চিবিয়ে খান।

মেথি ব্যবহারের সতর্কতা

গর্ভাবস্থায়: মেথি জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষজ্ঞরা স্তন্যদানকালে অতিরিক্ত মেথি খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন।

হরমোন-সংবেদনশীল সমস্যা: মেথি ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করতে পারে। তাই স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের মতো হরমোন-সংবেদনশীল রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।

শরীরের গন্ধ পরিবর্তন: ফুড কেমেস্ট্রি (২০১১)-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মেথিতে থাকা ডাইমিথাইলপাইরাজিন যৌগের কারণে কিছু মানুষের শরীরে ম্যাপল সিরাপের মতো গন্ধ হতে পারে।

অ্যালার্জির ঝুঁকি: মেথি খেলে কারো কারো শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ফোলা দেখা দিতে পারে। খাবারের অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া: মেথির আঁশ ওষুধের শোষণ কমাতে পারে এবং ডায়াবেটিস বা রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


আক্রাসিয়া ইফেক্ট: কেন আমরা পরিকল্পনা করেও কাজ করি না

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১২:১৬:৩১
আক্রাসিয়া ইফেক্ট: কেন আমরা পরিকল্পনা করেও কাজ করি না
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যগুলোর একটি হলো- আমরা জানি আমাদের কী করা উচিত, কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীতটাই করি। এই প্রবণতা শুধু আধুনিক যুগের নয়, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এমন করে আসছে। দার্শনিক সক্রেটিস ও এরিস্টটল এই আচরণের জন্য বিশেষ একটি শব্দ তৈরি করেছিলেন আক্রাসিয়া (Akrasia)। এর অর্থ হলো নিজের উত্তম বিচারবুদ্ধি জেনেও সেটিকে অমান্য করা, অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি লাভকে উপেক্ষা করে তাত্ক্ষণিক আনন্দে ঝুঁকে পড়া। আজকের দিনে আমরা যেটিকে প্রসক্রাস্টিনেশন বা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা বলি, সেটিই মূলত আক্রাসিয়া।

ভিক্টর হুগোর গল্প: দেরির বিরুদ্ধে অদ্ভুত কৌশল

১৮৩০ সালে খ্যাতিমান ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগো এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন যেখানে তাকে স্বল্প সময়ে অসম্ভব এক কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছিল। এক বছর আগে তিনি নতুন বই লেখার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু বছরের পর বছর তা পিছিয়ে দিয়েছেন নানা অজুহাতে—অন্য কাজ, অতিথি আপ্যায়ন, অবসর সময় নষ্ট করা। প্রকাশক যখন বিরক্ত হয়ে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিলেন—ছয় মাসের কম সময়ে বই শেষ করতে হবে—তখন হুগো নিলেন এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।

তিনি তার সমস্ত পোশাক সহকারী দিয়ে একটি বড় বাক্সে তালাবদ্ধ করে রাখলেন। বাইরে যাওয়ার মতো পোশাক না থাকায় তিনি ঘরে আবদ্ধ থাকলেন এবং বাধ্য হয়ে লেখায় মন দিলেন। সেই অদ্ভুত কৌশলের ফলেই দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম বইটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশিত হয়। এই উদাহরণ প্রমাণ করে, মানুষ যখন নিজের ভবিষ্যৎ আচরণকে বেঁধে ফেলে, তখন আক্রাসিয়ার বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব।

আক্রাসিয়ার শিকড়: সময়গত অসঙ্গতি (Time Inconsistency)

আক্রাসিয়ার মূল কারণ হলো আমাদের মস্তিষ্কের একটি দুর্বলতা, যাকে বলা হয় টাইম ইনকনসিসটেন্সি। আমরা যখন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করি, যেমন—ওজন কমানো, নতুন ভাষা শেখা, বা বই লেখা তখন আসলে আমরা পরিকল্পনা করি আমাদের ভবিষ্যৎ সত্তার জন্য। ভবিষ্যতের কথা ভেবে মস্তিষ্ক দীর্ঘমেয়াদি লাভকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

কিন্তু যখন কাজ করার সময় আসে, তখন সিদ্ধান্ত নেয় আমাদের বর্তমান সত্তা। আর বর্তমান সত্তার কাছে ভবিষ্যতের পুরস্কারের চেয়ে বর্তমানের ছোট আনন্দ বেশি মূল্যবান মনে হয়। এ কারণেই আমরা রাতের বেলা দৃঢ় সংকল্প করি সকালে ব্যায়াম করব, কিন্তু সকালে ঘুম ভেঙে আবার বিছানায় ফিরে যাই।

এই বৈপরীত্যের কারণেই আক্রাসিয়া আমাদের জীবনে প্রবল প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে আমরা বারবার তাত্ক্ষণিক আনন্দকে বেছে নিই।

আক্রাসিয়া জয় করার কাঠামো

আক্রাসিয়া জেতা যায় না শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি দিয়ে; বরং কার্যকর কিছু কৌশল ব্যবহার করতে হয়। মনোবিজ্ঞানীরা তিনটি বড় উপায় প্রস্তাব করেছেন:

১. ভবিষ্যৎ কাজের নকশা করুন (Commitment Device তৈরি করুন):

ভিক্টর হুগোর মতো, নিজের ভবিষ্যৎ আচরণকে আগে থেকেই সীমাবদ্ধ করে ফেলুন। এটাই কমিটমেন্ট ডিভাইস।

  • অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ করতে খাবার ছোট প্যাকেটে কিনুন।
  • জুয়া বন্ধ করতে স্বেচ্ছায় ক্যাসিনোর ব্ল্যাকলিস্টে নাম লিখান।
  • ব্যায়াম নিশ্চিত করতে আগে থেকেই জিমে সেশন বুক করে রাখুন।

কমিটমেন্ট ডিভাইস আপনাকে ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে এবং দুর্বল মুহূর্তে ভুল করা থেকে বিরত রাখে।

২. শুরু করার বাধা কমান (Reduce Friction):

প্রসক্রাস্টিনেশনের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো শুরু করা। একবার শুরু করলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে শুধু কাজ শুরু করার অভ্যাস তৈরি করুন।

  • পড়াশোনা শুরু করতে পুরো এক ঘণ্টা নয়, বরং পাঁচ মিনিটের জন্য বসুন।
  • ব্যায়ামের লক্ষ্য না ধরে শুধু জুতার ফিতা বাঁধার অভ্যাস করুন।
  • লেখালেখি শুরু করতে বড় অধ্যায় নয়, একটি ছোট অনুচ্ছেদ লেখার প্রতিশ্রুতি দিন।
  • শুরুটা যত সহজ করবেন, আক্রাসিয়ার ফাঁদ ততটাই দুর্বল হয়ে যাবে।

৩. ইমপ্লিমেন্টেশন ইন্টেনশন ব্যবহার করুন (Implementation Intention):

শুধু লক্ষ্য স্থির করাই যথেষ্ট নয়; সেটিকে নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করুন। যেমন—“আগামীকাল সকাল ৭টায় লেক পার্কে আমি ৩০ মিনিট দৌড়াব।”

গবেষণা বলছে, এভাবে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে কাজ নির্ধারণ করলে সেই কাজ করার সম্ভাবনা ২ থেকে ৩ গুণ বেড়ে যায়। এমনকি অফিসে ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, যারা দিন-তারিখ লিখে রেখেছেন তারা বেশি সফল হয়েছেন।

আক্রাসিয়া বনাম এংক্রাটেইয়া

এরিস্টটল আক্রাসিয়ার বিপরীতে ব্যবহার করেছিলেন এংক্রাটেইয়া শব্দটি, যার অর্থ নিজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা। আক্রাসিয়া আমাদেরকে তাত্ক্ষণিক আনন্দের বন্দি করে রাখে, আর এংক্রাটেইয়া আমাদের দেয় দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের ক্ষমতা।

আক্রাসিয়ার বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের শিখতে হবে-

  • ভবিষ্যৎ আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা,
  • কাজ শুরু করার সহজ পদ্ধতি তৈরি করা,
  • এবং পরিকল্পনাকে বাস্তবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

আক্রাসিয়া মানবজীবনের এক প্রাচীন সমস্যা। ভিক্টর হুগোর গল্প যেমন প্রমাণ করে, মানুষের দুর্বলতা জয় করতে মাঝে মাঝে অদ্ভুত কৌশলও কাজে আসে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, কমিটমেন্ট ডিভাইস, ঘর্ষণ কমানো, এবং ইমপ্লিমেন্টেশন ইন্টেনশন ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রাসিয়া থেকে মুক্ত হয়ে আমরা এংক্রাটেইয়ার পথে হাঁটতে পারি—যেখানে আমরা নিজের জীবন ও অভ্যাসের নিয়ন্ত্রক।

এই প্রবন্ধটি অ্যাটমিক হ্যাবিটস-এর ১৪তম অধ্যায়ের একটি অংশ।


জীবনে সফল হতে শিখুন কৃতজ্ঞতা: ৭টি পরিস্থিতিতে বলুন “ধন্যবাদ”

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১২:০৬:৫৫
জীবনে সফল হতে শিখুন কৃতজ্ঞতা: ৭টি পরিস্থিতিতে বলুন “ধন্যবাদ”
ছবিঃ সংগৃহীত

আমরা প্রায়শই ভদ্রতা বা সৌজন্যের অংশ হিসেবে “ধন্যবাদ” বলি। কিন্তু বাস্তবে এই দুটি শব্দ আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর, সম্পর্ককে আরও মজবুত এবং মনকে আরও ইতিবাচক করে তুলতে পারে। গবেষণা বলছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানুষকে মানসিকভাবে দৃঢ় করে তোলে এবং সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। নিচে এমন সাতটি বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো যেখানে একটি আন্তরিক “ধন্যবাদ” শুধু অন্যকে নয়, আপনাকেও বদলে দিতে পারে।

১. প্রশংসা পাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানান

প্রশংসা পেলে আমরা অনেক সময় সেটিকে হালকাভাবে নেই বা অতিরিক্ত বিনয় দেখাতে গিয়ে কথাটিকে নষ্ট করে দিই। যেমন কেউ যদি বলে, “তোমার পোশাকটা দারুণ লাগছে”, তখন অনেকেই বলে বসেন, “আরে এটা তো পুরোনো।” অথচ এর পরিবর্তে শুধু একটি আন্তরিক “ধন্যবাদ, ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম” বললেই কথাটির মর্যাদা থাকে। প্রশংসা এড়িয়ে গেলে তা নিজেও গ্রহণ করতে পারেন না, বরং একটি “ধন্যবাদ” সেই প্রশংসাকে নিজের শক্তিতে রূপান্তর করে।

২. দেরি করে পৌঁছালে ধন্যবাদ বলুন

দেরি করা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি অন্যের জন্য বিরক্তিকর। সাধারণত আমরা বলি, “দুঃখিত, দেরি হয়ে গেল।” কিন্তু এর ফলে বিষয়টি নিজের ওপরই ঘুরে আসে। এর পরিবর্তে “ধন্যবাদ, অপেক্ষা করার জন্য” বলা অনেক বেশি সৌজন্যপূর্ণ। এতে অপেক্ষাকারীর ধৈর্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা সম্পর্ককে সুন্দর রাখে।

৩. কারো দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার সময়

কেউ খারাপ খবর শেয়ার করলে আমরা প্রায়ই সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলি, “অন্তত তোমার এটা তো আছে।” অথচ এ ধরনের মন্তব্য অনেক সময় অসংবেদনশীল মনে হয়। এর পরিবর্তে বলা উচিত, “আমার সঙ্গে এটা ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমার পাশে আছি।” এতে বোঝায়, আপনি কষ্ট ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত এবং সেই মানুষটি আপনার ওপর আস্থা রেখেছে।

৪. গঠনমূলক পরামর্শ বা সমালোচনা পেলে

অফিসের বসের কাছ থেকে নেতিবাচক মন্তব্য অথবা কোনো গ্রাহকের অভিযোগ আমাদের সহজেই প্রতিরক্ষামূলক করে তোলে। অথচ সঠিক প্রতিক্রিয়া হলো, “ধন্যবাদ, আমাকে উন্নতির সুযোগ দেওয়ার জন্য।” এতে সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ মনে না করে আত্মোন্নতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

৫. অন্যায্য সমালোচনার মুখে

সব সমালোচনাই গঠনমূলক হয় না। অনেক সময় তা হয় বিদ্বেষমূলক বা অযৌক্তিক। এসব ক্ষেত্রে উত্তপ্ত তর্কে জড়ানোর চেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশই সেরা প্রতিক্রিয়া। যেমন, “ধন্যবাদ, মতামত শেয়ার করার জন্য।” এভাবে বললে সমালোচক তার ক্ষমতা হারায় এবং আপনি শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামলে নিতে পারেন।

৬. অযাচিত উপদেশ শোনার সময়

জিমে বা কর্মস্থলে প্রায়ই অনেকে অযাচিত পরামর্শ দেন। এতে বিরক্ত না হয়ে ধন্যবাদ জানানো উচিত। যেমন কেউ বললে, “তুমি ব্যায়ামে কোমরটা আরও সোজা রাখতে পারো”, তখন উত্তর দিন, “ধন্যবাদ, সাহায্যের জন্য।” এতে অহেতুক প্রতিরক্ষামূলক মনোভাব না দেখিয়ে আত্মসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হয়।

৭. সন্দেহ হলে ধন্যবাদ বলুন

অনেক সময় আমরা দ্বিধায় পড়ি এক্ষেত্রে ধন্যবাদ বলা উচিত কি না। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কোনো নেতিবাচক দিক নেই। আপনি কার্ড পাঠাবেন কি না ভাবছেন? পাঠান। টিপ দেবেন কি না বুঝতে পারছেন না? অন্তত ধন্যবাদ জানান। সন্দেহ হলে ধন্যবাদ বলুন, কারণ এটি কখনোই ভুল হয় না।

“ধন্যবাদ” শুধু ভদ্রতার শব্দ নয়, এটি জীবনকে সহজতর করার এক অসাধারণ হাতিয়ার। প্রশংসা, সমালোচনা, কষ্টের মুহূর্ত বা অযাচিত উপদেশ যে কোনো পরিস্থিতিতে ধন্যবাদ বললে সম্পর্ক হয় মজবুত, মন হয় শান্ত এবং জীবন হয় আরও ইতিবাচক। তাই প্রতিটি পরিস্থিতিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন।


খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্তি: মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষিত তিনটি কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১১:৩৯:৪১
খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্তি: মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষিত তিনটি কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে খারাপ অভ্যাস যেন এক অদৃশ্য শৃঙ্খল, যা ব্যক্তিগত উন্নতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অভ্যাস ভাঙা শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত থাকে পরিবেশ, মানসিক কাঠামো ও জীবনযাপনের ধরণ। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে খারাপ অভ্যাস ভাঙার তিনটি কার্যকর উপায়।

১. খারাপ অভ্যাসকে ভেঙে ভালো অভ্যাসে রূপান্তর

খারাপ অভ্যাস সরাসরি বাদ দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সেই অভ্যাসকে ধীরে ধীরে একটি ভালো অভ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। যেমন ধূমপানের পরিবর্তে ব্যায়াম করা, বা অপ্রয়োজনীয় মোবাইল স্ক্রলিংয়ের পরিবর্তে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে করে মস্তিষ্কে অভ্যাস গঠনের পুরনো ধারা ভেঙে নতুন এক ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়।

২. পরিবেশ পরিবর্তন করে অভ্যাস ভাঙা

ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা মার্কিন সেনাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তারা কীভাবে মারাত্মক হেরোইন আসক্তি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশ ছেড়ে দেশে ফিরে আসা মানে তাদের চারপাশ থেকে আসক্তিকে উস্কে দেওয়া সমস্ত প্রভাব দূর হয়ে যায়। এর ফলে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের আর মাদকদ্রব্যের দিকে ফিরতে হয়নি। অর্থাৎ, পরিবেশই অনেকাংশে খারাপ অভ্যাস টিকিয়ে রাখে, আর সেই পরিবেশ বদল করলেই অভ্যাস ভাঙা সহজ হয়।

৩. ‘ব্রাইট-লাইন’ নিয়ম মেনে চলা

মনোবিজ্ঞানে ‘ব্রাইট-লাইন’ নিয়ম বলতে বোঝানো হয় এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নিয়ম, যেখানে কোনো ধোঁয়াশা থাকে না। যেমন—“আমি কখনো ফাস্টফুড খাব না” বা “রাত ১১টার পর ফোন ব্যবহার করব না।” এই নিয়মগুলোতে কোনো ব্যাখ্যা বা ফাঁকফোকর থাকে না, ফলে মানুষ নিজের সঙ্গে আপস করার সুযোগ কম পায়। এ ধরনের নিয়ম জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনে এবং ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারাপ অভ্যাস ভাঙতে হলে শুধু শক্ত মানসিকতা নয়, বরং সঠিক কৌশলও প্রয়োজন। পরিবেশ পরিবর্তন, বিকল্প ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্পষ্ট নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে যে কেউ তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।


লিভার ডিটক্স পণ্য আসলেই কতটা কার্যকর? চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৯ ১২:৩৪:২৪
লিভার ডিটক্স পণ্য আসলেই কতটা কার্যকর? চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে বাজার ভরিয়ে দিয়েছে নানারকম হারবাল ও প্রাকৃতিক উপাদানের পণ্য, যেগুলোকে লিভার পরিষ্কার বা ‘ডিটক্স’-এর মহৌষধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে আছে বিটরুট, আমলকি কিংবা হলুদের গুঁড়ার বিজ্ঞাপন, যেখানে দাবি করা হচ্ছে এগুলো শরীরের সব টক্সিন বের করে লিভারকে নতুন করে সচল করবে। তবে চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের ধারণা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত।

লিভার নিজেই করে শরীর পরিষ্কার

চিকিৎসা বিজ্ঞানে লিভার ডিটক্সিফিকেশন বলতে বোঝানো হয় এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ধারণা করা হয় নির্দিষ্ট খাদ্য, হারবাল উপাদান বা সাপ্লিমেন্ট লিভারকে টক্সিনমুক্ত করতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে লিভার নিজেই প্রতিদিন টক্সিন ছেঁকে ফেলে এবং এ জন্য কোনো আলাদা ডিটক্স পণ্যের প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত পরিমাণে এসব পণ্য সেবনে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হেপাটোলজিস্ট ড. টিনস্যে ওরেটা লিখেছেন, লিভার স্বাভাবিকভাবে শরীরের টক্সিনকে বর্জ্যে রূপান্তর করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং পুষ্টি উপাদান ও ওষুধকে বিপাকের মাধ্যমে প্রোটিনে রূপান্তরিত করে যা শরীরের জন্য অপরিহার্য। তার মতে, লিভার ডিটক্সের নামে বাজারজাত পণ্যগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি ‘প্রচলিত ভুল ধারণা’। এসব পণ্য এফডিএ নিয়ন্ত্রিত নয়, ফলে এগুলোর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশের ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম জানান, লিভার একটি স্বয়ংক্রিয় ও দক্ষ অঙ্গ, যা প্রাকৃতিকভাবেই শরীর থেকে টক্সিন, ওষুধের উপজাত এবং বিপাকীয় বর্জ্য বের করে দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য বা ভাইরাল সংক্রমণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, হারবাল উপাদান চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় তখনই, যখন বৈজ্ঞানিকভাবে তার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়। বাজারে যে ডিটক্স পণ্যগুলো পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই লোকজ বিশ্বাসভিত্তিক, যার নিরাপত্তা বা ডোজ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জানিয়েছে, কিছু হারবাল ওষুধ অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং তা থেকে নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইউনানী মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, “ওষুধি উপাদান অবশ্যই নির্দিষ্ট ডোজে এবং মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় সেবন করতে হবে। ভেষজ পণ্য বাজারজাত করার সময় সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না করলে তা ফাঙ্গাস বা দূষণে আক্রান্ত হতে পারে, যা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

কোন হারবাল উপাদান উপকারী হতে পারে

জন্স হপকিন্সের তথ্যমতে, মিল্ক থিসল লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং হলুদের নির্যাস লিভারকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। তবে এসব উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের পক্ষে বৈজ্ঞানিক সুপারিশ এখনো নেই। পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, হলুদ, আদা, রসুন বা গ্রিন টি-এর মতো উপাদানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এগুলো লিভারের জন্য কিছুটা উপকারী হতে পারে, তবে এগুলোর প্রভাব সীমিত।

ড. মনিরুজ্জামান খান উদাহরণ টেনে বলেন, বিটরুটে আয়রন থাকে যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সঠিক প্রক্রিয়াজাত না হলে এসব গুঁড়ো পণ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, গোলাপের পাপড়ি, ভুঁই আমলা বা কালো মেঘের মতো কিছু ভেষজ উপাদান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কার্যকর প্রমাণিত হলেও এগুলোর ব্যবহার অবশ্যই বিশেষজ্ঞ পরামর্শে হওয়া উচিত।

লিভার সুস্থ রাখার উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারের সুরক্ষার জন্য কৃত্রিম ডিটক্স পণ্যের উপর নির্ভর না করে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা বেশি কার্যকর। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, অ্যালকোহল ও মাদক থেকে বিরত থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই হলো সুস্থ লিভারের মূল চাবিকাঠি।

ড. টিনস্যে ওরেটার মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, অতিভোজন কিংবা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক লিভারের ক্ষতি করে। তাই সংযমী জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিরাপদ আচরণই লিভার রক্ষার উপযুক্ত উপায়। তিনি বলেন, “কোনও গবেষণায় প্রমাণ হয়নি যে ডিটক্স বা ক্লিনজ পণ্য লিভারের ক্ষতি পূরণ করতে সক্ষম।”

পাঠকের মতামত: