জুমার দিনে যেসব আমল করলে অফুরন্ত গুনাহ মাফ ও সওয়াব হবে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৩ ১৮:৫১:৪৪
জুমার দিনে যেসব আমল করলে অফুরন্ত গুনাহ মাফ ও সওয়াব হবে

ইসলামে জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে এবং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য ধার্মিক ও সামাজিক আয়োজন হিসেবে গণ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, জুমার দিনের আজান শুনে সবাই মসজিদে দ্রুত যাক এবং বেচাবিক্রি বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হোক। এরপর নামাজ শেষ হলে সবাই জীবিকা অর্জনের জন্য ছড়িয়ে পড়ুক, তবে আল্লাহকে অধিক স্মরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। (সুরা জুমা, আয়াত ৯-১০) এই আয়াত মুসলমানদেরকে একদিকে ধর্মীয় কর্তব্য পালনের আহ্বান জানায়, অন্যদিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য পরিশ্রমের নির্দেশ দেয়, যা ধর্ম এবং দুনিয়ার সমন্বয় নির্দেশ করে।

জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

হাদিসে নবী করিম (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন এবং মৃত্যুদান দিয়েছেন। এ দিনে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কোন ধরনের ভালো দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল হয়, যদি সে হারাম কিছু প্রার্থনা না করে। সর্বশেষ এই দিনে কিয়ামতের সূচনা হবে—এই পাঁচ দিক থেকে জুমার দিনের মর্যাদা ব্যাখ্যা করা হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৮৯৫)

জুমার নামাজ আদায় ও এর গুরুত্ব

রাসুল (সা.) কর্তৃক বর্ণিত, যিনি জুমার দিনে গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাবেন এবং খুতবার সময় মনোযোগ সহকারে শুনবেন, আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ও এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সময়ের পাপ মোচন হবে যদি সে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম, হাদিস ২৩৩) এসব নির্দেশনা থেকে বুঝা যায় যে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় ও জুমার গুরুত্ব সারা বছরব্যাপী ব্যক্তির ধার্মিকতা ও নেক কর্মের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

গোসল ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া

জুমার দিনে গোসল করা ও সময়মতো মসজিদে পৌঁছানো ইসলামিক রীতি ও সাদরের মধ্যে অন্যতম। রাসুল (সা.) বলেন, যারা গোসল করে দ্রুত মসজিদে পৌঁছাবে, তাদের জন্য প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব রয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৫) বিশেষ করে মসজিদে আগ্রাসী না হয়ে, পরস্পরের মাঝে ফাঁক রেখে বসার কথা বলা হয়েছে, যা সৌজন্য ও আধ্যাত্মিকতা বজায় রাখে।

মসজিদে আগ্রহ ও প্রথম প্রবেশের সওয়াব

জুমার দিনে মসজিদে প্রথমে প্রবেশের বড় গুরুত্ব রয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, যিনি প্রথমে মসজিদে যাবেন, তার জন্য যেমন উট কোরবানি করার সমান সওয়াব থাকবে, পরেরজন গরু, তারপর ছাগল, মুরগি এবং ডিমের মতো আলাদা আলাদা সওয়াবের মর্যাদা রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদে ইমামের খুতবা শুরু হলে ফেরেশতারা উপস্থিত থেকে আলোচনা শুনতে থাকে, যা ধর্মীয় পরিবেশের মাহাত্ম্য প্রমাণ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৪১)

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে বান্দা দোয়া করলে তা কবুল হয়। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, এটি আসরের পরে অনুসন্ধান করতে হবে। এই সময়টিতে আল্লাহ মহান দয়াময় ও ক্ষমাশীল থাকেন, সুতরাং বান্দাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। (আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮)

সুরা কাহাফ পাঠের আমল

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের গুরুত্বও আলাদা। নবী (সা.) বলেছেন, যারা জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তাদের দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত থাকবে। বিশেষ করে সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলে দাজ্জালের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, যা বিশ্বস্ত ইমামত ও মসনাদের কাছে পরিচিত এক বিরল বরকত। (সহিহ তারগিব, হাদিস ১৪৭৩)

গুনাহ থেকে মুক্তির দিকনির্দেশনা

জুমার দিনে গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার, সময়মতো মসজিদে যাওয়া ও খুতবা শুনা একে অপরের পরিপূরক। এটি ব্যক্তির নেক কাজের পরিধি বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমাশীলতার দরজা খুলে দেয়। রাসুল (সা.) এর হাদিসে বলা হয়েছে, এই কাজগুলো যথাযথভাবে পালনে আল্লাহ ব্যক্তি থেকে দুই জুমার মধ্যবর্তী সকল ছোট-বড় পাপ মুছে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮৩)

দরুদ শরিফ পাঠের গুরুত্ব

জুমার দিনে নবী করিম (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, সেদিনই শিঙায় ফুঁ দেয়া হবে এবং সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ো, কারণ আল্লাহ তা আমার কাছে পেশ করেন। (আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৭)

সার্বিকভাবে জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। এই দিনে নিয়মিত ও সতর্কতার সঙ্গে গোসল, মসজিদে আগমন, নামাজ আদায়, খুতবা মনোযোগসহ শ্রবণ, সুরা কাহাফ পাঠ, দরুদ পাঠ ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তের সদ্ব্যবহার ব্যক্তির আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ইসলাম এই দিনের মর্যাদা ও আমলসমূহ যথাযথভাবে পালন করে নেক ও সফল জীবন গড়ার সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করেছে। অতএব প্রতিটি মুসলমানের উচিত জুমার দিনের বিধান, আমল ও মর্যাদাকে গভীর বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধায় পালন করা।


কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২২:০১:২৮
কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি এবং আকিকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র ইবাদত। এই দুটি বিধানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো— সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি আদায় করা 'ওয়াজিব' (আবশ্যক), পক্ষান্তরে সন্তান জন্মের পর আকিকা দেওয়া 'মুস্তাহাব' (উত্তম)। শরিয়তের এই গুরুত্বের কারণে কোনো অবস্থাতেই কোরবানিকে আকিকার ওপর প্রাধান্য দেওয়া বা কোরবানির পরিবর্তে কেবল আকিকা করা ঠিক নয়।

পবিত্র ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) কোরবানি করতে না পারলে ঈদের পর আরও দুই দিন পর্যন্ত তা আদায় করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এই নির্ধারিত তিন দিনের যেকোনো একদিন কোরবানি করা ওয়াজিব। এই ওয়াজিব বিধান অবহেলা করে আদায় না করলে গুনাহগার হতে হবে। অন্যদিকে, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব। যদি কেউ সপ্তম দিনে আকিকা করতে অপারগ হন, তবে পরবর্তীতে সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে তা আদায় করতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে আকিকা না করলে কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না।

কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কিনা, তা নির্ভর করে তার ঋণের পরিমাণের অতিরিক্ত সম্পদের ওপর। যদি মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পরও ওই ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক বা ওয়াজিব হবে। এখানে 'নেসাব' বলতে বোঝানো হয়েছে— কোরবানির ওই তিন দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর যদি কোনো ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫২.৫ ভরি) রুপা বা তার সমমূল্যের নগদ টাকা কিংবা সম্পদ থাকে।

যদি কেউ আলাদাভাবে আকিকা করতে না পারেন, তবে কোরবানির পরিবর্তে আকিকা না করে বরং কোরবানির পশুর সাথেই আকিকার অংশ যুক্ত করে নিতে পারেন। এতে করে একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা দুটিই একসঙ্গে আদায় হয়ে যাবে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী— বড় পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ এবং উটের ক্ষেত্রে কোরবানির পাশাপাশি আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। এক্ষেত্রে শরিক হওয়ার নিয়ম হলো, সন্তানের লিঙ্গভেদে ছেলের জন্য দুই অংশ এবং মেয়ের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করে অংশীদার হতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১০:২২:৩১
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজকের ইসলামিক ও আবহাওয়া আপডেট: পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার আবহ। আজ রোববার (২৪ মে ২০২৬/১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী মেগা অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের অফিশিয়াল এবং সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (Islamic Foundation) বাংলাদেশ-এর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে।

এছাড়া, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজ বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে।

সন্ধ্যায় পবিত্র মাগরিবের আজান ও নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৪২ মিনিটে এবং রাতের প্রধান জামাত অর্থাৎ এশার সময় শুরু হবে রাত ৮টা ০৬ মিনিটে।

অন্যদিকে, আজ ঢাকায় অফিশিয়াল সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে।

আগামীকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) পবিত্র ফজরের নামাজের ওয়াক্ত ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে এবং আগামীকাল সকালে ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের মাঝে সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে ও পবিত্র হজের এই বরকতময় দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে নেসকো ও ডেসকোসহ বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রাক-ঈদ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন ওলামা কেরামগণ।

/আশিক


নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ২১:৪১:৩৯
নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সমাজের একটি প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মুফতিগণ অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট ফতোয়া জারি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, কোরবানি কেবল পুরুষদের একচেটিয়া কোনো ইবাদত নয়; বরং ইসলামের অমোঘ বিধান অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বা সামর্থ্যশালী প্রত্যেক নারীর ওপরও কোরবানি করা এককভাবে ওয়াজিব।

আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পরিবারের কর্তা বা পুরুষ সদস্য কোরবানি দিলেই বুঝি ঘরের নারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—অথচ শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিকতা সম্পূর্ণ ভুল এবং ইসলামে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ফিকহ একাডেমিগুলোর এক যৌথ গবেষণাপত্রে মুসলিম নারীদের এই জরুরি বিধান সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

শরিয়তের অলঙ্ঘনীয় বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন স্বাধীন মুসলিম নারী যদি বিবাহিতা, অবিবাহিতা, চাকরিজীবী কিংবা স্রেফ গৃহিণীও হন—এবং তাঁর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা : কাওসার, আয়াত : ২)। অনেক নারী অলংকার বা ব্যাংকে জমানো টাকা থাকার পরও অজ্ঞতার কারণে কোরবানি দেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই অবহেলার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩)।

ইসলামিক বিধান অনুযায়ী কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার এই ‘নিসাব’ বা অর্থনৈতিক মানদণ্ডটি অত্যন্ত সহজ। যার ওপর বার্ষিক জাকাত ফরজ, তার ওপরই কোরবানি ওয়াজিব। কোনো নারীর মালিকানায় যদি সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রুপা থাকে, তবে তিনি নিসাবের মালিক। এছাড়া কোনো নারীর কাছে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা প্রয়োজনাতিরিক্ত অন্য কোনো সম্পদ থাকে, তবে তিনিও সামর্থ্যবান বলে গণ্য হবেন।

এমনকি পৃথকভাবে সোনা বা রুপা নেসাব পরিমাণ না হলেও, কোরবানির দিনগুলোতে যদি সামান্য সোনা (যেমন ১ ভরি) এবং সাথে কিছু নগদ টাকা থাকে—যা একত্রে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার বাজারমূল্যের সমান বা বেশি হয়ে যায়, শরয়ি কায়দায় সেই নারীর ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।

অলংকার বা জমানো অর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা অবহেলাবশত কোরবানি দেন না, তারা একটি বড় গুনাহের মুখোমুখি হচ্ছেন। অতএব, মুসলিম নারীদের উচিত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে স্রেফ লোকদেখানো সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে কোরবানি নিশ্চিত করা।

/আশিক


স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১২:৩৩:০৩
স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় জিজ্ঞাসা ও মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ও বহুল আলোচিত একটি প্রশ্ন হলো—স্ত্রীর দেনমোহর বা মোহরানা বাকি রেখে স্বামী কোরবানি দিতে পারবেন কি না, কিংবা দেনমোহর বাকি থাকলে স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় কি না? ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্রের অকাট্য প্রমাণের আলোকে শরীয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা হচ্ছে, দেনমোহর এবং কোরবানি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলেও স্বামীর কোরবানি দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ ও বৈধ।

শরীয়তের দৃষ্টিতে, যতদিন পর্যন্ত স্বামী তাঁর স্ত্রীর দেনমোহর পুরোপুরি পরিশোধ না করেন, ততদিন তা স্বামীর ওপর এক ধরণের ‘ঋণ’ হিসেবেই গণ্য থাকে। তবে ফিকহের বিখ্যাত কিতাব ‘বাদায়েউস সানায়ে’ ও ‘রদ্দুল মুহতার’-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ঋণকে এক ধরনের বিশেষ বা ‘দুর্বল ঋণ’ (দাইনে জইফ) বলা হয়।

যেহেতু এটি কোনো সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেন বা ধন-সম্পদ বিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি হয়নি, তাই এই ঋণ স্বামীর মালিকানাধীন বর্তমান নগদ অর্থ বা সম্পদের ওপর সরাসরি কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। সহজ কথায়, দেনমোহর বাকি থাকলেও স্বামীর কোরবানি নিশ্চিতভাবেই আদায় হয়ে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না, তা মূলত দুটি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়

প্রথমত: দেনমোহর বাকি থাকা সত্ত্বেও যদি কোরবানির নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০ থেকে ১২ জিলহজ) জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও সম্পদ) মালিকানা স্বামীর কাছে থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

দ্বিতীয়ত: স্ত্রীর দেনমোহরের দাবি যদি তাৎক্ষণিক হয় এবং তা পরিশোধ করার পর বা মূল হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার পর স্বামীর কাছে আর কোনো অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত না থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। অর্থাৎ, এই অবস্থায় কোরবানি না করলে তিনি গুনাহগার হবেন না।

ইসলামি ফিকাহর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে (২য় খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা)-এ স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ঋণ সম্পদের বিনিময়ে নয়—যেমন মোহরানা, তা কোরবানিদাতার সামর্থ্য বা নিসাবের ওপর সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে না। একই ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (৯ম খণ্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা)-এ। ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, দেনমোহর বাকি রেখে কোরবানি দিলে কোরবানি হয়ে গেলেও সামর্থ্য থাকার পরও স্ত্রীর দেনমোহর বছরের পর বছর আটকে রাখা মোটেও উচিত নয়। কোরবানির মতো ত্যাগ ও মহিমান্বিত ইবাদতের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার দ্রুত পরিশোধ করে দেওয়ার ব্যাপারেও স্বামীদের সমানভাবে সচেতন ও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:২৪:৫১
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর কোরবানি ঈদের আবহ ও তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেই রাজধানী ঢাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সম্মানিত মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজ শনিবারের পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের অফিশিয়াল ও চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। নতুন এই ইসলামিক ক্যালেন্ডার ও চার্ট অনুযায়ী, আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬ / ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ / ০৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকায় পবিত্র জোহরের ওয়াক্ত বা নামাযের সময় শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং বিকেলে আসরের নামাযের সময় শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আজ জ্যৈষ্ঠের তপ্ত বিকেলে রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে।

সূর্যাস্তের পরপরই তথা সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে মাগরিবের নামাযের পবিত্র সময় শুরু হবে।

এরপর রাতের প্রথম প্রহরে পবিত্র এশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা শূন্য ৫ মিনিটে। অন্যদিকে, আজ রাত পেরিয়ে আগামীকাল রবিবার (২৪ মে) ভোরে পবিত্র ফজরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে এবং রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল ভোরের সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থান ও দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে নামাযের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করতে হবে।

/আশিক


আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১০:০৫:৫১
আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র জুমার দিন আজ শুক্রবার (২২ মে ২০২৬)। মুসল্লিদের ইবাদত ও নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জুমার ওয়াক্ত শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে। সপ্তাহের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিনের প্রধান জামাতে অংশ নিতে এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা।

এদিকে আজ আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ০৪ মিনিটে।

পরবর্তী দিনের সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ শুরু হবে রাত ৩টা ৫১ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৩ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এদিন বেশি বেশি দরূদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, বিশেষ করে সূরা কাহফ পাঠ এবং দোয়া করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বড় বড় মসজিদগুলোতে বাড়তি মুসল্লির সমাগমও লক্ষ্য করা যায়।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:১৪:০২
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

পার্থিব জীবনের চরম ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও অন্তরের গভীর আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা এবং পরকালীন চিরস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করার একমাত্র নিখুঁত মাধ্যম হলো নিয়মিত নামাজ। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, জীবনের পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পরম কর্তব্য। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল ডাটা ও সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের চূড়ান্ত সময় প্রকাশ করা হলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত আজকের (৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) নামাজের অফিশিয়াল সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে।

এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে।

মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং সর্বশেষ ওয়াক্ত অর্থাৎ এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ০৩ মিনিটে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার অফিশিয়াল সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত জেলাগুলোর নামাজের সময়ের কিছুটা ব্যবধান বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার মূল সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন।

ঢাকার সময়ের আগে যেসব জেলায় নামাজ শুরু হবে, তার মধ্যে সিলেটে ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে এবং চট্টগ্রামে ৫ মিনিট আগে ওয়াক্ত শুরু হবে।

অর্থাৎ, ঢাকার সময় থেকে এই মিনিটগুলো বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের পর যেসব জেলায় ওয়াক্ত শুরু হবে, তার মধ্যে রংপুরে ৮ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, খুলনায় ৩ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট পর নামাজ শুরু হবে। অর্থাৎ, ঢাকার সময়ের সঙ্গে এই মিনিটগুলো যোগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর অন্যতম প্রিয় আমল। তাই আপনার নিকটস্থ মসজিদের জামাত ও আজানের সঠিক সময় জেনে নিয়ে সময়মতো সালাত কায়েম করুন।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১০:১০:১৪
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি নিখুঁত বিধান মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার মহৎ উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রণীত হয়েছে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-গরিব ও শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত। জীবনের শত ব্যস্ততা, জাগতিক কোলাহল এবং রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত দায়িত্ব যতই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের প্রধান ও অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬ ইংরেজি / ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা / ০২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা) কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সর্বশেষ ও সঠিক সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ফজর: ভোর ৩টা ৫১ মিনিট

জোহর: দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিট

আসর: বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট

এশা: রাত ৭টা ৫৯ মিনিট

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার নামাজের সময়ের কিছুটা তারতম্য বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের মিনিটগুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনি আপনার নির্দিষ্ট এলাকার আজান ও নামাজের সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন

ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে আজান হবে)

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৫ মিনিট আগে আজান হবে)

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৮ মিনিট পর আজান হবে)

রাজশাহী: ০৭ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৭ মিনিট পর আজান হবে)

খুলনা: ০৩ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৩ মিনিট পর আজান হবে)

বরিশাল: ০১ মিনিট (ঢাকার সময়ের ১ মিনিট পর আজান হবে)

/আশিক


একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ২১:৫৪:১৪
একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?
ছবি : সংগৃহীত

প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলিমের জন্য কোরবানি করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিধান (ওয়াজিব)। এই বিধানের গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)।

পবিত্র কোরআনেও মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা কাওসারের ২ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিজের প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে বা পারিবারিক পরিমণ্ডলে একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায় যে, ‘দুই ভাই মিলে বা যৌথভাবে এক ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না?’ এই প্রথাগত জিজ্ঞাসার জবাবে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে জানিয়েছেন, দুই ভাই বা যেকোনো দুজন ব্যক্তি মিলে এক ভাগে অর্থ ভাগাভাগি করে কোরবানি দিলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মোটেও সহিহ বা বিশুদ্ধ হবে না।

কারণ, কোরবানির মূল নিয়ম হচ্ছে একটি ভাগে কেবল একজন একক ব্যক্তিই শরিক হতে পারেন; এক ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে কোরবানি বিশুদ্ধ হয় না (আদদুররুল মুহতার: ৯/৪৫৭)। তবে এই জটিলতা এড়ানোর একটি বৈধ সুরত বা বিকল্প পথ বাতলে দিয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, যদি দুই ভাই মিলে এক ভাগেই কোরবানি দিতে চান, তবে তাঁদের একজন অপরজনকে তাঁর সমপরিমাণ টাকার মালিক (হেবা বা উপহার) বানিয়ে দেবেন। অতঃপর টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি নিজের একক নামে ওই ভাগের কোরবানিটি সম্পন্ন করবেন; তাহলে কোরবানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও বৈধ হবে।

ইসলামি শরিয়তের সামগ্রিক পশুর শরিকানা বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা কেবল একজন ব্যক্তিই এককভাবে কোরবানি দিতে পারবেন। এই ধরনের ছোট পশুতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে শরিক হলে কারোর কোরবানিই সহিহ হবে না। অন্যদিকে উট, গরু কিংবা মহিষের মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি পৃথক সাতটি ভাগে শরিক হতে পারবেন; সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না (মুসলিম: ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক: ১/৩১৯, কাযীখান: ৩/৩৪৯, বাদায়ে উস সানায়ে: ৪/২০৭-২০৮)। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো শরিকেরই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল বা সহিহ হবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: