কুয়েত প্রবাসীদের বিদেশযাত্রায় কড়াকড়ি, নেপথ্যে কি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১১ ২০:৪৭:৫৬
কুয়েত প্রবাসীদের বিদেশযাত্রায় কড়াকড়ি, নেপথ্যে কি?

কুয়েতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে নতুন করে জারি হলো কঠোর নিয়ম। আগামী ১ জুলাই ২০২৫ থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশ ছাড়তে হলে সরকারি অনুমোদনপত্র তথা ‘এক্সিট পারমিট’ বাধ্যতামূলকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক কুয়েত ত্যাগ করতে পারবে না বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১১ জুন) এক অফিসিয়াল ঘোষণায় কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই নির্দেশনা শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে। একইদিনে কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল ইউসুফ আল সাবাহ মন্ত্রীপর্যায়ের একটি আদেশে নতুন এই নিয়ম কার্যকরের ঘোষণা দেন।

প্রবাসীদের দেশে ফেরার আগে নিজ নিজ কোম্পানি বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি অফিসিয়াল ‘এক্সিট পারমিট’ নিতে হবে, যা কুয়েত সরকারের অনুমোদিত "আল সাহেল" মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষ (PAM) জানায়, এই পারমিটে কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য, নির্ধারিত ভ্রমণের তারিখ ও পরিবহনের মাধ্যম অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ইলেকট্রনিক ভেরিফিকেশন পদ্ধতির মাধ্যমে যাচাই করা হবে।নতুন এক্সিট পারমিট ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসীদের দেশত্যাগ প্রক্রিয়াকে একটি সুস্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা।

এতে করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কর্মীদের পালিয়ে যাওয়া কিংবা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এটি নিয়োগকর্তা ও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়েত সরকার প্রবাসী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি উভয় পক্ষের অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে চায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই প্রক্রিয়া বিভিন্ন জটিলতা হ্রাস করবে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কর্তৃপক্ষ সকল নিয়োগকর্তা ও প্রবাসী কর্মীদের এই আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ করে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য হবে। তাদের ভ্রমণের জন্য অনুমোদনপত্র ছাড়া দেশ ত্যাগ করলে আইনগত জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে।

-রফিক, নিজস্ব প্রতিবেদক


ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:২৩:৩৫
ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং মুসলিম উম্মাহর অসাধারণ গণজাগরণের ওপর ভর করে ইরান বিশ্বমঞ্চে একটি অপ্রতিরোধ্য ও প্রভাবশালী পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তবে এই অর্জিত বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ইরানকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া সরাসরি দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সাথে সম্পর্কিত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জাতীয় জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জনসংখ্যা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ে কর্মরত একদল সামাজিক কর্মীর পাঠানো চিঠির জবাবে দেওয়া বিশেষ বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা ইরানের জাতীয় শক্তি ও সভ্যতার বিকাশের সাথে সন্তান জন্মদানের হার বৃদ্ধির এই কৌশলগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আজ বুধবার (২০ মে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রধান তথ্যকেন্দ্র থেকে এই ঐতিহাসিক বার্তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্রেফ অতীতের কিছু ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, একটি শক্তিশালী তরুণ প্রজন্ম ও অপরিহার্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতি যদি রাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে পারে, তবে মহান ইরানি জাতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আরও বড় ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে, অর্জন করবে অনন্য কৌশলগত অগ্রগতি।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে একটি আধুনিক ‘ইসলামি-ইরানি সভ্যতা’ গঠনের পথে ইরান আরও বড় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। এই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি দেশের অভ্যন্তরে সন্তান জন্মদানের সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রচারে সামাজিক কর্মীদের আরও বেশি প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন।

বার্তার শেষাংশে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ইরানের প্রয়াত মহান শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মৃতি ও আদর্শ স্মরণ করে বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই বিষয়টি তাদের প্রয়াত নেতার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল।

আলী খামেনি জীবিতাবস্থায় বহু রাষ্ট্রীয় বৈঠক, সেমিনার এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মোজতবা খামেনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগের ধারাবাহিকতায় এখনও এটি ইরানের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষ কৌশলগত বিষয় (Strategic Issue) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধরে রাখতে এই নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: ইরনা


এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:০৩:৩৯
এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ট্রাম্প মোবাইল’ অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাজারে আসছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে স্বর্ণখচিত এই বিশেষায়িত স্মার্টফোন।

আজ বুধবার (২০ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্পূর্ণ ট্রাম্প ব্র্যান্ডিং ও সোনালী অবয়বের এই ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার (আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা) এবং এর আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ (Trump Mobile T1)। তবে ফোনটির মুক্তি মিললেও এর কার্যকারিতা, উৎপাদনস্থল এবং বিক্রয় নীতি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে চরম ট্রোল ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৪৯৯ ডলারের এই ‘ট্রাম্প ফোন’ আদতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়; বরং এটি দেখতে হুবহু চীনে নির্মিত ‘টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম’ (T-Mobile Revel 7 Pro 5G) ফোনের মতো, যা আমেরিকার সুপারশপ ওয়ালমার্টে মাত্র ২০০ ডলারে কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২০০ ডলারের চীনা ফোনে স্রেফ ট্রাম্পের নাম ও সোনালী রং লেপ্টে দিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ফোনটির ডেলিভারি পলিসিতে। ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। এর মানে হলো, যারা এক বছর আগে ১০০ ডলার জামানত দিয়ে ‘প্রি-অর্ডার’ করেছিলেন, তাদের সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন! পরিবর্তিত অদ্ভুত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই ফোন পাওয়ার গ্যারান্টি নয়, এটি কেবল একটি ‘বিশেষ সুযোগ’ মাত্র।

অবশ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ফেসবুকে জানিয়েছে, গ্রাহকরা দ্রুতই ইমেইলে শিপমেন্ট আপডেট পাবেন। ট্রাম্প মোবাইলের সিইও প্যাট ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, কোয়ালিটি ঠিক রাখতে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে দেরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে ধাপে ধাপে সবাই ফোনটি পাবেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস’-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ জানিয়েছেন, একটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে সফটওয়্যার ও চুক্তি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগাটা স্বাভাবিক।

ফোনটি ঘিরে সমালোচনার এখানেই শেষ নয়। শুরুতে এর প্রচারণায় জোরগলায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ (Made in USA) দাবি করা হলেও আইনি ও প্রযুক্তিগত চাপের মুখে দ্রুত সেই দাবি থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। এখন তারা বলছে, এটি ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে তৈরি’। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (IDC) ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএন-কে বলেন, এ ধরনের চটকদার শব্দ মূলত গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যাপলের মতো বড় সংস্থাও ডিজাইন আমেরিকায় করলেও উৎপাদন চীন বা ভারতে করে।

ট্রাম্প ফোনের ক্ষেত্রেও নকশা মার্কিন বলা হলেও ভেতরের ছোট ছোট যন্ত্রাংশ ও প্রসেসর আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের (মূলত চীন) কাছ থেকে আনা। এছাড়া, প্রাথমিক বিজ্ঞাপনে যেসব প্রিমিয়াম ফিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত মডেলে তার অনেক কিছুই থাকছে না; স্ক্রিন সাইজ তুলনামূলক ছোট এবং মেমোরিও বেশ কম। সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান পদবি নিয়ে।

তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও এই মুহূর্তে আমেরিকার রানিং প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রপ্রধান পদে থেকে নিজের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা কতটুকু নৈতিক, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক শুরু হয়েছে; যদিও এই ব্যবসার দেখভাল করছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র। মজার ব্যাপার হলো, এই ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ‘৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট’, যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও বর্তমান ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ডকে সস্তা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৯:৩৭:৫৩
মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এবার এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক ‘চকলেট ট্রোল’ বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কাঁপিয়ে সরাসরি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) বড় ধরণের ধামাকা তৈরি করেছে। ইতালি সফরে গিয়ে দেশটির অতি জনপ্রিয় নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতীয় ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট ‘মেলোডি’ (Melody) চকলেট বা টফি উপহার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আর নেটিজেনদের তৈরি করা বহুল পরিচিত ‘মেলোডি’ জুটির এই চকলেট কূটনীতি ঘিরেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা। আজ বুধবার (২০ মে) রোমে অনুষ্ঠিত দুই শীর্ষ নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিজেই তাঁর অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি মজাদার ভিডিও পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে এই অভিনব উপহারের জন্য ধন্যবাদ জানান।

ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চিত্তে জর্জিয়া মেলোনি বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে একটি খুবই চমৎকার টফি উপহার দিয়েছেন— মেলোডি।” মূলত ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের নাম মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘মেলোডি’ (Melodi) নামে একটি ব্যাপক জনপ্রিয় রোমান্টিক ট্রেন্ড ও মিম তৈরি করে আসছিল। সেই ডিজিটাল ট্রেন্ডকেই এবার বাস্তব কূটনীতিতে একধাপ এগিয়ে নিতে জেনেশুনেই ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়ে বসেন মোদি।

এর আগে রোমে মোদিকে স্বাগত জানিয়ে মেলোনি এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “রোমে স্বাগত, আমার বন্ধু!” সফরকালে দুই নেতা জমকালো নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রোমের ঐতিহাসিক ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum) পরিদর্শন করেন। সফর নিয়ে এক্সে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়া এবং কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে; দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

তবে এই ‘মেলোডি’ মোমেন্টের সবচেয়ে বড় পাগলামি ও নাটকীয় রূপ দেখা গেছে ভারতের শেয়ার বাজারে। জর্জিয়া মেলোনির সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর ভারতীয় হুজুগে বিনিয়োগকারীদের (Investors) একটি বড় অংশ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ‘পার্লে’ (Parle) নামের শেয়ার খুঁজতে শুরু করেন; কারণ ভারতের বিখ্যাত মেলোডি টফি তৈরি করে ‘পার্লে প্রোডাক্টস’ (Parle Products)।

কিন্তু বোকা বনে গিয়ে বা ভুল বিভ্রান্তিতে পড়ে অনেক বিনিয়োগকারী দেদারসে কিনে ফেলেন ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ (Parle Industries)-এর শেয়ার, যার সঙ্গে চকলেট প্রস্তুতকারী পার্লে প্রোডাক্টসের দূরতম কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্কই নেই! কারণ পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত ভারতীয় অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।

তবুও ভাইরালের জেরে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভুল কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ (Upper Circuit) বেড়ে যায়, যেখানে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে শেয়ারটির দাম এক লাফে উঠে দাঁড়ায় ৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অথচ কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি বা আর্থিক আপডেট প্রকাশ করা হয়নি; স্রেফ একটি চকলেটের নাম ও মিমের চোটে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকেরা।

/আশিক


ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১১:২০:৪১
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ প্রায় ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫ কোটি ইউরো) পুরস্কার ঘোষণা করার একটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা করছে দেশটির পার্লামেন্ট।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা শীর্ষক এই খসড়া বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই দেশটির মজলিসে (পার্লামেন্টে) ভোটে তোলা হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিল প্রস্তুত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক ভয়াবহ হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি জড়িত ছিলেন।

এ কারণে এই তিন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠাবে’ (হত্যা করবে), তাকে এই বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কৃত করার আইনি প্রস্তাবে পার্লামেন্ট খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ভোট দেবে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল, ‘কিল ট্রাম্প’ নামক একটি গোপন অপারেশনের জন্য ইতিমধ্যে ৫ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘হানদালা’ নামে ইরান-সমর্থিত একটি শক্তিশালী হ্যাকার ও সাইবার গোষ্ঠীও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে পৃথিবী থেকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে ৫ কোটি ডলারের বিশেষ বাজেট বরাদ্দের দাবি তোলে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই চরমপন্থী আইনি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, একদিকে ইরানের পার্লামেন্টে এই কুখ্যাত কিলিং মিশন ও মাথার দামের বিল আনা হচ্ছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের সাথে পর্দার আড়ালে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবে দৃশ্যমান বা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি বা আন্তরিকতা এখনো দেখা যায়নি।

/আশিক


ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১০:২৩:০৬
ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি।”

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন নেতৃত্বাধীন নজিরবিহীন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে ইরান এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লান্ত এবং তারা খুব খারাপভাবে একটি শান্তি চুক্তি করতে চাচ্ছে। তবে সমঝোতা যাই হোক না কেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

হোয়াইট হাউসের এই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, “ইরানের মাথায় সবসময় পারমাণবিক অস্ত্রের চিন্তা ঘোরে, আর আমরা তাদের কখনোই তা পেতে দেবো না। আমাদের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে দারুণ কাজ করেছে। আমার মনে হয়, খুব দ্রুতই সব জটিলতার অবসান ঘটবে; তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং আশা করি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবেই সমাধান হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এলো, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেটে একটি ঐতিহাসিক ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ (যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব) বিল পাসের পক্ষে ভোট পড়েছে। কংগ্রেসের স্পষ্ট ও আইনি অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যে কোনো ধরণের দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন পরিচালনা বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে সরাসরি খর্ব করতেই মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই কঠোর বিলটি পাসের পক্ষে রায় দেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ২১:৩৪:২২
হিজবুল্লাহর ক্রুজ ড্রোন এখন বড় হুমকি: জরুরি বৈঠক ডেকে পিছু হটলেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অভাবনীয় ও অত্যাধুনিক ড্রোন সক্ষমতার মুখে পড়ে রণক্ষেত্রে একের পর এক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হিজবুল্লাহর ড্রোনের হাই-টেক নজরদারি এড়াতে ইসরায়েলি সেনারা দিনের বেলার অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করে রাতের আঁধারে হামলার কৌশল নিলেও, উন্নত প্রযুক্তির কারণে তাও ভেস্তে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর এই আকাশপথের আধিপত্যকে ইসরায়েলের জন্য এক ‘বিশাল সামরিক হুমকি’ হিসেবে স্বীকার করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ বুধবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান নিউজ’ এর চাঞ্চল্যকর তথ্যের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর নিখুঁত বিস্ফোরকবাহী সুইসাইড ড্রোনগুলোর কারণে দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলোতে আইডিএফের স্বাভাবিক যুদ্ধ পরিচালনার স্বাধীনতা ও গতি মারাত্মকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামগ্রিক সামরিক অভিযানের প্রায় ৮০ শতাংশই হিজবুল্লাহর ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে মাঠে গড়ানোর আগেই ভেস্তে যাচ্ছে বা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, দিনের আলোয় হিজবুল্লাহর রাডার ফাঁকি দিতে না পেরে সব ধরণের সেনা চলাচল ও লজিস্টিকস সরবরাহ রাতের বেলায় শিফট করা হয়েছিল; কিন্তু রাতের অন্ধকারেও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে বেশ কিছু মেগা অপারেশন পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর এই ড্রোন হামলার তীব্রতার কারণে গত কয়েক সপ্তাহে দখলদার বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। কান নিউজ আরও বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে হিজবুল্লাহর এই আকাশ-আক্রমণ ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জামের (Anti-Drone Equipment) চরম ঘাটতি রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রতিটি ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটের কেবল সীমিত সংখ্যক সদস্যের হাতে রয়েছে, যা বিশাল ড্রোন বহর রুখতে নগণ্য।

সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের ব্যবহৃত সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’। এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলের বিশ্ববিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ বা প্রচলিত জ্যামিং ও শক্তিশালী ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাকে (Electronic Warfare) অনায়াসে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

প্রচলিত ড্রোনের মতো রেডিও সিগন্যালের পরিবর্তে এই ড্রোনে অত্যন্ত পাতলা ও হালকা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার বা সিগন্যাল ট্র্যাকারগুলো এগুলোকে আকাশে শনাক্তই করতে পারে না। বিপরীতে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত ও ডেডিকেটেড ড্রোন অপারেটর ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে, যারা নিখুঁতভাবে ইসরায়েলি ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। তেল আবিবের উগ্রপন্থি কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর এই দ্রুত উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক ডেকে দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদের অজুহাতে গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর প্রায় ২৩০টি প্রজেক্টাইল এবং ১০০টিরও বেশি মারাত্মক বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালিয়ে তেল আবিবকে কাঁপিয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

/আশিক


হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ১৮:২৫:০৮
হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সবচেয়ে সংবেদনশীল রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানে থাকা ইরানের কেশম দ্বীপে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, এই বিস্ফোরণ কোনো নতুন শত্রুভাবাপন্ন হামলা বা বিমান হামলা নয়; বরং দ্বীপে উদ্ধার হওয়া শত্রুপক্ষের পুরোনো ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার কারণেই এই শব্দের সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ স্থানীয় এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে, সামরিক বাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই ওই গোলাবারুদগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এর আগে ইরানের অপর একটি সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ বিস্ফোরণের খবরটি ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রকাশ করলেও, তখন পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছিল, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মুহূর্তেই অস্থিরতা তৈরি করে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই রহস্যময় বিস্ফোরণের মাত্র একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে এক নাটকীয় বিবৃতিতে জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি নতুন ও বিশেষ ‘শান্তি প্রস্তাব’ পাঠানোর পর তিনি ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের মার্কিন বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো ও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই মার্কিন স্থগিতাদেশের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর জন্য কোনো চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল কি না, তা ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স।


টোল না কি কৌশলগত ফাঁদ? হরমুজে ইরানের ক্রিপ্টো-বিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ১২:৫৩:৩৬
টোল না কি কৌশলগত ফাঁদ? হরমুজে ইরানের ক্রিপ্টো-বিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এবার বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’তে গিয়ে ঠেকেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের এই কৌশলগত রুটটিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংগঠিত করতে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (PGSA) নামে একটি নতুন বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থা গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তেহরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। নতুন এই সংস্থা প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ ও সামুদ্রিক কার্যক্রমের প্রতি মুহূর্তের তথ্য নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করবে।

এই ঘোষণার ঠিক দুদিন আগে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য ‘হরমুজ সেফ ওয়েবসাইট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজস্ব বিশেষ ‘বিমা সেবা’ বা ইন্স্যুরেন্স স্কিম চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ ও পণ্যের সুরক্ষায় এনক্রিপ্টেড ভেরিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং লেনদেন সম্পন্ন হবে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

কভারেজ নিশ্চিত হলেই জাহাজের মালিককে ডিজিটাল রসিদ দেওয়া হবে। তেহরানের দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে। মূলত, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জলপথে সরাসরি কোনো ‘টোল’ বা ‘শুল্ক’ আরোপ করা নিষিদ্ধ হওয়ায়, ইরান আইনি ফাঁক গলে এটিকে ‘কর’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ বা বাণিজ্যিক বিমা সেবা হিসেবে উপস্থাপন করার চতুর কৌশল নিয়েছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ইরানের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ‘রগ স্টেট’ (Rogue State) ইমেজ তৈরি না করে এটিকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তবে ইরানের এই মেগা পরিকল্পনা কার্যকরের ক্ষেত্রে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে। লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক আবদুল খালিকের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক রিইনসুরেন্স (পুনর্বীমা) সমর্থন ছাড়া কোনো বড় জাহাজ মালিকই এই বিমার ওপর আস্থা রাখবে না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোও ইরানের এই বিমা সনদ গ্রহণ নাও করতে পারে।

অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ফাঁদ হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ে শি-পুতিন শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে এই পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর বেইজিং ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ‘সামরিকীকরণ’ এবং এর ব্যবহারের জন্য যেকোনো ধরনের একতরফা টোল বা ফি আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই জলপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তদুপরি, গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করায় এবং ওয়াশিংটন এই বিমা ফি পরিশোধকারী কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্টগুলো (যেমন চাব, গার্ড, স্কালড) এই রুট সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকি প্রমিয়াম (War-risk Premium) ইতোমধ্যে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

/আশিক


ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে: রাশিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ১১:৪৫:৪৬
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে: রাশিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির মুখে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৮ ১৮ মে) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পূর্ণ ও সার্বভৌম অধিকার ইরানের রয়েছে। একই সাথে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পশ্চিমাদের নাক গলানোর কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ প্রসঙ্গে লাভরভ সাফ জানিয়ে দেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামগ্রিক বিষয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে রাশিয়া এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ বা কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলটিমেটাম ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্ভূত সংকট নিরসনে ইরান-মার্কিন পর্দার অন্তরালের কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্যের ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, বেইজিংয়ে শি-পুতিন মেগা বৈঠকের ঠিক আগের দিন লাভরভের এই মন্তব্য ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল।

সূত্র: ডন

পাঠকের মতামত:

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

বাংলাদেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবিকা এবং ধর্মীয়-সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কুরবানি ঈদের চামড়া শিল্প। প্রতি বছর... বিস্তারিত