ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত ব্রিটিশ ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৭:৪৯:৩১
ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত ব্রিটিশ ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford)-এ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরের দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য যে, এই ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে কোনো আরএএফ (রাজকীয় বিমানবাহিনী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি পুরনো পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘাঁটির 'কমিসারি' ভবন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উড়ছে।

সাধারণত এই ভবনগুলো থেকে সেনাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে।

গ্লস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফেয়ারফোর্ড এলাকার ওই বাণিজ্যিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ধোঁয়ার তীব্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে মার্কিন বিমানবাহিনীর সরঞ্জামের ঠিক কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরান ইস্যুতে এই ঘাঁটির বর্তমান গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


হামলা অত্যন্ত গুরুতর, তবে এর পেছনে ইরান নেই: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১২:১০:২৭
হামলা অত্যন্ত গুরুতর, তবে এর পেছনে ইরান নেই: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বন্দুক হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারীর বিরুদ্ধে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি এই হামলার পেছনে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা দেখছেন না। তিনি হামলাকারীকে 'লোন উলফ' বা একাকী হামলাকারী এবং 'উন্মাদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়াশিংটনের অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশপ্রধান জেফরি ক্যারল জানিয়েছেন, হামলাকারীর কাছে একটি শটগান ও একটি হ্যান্ডগান ছিল।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আর কোনো সন্দেহভাজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার তোরেন্সের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী কোল অ্যালেন নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ


হামলার আগেই কেন এমন কথা? ট্রাম্পের প্রেস সচিবের ভিডিও নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১১:২৯:৪৮
হামলার আগেই কেন এমন কথা? ট্রাম্পের প্রেস সচিবের ভিডিও নিয়ে নতুন বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বন্দুক হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের একটি মন্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারোলিন রসিকতা করে বলেছিলেন, “আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে”—যা কিছুক্ষণ পরেই বাস্তবে রূপ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে লেভিট জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ রাতে তাঁর স্বভাবসুলভ মারকুটে মেজাজে থাকবেন। তিনি বলেছিলেন, “তিনি (ট্রাম্প) লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আজকের বক্তৃতা হবে ক্লাসিক ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মতো। এটি মজাদার ও বিনোদনমূলক হবে। আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে (There will be shots fired tonight), তাই সবার দেখা উচিত। এটি দারুণ হতে যাচ্ছে।”

শুরুতে সবাই মনে করেছিলেন লেভিট ‘গুলি ছোড়া’ কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন, অর্থাৎ ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ বা কটাক্ষ করবেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই যখন ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের ব্যাংকুয়েট হলে সত্যিকারের গুলির শব্দ শোনা যায়, তখন পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ২,০০০-এর বেশি অতিথি আতঙ্কিত হয়ে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন এবং ‘মাটিতে শুয়ে পড়ুন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

ক্যারোলিন লেভিটের সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি এখন এক্সে (সাবেক টুইটার) ৪০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। নেটিজেনরা একে ‘অদ্ভূত কাকতালীয়’ বা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে দেখছেন। অনেকে মজা করে বলছেন, “এই কথা এত দ্রুত ফলে যাবে তা কেউ বোঝেনি।” আবার কেউ কেউ একে নিছক একটি দুর্ঘটনাক্রমে মিলে যাওয়া ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। তবে পরিস্থিতির নাটকীয়তা আর লেভিটের শব্দের ব্যবহারের এমন অবিশ্বাস্য মিল এখন টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড।

/আশিক


হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে বন্দুক হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১০:০৫:১৬
হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে বন্দুক হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএইচসিএ) বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) রাতে অনুষ্ঠান চলাকালীন এক বন্দুকধারী শটগান নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করলে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় সস্ত্রীক উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শটগানধারী ওই ব্যক্তি সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্টকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। তবে এজেন্টের শরীরে থাকা প্রোটেক্টিভ গিয়ার বা সুরক্ষামূলক পোশাকের কারণে তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

গুলির শব্দ শোনার সাথে সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ২ হাজার ৬০০ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন এবং মুহূর্তের মধ্যে সশস্ত্র কমান্ডোরা অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান গ্রহণ করেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রথমে ডায়াসের নিচে আশ্রয় নেন এবং পরে এজেন্টরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেন।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে বলেন যে ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের স্ক্রিনিং এরিয়ার কাছে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে। পুরো এলাকা বর্তমানে কর্ডন করে রাখা হয়েছে এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত: ইরানি প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২২:০৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত: ইরানি প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা “অহংকারী শক্তিগুলোকে” ইতিহাসের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ১৯৮০ সালের তাবাস মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ সামরিক অভিযানের ৪৬তম বার্ষিকীতে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ১৯৮০ সালের ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর মতো এবারও আল্লাহর ইচ্ছায় দক্ষিণ ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘আধুনিক যুগের তাবাস’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসনকারীরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে বারবার এমন অপমানজনক পরাজয়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে বাধ্য হবে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের কাছে গোপনে অবতরণের চেষ্টা করছিল মার্কিন কমান্ডো ইউনিটগুলো। ইরানি বাহিনী সেখানে দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করে।

এই অভিযানে অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ইরানিদের প্রতিরোধের মুখে তারা কিছু সংবেদনশীল সরঞ্জাম ও নথিপত্র রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তেহরানের দাবি, এটি ছিল একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে চালানো একটি ব্যর্থ গোপন মিশন।

সূত্র: প্রেস টিভি


ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:২২:৩২
ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত টালমাটাল, ঠিক তখনই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ফাটল ধরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পেন্টাগনের একটি গোপন ইমেইল ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইপ্রাসে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তথ্যে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া মেইলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, স্পেন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে পাশে না থাকে, তবে তাদের ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে ন্যাটোর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের সরাসরি কোনো বিধান নেই। স্পেনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

সাইপ্রাস সম্মেলনে পৌঁছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতি দায়বদ্ধ। তবে ন্যাটোভুক্ত অন্য ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি স্পেনের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য এবং সবসময় তাই থাকবে। জার্মানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একই সুর মিলিয়েছেন। অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে ‘ইতিবাচক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন নীতির কারণে ইতালিসহ গোটা ইউরোপের জনমত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এমনকি ট্রাম্পের একসময়ের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মেলোনিও এখন চাপের মুখে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন এবং জ্বালানি সংকটের এই নাজুক সময়ে ন্যাটোর ভেতর এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব পুরো পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ কি আরও ছড়াচ্ছে? ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আবার রকেট হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২০:৫০:০৮
যুদ্ধ কি আরও ছড়াচ্ছে? ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আবার রকেট হামলা
ছবি : সংগৃহীত

লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে আবারও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, হামলার আশঙ্কায় মেনারা, মারগালিওট এবং মিসগাভ আম এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানন থেকে অন্তত তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করছে। সীমান্ত এলাকায় নতুন করে এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জোরালো করল।

সূত্র: আল জাজিরা


৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১২:৫৩:১৯
৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তালিকায় থাকা দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে সরকারি সহায়তা বা কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের হার অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।

তারা যেন আমেরিকান অর্থনীতির ওপর কোনোভাবেই বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই সব স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে না পারে, সেটিই এই স্থগিতাদেশের মূল উদ্দেশ্য।

অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হলেও সাধারণ যাত্রী, পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ পর্যটক (Visitor Visa) এবং শিক্ষার্থী (Student Visa) সহ সব ধরনের অনভিবাসী ভিসার (Non-Immigrant Visa) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, যারা পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া আগের মতোই চলমান থাকবে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশ রয়েছে। তালিকায় আরও আছে রাশিয়া, ইরান, ইরাক, মিশর, মিয়ানমার, ব্রাজিল ও লিবিয়ার মতো দেশগুলো। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ফাইলগুলো নতুন নীতি অনুযায়ী যাচাই করছে।

/আশিক


৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১১:২৩:৫৫
৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে ইরান থেকে আসা হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে ব্যাপক আতিথেয়তার প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হাজিদের ইবাদত ও যাতায়াত যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরানের হজ সংক্রান্ত সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ইরানি হাজিরা মদিনায় পৌঁছাবেন। এরপর সেখান থেকে মক্কায় গিয়ে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, মসজিদ আল-হারামের অতিথিদের সর্বোচ্চ সম্মান ও আতিথেয়তার সঙ্গে সেবা দিতে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজিদের জন্য আবাসন, মানসম্মত খাদ্য এবং স্থল, রেল ও আকাশপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে আসা হাজিদের জন্য এবার সৌদির আতিথেয়তা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি নাগরিক হজে অংশ নিতে যাচ্ছেন এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই তাদের বড় বহর যাত্রা শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের অনুমোদনে পরিচালিত হচ্ছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি হাজিরা এক মাসের বেশি সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে অন্তত ৬ রাত ৭ দিন তারা মদিনার পবিত্র মসজিদে অবস্থান করবেন। যদিও তারা আকাশপথ নাকি স্থলপথ ব্যবহার করে সৌদি পৌঁছাবেন, সে সম্পর্কে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে তেহরান ও রিয়াদের এই সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন।

/আশিক


একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১০:১১:০৯
একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে এক সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার গুঞ্জন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার রাতে ইরানের প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে অবতরণ করলে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে চায়।

তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মধ্যস্থতাকারী’ দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

একদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত ও জামাতার উপস্থিতি এবং অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ এখন এক ঐতিহাসিক চুক্তির সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।

সূত্র: বিবিসি ও দ্য ডন

পাঠকের মতামত: