ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:২৬:৪৯
ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ভারত মহাসাগরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে।

জব্দকৃত ৩টি জাহাজের বিস্তারিত

১. ডিপ সি (Deep Sea): এটি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার। জব্দ করার সময় এটি আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। গত সপ্তাহে এটিকে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

২. সেভিন (Sevin): এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল হলেও জব্দের সময় এতে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল ছিল। এক মাস আগে এটিকে মালয়েশিয়ার জলসীমায় দেখা গেছে।

৩. দোরেনা (Dorena): এটি একটি বিশাল সুপারট্যাংকার যা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় ছিল। তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এটিকে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজের পাহাড়ায় জব্দ করা হয়।

অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরে অবরোধ জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেন্টকোম-এর বিবৃতি অনুযায়ী, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে জোরপূর্বক বন্দরে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বর্তমানে জব্দকৃত 'দোরেনা' জাহাজটি ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় রয়েছে। অন্যদিকে, এর পাল্টা জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।

/আশিক


আল্টিমেটাম শুধুই নাটকে সীমাবদ্ধ! ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১০:১৪:০৩
আল্টিমেটাম শুধুই নাটকে সীমাবদ্ধ! ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি
ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঙ্কার আর বারবার সময়সীমা (Deadline) বেঁধে দেওয়ার কৌশল এখন খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যমেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সিএনএন-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প একের পর এক ‘রেড লাইন’ টানলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়ায় তাঁর ‘ফাঁকা হুমকি’র বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে ট্রাম্প ফাঁকা হুমকি দেন না, কিন্তু গত পাঁচ সপ্তাহের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ট্রাম্প অন্তত পাঁচবার শর্ত মানার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কখনও ৪৮ ঘণ্টা, কখনও ৫ দিন, আবার কখনও ‘সব ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিলেও প্রতিবারই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ২১ মার্চ তিনি প্রথম ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন হরমুজ প্রণালি না খুললে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হবে।

কিন্তু ২৩ মার্চ আসার আগেই সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২৮ মার্চ করা হয়। এরপর ২৬ মার্চ আবারও সময় বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয় এবং সবশেষে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ইরান কোনো শর্তই পূরণ করেনি।

সর্বশেষ ২১ এপ্রিল তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য সময় বাড়িয়েছেন এই যুক্তি দিয়ে যে, ইরানের সরকার ‘অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল’। তবে সিএনএন মনে করিয়ে দিচ্ছে, ট্রাম্প নিজেই এক সময় বারাক ওবামার ‘রেড লাইন’ নীতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছিলেন কারণ ওবামা হুমকি দিয়েও সিরিয়া ইস্যুতে তা কার্যকর করেননি।

২০১৭ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, “হুমকি দিয়ে তা কার্যকর না করলে দেশের ক্ষতি হয়।” এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বারবার পিছিয়ে আসা ইরানকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে—ট্রাম্প আসলে বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক।

/আশিক


আগামী ৭২ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ! ট্রাম্পের কথায় কিসের ইঙ্গিত?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:৫৪:২৯
আগামী ৭২ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ! ট্রাম্পের কথায় কিসের ইঙ্গিত?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা প্রশমনে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক আশার আলো দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউইয়র্ক পোস্ট'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সম্ভাবনার কথা জানান।

তবে আলোচনার এই প্রস্তুতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে রণংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুমোদন ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে তিনটি কার্গো জাহাজে গুলিবর্ষণের পর দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসি-র বিবৃতিতে জানানো হয়, জব্দকৃত জাহাজ দুটির নাম ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্ডাস’। এর মধ্যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটি সরাসরি ইসরায়েলি সরকারের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজ দুটি বারবার নৌ-চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করছিল এবং গোপনে প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। একদিকে ইসলামাবাদে শান্তির আলোচনা, অন্যদিকে সাগরে যুদ্ধংদেহী মনোভাব—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কাণ্ডারি পাকিস্তান? ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বড় চমক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:৩৩:৪৬
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কাণ্ডারি পাকিস্তান? ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বড় চমক
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মূলত ইসলামাবাদের অব্যাহত অনুরোধ ও কার্যকর মধ্যস্থতার কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদই বাড়াননি, বরং একে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কূটনীতির জন্য বাড়তি সময় দিতে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি কোনো আকস্মিক চেষ্টা ছিল না; বরং শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির শুরু থেকেই দুই পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান এখানে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি খসড়া রূপরেখা তারা ইরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে আলোচনার দরজা পুরোপুরি খোলা রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বল এখন অনেকটাই ইরানের কোর্টে। পাকিস্তান যে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে তেহরান সাড়া দিলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ইরান যদি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানি জাহাজে চীনের ‘উপহার’! ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল বিশ্বরাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৯:৩০:৩৬
ইরানি জাহাজে চীনের ‘উপহার’! ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল বিশ্বরাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জব্দ হওয়া ওই জাহাজে ইরানকে পাঠানো চীনের বিশেষ ‘উপহার’ ছিল। তবে বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেইজিং এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জানান যে, ইরানি পতাকাবাহী ওই জাহাজে চীনের পাঠানো সামগ্রী পাওয়া গেছে যা মোটেও সুখকর কোনো বিষয় নয়। একই সুরে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, চীন থেকে রওনা দেওয়া ওই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক ছিল।

তবে বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এটি একটি সাধারণ বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এবং এর সঙ্গে চীনকে জড়িয়ে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে ইরানে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রোববারের এই ঘটনার পর ট্রাম্প কিছুটা অবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে তিন দফায় গুলি চালিয়ে তারা ‘তুসকা’ জাহাজটি জব্দ করে।

গোয়েন্দা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, জাহাজটিতে ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম রয়েছে, যা শিল্প কারখানার পাশাপাশি সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

তথ্য বিশ্লেষণের সংস্থা ‘সিনম্যাক্স’ জাহাজের গতিবিধি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, জাহাজটি গত ২৫ মার্চ চীনের সাংহাইয়ের তাইকাং বন্দর থেকে রওনা দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও মালয়েশিয়া হয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছায়।

এদিকে তেহরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে নাবিকদের মুক্তি দাবি করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ঘটনার পরবর্তী সব পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন দায়ী থাকবে।

/আশিক


ন্যাটোতে ট্রাম্পের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! অবাধ্য মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৯:১৩:০৭
ন্যাটোতে ট্রাম্পের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! অবাধ্য মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটো জোটের ভেতরে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। যেসব সদস্য রাষ্ট্র ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।

বিশেষ করে চলমান ইরান যুদ্ধে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের জন্য একটি ‘ভালো-মন্দের’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর যেসব দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ খরচ করে না, তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন এবং এবারের এই তালিকা সেই হুমকিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত করা এই তালিকায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সামরিক অবদান এবং আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই বিভাজনকে হাতিয়ার করে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কৌশল গ্রহণ করছে যা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সংহতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলোর মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিচ্ছে, তারা বিশেষ আনুকূল্য পাবে। অন্যদিকে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নামে যারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন যে ওয়াশিংটন এই তালিকা ব্যবহার করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পুরো চিত্র বদলে দিতে পারে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তথাকথিত মিত্রদের অনুপস্থিতি তারা মনে রাখবে।

এক্ষেত্রে জার্মানি বা অন্য দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পোল্যান্ড বর্তমানে তাদের দেশে থাকা মার্কিন সেনাদের প্রায় পুরো খরচ বহন করছে যা ট্রাম্পের অত্যন্ত পছন্দ। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধে নিজেদের বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় রোমানিয়াও এখন ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নির্ধারণ করা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রাটিই এই তালিকার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে যে তারা এখন থেকে শুধুমাত্র সেইসব ‘মডেল অ্যালই’ বা আদর্শ মিত্রদের সাথে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেবে যারা নিজেদের ভাগের অর্থ ও শ্রম দিচ্ছে।

এর ফলে যারা ট্রাম্পের নীতিতে সায় দিচ্ছে না, তাদের জন্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বা যৌথ মহড়ার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধে পাশে থাকা এবং হরমুজ প্রণালীতে সহায়তা করাকে বড় মানদণ্ড ধরা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলো যখন মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিতে কালক্ষেপণ করেছে, তখন রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলো লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন করেছে। স্পেনের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরোধিতা করায় দেশটি ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছে।

তবে মিত্রদের এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে খোদ মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশও উদ্বিগ্ন। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার সতর্ক করে বলেছেন যে মিত্রদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা মোটেও গঠনমূলক কাজ নয়। সব মিলিয়ে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো


ইরানের উপকূলে বন্দি দুই জাহাজ! হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৮:৪৭:৫৬
ইরানের উপকূলে বন্দি দুই জাহাজ! হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার পারদ এবার চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইরানের বেঁধে দেওয়া ‘লাল রেখা’ বা রেড লাইন অতিক্রম করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে দুটি বিশাল কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দিনভর বিভিন্ন সময়ে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে ইরানি বাহিনী।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জব্দ করা জাহাজ দুটিকে বর্তমানে ইরানের উপকূলীয় বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জাহাজগুলো ঠিক কোন দেশের মালিকানাধীন কিংবা তাতে কী ধরনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ইরানের কাছে একটি ‘রেড লাইন’। এই সীমা যারা অতিক্রম করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের আগে জাহাজ দুটির একটি ইরানের উপকূলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্যটি ওমান উপকূলের কাছে আক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র ও যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার আরও তিনটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের শিকার হওয়া জাহাজগুলো বর্তমানে কোনোমতে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

সাগরের এই সংঘাত ও জাহাজ জব্দের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার মাঝেই এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৪:৩২:০৬
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তবেই ইরান নতুন দফার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হবে। ইরানের সংবাদমাধ্যম শার্গ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতির পরিবর্তন ছাড়া অর্থবহ সংলাপ সম্ভব নয়।

ইরাভানির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অবরোধ শিথিল করলেই হবে না, বরং তাদের “বৈরী আচরণ” এবং যুদ্ধবিরতির পরও চাপ প্রয়োগের কৌশল বন্ধ করতে হবে। তার দাবি, কূটনৈতিক সমাধান চাইলে প্রথমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

ইরানের এই কূটনৈতিক অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাভানির বক্তব্যকে তেহরানের আনুষ্ঠানিক কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় এবং অবরোধ প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু করে, তাহলে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে সামনে আনা আঞ্চলিক ভূরাজনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

ইরাভানি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধকে প্রথম বিকল্প হিসেবে দেখে না। তেহরান সবসময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যদি কোনো পক্ষ সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ব্যবহার করতে পিছপা হবে না।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রেখেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক চাপ মোকাবিলায় দেশটি পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান স্থায়ী শান্তির জন্য কার্যকর প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও পরিষ্কার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অবরোধ অব্যাহত রাখবে।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ইরান মনে করছে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান আসলে চাপ প্রয়োগের কৌশল, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কূটনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক তেলবাজারকে সরাসরি নাড়িয়ে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে পড়ছে।

-রাফসান


পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১২:২১:২৯
পুতিন-ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মানবাধিকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন কারা?
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্ব রাজনীতির ‘ভয়ংকর শিকারি’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

লন্ডনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই তিন নেতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা কেবল নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ৪০০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে গাজা, ইরান, লেবানন ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে।

এছাড়া লেবাননে ২ হাজার ৪০০, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজারের বেশি এবং চার বছর ধরে চলা রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেতাদের কারণে হত্যাযজ্ঞ এখন বিশ্বে একটি ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অভিযোগ করেন, এই নেতারা অত্যন্ত লোভী এবং তাঁরা বিশ্বের সম্পদ লুণ্ঠন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করছেন। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ সরকার এই ‘শিকারিদের’ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে উল্টো তাঁদের তোষণ করছে।

তবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেনের সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিবেদনে আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে


হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১২:১৪:০৬
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: শেষ মুহূর্তে কেন মত বদলালেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিল। হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সাথে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরান থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না মেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

একদিকে পাকিস্তানে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্সের বিমান প্রস্তুত ছিল, অন্যদিকে ইরানের নীরবতা প্রশাসনকে উভয়সংকটে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোর থাকবে।

ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভেদই আলোচনার প্রধান বাধা। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক মজুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেহরান কোনো একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্টে সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে "বিভক্ত" বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। ইরানের আলোচক প্রতিনিধি মাহদি মোহাম্মদী সাফ জানিয়েছেন, "অবরোধ চালিয়ে যাওয়া বোমাবর্ষণের মতোই অপরাধ।" তেহরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না।”

এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তাদের অব্যাহত চাপের মুখেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরানের পক্ষ থেকে সময়ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি আগের সব চুক্তির চেয়েও "উন্নত ও শক্তিশালী সমাধান" নিশ্চিত করবেন।

সূত্র: সিএনএন

পাঠকের মতামত: