ধর্মগুরু বনাম প্রেসিডেন্ট: পোপ লিও’র সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১১:৩৮:১৮
ধর্মগুরু বনাম প্রেসিডেন্ট: পোপ লিও’র সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও’র মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ। পোপের বৈদেশিক ও অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত ‘দুর্বল’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করে সরাসরি আক্রমণ করেছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প এই কড়া মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, অপরাধ দমনে পোপ অত্যন্ত নমনীয় এবং তার অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পোপের নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়ার বিষয়টি যিনি সমর্থন করেন, এমন কোনো ধর্মগুরুকে আমি পোপ হিসেবে দেখতে চাই না।’ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও তিনি একই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেন।

এই বাদানুবাদ এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। পোপ লিও মানবিক দিক বিবেচনা করে ট্রাম্পের কিছু কঠোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় প্রেসিডেন্ট এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখালেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য ভ্যাটিকান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্কে এক নতুন ফাটল তৈরি করল। এই ঘটনায় ধর্মীয় মহলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল


চুক্তির খুব কাছে গিয়েও কেন ফিরল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র? পর্দার আড়ালের রহস্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১১:৩১:৩০
চুক্তির খুব কাছে গিয়েও কেন ফিরল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র? পর্দার আড়ালের রহস্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় নতুন করে ঘনীভূত হয়েছে যুদ্ধের মেঘ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখনও তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেনি। বিবিসিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের মতে, আলোচনার টেবিলে ইরান তাদের পারমাণবিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। তিনি জানান, সরাসরি আলোচনায় ব্যর্থতার প্রধান কারণই ছিল তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে অনাগ্রহ। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের পর পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও তীব্র হয়েছে।

পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে তার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন পক্ষের ‘অতিরিক্ত দাবি, বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং নতুন করে অবরোধ আরোপের হুমকি’র কারণেই শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে গেছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে।

/আশিক


হরমুজ সংকটে জাপানের হাই-অ্যালার্ট: পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর টোকিওর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১১:২৪:০৯
হরমুজ সংকটে জাপানের হাই-অ্যালার্ট: পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর টোকিওর
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে জাপান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিমাসা কিহারা জানিয়েছেন, টোকিও পরিস্থিতির প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সব পক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত একটি শান্তিময় সমাধানে পৌঁছাবে।

হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ বা কোনো সামরিক অভিযানে জাপানি বাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিহারা জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে জ্বালানি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালি জাপানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দেশটি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কায় এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান শুরু করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় হিলিয়াম চড়া দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করছে। পাশাপাশি তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে যেন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এশিয়ার অর্থনীতিগুলো এখন আর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বসে না থেকে নিজ নিজ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প পথে হাঁটছে।

/আশিক


ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ শুরু: রণক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে পারস্য উপসাগর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১১:১৩:২২
ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ শুরু: রণক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে পারস্য উপসাগর
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আজ সকাল থেকেই ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজ কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে।

এই অবরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা শুধুমাত্র ইরান-গামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকে বাধা দেবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অন্য দেশের জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সামরিক বাহিনীর এই ‘সীমিত’ অবরোধের সিদ্ধান্ত কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবুও এই ঘোষণার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে; মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

তেহরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জলসীমার কাছে কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ এলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। পারস্য উপসাগরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই রুটটির ওপর নির্ভরশীল।

/আশিক


যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মাশুল! ফের ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১০:১৪:৫৯
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মাশুল! ফের ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বন্দরগুলো অবরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম এক লাফে ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১০২.২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৭০ ডলার, যা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার শান্তি আলোচনার খবরের মাঝে দাম কিছুটা কমে ৯৫ ডলারে নামলেও, এখন তা আবার ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সল কাভোনিক সতর্ক করে বলেছেন, বাজার এখন আবার যুদ্ধকালীন উত্তজনাপূর্ণ অবস্থায় ফিরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ আটকে দেয়, তবে দাম আরও বাড়তে পারে।

স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম চড়া থাকতে পারে। তবে এই উত্তজনার মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে সৌদি আরব; তারা তাদের ১,২০০ কিমি দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


‘যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধই হবে’: ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ০৯:২৬:৫৭
‘যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধই হবে’: ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কড়া হুমকির জবাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব Mohammad Bagher Ghalibaf। রোববার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের ‘locked and loaded’ হুমকির প্রেক্ষিতে ঘালিবাফ বলেন, ইরানি জাতি হুমকির ভাষায় ভয় পায় না। তার ভাষায়, “আপনি যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেন, আমরা সেই পথেই জবাব দেব; আর যদি যুক্তির পথে আসেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমেই এগোব।” এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ইরানের দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে প্রতিরোধ, অন্যদিকে শর্তসাপেক্ষ কূটনীতি।

ঘালিবাফ দাবি করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় ইরান যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছিল। তবে তার অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থান এবং পরবর্তী সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা সেই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দেয়। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, “ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। বরং যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও আমাদের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায়, তাহলে আমরা তাদের আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করব।” এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের মতে কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক নয়, বরং একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর Donald Trump হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নৌ-অবরোধের ইঙ্গিত দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি আরও দাবি করেন, “উপযুক্ত সময় এলে” ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের অবরোধের হুমকি এবং তেহরানের পাল্টা কঠোর অবস্থান এই পথকে একটি সম্ভাব্য সংঘাতক্ষেত্রে রূপান্তরিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এখন একটি “ডিটারেন্স গেম”-এ রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই ধরনের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ভুল হিসাব বা ভুল পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা একটি সীমিত সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘালিবাফের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং প্রয়োজনে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানও পরিস্থিতিকে শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই উত্তেজনা কি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—যার প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


"ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ০৮:১৭:৫৪
"ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"
ইরানি মিসাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ মার্কিন ঘাঁটি। ছবি- সংগৃহীত

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইহুদি লেখক আলন মিজরাহি চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এই যুদ্ধের পর তারা এশিয়ায় আর কখনোই ফিরে আসতে পারবে না।

‘ক্রিটিক অ্যানালাইসিস’ সাইটে প্রকাশিত তার প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো:

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকছি আমরা

মিজরাহি লিখেছেন, "আমরা ইতিহাসের এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকছি। ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, ব্যাপক এবং দৃঢ়তার সাথে আমেরিকান ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করছে, যা বিশ্বকে পুরোপুরি হতভম্ব করে দিয়েছে। ইরান মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো অঞ্চলে তাদের সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।"

ত্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে

তিনি উল্লেখ করেন যে, বাহারাইন, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সুবিধা। এগুলো নির্মাণ করতে কয়েক দশক সময় এবং ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। মিজরাহির মতে, "গত ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের সামরিক ব্যয়ের একটি বিশাল অংশ এখন নর্দমায় যাচ্ছে। আমরা দেখছি কোটি কোটি ডলার মূল্যের রাডার নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিত্যক্ত, ভস্মীভূত এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।"

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ইহুদি লেখক আলন মিজরাহি।ছবি- সংগৃহীত।

পার্ল হারবারের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

মার্কিন ইতিহাসের তুলনা টেনে এই বিশ্লেষক বলেন, "আমার জানামতে, পার্ল হারবার বাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসে আর কখনও এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখেনি। কিন্তু পার্ল হারবার ছিল কেবল একটি একক আক্রমণ। একটি প্রচলিত যুদ্ধে (Conventional War) কোনো শত্রু আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ওপর বর্তমান ইরানের মতো এমন বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি আর কখনও করতে পারেনি।"

তথ্য সেন্সরশিপ এবং আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মিজরাহি বলেন, সামরিক অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে সেন্সরশিপের মাধ্যমে প্রায় সব তথ্য আটকে দেওয়া হচ্ছে। ৩৫ বছর আগে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সারাক্ষণ ফুটেজ দেখা যেত, কিন্তু এখন প্রায় কোনো ভিডিওই প্রকাশ্যে আসছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বিশ্বের বৃহত্তম বিমান বাহিনীর অধিকারী হয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের ওপর আকাশপথের আধিপত্য (Air Superiority) দেখাতে পারছে না কেন? তেহরান বা ইরানের ওপর মার্কিন বিমানের ওড়ার কোনো দৃশ্য কি দেখা যাচ্ছে?"

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কটাক্ষ

মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার পাঠাতে সামরিক প্রহরার যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত মার্কিন জাহাজগুলোকে ইরানের হাজার হাজার মিসাইলের আওতায় ঠেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কুর্দি মিলিশিয়াদের দিয়ে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "ইরান কতটা বড় দেশ তা কি ট্রাম্প প্রশাসন জানে? দশ-বিশ হাজার বা এক লাখের মিলিশিয়া বাহিনী দিয়ে ইরান আক্রমণ করা অসম্ভব, ইরান তাদের গিলে ফেলবে।"

চূড়ান্ত ফলাফল: পশ্চিম এশিয়া থেকে বিদায়

আলন মিজরাহি তার নিবন্ধের শেষে বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে হেরে গেছে। তারা হয়তো শক্তিশালী বোমা দিয়ে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে পারে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু এই যুদ্ধ তারা জিতবে না। ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং অস্ত্রগুলো সারা দেশে মাটির গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পৌঁছানোর ক্ষমতা আমেরিকা বা ইসরায়েলের নেই।"

তিনি নিশ্চিতভাবে দাবি করেন, "এই সংঘাত যখন শেষ হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কখনোই পশ্চিম এশিয়ায় ফিরতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।"


এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:৫১:১৬
এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোরতম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বলেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং উপযুক্ত সময়ে ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়া’ হবে। ট্রাম্পের এই রণংদেহী বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি চাইলে মাত্র এক দিনেই ইরানকে পঙ্গু করে দিতে পারেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ইরানের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি অয়েল প্ল্যান্ট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখল করে নেওয়া, যা দেশটির অস্তিত্বের ওপর বিশাল আঘাত হানবে বলে তিনি দাবি করেন। মূলত পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কোনো ছাড় না দেওয়ায় ট্রাম্প এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেসব জাহাজ আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা ইরানকে ‘টোল’ প্রদান করবে। ট্রাম্পের সাফ কথা, “যে ইরানকে টোল দেবে, সে সমুদ্রে নিরাপদে চলতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইনগুলো ধ্বংস করার ঘোষণাও দিয়েছেন। ইরান যদি মার্কিন বা অন্য কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। খুব শিগগিরই এই নৌ-অবরোধ (Blockade) কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:২১:৩৩
হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, সেগুলোকে যেন সরাসরি আটক করা হয়।

ট্রাম্পের মতে, ইরান মাইন পাতার ভয় দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করেছে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তেহরানকে অবৈধভাবে টোল দেবে, তারা সমুদ্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তা পাবে না।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে নসাৎ করতে চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ইরান যেখানেই মাইন পেতে থাকুক না কেন, তা অপসারণের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র শুরু করবে এবং যদি কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন বা শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক শক্তির বড় অংশ হারিয়েছে এবং এই বিপর্যয়ের জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিই দায়ী। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর একটি বিশাল নৌ-অবরোধ (Blockade) শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও অংশ নেবে। এই ঘোষণার ফলে পারস্য উপসাগরে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২০:২১:৫১
হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অসংখ্য নৌ-মাইন পেতেছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইরান চাইলেও দ্রুত এই পথটি পুরোপুরি খুলে দিতে পারছে না। কারণ, খোদ আইআরজিসি-ই এখন শনাক্ত করতে পারছে না যে প্রণালির ঠিক কোন কোন জায়গায় তারা মাইন স্থাপন করেছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি ছোট আকারের রণতরী ব্যবহার করে এই মাইনগুলো পেতেছিল। তবে সব স্থানের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন থাকার কথা উল্লেখ আছে, জোয়ার-ভাটা বা সমুদ্রের স্রোতের কারণে তার বেশির ভাগই এখন সেখান থেকে সরে গেছে বা ভেসে অন্য স্থানে চলে গেছে। ফলে এই অদৃশ্য মাইনগুলো এখন বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য এক ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হলেও, এই মাইন সমস্যার কারণে জলপথটি এখনই নিরাপদ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। শনাক্ত করা মাইনগুলো অপসারণ করাও প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন পথটি কবে নাগাদ পুরোপুরি নিরাপদ হবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: