কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২০:০৮:৩৪
কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
পাম্প জ্যাকের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফাইল ছবি: এএফপি

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান—মানুষের জয়যাত্রা কিংবা পতনের নেপথ্যে একটি তরল পদার্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্র্যাকিং বিপ্লব পর্যন্ত, তেলের ইতিহাস মানেই শক্তির পালাবদল।

আদি ইতিহাস: মমি থেকে নৌকা (৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

তেলের ব্যবহার আধুনিক যুগের আবিষ্কার নয়। প্রাচীন ব্যবীলনীয়রা নৌকা পানিরোধক করতে এবং মিশরীয়রা মমি সংরক্ষণে তেলের আদি রূপ ব্যবহার করত। তবে তখন এটি ছিল কেবল একটি সহায়ক উপাদান, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক নয়।

আধুনিক বিপ্লব: পেনসিলভানিয়া থেকে মোটরগাড়ি (১৮৫৯-১৮৮৫)

১৮৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা শুরু। ১৮৮৫ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করলেন, তখন তেলের চাহিদা গগনচুম্বী হয়ে ওঠে। গ্যাসোলিন হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান জ্বালানি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ও বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯০৮-১৯১৮)

১৯০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিশাল মজুত আবিষ্কার বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, ট্যাঙ্ক, জাহাজ ও বিমান চালাতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। যার তেল আছে, যুদ্ধজয়ে সেই এগিয়ে।

তেলের ভাগবাটোয়ারা ও সুয়েজ সংকট (১৯৪৪-১৯৫৬)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বুঝিয়ে দেয়, উৎপাদনকারী দেশগুলো (বিশেষ করে মিশর) এখন আর স্রেফ দর্শক নয়, তারা তেলের রুট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।

তেল যখন মারণাস্ত্র: ১৯৭৩-এর সংকট ও উপসাগরীয় যুদ্ধ

১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো তেলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে, ফলে তেলের দাম ৪ গুণ বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধের নেপথ্যেও ছিল কুয়েতের তেল ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্র্যাকিং’ প্রযুক্তির উদ্ভাবন তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণ আনে। শিলাস্তর ফুটো করে তেল উত্তোলনের এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারকে পরিণত করে। ২০১৫ সালে এসে আরবের দেশগুলো তেলের দাম কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা এই ফ্র্যাকিং শিল্পকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা বিশ্ববাজারে ধস নামায়।

তেল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, বিশ্বের ক্ষমতার চাবিকাঠিও তার হাতে। ৩০০০ বছর আগের সেই মমি তৈরির তেল আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার যুগেও বিশ্ব অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে কাজ করছে।


ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৯:১৯:৫৭
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের।

তবে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ উপস্থিত থাকলেও সংলাপ শুরু হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন পরিস্থিতি। গত বুধবার পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টা পরই ঘোষণা করেন যে লেবানন এই চুক্তির আওতায় নেই। এরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আহত হন।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান এখন কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়, তবে আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের এই পরিকল্পিত সংলাপ স্থগিত করেছে। ইরান মূলত এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অনড় রয়েছে, যা মানতে রাজি নয় ইসরায়েল। ফলে ইসলামাবাদের এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা এখন সুতোয় ঝুলছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:১৭:০২
রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। উড্ডয়নকালে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ নজরদারি মিশন শেষে ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল।

ফেরার পথে ড্রোনটি থেকে জরুরি অবস্থা নির্দেশক ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। এরপর ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা যখন কার্যকর হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দামি নজরদারি সরঞ্জাম, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা) বেশি।

এটি সাধারণত ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।

সুইডেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক এই সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।

প্রতিদিনের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান ও নৌ অভিযানে। ড্রোন নিখোঁজের এই নতুন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝাকে আরও ভারী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি


যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৭:১১:৪৪
যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ, যা অঞ্চলটিকে একটি গভীর মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দুটি প্রধান হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলমান হামলার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে লেবাননে শত শত শিশু হতাহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত ইতোমধ্যেই লেবাননে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, লেবাননে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একাধিক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িক কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কাতার ও যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তারা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তেহরানের সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে। দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণ ও হামলার পর শহরজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেকেই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তারা আশঙ্কা করছে, এই শান্তি হয়তো স্থায়ী হবে না।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বিমুখী বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।


ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১০:৩৫:২১
ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: কোলাজ ইত্তেফাক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে ‘ফি’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ধরনের কার্যক্রম ‘এখনই বন্ধ করতে হবে’।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুদিন আগে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও উত্তেজনার কালো মেঘ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ইরান ফি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যদি এই পথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখে তবেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান এখন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন যে, তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আচরণের ওপর। একদিকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘এখনই বন্ধ করো’ আল্টিমেটাম পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জ্বালানি বাজারের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ইরান এই টোল বা ফি আদায় বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্পের নির্দেশে আবারও মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের আকাশে গর্জে উঠতে পারে। আপাতত সবার নজর এখন ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং হরমুজ প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতির দিকে।

/আশিক


যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৯:০১:৩৬
যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার থেকে।

ইসরাইলি আদালতের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে মামলার শুনানি নিয়মিতভাবে চলবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ফলে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল, অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে।

আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তা বারবার বিলম্বিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর কাছে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইসরাইলে নতুন করে কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, যা সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৮:৫০:০৩
হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান, যা বৈশ্বিক তেল ও বাণিজ্য বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে তেল সরবরাহ হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করত। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত এই পথ অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল শুধু সীমিতই নয়, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি জাহাজের চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।

এই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারকি করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে।

এই প্রণালি শুধু তেলের জন্য নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনের জন্যও অপরিহার্য। ফলে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

-রফিক


পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ০৮:৩৯:৩৫
পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ-এর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। এক বার্তায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কার্যালয় জানায়, ইসরাইলকে নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, যখন সংশ্লিষ্ট দেশ নিজেকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। তাদের মতে, শান্তি প্রক্রিয়ার সময় এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ ইসরাইলকে ‘অশুভ শক্তি’ এবং ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও লেবাননে ইসরাইল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রফিক


শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:৪৪:৪১
শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে, যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিফোনে আলোচনায় অংশ নেন। এই সংলাপকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন এবং সংঘাত-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন।

তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কীভাবে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়। বিশেষ করে উত্তেজনা কমিয়ে আনার কৌশল এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট, যেখানে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হয়ে ওঠে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:১০:০০
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরপরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই হামলাকে ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যা পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের এই আক্রমণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে শান্তি আলোচনার অর্থই হারিয়ে যাবে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়বে।

তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, লেবাননের জনগণের পাশে ইরান সবসময় থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবানন এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ ইরানের কৌশলগত অংশীদার এবং এই সমীকরণকে উপেক্ষা করে কোনো যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে পারে না।

তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন, যখন ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রয়োজন হলে যেকোনো স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েল সংঘাতের পরিসর সীমিত রাখতে আগ্রহী নয়।

সূত্র:আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: