যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১১:৪৭:১৩
যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
ছবি : সংগৃহীত

ভোটাভুটিতে নিশ্চিত হারের আশঙ্কা এবং নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের বড় ধরণের অনুপস্থিতির মুখে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে (House of Representatives) ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি অতি সংবেদনশীল ভোট মাঝপথেই আকস্মিক বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান সংঘাত বন্ধে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস মেম্বাররা। একই সাথে এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাসূচক মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত পরশু বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মেমোরিয়াল ডে-র ছুটির ঠিক আগে মার্কিন হাউসে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।

হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে এই বিশেষ ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির শীর্ষ সদস্য গ্রেগরি মিকস। ভোট চলাকালীন রিপাবলিকান পার্টির অন্তত ১০ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় এবং ডেমোক্র্যাটদের সাথে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য যোগ দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এই ভরাডুবি এড়াতে ট্রাম্প অনুগামী ও হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারা তড়িঘড়ি করে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা—সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার একটি কড়া যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তাঁরা রিপাবলিকান নেতৃত্বকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (Wholly-owned subsidiary) মতো আচরণ করে চলেছে।” তবে হাউস মেজরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস দাবি করেছেন, অনুপস্থিত সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিলম্ব। অন্যদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেও আগামী জুন মাসের শুরুতে ছুটির পর হাউস পুনরায় বসলে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের পরমাণু ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পেন্টাগন (Pentagon) ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু করেছিল। ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Act) অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন (এবং সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন) তা চালিয়ে যেতে পারেন; যার সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে।

গত ৫ মে সামরিক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ইরানে বড় ধরণের হামলার গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পেন্টাগন সূত্রে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানেরBrian Fitzpatrick এবং Thomas Massie-র মতো শীর্ষ আইনপ্রণেতারাও এখন এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে ভোট দেওয়ায় হোয়াইট হাউস এখন বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার


নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:৫৪:৪৩
নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাটে শত শত মেগা গরুর চিরাচরিত আকর্ষণকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়ে দেশজুড়ে এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এক অবিশ্বাস্য ও ব্যতিক্রমী গোলাপি মহিষ। রেকর্ড ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির অদ্ভুত রাজকীয় চেহারা এবং কপালে ঝুলে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো সোনালি-লালচে চুলের কারণে শখ করে তার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

শুধু দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, নিজের বিচিত্র নামকরণের জোরে এই মহিষটি এখন বিশ্বের বাঘা বাঘা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মূল পাতায়ও জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই মহিষটিকে নিয়ে একটি বিশেষ এক্সক্লুসিভ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ছিল— “বাংলাদেশের বিরল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঈদের সেনসেশন।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কুচকুচে কালো রঙের মহিষ দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এই বিশেষ ‘অ্যালবিনো’ (Albino) জাতের মহিষটির গায়ের রং সম্পূর্ণ আলাদা—হালকা গোলাপি বা ক্রিমের মতো। মহিষটির সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো আকর্ষণ হলো তার কপালে থাকা একগুচ্ছ সোনালি চুলের স্টাইল, যা দেখতে হুবহু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার হেয়ারস্টাইলের অবিকল নকল। এই অদ্ভুত ও নিখুঁত মিল দেখেই খামারিরা মজার ছলে মহিষটির নাম ট্রাম্পের নামে নামকরণ করেন। মহিষটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’।

খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছোট ভাই প্রথমে শখের বশে মহিষটির চুলের কাটিং দেখে ট্রাম্পের নাম দেন; কিন্তু পরবর্তীতে এটি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হবে তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি। বর্তমানে রয়টার্স ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ এইট্টিনসহ বিশ্বের অন্তত ডজনখানেক মেগা মিডিয়া এই ‘গোলাপি ট্রাম্প’কে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করেছে, যার ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ খামারে ভিড় করছেন স্রেফ একটি সেলফি তোলার জন্য।

/আশিক


আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:১৬:৪৬
আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা বিজনেসসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বা সাময়িক ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বর্তমান বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। গত পরশু শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (USCIS) এই সংক্রান্ত একটি কড়া নতুন নির্দেশনা বা পলিসি গাইডলাইন জারি করেছে।

নতুন এই পরিমার্জিত নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে সাময়িক ভিসা বদলে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (Adjustment of Status) করা কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনি অধিকার নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অফিশিয়ালি জানিয়েছে, “যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদনের জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে।” তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (Case-by-Case) মূল্যায়ন করবেন।

আবেদন মূল্যায়নকালে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় থাকা (Overstay), অনুমতি ছাড়া চাকরি করা কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তবে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত (যেমন- এইচ-১বি বা এল-১) কিছু নির্দিষ্ট ভিসার ক্যাটাগরিকে এই নিয়মের বাইরে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম কট্টর অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকার মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো। শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ (HIAS) সতর্ক করে বলেছে, এই অমানবিক নিয়মের কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে এবং তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে বিদেশিদের দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে মাস্টারপ্ল্যান চলছে, এই নির্দেশনা তারই সর্বশেষ বড় ধাক্কা। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড ১ লাখেরও বেশি বিদেশির মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১১:৫১:৩৯
ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ড্রোন বহরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বহু অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান।

সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে তেহরান। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মোট এমকিউ-৯ রিপার বহরের প্রায় ২০ শতাংশের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সংখ্যাগত ক্ষতি নয়; বরং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। কারণ এমকিউ-৯ রিপারকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কার্যকর নজরদারি ও আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

MQ-9 Reaper ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক সেন্সর, হাই-রেজুলেশন ক্যামেরা এবং দূরপাল্লার নজরদারি সক্ষমতায় সমৃদ্ধ। এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেডিএএমের মতো নির্ভুল নিশানার বোমা বহন করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট ট্র্যাকিং এবং নির্ভুল হামলায় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একেকটি রিপার ড্রোন নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। ফলে ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে বাতিল করা ড্রোনগুলোও হিসাবের মধ্যে আনলে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় ৩০-এ পৌঁছাতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা এবং মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক মার্কিন ড্রোন অভিযানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম উচ্চতায় উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও মার্কিন ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে পেন্টাগনকে।

সূত্র: তাস


ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১০:৩৭:১৯
ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বৈশ্বিক সামরিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভবিষ্যৎ বিশ্বযুদ্ধের কৌশল, বিমানশক্তির কার্যকারিতা এবং চীনকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের হিসাবও নতুন করে বদলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি Congressional Research Service–এর একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল, এ-১০ থান্ডারবোল্ট, কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট এবং একাধিক দীর্ঘপাল্লার ড্রোন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক উচ্চমূল্যের সামরিক প্ল্যাটফর্ম হারানো সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে এমন ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন বিমানবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা ও আকাশে আধিপত্য ধরে রাখার সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে মার্কিন বাহিনীর একাধিক বিমান ভুলবশত নিজেদের পক্ষের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সামরিক ভাষায় যাকে বলা হয় “ফ্রেন্ডলি ফায়ার”। কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান এভাবে ধ্বংস হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির মোবাইল এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি Tor-M1 এবং S-300–এর মতো সিস্টেমগুলো মার্কিন ড্রোন ও নিম্নউড্ডয়নকারী বিমানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি “নেটওয়ার্কড ওয়ারফেয়ার” সক্ষমতা অর্জন করেছে, যেখানে স্যাটেলাইট ডাটা, এআই-চালিত নজরদারি এবং রিয়েল-টাইম টার্গেটিং বড় ভূমিকা রাখছে।

রুশ-ইরান সামরিক সহযোগিতাও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, মস্কো ইতোমধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক “ভেরবা” ম্যানপ্যাড সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। কাঁধে বহনযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কম উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান ও ড্রোন ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত “ডিস্ট্রিবিউটেড বেসিং” কৌশলের দুর্বলতাও প্রকাশ করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাধারণত তাদের যুদ্ধবিমান বিভিন্ন ছোট ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখে, যাতে শত্রুর হামলায় বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। কিন্তু ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের Prince Sultan Air Base–এর মতো সুরক্ষিত ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের ধারণা, ইরানের পেছনে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজ, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং এআই-ভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান ইস্যুতেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরানের মতো একটি দেশ উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীকে চাপে ফেলতে পারে, তবে সরাসরি চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ চীনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, শিল্পভিত্তি ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ইরানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী।

-রাফসান


ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৩১:৫৪
ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মুখে চরম ভূরাজনৈতিক সংকটের মাঝেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবের প্রধান শর্ত সরাসরি উড়িয়ে দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ জারি করে বলেছেন, ইরানের কষ্টার্জিত ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Enriched Uranium) কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না এবং এই মজুত অবশ্যই ইরানেই রাখতে হবে।

ইরানের নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই এক্সক্লুসিভ ও চাঞ্চল্যকর খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় ডিক্রির ফলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় হোয়াইট হাউসের প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান এখন ইস্পাতকঠিন রূপ নিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই নজিরবিহীন আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ করতে পারে, যা ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এক নিমেষেই খাদের কিনারায় ঠেলে দিল।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প তেল আবিবকে ব্যক্তিগতভাবে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন—পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ইরানের ভূখণ্ড থেকে চিরতরে বাইরে পাঠানো হবে এবং যেকোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে ওয়াশিংটন এই ধারাটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এর বিপরীতে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সম্পূর্ণ সরানো হবে, তেহরান তার আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের (হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি) সামরিক তহবিল বন্ধ না করবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে কোনোভাবেই বিবেচনা করবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারকদের গভীর আশঙ্কা—এই কৌশলগত পারমাণবিক উপাদান যদি কোনো চুক্তির আওতায় বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন তখন ইরানে বিমান হামলা চালাতে পারে এবং তখন দেশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পর বর্তমানে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই শান্তি প্রচেষ্টায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি; উল্টো ওমান উপসাগর ও ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের মূল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর তেহরানের নতুন কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরো সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের প্রধান শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি আসলে মার্কিন প্রশাসনের একটি সুনিপুণ ‘কৌশলগত প্রতারণা’ বা ফাঁদ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে একটি ভ্রান্ত নিরাপত্তার মাঝে রেখে গোপনে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গতকাল পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাঁদের শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে সই না করে, তবে তেহরানকে গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও মেগা হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১২:৪৬:৫৮
অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন, কঠোর ও নজিরবিহীন এক তদারকি এবং আগাম অনুমতি ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক হুমকির রেশ ধরে বুধবার (২০ মে) তেহরানের সংশ্লিষ্ট নৌ-কর্তৃপক্ষ নতুন এই বিশেষ নজরদারি অঞ্চলের নিখুঁত সীমানাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই কড়া নজরদারি অঞ্চলটি একদিকে ইরানের কুহ মোবারক থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ঐতিহাসিক কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমায় বিস্তৃত থাকবে।

নতুন জারি করা এই বিশেষ সামুদ্রিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের পণ্যবাহী বা তেলবাহী কার্গো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে অগ্রিম ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নিতে হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের (Reuters) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালির এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের শক্তিশালী এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) অতিরিক্ত কিছু কঠোর শর্ত ও ডিক্রি আরোপ করেছে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রধান বিষয়টি হলো—প্রণালি পার হওয়ার আগে প্রতিটি জাহাজকে একটি বিশেষ ‘সম্পৃক্ততা বা দায়বদ্ধতা নথি’ (Affidavit Certificate) জমা দিতে হবে, যেখানে লিখিতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজ, ক্রু বা পণ্যের মালিকানার সাথে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।

রয়টার্সের ওই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন এবং দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে জাহাজ চলাচলে একেকটি কোম্পানির এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব (Delay) হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশেষ ক্লিয়ারেন্স ও নতুন ট্যাক্স বা ফি বাবদ কিছু কিছু জাহাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দেড় লাখ মার্কিন ডলারের (১,৫০,০০০+) গণ্ডিও ছাড়িয়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত মিত্র রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ ট্রাফিক অগ্রাধিকার (Priority) দিচ্ছে বলেও বৈশ্বিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এই কড়াকড়ির বিষয়ে সাফাই গেয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান মূলত প্রতিবেশী দেশ ওমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, বহু দেশের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক চ্যানেলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে এই রুট পার হতে পারে; তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন কোনো পশ্চিমা কর্মকাণ্ড বা উস্কানি ইরান কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না।

সূত্র: শাফাক নিউজ


আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:২৩:৩৫
আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে স্তম্ভিত করে দিয়ে এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ বা কাজ শেষ করার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচনে লড়তে চান বলে খোদ নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে অবস্থিত কোস্ট গার্ড একাডেমির গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। নিজের এমন অদ্ভুত দাবির সপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তি দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইলে তেলআবিবের নাগরিকদের কাছে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “হোয়াইট হাউজের এই কাজ (প্রেসিডেন্সি) শেষ করার পর হয়তো আমি সরাসরি ইসরাইলে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ভোটে দাঁড়াব। আজ সকালেই আমি ইসরাইলের একটি জনমত জরিপ বা সার্ভে দেখেছি, যেখানে সে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করেছে; যা আমার জন্য বেশ ভালো একটা সংখ্যা।” তবে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কোন থার্ড-পার্টি বাঅফিশিয়াল জরিপের ভিত্তিতে এই ৯৯ শতাংশ সমর্থনের কাল্পনিক দাবি করেছেন, তা স্পষ্ট বা খোলসা করেননি।

ট্রাম্পের এমন অপ্রাসঙ্গিক ও নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক মন্তব্য নিয়ে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেনি। বর্তমানে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে একাধিক মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর একনিষ্ঠ ও অন্ধ সমর্থক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত।

ইরান যুদ্ধের বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে কোনো গোপন আলোচনা বা কথা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাথে নেতানিয়াহুর গভীর রসায়নের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “তিনি (নেতানিয়াহু) ভালো আছেন। তিনি আসলেই খুব ভালো একজন মানুষ। আমি হোয়াইট হাউস থেকে যা চাই, নেতানিয়াহু ঠিক তাই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ ও বাধ্য একজন মানুষ।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটির ওপর ‘আরও বড় ধরনের বিধ্বংসী হামলা’ চালানোর ছক কষছেন; যদিও তার দুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতায় অগ্রগতি হওয়ায় সাময়িকভাবে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “বিশ্ববাসীর ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি একজন খাঁটি যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। আমার মতে, খোদ ইসরাইলের ভেতরেই নেতানিয়াহুকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি এই ক্রান্তিকালে একটি দেশের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী, আর আমি মনে করি না বিশ্বমঞ্চে তাঁকে যথাযথ সম্মান ও ক্রেডিট দেওয়া হচ্ছে।”

/আশিক


চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:০৯:২০
চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক চরম ও চূড়ান্ত পারমাণবিক উত্তেজনার পারদ স্পর্শ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের চলমান আলোচনায় তেহরান যদি দ্রুত সঠিক জবাব না দেয়, তবে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও মারাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গতকাল বুধবার (২০ মে) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঙ্কার দেন, “আমরা এখন ইরান ইস্যুতে একদম চূড়ান্ত ও শেষ পর্যায়ে (Final Stage) আছি।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সম্মানজনক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা না হয়, তবে তেহরানের কপালে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানের ওপর আরোপিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) প্রত্যাহার করবে না এবং তেহরানের মূল লাইফলাইন তথা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও কোনো প্রকার আংশিক ছাড় বা শিথিলতা দেখাবে না।

তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত উত্তর না পেলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খুব দ্রুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে বদলে যাবে।” তবে পুরোপুরি যুদ্ধের পথ পরিহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঠেকাতে প্রয়োজনে সামরিক অ্যাকশনের কিছু বড় সিদ্ধান্ত তিনি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিতেও প্রস্তুত আছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক হুমকির বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া ও শর্তসমূহ তেহরান বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ বিকল্প ও নতুন একটি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

মার্কিন চাপের মুখে তেহরান কোনো অবস্থাতেই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি কড়া ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইরান সবসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং যুদ্ধ এড়াতে সব ধরণের কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করেছে। কিন্তু স্রেফ অন্ধ চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে—ওয়াশিংটনের এমন ধারণা কেবলই একটি ঐতিহাসিক ভ্রম (Illusion)।”

তবে পেজেশকিয়ান যোগ করেন, কূটনীতিতে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা যুদ্ধের চেয়ে সবসময় বেশি নিরাপদ ও টেকসই পথ। অন্যদিকে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন করে বড় ধরণের সর্বাত্মক যুদ্ধের ছক ও নিখুঁত প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সুস্পষ্ট সামরিক ইঙ্গিত তেহরানের হাতে এসেছে।

/আশিক


ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:২৩:৩৫
ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং মুসলিম উম্মাহর অসাধারণ গণজাগরণের ওপর ভর করে ইরান বিশ্বমঞ্চে একটি অপ্রতিরোধ্য ও প্রভাবশালী পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তবে এই অর্জিত বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ইরানকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া সরাসরি দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সাথে সম্পর্কিত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জাতীয় জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জনসংখ্যা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ে কর্মরত একদল সামাজিক কর্মীর পাঠানো চিঠির জবাবে দেওয়া বিশেষ বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা ইরানের জাতীয় শক্তি ও সভ্যতার বিকাশের সাথে সন্তান জন্মদানের হার বৃদ্ধির এই কৌশলগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আজ বুধবার (২০ মে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রধান তথ্যকেন্দ্র থেকে এই ঐতিহাসিক বার্তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্রেফ অতীতের কিছু ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, একটি শক্তিশালী তরুণ প্রজন্ম ও অপরিহার্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতি যদি রাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে পারে, তবে মহান ইরানি জাতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আরও বড় ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে, অর্জন করবে অনন্য কৌশলগত অগ্রগতি।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে একটি আধুনিক ‘ইসলামি-ইরানি সভ্যতা’ গঠনের পথে ইরান আরও বড় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। এই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি দেশের অভ্যন্তরে সন্তান জন্মদানের সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রচারে সামাজিক কর্মীদের আরও বেশি প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন।

বার্তার শেষাংশে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ইরানের প্রয়াত মহান শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মৃতি ও আদর্শ স্মরণ করে বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই বিষয়টি তাদের প্রয়াত নেতার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল।

আলী খামেনি জীবিতাবস্থায় বহু রাষ্ট্রীয় বৈঠক, সেমিনার এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মোজতবা খামেনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগের ধারাবাহিকতায় এখনও এটি ইরানের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষ কৌশলগত বিষয় (Strategic Issue) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধরে রাখতে এই নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: ইরনা

পাঠকের মতামত: