যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:২৮:৩১
যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দখলদার ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। হামলার পরপরই তেল আবিবসহ শেফেলা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে এবং কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলাকে ‘বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি


যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৯:০৯:০৫
যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে বার্তা দিলেন আব্বাস আরাগচি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের চূড়ান্ত অবস্থান একদম স্পষ্ট এবং দেশটি যুদ্ধ মোকাবিলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথও খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কখনো যুদ্ধ চায় না; বরং বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেই সংঘাত ও যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আব্বাস আরাগচি। সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর এই নিউইয়র্ক সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত যুদ্ধাবস্থা নিয়ে তেহরানের সুনির্দিষ্ট ও সুদৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ নেতার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যদি এই কৌশলগত নৌপথ সচল দেখতে হয়, তবে প্রস্তাবিত সেই শর্তসমূহ অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আরাগচি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের নিকট ইরানের সাত দফা বিশেষ প্রস্তাবনা হস্তান্তর করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্য বা বিবৃতি যা-ই থাকুক না কেন, তেহরান এখন কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আনুষ্ঠানিক জবাবের প্রত্যাশায় রয়েছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সোমবার দোহার মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাতারি পক্ষ ওয়াশিংটন প্রশাসনকে ইরানের মতামতের বিষয়টি বিস্তারিত অবহিত করবে এবং একটি চূড়ান্ত ও স্পষ্ট উত্তরের ব্যবস্থা করবে। আব্বাস আরাগচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরান সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও সার্বভৌম ক্ষমতার জোরে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যেকোনো উত্তর বা বার্তা আসার পর তেহরান তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সূত্র: মেহের নিউজ।


সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৮:৩২:৪০
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি সংবাদকে সম্পূর্ণ 'ভুয়া খবর' বা ফেক নিউজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পরিষ্কার জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই ছিল এই সফরের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য।

একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক ও অভূতপূর্ব হামলার পূর্বে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য ওই নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে সতর্ক করেছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সংবাদ ছড়ানোর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ্যে অস্বীকার করার জন্য আমিরাত সফরকালে প্রেসিডেন্টের কাছে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ অনুরোধ জানান বলে গুঞ্জন ওঠে।

তবে এ সংক্রান্ত সকল দাবি ও জল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। তাদের ভাষ্যমতে, উক্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ধরনের কোনো বিষয়ের আলোচনা বা প্রস্তাব উত্থাপিতই হয়নি। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আবুধাবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে যে, ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ সর্বদাই উন্মুক্ত রয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত স্বার্থে দুটি দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য ও গোয়েন্দা খবরাখবর আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে।

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর


আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৭:৫৪:০৬
আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে এক কড়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজস্ব অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল রফতানি করতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ এই বার্তা দেন। হুঁশিয়ারি প্রদান করে তিনি বলেন, যে ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে ইরানকে তেল বিক্রিতে বাধা দেওয়া হবে বা রফতানি বন্ধ থাকবে, সেই একই অঞ্চল থেকে অন্য কোনো রাষ্ট্রও তেল বাণিজ্য চালাতে পারবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের নিজস্ব জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে এই পুরো অঞ্চলের কোনো ধরনের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোই আর নিরাপদ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি রুট ঘিরে বাড়তে থাকা আঞ্চলিক সংকটের মুখেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর প্রতি যৌথভাবে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।

/আশিক


ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২১:৪৪:০৬
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক সামারিক কার্যক্রম ও নীতিকে পুরো মানবজাতির জন্য চরম লজ্জাজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক রাজনৈতিক সম্মেলনে দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, ইসরায়েল যেসব নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিই হোক না কেন, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই ধরনের পাশবিকতা ও নৃশংসতাকে কোনো যুক্তিতেই বৈধতা দেওয়া যায় না।

মিলিব্যান্ড বলেন, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানবতা বিপর্যয় দেখে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করছে। এই সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্য সরকার এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লেবার পার্টির বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে পশ্চিম তীরের বেআইনি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজা উপত্যকায় সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের যুক্তরাজ্যে আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ওইসব দখলীকৃত এলাকার যেকোনো নির্মাণ প্রকল্প বা অর্থায়নে ব্রিটিশ সহায়তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো ঘোষণা দেন এই প্রবীণ কূটনৈতিক।

তবে এই কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত হচ্ছে বলে পরিষ্কার করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার যেকোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ব্রিটেন দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো প্রকাশ্য অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা অপরাধের শামিল। আগামীর নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বয়সের সাথে সাথে যে মানবিক নীতি ও মূল্যবোধ কখনো ম্লান হয়ে যেতে পারে না, তা মনে করিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২১:২০:২১
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কতা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা, নিরাপদ প্রবাসজীবন সুনিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের আইনি ঝামেলা এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রবাসীদের স্বার্থে প্রকাশিত এক জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির স্থানীয় আইন, আইনশৃঙ্খলা কিংবা জননিরাপত্তার পরিপন্থী এমন কোনো বিষয় ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো মাধ্যমে শেয়ার, প্রচার, প্রকাশ বা এমনকি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংবেদনশীল বা বিতর্কিত পোস্টে কোনো লাইক, মন্তব্য কিংবা পুনরুল্লেখ না করতে প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট।

আইনি সুরক্ষার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো কাগজপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু বা শর্ত পুরোপুরি না বুঝে স্বাক্ষর করা একেবারেই উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খালি বা সাদা কাগজে কোনো ধরনের স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ বা টিপছাপ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত আইনি নথির অপব্যবহার রোধে আরও জানানো হয়, কোনো প্রবাসী নিজের ইকামার (বসবাস অনুমতিপত্র) অধীনে অন্য কোনো ব্যক্তি, নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো সিম কার্ড, মোবাইল সেট, গাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিবন্ধিত করতে পারবেন না।

এ ছাড়া সৌদি আরবে যে এলাকা বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইকামা ইস্যু করা হয়েছে, তা বাদ দিয়ে অন্য কোথাও বা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র বা বাতিল ধাতু (স্ক্র্যাপ) সংগ্রহ করে বিক্রি করা, অনুমোদন ছাড়া ফুটপাতে দোকানপাট বসানো কিংবা অবৈধভাবে পানি বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও প্রবাসীদের সম্পূর্ণ দূরে থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে অপরিচিত বা অচেনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন থেকে দূরে থাকা এবং চাকরির ভুয়া প্রলোভন এড়িয়ে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে কনস্যুলেট জেনারেল উল্লেখ করে, সৌদি আরবের প্রচলিত আইনের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন আচরণ তাদের প্রবাসজীবনকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক


ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৯:৪৬:২৩
ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যেকোনো মূল্যে বিদেশি আধিপত্যের অন্ধকার শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার যে চক্রান্ত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, তা আর কখনোই সফল হবে না বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সামরিক ও রাজনৈতিক বার্তায় তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এই প্রতিরক্ষা সপ্তাহটি ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইরাকি স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণের স্মৃতি এবং লেবাননের প্রয়াত হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের সাথে সম্পর্কিত।

সর্বোচ্চ নেতা খামেনি তার বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে একসময় দক্ষিণ ইরানের সমুদ্রসীমা ও প্রণালিগুলো বিদেশি নৌবাহিনীর অবাধ বিচরণ ও একচ্ছত্র ‘খেলার মাঠে’ পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বীর ইরানি যোদ্ধা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম রক্ষকদের কাছ থেকে ক্রমাগত ‘বেদনাদায়ক ও প্রাণঘাতী আঘাত’ পাওয়ার পর শত্রু বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিপক্ষ শক্তি এখন ভয়ের কারণে আর আরব সাগরের এপারে আসার সাহস দেখাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আরব সাগর থেকেও অতি দ্রুত শত্রু বাহিনীকে চিরতরে উৎখাত করা হবে এবং সে দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।

ঐতিহাসিক ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়কে দেশের ইতিহাসের এক ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোজতবা খামেনি বলেন, তৎকালীন ইরানি রাজতন্ত্রের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রাষ্ট্রদূতদের পরোক্ষ হুকুমদারি চলত এবং দেশীয় সম্পদ অবাধে লুণ্ঠন করা হতো। তবে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ দেশের সাধারণ মানুষের ভেতরে যে জাতীয় সংহতি ও বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত করেছে, তার ফলে পুরোনো ও নতুন ধাঁচের ঔপনিবেশিক শক্তির পতন নিশ্চিত হয়েছে। ইরানের অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের ওপর নজর দেওয়া বিদেশি চক্রান্তকারীদের প্রতিহত করে বিপ্লবের সেই ধারা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র : প্রেস টিভি


আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৯:৩৭:৩০
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ঘোষিত ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। আন্তর্জাতিক জ্বালানিভিত্তিক বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কাতারের এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকার কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রলম্বিত হচ্ছে।

‘ফোর্স ম্যাজুর’ একটি আন্তর্জাতিক আইনি পরিভাষা, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন বা অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়মুক্ত রাখা হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর থেকেই কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ প্রতি মাসেই তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরবরাহ স্থগিতের আইনি নোটিশ দিয়ে আসছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতের অন্তত একটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং ইতালির ‘এডিসন এসপিএ’-কে সরবরাহ স্থগিতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কাতারএনার্জি। এর মধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ আগামী ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়িয়েছে।

যদিও কাতারএনার্জি চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি ট্যাঙ্কার পাঠানো শুরু করেছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। একদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার অনড় বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও সামরিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপারে বৈপরীত্যমূলক ইঙ্গিত মিলছে। ভূ-রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে এলএনজির আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে এশিয়া ও ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে এলএনজির দর ২০২২ সালের শেষভাগের ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির পর পুনরায় সর্বোচ্চ চূড়ায় গিয়ে পৌঁছেছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৮:৪৯:৫৭
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নতুন অবস্থান প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জোরালো ও সুসংগঠিত সামরিক প্রতিরোধের মুখেই প্রতিপক্ষ শত্রু বাহিনী ইতোমধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি থেকে পিছু হটে আরব সাগরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরব সাগর থেকেও তাদের পুরোপুরি তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন যে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমা পাহারা দেওয়া বীর সেনাদের ক্রমাগত কঠোর আঘাতের ফলে শত্রুপক্ষ হরমুজ প্রণালি ছেড়ে আরব সাগরের দিকে পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে তারা নতুন করে আর সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাহস পাচ্ছে না, কারণ যখনই কোনো ধরনের সামরিক ঝুঁকি নিয়ে তারা এগোনোর অপচেষ্টা চালিয়েছে, তখনই নিজেদের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে। অতি শিগগিরই আরব সাগরকে সম্পূর্ণভাবে শত্রু মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনেক হিসাব-নিকাশে ইরানকে সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি মনে করা হলেও ঐশ্বরিক শক্তিতে বিশ্বাসী ইরানই প্রকৃতপক্ষে বিশ্বমঞ্চে সর্বাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্র। এ সময় নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক রাজপথ ও সর্বস্তরে "দায়িত্বশীল উপস্থিতি"-র ভুয়সী প্রশংসা করেন খামেনি।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের সার্বভৌম একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে মোজতবা খামেনির এমন সময়োপযোগী ও আগ্রাসী বার্তা বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার পারদকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

/আশিক


পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৮:১২:৫৪
পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক চাপ: তেহরানের নতুন কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে নমনীয় হওয়ার এবং বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দেওয়ার তীব্র চাপ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ, নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ কিংবা মার্কিন বিমান হামলা হলেও তা নিজস্ব সামরিক শক্তিতে সামলে নেওয়া পুরোপুরি সম্ভব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যস্থতাকারী আঞ্চলিক কূটনীতিকদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো তেহরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু দৃশ্যমান ছাড় আদায় করা, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে। সংঘাতের শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে আটকাতে দেশটির বর্তমান সরকারকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করার বিকল্পও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কারণে সামরিক সংঘাতের প্রাথমিক কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার আলোচনা এখন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই তেহরান কৌশলগত বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। ফলে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে মধ্যস্থতাকারী আরব কর্মকর্তাদের মতে, ইরান নিজের পারমাণবিক নীতিতে হঠাৎ করে নমনীয় হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

তেহরানের মূল দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও অবশ্যই পূর্বে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—এই দুই জটিল সমীকরণের সুরাহা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা আবারও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

পাঠকের মতামত: