যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দখলদার ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। হামলার পরপরই তেল আবিবসহ শেফেলা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে এবং কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলাকে ‘বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি
ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অচিরেই ‘আমেরিকার মূল ভূখণ্ড, ইউরোপ এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে’ আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে নেই।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত মাসে উপকূল থেকে ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা তাদের বর্ধিত সামরিক সক্ষমতারই বড় প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যতটা সম্ভব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চেয়েছিল এবং তাদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র ছিল যা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি। আমরা সেগুলো সব ধ্বংস করে দিয়েছি।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানাচ্ছে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যদিও ইরানের কাছে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি, কিন্তু ৬ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের এখনো তৈরি হয়নি।
এমনকি ২০২৫ সালের একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের এই সক্ষমতা অর্জন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রাম্পের এই দাবি তাই তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে।
/আশিক
ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল
জাতির উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতে না হতেই ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
এর আগে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান তাদের নৌ ও বিমান শক্তির বিশাল অংশ হারিয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন তলানিতে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানের নতুন করে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া তাঁর প্রথম মেয়াদে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার স্মৃতিচারণ করে তিনি ইরান যুদ্ধকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, এখন মার্কিন নাগরিকরা আর ইরানের পারমাণবিক আতঙ্কে নেই। তবে ওভাল অফিসে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের পাল্টা আক্রমণ যুদ্ধের মোড়কে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
/আশিক
“খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
ওয়াশিংটন থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতকে তিনি “দ্রুত, নির্ণায়ক এবং অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য” হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, খুব শিগগিরই এই অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণকে অভিনন্দন জানান এবং নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে এসে বলেন, “আমি আজ রাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগির পূরণ করার পথে রয়েছি।”
তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি স্পষ্ট করেননি। যদিও এর আগে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র “খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে যাচ্ছে” এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, বিমানবাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
তার ভাষ্যমতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা, তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা।
‘শাসন পরিবর্তন’ বিতর্ক ও কৌশলগত অবস্থান
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে “শাসন পরিবর্তন” ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ায় কার্যত একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব পূর্বের তুলনায় “কম র্যাডিক্যাল” এবং আলোচনায় আগ্রহী।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, কারণ এটি সরাসরি শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও বাস্তবে সেই ধরনের একটি ফলাফলকে স্বীকার করে নেয়।
মিত্রদের প্রশংসা ও আঞ্চলিক জোট
ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলো “অসাধারণ কাজ করেছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক জোটের অংশ হয়ে উঠেছে।
পারমাণবিক হুমকি ও নিরাপত্তা যুক্তি
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব “বিপজ্জনক” এবং তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি অতীতের বিভিন্ন হামলার উদাহরণ তুলে ধরে ইরানকে “সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
জ্বালানি রাজনীতি ও হরমুজ প্রসঙ্গ
ট্রাম্প তার ভাষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তাও দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং হরমুজ প্রণালী রক্ষার দায়িত্ব সেই দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, যারা এই নৌপথের ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রাকৃতিকভাবেই হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে এবং তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে, যেখানে ওয়াশিংটন নিজেকে সরাসরি নির্ভরশীলতার বাইরে রাখতে চায়।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ ও বৈশ্বিক বার্তা
ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
এই অংশটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতিকে একটি বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা এবং জ্বালানি রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত।
যুদ্ধকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে উপস্থাপন
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ট্রাম্প যুদ্ধটিকে একটি “সফল বিনিয়োগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই সামরিক অভিযান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
তিনি বলেন, এখন মার্কিন জনগণ আর ইরানের হামলার হুমকির মুখে নেই এবং দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষণ: বিজয়ের বয়ান না কৌশলগত চাপ
ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে একটি বিজয়ের বয়ান তুলে ধরে, অন্যদিকে এটি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও কাজ করছে। একদিকে তিনি সামরিক সাফল্যের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য আরও হামলার হুমকি দিয়ে আলোচনায় চাপ তৈরি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত দ্বিমুখী কৌশলের অংশ, যেখানে সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট শর্তে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে সামরিক সাফল্যের দাবি, কূটনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি রাজনীতি একসঙ্গে মিশে গেছে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত এবং এই সংঘাত কত দ্রুত শেষ হবে বা কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধের পাশাপাশি বয়ান এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়েও লড়াই চলছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং তথ্যযুদ্ধের মধ্যে এই চিঠি শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠিতে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে কখনো আগ্রাসন, সম্প্রসারণবাদ বা উপনিবেশ স্থাপনের পথ অনুসরণ করেনি। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং বরাবরই আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত সেই ধারণার বিরোধিতা করেন, যেখানে ইরানকে একটি আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে ইরানকে একটি প্রাচীন, ধারাবাহিক ও সভ্যতাগতভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশটির পরিচয় কোনো সামরিক আগ্রাসনের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার মতে, ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি রাজনৈতিক নির্মাণ, যার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার মাধ্যমে কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৈধতা দিতে, অস্ত্রশিল্পকে সক্রিয় রাখতে এবং কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তার ভাষায়, একটি ‘কৃত্রিম শত্রু’ তৈরি করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
এই চিঠি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক কেবল সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বাস্তব যুদ্ধের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল তথ্য ও বয়ানযুদ্ধও চলছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থানকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে “বয়ানযুদ্ধ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন যেখানে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য তুলে ধরতে চায়, সেখানে ইরান নিজেকে একটি আক্রান্ত রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই দ্বিমুখী বয়ান আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেজেশকিয়ানের চিঠিতে এই বয়ানযুদ্ধের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি একদিকে আত্মরক্ষার অধিকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে মার্কিন জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে বোঝাতে চান যে, ইরানের বিরোধিতা কোনো জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্দিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে। এই ধরনের বার্তা সাধারণত জনমত বিভাজনের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে কূটনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করা হয়।
চিঠির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের প্রভাব বা প্ররোচনায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে আসছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে। এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি বিষয়, যেখানে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, এটি একটি বৃহত্তর কৌশল, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের দায় অন্যদিকে স্থানান্তর করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে তার সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পেজেশকিয়ানের এই খোলা চিঠি একটি কৌশলগত যোগাযোগ প্রচেষ্টা, যা কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। একদিকে যখন সামরিক সংঘর্ষ তীব্রতর হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের বয়ানযুদ্ধ সংঘাতের চরিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং ধারণা, ব্যাখ্যা এবং বৈধতার লড়াইতেও পরিণত হয়েছে। এই দ্বিমাত্রিক সংঘাতের ফলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং সমাধানের পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
হরমুজ প্রণালীর চাবিকাঠি কার হাতে: ট্রাম্পের শর্ত নাকি ইরানের হুঙ্কার?

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমশ একটি জটিল ও বহুমাত্রিক ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে, যেখানে সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির টানাপোড়েন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই সংঘাত শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করা হবে তখনই যখন হরমুজ প্রণালী “open, free and clear” থাকবে। তার এই শর্তমূলক অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে কেবল সামরিকভাবে নয়, বরং জ্বালানি রুট নিয়ন্ত্রণের একটি বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা কোনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেনি। ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্র Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) আরও কঠোর ভাষায় ঘোষণা দেয় যে হরমুজ প্রণালী তাদের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে এটি কখনোই খোলা হবে না। এই অবস্থান ইঙ্গিত করে যে, হরমুজ এখন কেবল একটি অর্থনৈতিক পথ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক লিভারেজে পরিণত হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে। যদিও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সংঘাতের বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসরায়েলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান মধ্য ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা চলমান সংঘাতের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে, কিছু খোলা স্থানে আঘাত হেনেছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।
লেবাননেও সংঘাতের মানবিক মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৩১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩,৯৩৫ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান সংঘাতের ভয়াবহতা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার গভীরতা তুলে ধরে।
এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দেশটির জরুরি চিকিৎসা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৩৩০টির বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। এই তথ্যগুলো যুদ্ধের মানবিক দিককে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সংঘাত এখন একটি বহুমুখী ও বহুস্তরীয় সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যেখানে সামরিক অভিযান, কৌশলগত চোকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি রাজনীতি একসঙ্গে কাজ করছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তেলের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই সংঘাত এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়; বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তাদের সামরিক অভিযান শেষ করতে পারে।
তবে এই যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য তিনি একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন—ওয়াশিংটনকে নিশ্চিত হতে হবে যে ইরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একটি ‘চুক্তি’ করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে, তবে সেই চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি প্রতিপক্ষরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) এই নিশ্চয়তা দেয় যে ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘাত হবে না, তবেই কেবল তেহরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর ওপরও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি থেকে তেল সংগ্রহ করার দায়িত্ব এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোরই নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের এই বিষয়ে কোনো সামরিক বা কৌশলগত সাহায্য প্রদান করবে না।
এদিকে রণাঙ্গনের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ঢেউ আছড়ে পড়ছে লেবাননেও। মঙ্গলবার বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে খালদে এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে, যা কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের রূপ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
আমিরাতে ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল বাংলাদেশির!
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শহরে আকাশপথে আসা একটি ড্রোন ধ্বংসের পর সেটির ধ্বংসাবশেষ বা শ্র্যাপনেলের আঘাতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী মর্মান্তিক মৃত্যু বরণ করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে আল রিফা এলাকার একটি খামারে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (WAM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এখন আরব আমিরাতের সাধারণ প্রবাসীদের জীবনেও মরণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুজাইরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল রিফা এলাকার ওই খামারে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পতনের ফলেই ওই বাংলাদেশি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরব আমিরাতে এটি সাধারণ নাগরিকদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
যদিও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর জ্বলন্ত টুকরো লোকালয়ে পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে এই অস্থির পরিস্থিতির কারণে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের অন্তত ১৮৮ জন নাগরিক আহত হয়েছেন।
চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত আরব আমিরাতের দুইজন সামরিক সদস্য এবং একজন মরক্কোর নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিস্তিন ও ভারতের পাশাপাশি এই প্রথম কোনো বাংলাদেশির নিহতের খবর পাওয়া গেল।
ফুজাইরার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আল রিফার মতো কৃষিকাজ প্রধান এলাকায় সন্দেহভাজন বস্তু দেখলে প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল নিউজ
এএন-২৬ এর অভিশপ্ত ইতিহাস! আবারও ২৯টি প্রাণ কেড়ে নিল পুরনো মডেলের বিমান
ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ার একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় এএন-২৬ (An-26) মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটিকে এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে ২৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। নিয়মিত ফ্লাইটে থাকার সময় হঠাৎ কন্ট্রোল রুমের সাথে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে এটি একটি পাহাড়ের গায়ে সজোরে ধাক্কা লেগে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানে থাকা ২৯ জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে দখল করে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এএন-২৬ মডেলের এই বিমানটি দীর্ঘ সময় ধরে রুশ সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে এর আগেও বেশ কয়েকবার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এই মডেলের বিমান। এই অকাল মৃত্যুতে রাশিয়ার সামরিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
৩ সপ্তাহেই কি থামছে ইরান যুদ্ধ? হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এক মাস পেরিয়ে এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীকে বড় কোনো বার্তার ইঙ্গিত দিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১ এপ্রিল) ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি এই ভাষণ দেবেন তিনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত তথ্য দেশবাসীকে জানাতেই ট্রাম্পের এই বিশেষ আয়োজন।
এর আগে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিছুটা রহস্যময় ও ইতিবাচক সুরেই কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হতে পারে এবং এমনকি তেহরানের সঙ্গে একটি ‘সম্ভাব্য চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দুবাই বন্দরে তেলের ট্যাংকারে হামলা থেকে শুরু করে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি ড্রোন বর্ষণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।
বর্তমানে এই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুতেই ইরান এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে; বর্তমানে তারা কেবল নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা এখন ওয়াশিংটনের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। ট্রাম্পের আজকের ভাষণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বিশেষ সামরিক অভিযান নাকি সমঝোতার ঘোষণা আসে, সেদিকেই এখন উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।
সূত্র : সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
- ঢাকার আবহাওয়া আপডেট, কী থাকবে দিনের চিত্র
- মুমিনের সেরা হাতিয়ার! এই এক শব্দেই ভেঙে পড়ে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র
- ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
- সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
- জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটছে! কালই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ডিজেলের বিশাল চালান
- গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
- স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কী কী লাগবে? জেনে নিন নিবন্ধনের সহজ ধাপ
- ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল
- আজ বৃহস্পতিবার: ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
- আইনের তোয়াক্কা নেই! ড. ইউনূসের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
- ১০টি শক্তিশালী মিসাইল! ইসরায়েলের বুক কাঁপিয়ে দিল ইরান
- দেশের ৯ জেলায় কালবৈশাখীর আঘাত! ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন
- চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আপডেট
- “খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
- ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা
- হরমুজ প্রণালীর চাবিকাঠি কার হাতে: ট্রাম্পের শর্ত নাকি ইরানের হুঙ্কার?
- আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
- স্পেনে মুসলিম বিরোধী স্লোগান! সমর্থকদের কড়া জবাব দিলেন ১৮ বছরের ইয়ামাল
- নদীতে ভাসছে টাকার বস্তা! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য ফাঁস
- চাঁদ জয়ে ৪ লাখ কিলোমিটার যাত্রা! শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান
- রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম! ৪ দিনেই দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ উচ্চতায় দাম
- নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক পঙ্গু রোগীকে হুইল চেয়ার প্রদান
- ১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ
- সাফ অনূর্ধ্ব-২০: নেপাল বধ করে শিরোপার মঞ্চে লাল-সবুজ
- সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির: সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ সংসদে
- ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
- শত্রুদের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালি! সাগরে যুদ্ধের নতুন ছক কষছে ইরান
- সংসদে আওয়ামী আমলের পাচারের খতিয়ান দিলেন তারেক রহমান
- কুমিল্লায় সড়কে প্রাণ গেল ৬ জনের
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আমিরাত? হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বড় পরিকল্পনা
- মেক্সিকোর মাটিতেই ইতিহাস! ৪ দশক পর বিশ্বকাপের টিকিট পেল ইরাক
- হরমুজ প্রণালির মুখে আগুন! ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা
- রণক্ষেত্র পেরিয়ে ফিরছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ৬ জাহাজ! বড় ঘোষণা ইরানের
- আমিরাতে ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল বাংলাদেশির!
- এএন-২৬ এর অভিশপ্ত ইতিহাস! আবারও ২৯টি প্রাণ কেড়ে নিল পুরনো মডেলের বিমান
- বোনের জন্য কেক নিয়ে ফেরা হলো না নিশাতের!
- মেসি-ম্যাজিকে বিধ্বস্ত জাম্বিয়া! বিশাল জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- যুদ্ধের ১ মাস: ১৬ হাজার গোলাবারুদ আর ৮০০ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরান!
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- ৩ সপ্তাহেই কি থামছে ইরান যুদ্ধ? হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ভিয়েতনামের গতির কাছে অসহায় লাল-সবুজ: প্রথমার্ধে রক্ষণের বেহাল দশা
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- ২৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- রিলস ভিডিওতে বৈপ্লবিক ফিচার আনছে মেটা; বদলে যাবে আপনার অভিজ্ঞতা








