দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৫০:০৯
দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৭টি জেলায় দুপুরের মধ্যে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিনপটিক অবস্থায় দেখা যায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জানানো হয়েছে যে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে।

/আশিক


দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটের ৫ জরুরি নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৩৪:৩৪
দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটের ৫ জরুরি নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরিতে ওঠানামার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। বিশেষ করে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে বসে না থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আলাদাভাবে পায়ে হেঁটে ফেরিতে ওঠার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ির ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর সময় ভারসাম্য, ঢাল বা আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতীতে একাধিক দুর্ঘটনায় দেখা গেছে, গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বাস্তবতার আলোকে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর আগে সব যাত্রীকে অবশ্যই গাড়ি থেকে নেমে যেতে হবে। যাত্রীরা আগে নিরাপদভাবে ফেরিতে উঠবেন এবং নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নেবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে যানবাহনগুলো ফেরিতে তোলা হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

ফেরিঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগে আসা যাত্রীদের আগে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি বা অনিয়ন্ত্রিত ভিড় পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তোলে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের অসচেতন আচরণ। তাই যাত্রীদের আচরণগত পরিবর্তনই নিরাপদ যাত্রার প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং নির্দেশনা অনুসরণই এখানে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এছাড়া ফেরিতে ওঠা বা নামার সময় বাস বা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফেরি চলাচলের সময় যানবাহনের অবস্থান পরিবর্তন, ঢেউয়ের প্রভাব কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এই অবস্থায় গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

ফেরিঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করলে তা আইনগত জটিলতাও তৈরি করতে পারে বলে জানা গেছে।

ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাটগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই সময়ে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই প্রশাসন যেমন তৎপর, তেমনি যাত্রীদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করা জরুরি।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ফেরি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং যাত্রীদের আচরণগত পরিবর্তন, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ফেরিতে ওঠার সময় নির্ধারিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করা গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে এই নির্দেশনাগুলোই হতে পারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রার প্রধান ভিত্তি।

-রাফসান


বীর শহিদদের স্মরণে সাভারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:২২:০৬
বীর শহিদদের স্মরণে সাভারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি এই সম্মান জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা দুজনেই পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের কথা স্মরণ করে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরাও জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও এদিন স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিদেশি কূটনীতিকদের ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি।

/আশিক


পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩৪:৪২
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: পিআইডি

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে এই প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন, আর্থিক সংস্কার এবং ডিজিটাল প্রতারণা বা স্ক্যাম প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে বলেন, সে সময় পুলিশকে রাজনৈতিক দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জবাবে রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কার্যকর সংসদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে ডিজিটাল প্রতারণা ও স্ক্যামকে একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল। এছাড়া, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও সিটিটিসি-র দক্ষতার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সুইজারল্যান্ডের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (ইউএনওডিসি)-র আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩০:৩৫
স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের যাতায়াত পরিকল্পনায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সড়ক, শিশুমেলা ক্রসিং থেকে আগারগাঁও ক্রসিং পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক এবং পুরাতন গণভবন এলাকা থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সংযোগ সড়ক।

একইভাবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের বেশ কয়েকটি সড়কেও যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে জিরোপয়েন্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আবরার ফাহাদ এভিনিউ, গুলিস্তান থেকে রাজউক পর্যন্ত ডিআইটি রোড, দৈনিক বাংলা মোড় থেকে রাজউক ক্রসিং, ফজলে রাব্বি সড়কের নির্দিষ্ট অংশ এবং দিলকুশা এলাকার বিভিন্ন সংযোগপথ অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত কনসার্টকে ঘিরেও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে এই এলাকায়ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ডিএমপি বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। জাহাঙ্গীরগেট থেকে আগারগাঁও বা বিআইসিসি অভিমুখে চলাচলকারী যানবাহনকে বিজয় সরণি হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। একইভাবে মিরপুর-১০ থেকে মহাখালী বা ফার্মগেটমুখী যানবাহনকে শিশুমেলা হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফার্মগেট ও বিজয় সরণি এলাকা থেকে আগত যানবাহনের জন্য খেজুরবাগান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলের বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানমণ্ডি থেকে মিরপুরমুখী যানবাহনকে রোকেয়া সরণি এড়িয়ে মিরপুর রোড ও টেকনিক্যাল মোড় হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

একইভাবে মিরপুর, শ্যামলী ও শিশুমেলা এলাকা থেকে মহাখালীগামী যানবাহনকে বীর উত্তম আজিজুর রহমান সড়ক ব্যবহার না করে মানিক মিয়া এভিনিউ ও ফার্মগেট হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:৫৯:০৯
১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর যে বর্বরতা ও বাঙালির বীরত্বগাথা ফুটে উঠেছিল, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকা তার অন্যতম প্রধান দলিল। ২৯ জুন ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিলেতের এই প্রভাবশালী পত্রিকাটি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল, তা তৎকালীন সম্পাদক মরিস গ্রিনের নেওয়া সম্পাদকীয় অবস্থান থেকেই স্পষ্ট।

পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। যেটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে সেখানে এক ভয়াবহ ‘গণযুদ্ধ’ চলছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। গত শুক্রবার লড়াই শুরু হওয়ার পর যেসব বিদেশি কূটনীতিক ও পর্যালোচক ঢাকা ছেড়েছেন, তাদের মতে ৭০ হাজার পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করতে চরম নৃশংসতা চালাচ্ছে।

নিহত বাঙালির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো পর্যায়ের নির্মমতা অবলম্বন করছে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন পশ্চিম পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বাঙালিদের প্রতি যে ঘৃণা পোষণ করতেন, আজ তা চরম আকার ধারণ করেছে।

শেখ মুজিবের ভাগ্য ও ‘রেডিও বাংলাদেশ’

প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গোপন বেতারকেন্দ্র ‘রেডিও বাংলাদেশ’ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছে। বেতারের শব্দাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শেখ মুজিবুর রহমান হয়তো সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছেন। গত মাসেই যাকে ইয়াহিয়া খান ‘পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলেছিলেন, গত শুক্রবার তাকেই তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাকে হয়তো ইতিমধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর বর্বরতা

বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিককে বন্দুকের মুখে ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানির ডোনাল্ড হক জানিয়েছেন, তাকে তিনবার উলঙ্গ করে তল্লাশি করা হয়েছে এবং তার সব নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় একজন স্কোয়াড্রন লিডার পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, "আমি আমার দেশবাসীকে হত্যা করেছি, এখন তোমাদেরও হত্যা করব।"

বিজয় ও প্রতিরোধের দাবি

গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাঙালি যুবকরা তীব্র লড়াইয়ের পর রংপুর সেনাসদর দখল করে নিয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা, যশোর ও খুলনা ক্যান্টনমেন্টও বাংলাদেশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র জনতার ওপর কামানের গোলা বর্ষণ করছে, এমনকি ঢাকার দুটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে।

সায়মন ড্রিংয়ের চাক্ষুষ প্রতিবেদন: ‘ঠান্ডা মাথায় নির্বিচার হত্যা’

২৯ মার্চ ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত সায়মন ড্রিংয়ের প্রতিবেদনে ঢাকার পরিস্থিতির এক বীভৎস চিত্র ফুটে ওঠে। তিনি জানান, ঢাকা শহরে কোনো সশস্ত্র প্রতিরোধ না থাকলেও সেনাবাহিনী ঠান্ডা মাথায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে। ভারি কামানের গোলায় শহরের বহু ভবনে আগুন জ্বলতে দেখেছেন তিনি।

তিনি বর্ণনা করেন, "রাত ১১টার দিকে একজন পাঞ্জাবি ক্যাপ্টেন আমাদের হোটেলে এসে নির্দেশ দেয় কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। সে বলে, 'আমি হুকুম নিয়ে এসেছি। তোমরা কেউ বাইরে এলে আমি তোমাদের গুলি করব।' ভোরের দিকে গোলাগুলির মাত্রা বাড়লে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করে। সেনাবাহিনী যখন শহরে ঢুকছিল, তখন বিনা উস্কানিতে তিন ঘণ্টা অবিরাম গোলাবর্ষণ করে।"

ত্রাণকর্মীদের আর্তনাদ: জন হ্যাস্টিংস ও জন ক্ল্যাপহ্যামের চিঠি

কলকাতায় ২০ বছর ধরে কর্মরত দুই ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী শত শত শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিলেতি পত্রিকায় এক মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছেন

"আমরা হাতকাটা মা এবং পা-কাটা শিশু দেখেছি। নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে, বালিকাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ব্যারাকে। এমনকি শিশুকে উপরে ছুড়ে বেয়নেট দিয়ে ধরে ফেলা কিংবা নারীকে নগ্ন করে লম্বালম্বি চিরে ফেলার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলোও সত্য। এক স্থায়ী প্রলাপের ঘোরে একটি মেয়ে চিৎকার করে কাঁদছে— 'ওরা আমাদের সবাইকে হত্যা করবে।' ৪০০০ মানুষকে চুয়াডাঙ্গায় ঘেরাও করে হত্যা করা হয়েছে পাছে তারা এই নির্যাতনের কাহিনী ভারতে নিয়ে যেতে না পারে।"

বিবিসি লন্ডন: ২৬ ও ২৭ মার্চের সংবাদ বুলেটিন

২৬ মার্চ ১৯৭১: বিবিসি জানায়, শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন কনসাল জেনারেল জানিয়েছেন, ঢাকায় বিরোধীদের দমনে কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছেন।

২৭ মার্চ ১৯৭১: সেনাবাহিনী ট্যাংক ব্যবহার করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে। কঠোর সেন্সরশিপের কারণে নিরপেক্ষ সংবাদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকাবাসীকে সন্ত্রস্ত করার জন্য সেনাবাহিনী একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর অপারেশন চালিয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও তার ফিল্ম ক্রুকে তিনবার তল্লাশি করে তাদের সব ফুটেজ ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

২৯ মার্চ ১৯৭১-এর এই প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানি জান্তা কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই নয়, বরং একটি জাতিকে জাতিগতভাবে নির্মূল করতেই এই অপারেশন চালিয়েছিল। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং বিবিসির এই সংবাদগুলোই তৎকালীন বিশ্ববিবেকের কাছে বাংলাদেশের গণহত্যার প্রথম বিশ্বাসযোগ্য দলিল হিসেবে পৌঁছেছিল।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডর্ড


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:৪৯:১৩
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের ডাকসেবায় নতুন সংযোজন হিসেবে একটি স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে ১০ টাকা মূল্যমানের এই ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়, যা দেশের ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার চেতনাকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু ডাকটিকেটই নয়, একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড এবং একটি বিশেষ স্মারক সিলমোহরেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসব উপকরণ মূলত ফিলাটেলি বা ডাকটিকেট সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, জাতীয় ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই উন্মোচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল সীমিত পরিসরের হলেও এর তাৎপর্য ছিল জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মারক ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খামে বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন, যা ডাকটিকেট প্রকাশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।

এ সময় তিনি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এই আয়োজনের অংশ হন, যা সরকারি পর্যায়ে এই উদ্যোগের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবমুক্ত হওয়া স্মারক ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম এবং ডাটাকার্ড একই দিন থেকেই সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এগুলো রাজধানীর ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) এবং প্রধান ডাকঘরগুলোতেও এগুলো সরবরাহ করা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহক ও আগ্রহী ব্যক্তিরা সহজেই এই স্মারক সংগ্রহ করতে পারেন।

-রফিক


সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:০৪:৪৫
সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই একটি জটিল আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে এই বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ওপর পড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য অস্থির হয়ে পড়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শিপিং রুটে ঝুঁকি তৈরি হলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় নিজ কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তারা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।

এর আগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই সাত সদস্যের কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এই কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে এবং বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি আমদানি, খাদ্য সরবরাহ এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:৫৪:১০
ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশগ্রহণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী (২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৬) সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনকল্যাণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং এডটেক (EdTech) ব্যবহারের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষা বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি জানান, সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ এবং শ্রেণিকক্ষকে মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ‘সুরভী’-র মতো সংগঠনের সাথে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি যুব উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন; বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী কর্মসংস্থানের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা আজ পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী করছে। বুধবার হোয়াইট হাউসে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর এই সফর শেষ করবেন, যা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২২:০৩:৩৩
এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ‎ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এক-এগারোর পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কুশীলব এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার আইনের একটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি থাকাকালীন তিনি তৎকালীন ‘গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক হিসেবে সারা দেশে আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তাঁর সেই সময়কার ভূমিকা এবং এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তিনি দেশের রাজনীতিতে অন্যতম বিতর্কিত ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দেন এবং দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। জাতীয় পার্টির হয়ে তিনি ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে মানবপাচার মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার এখন বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: