সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:০৪:৪৫
সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই একটি জটিল আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে এই বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ওপর পড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য অস্থির হয়ে পড়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শিপিং রুটে ঝুঁকি তৈরি হলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় নিজ কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তারা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।

এর আগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই সাত সদস্যের কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এই কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নীতিগত সুপারিশ প্রদান করবে এবং বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি আমদানি, খাদ্য সরবরাহ এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:৫৪:১০
ওয়াশিংটনে বিশ্বনেতাদের মাঝে ডা. জুবাইদা রহমান: শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশগ্রহণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী (২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৬) সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনকল্যাণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং এডটেক (EdTech) ব্যবহারের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষা বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি জানান, সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ এবং শ্রেণিকক্ষকে মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ‘সুরভী’-র মতো সংগঠনের সাথে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি যুব উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন; বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী কর্মসংস্থানের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা আজ পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী করছে। বুধবার হোয়াইট হাউসে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর এই সফর শেষ করবেন, যা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২২:০৩:৩৩
এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ‎ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এক-এগারোর পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কুশীলব এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার আইনের একটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি থাকাকালীন তিনি তৎকালীন ‘গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক হিসেবে সারা দেশে আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তাঁর সেই সময়কার ভূমিকা এবং এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তিনি দেশের রাজনীতিতে অন্যতম বিতর্কিত ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দেন এবং দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। জাতীয় পার্টির হয়ে তিনি ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে মানবপাচার মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার এখন বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

/আশিক


জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে মার্কিন চুক্তি: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২১:৪৯:৫৬
জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে মার্কিন চুক্তি: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি এবং ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া প্রতিটি চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া এই চুক্তিগুলো দেশের অর্থনীতি, সাধারণ মানুষ এবং বেসরকারি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে বিধায় এগুলো নিয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হবে।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত্রির গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, বিএনপি সরকার মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে গণহত্যা স্মরণে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই চলমান প্রক্রিয়াকে নতুন সরকার অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি একটি জাতীয় ইস্যু এবং সরকার এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা বা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা বাড়াচ্ছে।

/আশিক


ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: ১২০ সিগন্যাল হচ্ছে অটোমেশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২১:১৪:২৫
ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: ১২০ সিগন্যাল হচ্ছে অটোমেশন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে একগুচ্ছ মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য, স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে আগামী এপ্রিলের শেষ নাগাদ নগরবাসীকে যানজট থেকে দৃশ্যমান স্বস্তি দেওয়া।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে ১২০টি সিগন্যাল পয়েন্টকে দেশীয় প্রযুক্তিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। যানজট কমাতে শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের পাশাপাশি আন্তঃজেলা ৫টি বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে কেবল সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হবে।

এছাড়া রাস্তার মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানো, রেলক্রসিংয়ে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু এবং সিটি বাসগুলোকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পথচারীদের সুবিধার্থে অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় লিফট স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জানান, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তাবিত অধিকাংশ পরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা শহরকে সচল করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যার ভিত্তিতে রাজউক, সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের শৃঙ্খলায় আনতে এবং তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি-কে। নগরীর যত্রতত্র থাকা বাস কাউন্টারগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:২১:০০
ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে সরকার একটি সমন্বিত ও বহুস্তরভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী যানজট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি অনুভব করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে, যেখানে ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নকে একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি। প্রতিটি স্তরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

এই বৈঠকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), দুই সিটি করপোরেশন, গৃহ মন্ত্রণালয়, রাজউক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ফলে এটি একটি বহুপক্ষীয় সমন্বয়ভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর সিগন্যাল ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

পর্যায়ক্রমে ঢাকার প্রায় ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অটোমেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে বৈঠকের সব সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচিত বিষয়গুলো পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজুলেশন আকারে প্রকাশ করা হবে।

-রফিক


জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:২৫:০২
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও নেতৃত্বদানকারী 'জুলাই যোদ্ধাদের' আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দিতে বিশেষ অধ্যাদেশ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) সকালে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো স্থায়ীভাবে গ্রহণের লক্ষ্যেই আজকের এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "জনপ্রত্যাশা ও গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করা হবে।" এছাড়া বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা দলীয় নেতাদের নাম বিলুপ্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোও সংসদ গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো ফয়সালা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যার আগেই প্রয়োজনীয় সংশোধন ও গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সংসদের বিশেষ কমিটির এই বৈঠকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং বিগত আমলের রাজনৈতিক নাম বিলোপের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, কিছু অধ্যাদেশ সরাসরি গ্রহণ করা হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আরও সংশোধন আনা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কুশীলবদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


বিমানের জ্বালানিতে রেকর্ড লাফ: এক ঝটকায় ৮০% দাম বাড়াল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:১৭:২৯
বিমানের জ্বালানিতে রেকর্ড লাফ: এক ঝটকায় ৮০% দাম বাড়াল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আকাশপথে যাতায়াতের খরচ এক ধাক্কায় আকাশচুম্বী হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) এক জরুরি সভায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় রুটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ দিবাগত রাত ১২টা (২৫ মার্চ) থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন দরের ফলে বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিইআরসি-র নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে এক লাফে বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো এই জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো। এর আগে গত ৮ মার্চ প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল, যা গত মাসে ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দেওয়ায় এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিইআরসি-র জুম সভায় পদ্মা অয়েল ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের এই নজিরবিহীন দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।

/আশিক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৩:৫১:০৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য পূর্বে ঘোষিত দায়মুক্তি বা ‘ইনডেমনিটি’ সরকার নীতিগতভাবে গ্রহণ ও বহাল রাখবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আগে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, সরকার নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে জুলাই আন্দোলনের মূল দর্শন ও জনগণের প্রত্যাশাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যেগুলো বর্তমান সংসদীয় কাঠামোর আওতায় পুনর্বিবেচনার জন্য উত্থাপিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে সংসদের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও জনআকাঙ্ক্ষা যেন প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিতর্কিত ও একপাক্ষিক রাজনৈতিক নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে, এবং সেই দাবিকে সামনে রেখেই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিশেষ কমিটির বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। এখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

এদিকে সংসদ ভবনে ইতোমধ্যে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন। এই বৈঠককে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-রফিক


২৫ মার্চ: ১০:৩০–১০:৩১, থমকে যাবে পুরো দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৩:৪২:১৭
২৫ মার্চ: ১০:৩০–১০:৩১, থমকে যাবে পুরো দেশ
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে এক মিনিটের জন্য ব্ল্যাকআউট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এই প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত সময়ের এই সংক্ষিপ্ত অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নির্মমতা এবং নিরস্ত্র মানুষের ওপর সংঘটিত বর্বরতা স্মরণ করা হবে।

তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই (Key Point Installations), হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইউনিট এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোও এই ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি থেকে অব্যাহতি পেয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী কর্মসূচি জাতীয় ইতিহাসকে স্মরণ ও পুনর্পাঠের একটি কার্যকর উপায়। বিশেষ করে নগরায়ন ও দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে, যেখানে ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের সংযোগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, সেখানে এক মিনিটের এই নীরবতা ও অন্ধকার একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা বহন করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করেঢ়ম নৃশংস অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এই দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতিবছর ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

সরকারি সূত্র বলছে, এই ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি জাতীয় স্মৃতি, সম্মান এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। নাগরিকদেরও নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, এই এক মিনিটের অন্ধকার কেবল বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার ঘটনা নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করার প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: