মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে আরও প্রায় ৪৫ মিলিয়ন (৪.৫ কোটি) মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছে। ডব্লিউএফপি-র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কার্ল স্কাউ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই সংঘাত সরাসরি কোনো শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলে (Breadbasket region) না হলেও, এটি বিশ্বের জ্বালানি হাব বা শক্তির কেন্দ্রে অবস্থিত। জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, সার ও কৃষি খরচ বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কার্ল স্কাউ সতর্ক করে বলেন, "এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় ধাক্কা (shockwaves) পাঠাবে এবং যারা আগে থেকেই চরম অর্থকষ্টে আছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বাড়ায় সার ও জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে ডব্লিউএফপি-র নিজস্ব শিপিং খরচ ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটি ইতিমধ্যে সুদান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
ডব্লিউএফপি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ২৪ শতাংশ, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ২১ শতাংশ এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সোমালিয়া ও সুদানের মতো দেশগুলো এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
সূত্র : শাফাক নিউজ
সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শেষ হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এখন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের প্রহর গুনছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের ২৯ রমজান উপলক্ষে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ অনুসন্ধান করবেন দেশটির নাগরিকরা। আজ সন্ধ্যায় যদি সৌদির আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারই সেখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি আজ চাঁদ দেখা না যায়, তবে দেশটির মুসলমানরা আরও একদিন রোজা রাখার সুযোগ পাবেন এবং ঈদ হবে শুক্রবার।
সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন যে, যদি কেউ খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পান, তবে তা যেন দ্রুত নিকটস্থ আদালত বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করেন। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদ্যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন যে, এবার আরব দেশগুলোতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঈদের সঠিক দিনটি।
/আশিক
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বুশেহর শহরের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘শত্রুপক্ষের বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু’ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরান সরকার। দুই পক্ষই পৃথক বিবৃতিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও হামলায় ব্যবহৃত বস্তুটি ঠিক কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আইএইএ বা ইরান সরকার। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে, এটি একটি ড্রোন হতে পারে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আইএইএ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌভাগ্যবশত হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। একই সঙ্গে সংস্থাটির মহাপরিচালক যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এমন হামলার ফলে যদি কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের হামলা স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এর তেজস্ক্রিয়তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক অপূরণীয় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
দুবাই ও আবুধাবিসহ সাত আমিরাতেই কার্যকর হবে অভিন্ন ঈদের নিয়ম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেনারেল অথরিটি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাত এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ এবার দেশজুড়ে কেবল নির্দিষ্ট মসজিদগুলোর অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি বছর দেশটির কোনো ঐতিহ্যবাহী খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে না।
বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, এই নির্দেশনাটি পুরো আমিরাত জুড়ে কার্যকর থাকবে। নামাজি এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঈদের জামাতগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রথাগতভাবে মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসের শেষে বড় জামাতের মাধ্যমে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়, যার অধিকাংশ আয়োজনই বিশাল খোলা মাঠে বা নির্ধারিত ‘ঈদগাহ’ এলাকায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে এবারের বিশেষ পরিস্থিতিতে আমিরাত সরকার সেই রীতিতে পরিবর্তন এনেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, আমিরাতের প্রতিটি মসজিদ মুসল্লিদের ধারণ করার জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি কোণে অবস্থিত মসজিদগুলোতেই এবার ঈদের নামাজ আদায়ের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
দেশটির সাতটি আমিরাতেই এই অভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হবে। জেনারেল অথরিটি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স আরও জানিয়েছে, মসজিদে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত সকল দাপ্তরিক নির্দেশনা ও গাইডলাইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মুসল্লিরা যেন কোনো বিভ্রান্তিতে না পড়েন, সেজন্য স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হচ্ছে। দুবাইয়ের আল সালাম মসজিদসহ প্রতিটি প্রধান মসজিদে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে যাতে নামাজের সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। আরব আমিরাতের এই ঘোষণার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।
কর্তৃপক্ষ বারংবার অনুরোধ জানিয়েছে যেন কেউ উন্মুক্ত স্থানে নামাজের জন্য জমায়েত না হন। মূলত পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যখন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে, তখন সারা দেশের মানুষ এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আওতায় ধর্মীয় এই উৎসব পালন করবেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ সাজাতে চাইছেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি লারিজানি এবং সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে। ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে এই দুই শীর্ষ লক্ষ্যবস্তুকে ঘিরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করছেন। লারিজানিকে তিনি ইরানের শাসনযন্ত্র পরিচালনাকারী একজন 'গ্যাংস্টার বস' হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাসিজ প্রধান সোলেইমানিকে চিত্রায়িত করছেন একজন 'স্বৈরশাসক' ও 'বিক্ষোভ দমনকারী' হিসেবে।
সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েল মূলত ইরানি জনগণের ওপর চেপে বসা দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবে প্রচার করছে। যদিও কৌশলগত গুরুত্বের বিচারে লারিজানি অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিলেন, তবুও ইসরায়েল বর্তমানে সোলেইমানির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশি প্রচারণা চালাচ্ছে।
এর মূল কারণ হলো নেতানিয়াহুর বিশেষ রাজনৈতিক প্রচারকৌশল। তিনি ইরানি সাধারণ মানুষকে এটা বোঝাতে চাইছেন যে তিনি তাদের শত্রু নন, বরং তাদের মুক্তিদাতা হিসেবে পাশে আছেন। নিজেকে ইরানের 'মুক্তিদাতা' হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন, যাতে দেশটির সাধারণ জনগণ বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সরকারকে উৎখাত করতে সহায়তা করে।
তবে নেতানিয়াহুর এই ইমেজ তৈরির প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। কারণ গত কয়েক সপ্তাহের টানা বিমান হামলায় ইরানে অসংখ্য সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মাঝে সাধারণ ইরানিরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বন্ধুত্বের’ দাবিকে কতটা বিশ্বাস করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
আগুনে পুড়ছে যানবাহন, ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে পুলিশ: বুধবার ভোরে উত্তপ্ত ইসরায়েল
ইরান থেকে ছোড়া নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্য ইসরায়েলের বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে তেল আবিব জেলা পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বোমা ডিসপোজাল ইউনিটগুলো এই ধ্বংসাবশেষ পড়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ বা যুদ্ধাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে এবং সেগুলো নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ করছে। এই নতুন দফার হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতময় আকার ধারণ করেছে।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একটি আবাসিক এলাকার রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে এবং পাশে একটি যানবাহনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই সুনির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বিস্ফোরণ বা বিপদ এড়াতে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার ভোরেই ইরানের অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলে দুই জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। মূলত সম্প্রতি তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালাচ্ছে ইরান।
তেল আবিব ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গভীর আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি বাহিনীও বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে দুই দেশের বেসামরিক নাগরিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। বুধবার ভোরের এই ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনাটি কেবল বস্তুগত ক্ষতি করলেও এর আগের প্রাণহানি পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে নিচ্ছে ইসরায়েল:এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল এমন এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যারা নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং ক্রমান্বয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এরদোয়ান বলেন, গাজা থেকে শুরু হওয়া এই হামলা একে একে ইয়েমেন, লেবানন এবং সবশেষে ইরানে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা আত্মরক্ষার কোনো কারণ নেই, বরং এর পেছনে গভীর ও ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে যা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এক ঐতিহাসিক ভাঙন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল গত ১৭ দিন ধরে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ইবাদতকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে।
এরদোয়ান মনে করেন, তথাকথিত ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’র উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নানা পৌরাণিক আখ্যানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে তা মোটেও কাকতালীয় নয়, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত। এই রাষ্ট্রীয় উন্মাদনা ও বর্বরতাকে বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ব্যাপক প্রাণহানির প্রতিশোধ নিতে তেহরান ইতিমধ্যে ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের এই কড়া বার্তার মাঝেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। এরদোয়ান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
ইরানের মারণাস্ত্র ক্লাস্টার মিসাইলে বিধ্বস্ত তেলআবিব
ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের রামাত গান এলাকায় দুই বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ার পর যখন সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল, ঠিক তখনই তারা নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা বোমা শেল্টারে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগেই একটি মিসাইল সরাসরি সেখানে আঘাত হানে এবং এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে, নিহত ওই দুজনের বয়স ছিল ৭০ বছরের কাছাকাছি এবং তাদের মরদেহগুলো ভবনের সিঁড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান এই নতুন দফার হামলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক 'ক্লাস্টার মিসাইল' ব্যবহার করেছে। এই বিশেষ ধরনের প্রতিটি মিসাইলের ভেতরে প্রায় ২০টি করে ছোট বোমা থাকে, যা মিসাইলটি নিচে নেমে আসার সময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
একেকটি ছোট বোমার ওজন প্রায় আড়াই কেজি হওয়ায় এগুলো যেখানেই আঘাত হানছে, সেখানেই ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও অনেক গুণ বেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/আশিক
প্রতিশোধের লড়াই আরও বেগবান হবে: শহীদ নেতার রক্তে নতুন শপথ ইরানের
ইরানের বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তারা এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর ও দাঁতভাঙা প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, শহীদ কমান্ডারের পবিত্র রক্তের বদলা নিতে বাসিজ বাহিনী একচুলও পিছু হটবে না।
বিবৃতিতে বাসিজ প্রধানের মৃত্যুকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে আইআরজিসি। তারা জানায়, এই মহান আত্মত্যাগ ইরানি জাতি এবং বাসিজ যোদ্ধাদের প্রতিরোধের সংকল্পকে আরও দ্বিগুণ শক্তিশালী করবে। গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা গোলামরেজা সোলেইমানি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং আর্তমানবতার সেবায় বিশেষ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর এই প্রস্থানকে ইরানি সামরিক কাঠামোর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে, ‘আমেরিকান-জিয়নবাদী শত্রু’ বাহিনীর এই বর্বরোচিত হামলা প্রমাণ করে যে চলমান যুদ্ধে বাসিজ বাহিনী কতটা শক্তিশালী ও আতঙ্কের অবস্থানে রয়েছে। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, খুনি সন্ত্রাসীরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। শহীদ নেতাদের প্রদর্শিত পথেই আগামী দিনে প্রতিরোধের লড়াই আরও বেগবান করা হবে এবং শত্রুপক্ষকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের নৌজোট ডাক, কিন্তু সাড়া নেই কেন বিশ্বশক্তির?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন একটি নতুন ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে, যার নাম হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে একটি আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিশ্লেষণটি আল জাজিরা-এর একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
কেন হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী একমাত্র সমুদ্রপথ। এর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩৯ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। এর ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব: আন্তর্জাতিক নৌজোট
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে নিয়ে একটি নৌজোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান, যাতে এই নৌপথ নিরাপদ রাখা যায়।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে এখনও তারা ড্রোন, মাইন বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই নৌপথে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের অবস্থান
ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, অন্য দেশগুলোর জন্য পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রণালীকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
কেন নৌজোট গঠন কঠিন
বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌজোট গঠনের পথে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
প্রথমত, বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় একটি বড় সমস্যা। ভিন্ন ভিন্ন কৌশল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক নীতি একত্রে পরিচালনা করা সহজ নয়।
দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরু নৌপথ, ঘন জাহাজ চলাচল এবং উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান এটিকে সামরিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে।
তৃতীয়ত, ইরান অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করছে। মাইন, ড্রোন এবং ছোট আকারের হামলার মাধ্যমে বড় শক্তিগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
চতুর্থত, যুদ্ধজাহাজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছে, চীন সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, জাপান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, আর ফ্রান্স সরাসরি অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অস্ট্রেলিয়াও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। দক্ষিণ কোরিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিকল্প পথ: সরাসরি সমঝোতা
কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি নিচ্ছে। ভারত ও তুরস্কের কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। আরও কয়েকটি দেশ আলোচনার চেষ্টা করছে।
সবকিছু বিবেচনায় দেখা যায়, হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি নৌপথ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নৌজোট বাস্তবায়ন করা কঠিন, কারণ এতে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি জড়িত।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বহন করছে।
পাঠকের মতামত:
- ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা
- ভিসা থেকে ক্রিকেট: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মোড় ঘোরাবে যে ৫টি সূচক
- সুসংবাদ না কি অপেক্ষা? শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল
- ইরান থেকে ফিরছেন বাংলাদেশিরা
- নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ
- ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’
- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই চিরচেনা যানজট: স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ
- দুবাই ও আবুধাবিসহ সাত আমিরাতেই কার্যকর হবে অভিন্ন ঈদের নিয়ম
- নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ সাজাতে চাইছেন নেতানিয়াহু
- আগুনে পুড়ছে যানবাহন, ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে পুলিশ: বুধবার ভোরে উত্তপ্ত ইসরায়েল
- ১৮ মার্চ ২০২৬: গরমে স্বস্তি না কি অস্বস্তি? জানুন ঢাকার আবহাওয়া
- পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে নিচ্ছে ইসরায়েল:এরদোয়ান
- ইরানের মারণাস্ত্র ক্লাস্টার মিসাইলে বিধ্বস্ত তেলআবিব
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ১৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগের নামাজের সঠিক সময়
- আজকের ঢাকা: সকালে বের হওয়ার আগে জেনে নিন কোথায় কোন কর্মসূচি
- প্রতিশোধের লড়াই আরও বেগবান হবে: শহীদ নেতার রক্তে নতুন শপথ ইরানের
- মস্তিষ্কের জন্য ‘স্লো পয়জন’ এই ১১ অভ্যাস! আজই সতর্ক না হলে বিপদ
- মাশরুম এখন সুপারফুড! জেনে নিন জাদুকরী ৫ উপকারিতা
- হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের নৌজোট ডাক, কিন্তু সাড়া নেই কেন বিশ্বশক্তির?
- আলি লারিজানি কি বেঁচে আছেন? হত্যার দাবির মাঝেই এক্স-এ হাতে লেখা চিরকুট
- মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ
- আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা, তবুও অব্যাহত পাল্টাঘাত: ইরান কি এখন ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে এগোচ্ছে?
- আল-আকসা মসজিদের নিচে গোপন বাঙ্কারে নেতানিয়াহু!
- ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ফেরাল তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?
- ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি! চাঞ্চল্যকর দাবি কাৎজের
- বাংলাদেশে কর্মক্ষম অর্ধেক তরুণই বেকার! বিশ্বব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির
- ১৮০ দিনের মাস্টারপ্ল্যান শেয়ার করেছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে: আশিক চৌধুরী
- মধ্যস্বত্বভোগীদের দিন শেষ! সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে সরকারি সুবিধা
- ইরানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ লারিজানি কি আর নেই? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ঈদের সকালে গৃহিণীদের সেরা চমক; অল্প সময়ে তৈরি করুন শাহী কষা মাংস
- ঈদ শপিংয়ে অনলাইন জালিয়াতি থেকে বাঁচবেন যেভাবে; ৬টি জরুরি টিপস
- দুবাই বিমানবন্দরে আগুনের লেলিহান শিখা: ড্রোন হামলায় অচল আকাশপথ
- চীনের দেওয়া সহায়তা হাইজ্যাক করা হয়েছে! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জামায়াত আমিরের
- হরমুজ প্রণালিতে নতুন আতঙ্ক: আরব আমিরাতের তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ আঘাত
- ছুটির প্রথম দিনেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: কর্মব্যস্ততায় কাটছে ১৭ মার্চ
- কিউবা দখলের হুঙ্কার ট্রাম্পের! প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়
- ২০ না ২১ মার্চ ঈদ? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন পূর্বাভাসে বড় সংকেত
- ঈদের খুশিতে যুদ্ধের বিষাদ: মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের স্বজনদের চোখে কান্নার জল
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- স্বর্ণের দামে আরও এক দফা ধস: গত চার দিনে কত কমল ভরিতে?
- আজ রাজধানীজুড়ে বড় বড় কর্মসূচি: বের হওয়ার আগে দেখে নিন সড়কের আপডেট
- নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা: মঙ্গলবার ভোর থেকে কমলাপুরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই
- ইরান যুদ্ধ শেষের শর্ত কী? ট্রাম্প, খামেনি ও নেতানিয়াহুর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ
- পিতার আদর্শে পুত্রের হাতে নতুন কৃষি বিপ্লব: খাল খনন নিয়ে মাঠে তারেক রহমান
- কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের
- দুপুর ১টার মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস! সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ৬০ কিমি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ মার্চ ২০২৬; জেনে নিন আপনার শহরের ওয়াক্ত
- কালিগঞ্জের ফরিদপুর একতা তরুণ ব্লাড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ২৭ রমজানই কি কদরের রাত? মুসনাদে আহমাদ ও বুখারির হাদিস যা বলছে
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকায় যে ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
- কথাবার্তায় সতর্ক থাকুন! মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর নির্দেশনা দিলেন তারেক রহমান
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টানা দুই দফায় কমল দাম; স্বর্ণের বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত!
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- কালিগঞ্জে ডেঙ্গু বিরোধী যুদ্ধ! মশা তাড়াতে রাস্তায় নামলেন চিকিৎসকরা
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেন হলো না? রহস্য ভেদ করলেন চিফ হুইপ
- তারেক রহমানের সংসদ যাত্রা আজ: স্পিকারের আসনে বসবেন কে?








