ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১১:৫৩:৩৬
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা; বুশেহরের আকাশপথে ‘বিস্ফোরক উড়ন্ত বস্তু’
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বুশেহর শহরের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘শত্রুপক্ষের বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু’ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরান সরকার। দুই পক্ষই পৃথক বিবৃতিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও হামলায় ব্যবহৃত বস্তুটি ঠিক কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আইএইএ বা ইরান সরকার। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে, এটি একটি ড্রোন হতে পারে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আইএইএ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌভাগ্যবশত হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। একই সঙ্গে সংস্থাটির মহাপরিচালক যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এমন হামলার ফলে যদি কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের হামলা স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এর তেজস্ক্রিয়তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক অপূরণীয় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


হরমুজ প্রণালি কি খুলবে? বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি চিন পিং মেগা বৈঠকের আলোচ্যসূচি ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:১৪:১২
হরমুজ প্রণালি কি খুলবে? বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি চিন পিং মেগা বৈঠকের আলোচ্যসূচি ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভয়াবহ সংঘাতের পর বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে বেইজিংয়ের দিকে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৪ মে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রধান ইস্যু হবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা।

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং জানিয়েছেন, এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়া। যদি বৈঠকের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে এটিই হবে দুই পরাশক্তির আলোচনার শীর্ষ অগ্রাধিকার।

এদিকে মার্কিন আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের অনুমোদন না পেলে ৬০ দিন পর সরকারকে সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে হয়। সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, গত ৭ এপ্রিলের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আর কোনো সরাসরি গুলি বিনিময় হয়নি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘শত্রুতামূলক কার্যক্রম’ আপাতত শেষ হয়েছে।

তবে সরাসরি যুদ্ধ থামলেও স্থায়ী কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এখন ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, তেহরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, যা কুয়েতসহ আরব দেশগুলোও ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কড়া সুর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় পুনরায় সংঘাত শুরু হতে পারে। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা চুক্তি যথাযথভাবে রক্ষা করে না। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নমনীয় হতে রাজি নয়।

যদিও আলজাজিরা দাবি করেছে, ইরান তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি থেকে সরে এসে একটি সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই বেইজিং বৈঠক এখন বিশ্ব শান্তির জন্য শেষ আশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশ-ভারত ভিসা নিয়ে বড় সুখবর! ফিরছে আগের সেই সহজ যাতায়াত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২০:৫৩:২৯
বাংলাদেশ-ভারত ভিসা নিয়ে বড় সুখবর! ফিরছে আগের সেই সহজ যাতায়াত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল মে মাসের এই প্রথম সপ্তাহ। দীর্ঘ ১৮ মাস নানা টানাপোড়েন ও সীমাবদ্ধতার পর দুই দেশই তাদের পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের সব ক্যাটাগরির ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যখন দিল্লি সফর করেন, তখন তাঁর আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল এই ভিসা সহজীকরণ।

বর্তমানে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন যে, নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও চেন্নাইসহ ভারতের সব এলাকায় বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রগুলো এখন সচল। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তাদের দিক থেকে কার্যক্রম স্বাভাবিক করায় এখন দিল্লির পক্ষ থেকে দ্রুত ফিরতি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারতের ভিসা সেবাগুলো আগের মতো স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে। গত বছর ডিসেম্বরে এবং চলতি বছরের শুরুতে কারিগরি ও নিরাপত্তা জনিত কারণে ভিসা সেবা সীমিত করা হলেও, এখন দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সব বাধা দূর করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ওলটপালট: দ্রুত শেষ হচ্ছে আমেরিকার একতরফা দাপটের দিন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২০:৪৫:২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ওলটপালট: দ্রুত শেষ হচ্ছে আমেরিকার একতরফা দাপটের দিন
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিলের প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা সম্প্রতি এক বক্তৃতায় আধুনিক বিশ্বের এক অন্ধকার ও অনিশ্চিত চিত্র তুলে ধরলেও একই সঙ্গে এক নতুন আশার সুর শুনিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং লাগামহীন সামরিক বাজেটের চাপে পিষ্ট।

তবে এই নৈরাজ্যের মধ্যেই ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি (যুক্তরাষ্ট্র), অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে বহুপাক্ষিকবাদে বিশ্বাসী এক বিশাল বিশ্ব গোষ্ঠী। রাষ্ট্রদূত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং অবৈধ যুদ্ধটি প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বকে আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।

প্যাট্রিওটার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক কঠোর বাস্তবতা—আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগটি এখন দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সংকটে মার্কিন নৌ-বাহিনীর অসহায়ত্ব ও কৌশলগত ব্যর্থতা আমেরিকার একক আধিপত্যের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। ইউক্রেন সংকটে ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতা এবং পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোকে দেওয়া মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ভঙ্গুর রূপ এখন সবার সামনে স্পষ্ট।

ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের মতে, বিশ্বের দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তির লেজুড়বৃত্তি না করে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার একমাত্র পথ।

ওয়াশিংটনের একতরফা নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রবণতাই মূলত তাদের বন্ধুহীন করে তুলছে এবং বিশ্বকে একটি বহু-মেরুকেন্দ্রিক (Multipolar) ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের ওলটপালট হতে যাচ্ছে।

/আশিক


ইরানের যুদ্ধের গর্জন: ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর চরম উত্তেজনা!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২০:১৫:২২
ইরানের যুদ্ধের গর্জন: ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর চরম উত্তেজনা!
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফার আসাদি সতর্ক করে বলেছেন যে, ওয়াশিংটন কখনোই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তাই পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আসাদির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে তারা কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচার চালাতেই বেশি আগ্রহী। ট্রাম্প শুক্রবারই জানিয়েছেন যে, ইরান শান্তি চুক্তি করতে চাইলেও তাদের দেওয়া শর্তগুলোতে তিনি সন্তুষ্ট নন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই আসাদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকানদের যেকোনো ‘বোকামি’র জবাব দিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত।

এদিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আরব উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর ইরানি উপকূলীয় প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তারা নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।

আইআরজিসির নৌ শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল যে, কোনো শত্রুভাবাপন্ন জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে চাইলে তাদের অনুমতি নিতে হবে। ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং ইরানের এই পাল্টা সমর প্রস্তুতির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : এএফপি


মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১১:৫৭:২৯
মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত হামলায় এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র এবং উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন দাবি করেছে, এর মধ্যে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল এইড এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, এই হামলার ফলে তার একটি বড় অংশই এখন অচল হয়ে পড়েছে।

সিএনএন-এর তদন্তে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ছবি এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে নির্ভুলভাবে আঘাত করেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি সম্পদ ছিল, যা প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির এমন নজিরবিহীন মাত্রা দেখে পেন্টাগনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও আকাশচুম্বী। পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএন-এর নিজস্ব সূত্র দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী এই ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি)।

যুদ্ধের এই বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। একজন সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা কোনোভাবেই অভেদ্য নয়। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হওয়ায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থেই এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।

সূত্র: সিএনএন


ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের রায়: ৬১ শতাংশ নাগরিকই বলছেন এই যুদ্ধ একটি ‘ভুল’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১১:৪৭:১৭
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের রায়: ৬১ শতাংশ নাগরিকই বলছেন এই যুদ্ধ একটি ‘ভুল’
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ মার্কিনিদের মধ্যেই বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট', 'এবিসি নিউজ' এবং 'ইপসোস'-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা একটি ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত ছিল। শনিবার (২ মে ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকালীন নীতির ওপর দেশের মানুষের তীব্র চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জরিপটির ফলাফল মার্কিন ইতিহাসের অতীতের দুটি বিতর্কিত যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, এই জনমতের সাথে ২০০৬ সালের ইরাক যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের জনমতের এক ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। ২০০৬ সালের মে মাসে এক জরিপে ৫৯ শতাংশ মার্কিনি ইরাক যুদ্ধকে ভুল বলেছিলেন।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের গ্যালপ জরিপেও প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে ৬ জনই ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ভুল আখ্যা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ এখন ভিয়েতনাম বা ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতার সমপর্যায়ে পৌঁছেছে।

জরিপটিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতেও মতামতের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। এতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই (প্রায় ৯০ শতাংশ) ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল মনে করছেন।

এছাড়াও ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও মনে করছেন যে, এই যুদ্ধ শুরু করা ওয়াশিংটনের জন্য সঠিক হয়নি। নিজ দলের একাংশসহ সাধারণ নাগরিকদের এই অনীহা ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন কৌশলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: সিএনএন


ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১০:২৫:৫১
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরান যে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে, তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবে এমন কিছু দাবি রয়েছে যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। যদিও প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টের কথা তিনি প্রকাশ করেননি, তবে তাঁর অসন্তোষ থেকে এটা স্পষ্ট যে ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই। তারা এমন কিছু দাবি করছে যেগুলোতে আমি রাজি হতে পারি না।” ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে ইসলামাবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তি আলোচনা এখন কার্যত ভেস্তে যাওয়ার উপক্রমে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎবাণী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করা কৌশলগতভাবে ঠিক হবে না। তাঁর মতে, তড়িঘড়ি কোনো সমাধান আনলে কয়েক বছরের মধ্যেই আবার নতুন করে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতে পারে। আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানের ফলে স্থায়ী শান্তির আশা আরও সুদূরপরাহত হয়ে পড়ল। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘হুমকিমূলক ভাষা’ পরিবর্তন করে তবেই কেবল ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:১১:৫৯
যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি যে বার্তা দিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, তার বিপরীতে এখন নতুন করে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের ভেতরে এখনো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সক্রিয় রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেন্থাল বলেন, বিভিন্ন গোপন ব্রিফিং এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তার মতে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ নতুন সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কিছু বৈঠক ও নিরাপত্তা ব্রিফিং গোপন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা এখনো ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী টেবিলে রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার সময় বা ধরন সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।

ব্লুমেন্থাল আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে কথা বলে আসছে। ফলে নতুন করে হামলার বিকল্প বিবেচনায় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের ভেতরেও ইরান প্রশ্নে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরান-সংক্রান্ত নতুন সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত শোনার কথা রয়েছে বলে মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। একদিকে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রেখে নতুন কোনো চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সামরিক বিকল্প খোলা রেখে তেহরানের ওপর মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকেও নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তেহরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক অবস্থান নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

-রফিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:২৪:৫৫
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্ব অর্থনীতির চরম অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের হুমকি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব—সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। একদিকে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক (OPEC) ত্যাগের সিদ্ধান্ত তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুব শীঘ্রই 'আমেরিকান উপস্থিতি থেকে মুক্ত' হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন 'গ্লোবাল কোয়ালিশন' বা আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে।

যুদ্ধের আকাশছোঁয়া ব্যয় ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। যেখানে পেন্টাগন প্রাথমিক ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল, সেখানে বর্তমান হিসাব বলছে এটি ৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় এই খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে, যা জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

আরব আমিরাতের নাটকীয় সিদ্ধান্ত

একটি অভাবনীয় পদক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি তেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের সম্পর্কের ফাটল এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল জোটে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাই এই প্রস্থানের মূল কারণ। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি আগ্রাসন

Ceasefire বা সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননের ১০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহ ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে।

গাজা অভিমুখে মানবিক ত্রাণ ও ‘জলদস্যুতা’র অভিযোগ

গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' ইসরায়েলি নৌবাহিনী কর্তৃক আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় 'জলদস্যুতা' বলে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ফ্লোটিলাকে 'প্রো-হামাস স্টান্ট' হিসেবে বর্ণনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শান্তির আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতি মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং যুদ্ধের প্রান্তসীমা থেকে পিছিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

ইউরোপের অনাস্থা ও মার্কিন নীতির অস্থিরতা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান সংসদ সদস্য মারি-আগনেস স্ট্র্যাক-জিমারম্যান জানিয়েছেন যে, ওবামা বা বাইডেন প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটনের ওপর বার্লিনের যে আস্থা ছিল, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ওপর সেই আস্থা এখন আর নেই। ট্রাম্পের জার্মানি থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার হুমকি এবং ইতালি ও স্পেন থেকেও সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পুনরায় ভাবতে বাধ্য করছে। ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে 'স্বাধীন ও স্বাবলম্বী' হওয়ার পথ খুঁজছে। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতেই বিশ্ব এক বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ২ সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তা স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সন্ধিহান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না তা তিনি জানেন না।

এই সংঘাত কেবল মিসাইল বা ড্রোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধের এক জটিল সংমিশ্রণ। তেহরানে অব্যাহতভাবে এয়ার ডিফেন্স সাইরেন বাজছে, যা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরণের বিমান হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানচিত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। শান্তির পথ এখন আলোচনার টেবিলে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডের চালের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্রঃ Middle East Eye

পাঠকের মতামত: