সদকাতুল ফিতরের মাসআলা; প্রবাসীরা কোন দেশের বাজারমূল্যে ফিতরা দেবেন?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ০৯:৪৩:৫১
সদকাতুল ফিতরের মাসআলা; প্রবাসীরা কোন দেশের বাজারমূল্যে ফিতরা দেবেন?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ইবাদত হলো 'সদকাতুল ফিতর'। পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ যেন সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সেজন্যই মহান আল্লাহ এই সদকা ওয়াজিব করেছেন। এটি যেমন অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, তেমনি রোজাদারের সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির পরিমার্জক হিসেবেও কাজ করে। তবে এই ইবাদতটি সঠিক পদ্ধতিতে পালনের জন্য কিছু জরুরি মাসআলা ও বিধান জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

প্রবাসী ভাইবোনদের ক্ষেত্রে ফিতরা আদায়ের বিশেষ নিয়ম রয়েছে। প্রবাসীরা যদি স্বদেশে ফিতরা পাঠাতে চান, তবে তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সেখানকার বাজারমূল্য অনুযায়ী ফিতরা হিসাব করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের সর্বনিম্ন ফিতরার হার যদি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হয়, তবে তাঁকে সেই হার অনুযায়ী টাকা পাঠাতে হবে; বাংলাদেশের সর্বনিম্ন হারে দিলে তাঁর ফিতরা আদায় হবে না।

একইভাবে প্রবাসীর নাবালেগ সন্তানদের ফিতরা আদায়ের দায়িত্ব পিতার ওপর থাকে, তাই তাদের ফিতরাও পিতার অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে প্রবাসীর স্ত্রী ও বালেগ সন্তানরা যদি দেশে থাকেন, তবে তাঁদের ফিতরা দেশের বাজারমূল্য অনুযায়ী আদায় করা যাবে (আল-বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫)।

চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হাদিস শরিফে সরাসরি চালের উল্লেখ নেই বরং পাঁচটি দ্রব্যের (গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির) কথা বলা হয়েছে। যদি কেউ চাল দিতে চান, তবে তাঁকে এই পাঁচটির যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে।

যব, খেজুর বা কিশমিশের ক্ষেত্রে এক ‘সা’ (৩২৭০.৬০ গ্রাম) এবং গমের ক্ষেত্রে আধা ‘সা’ (১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম) মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে (কিফায়াতুল মুফতি : ৪/৩১২)। অনেকে মনে করেন শুধু খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা দিতে হয়, তবে সাহাবী ও তাবেঈদের আমল অনুযায়ী টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা বৈধ এবং আধুনিক যুগে দরিদ্রদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এটিই উত্তম পদ্ধতি (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১০৩১৭; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৬)।

ফিতরা ও জাকাতের নিসাবের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জাকাত শুধু স্বর্ণ-রুপা বা ব্যবসার মালের ওপর ফরজ হয়, কিন্তু সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সকালে কারো কাছে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে। এক্ষেত্রে রোজা রাখা বা না রাখার সঙ্গে ফিতরার কোনো সম্পর্ক নেই; অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারলেও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে ফিতরা দিতে হবে (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬০)। ফিতরা আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে।

তবে রমজানের শেষ দশকে বা দুই-তিন দিন আগেও দেওয়া যায় যাতে দরিদ্ররা ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারে। নামাজের পরে দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা অবশ্যই আদায়যোগ্য একটি ওয়াজিব হক (বুখারি, হাদিস : ১৫০৯)।

বণ্টনের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ফিতরা পাওয়ার হকদার শুধু অভাবী মুসলমান। অভাবী নিকটাত্মীয়দের দেওয়া সবচেয়ে সওয়াবের কাজ। তবে বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান বা নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবেন না। বাড়ির কাজের লোক অভাবী হলে তাকে দেওয়া যাবে, তবে তা পারিশ্রমিক বা বোনাস হিসেবে হওয়া চলবে না।

এ ছাড়া মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ বা জনকল্যাণমূলক কাজে ফিতরা ব্যয় করলে তা আদায় হবে না, কারণ গরিবের সরাসরি মালিকানা নিশ্চিত করা জরুরি (রদ্দুল মুখতার : ২/২৫৮)। বর্তমান সময়ে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ফিতরা পাঠালে ‘ক্যাশ আউট’ চার্জ দাতাকেই বহন করতে হবে, কারণ পুরো টাকা গরিবের কাছে পৌঁছানো শর্ত (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ : ৬/২১৭)। সামর্থ্যবানদের উচিত গমের সর্বনিম্ন হার না ধরে খেজুর বা পনিরের উচ্চ হার অনুযায়ী ফিতরা দিয়ে তাকওয়ার পরিচয় দেওয়া।

/আশিক


আজ ২৪ রমজান: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ০৯:১৩:৪০
আজ ২৪ রমজান: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং ঈমানের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পরকালে মুমিনের আমলের হিসাব গ্রহণের সময় সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধান রয়েছে। মুমিনের জীবনে শত ব্যস্ততা থাকলেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত জরুরি ও সওয়াবের কাজ।

আজ শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি মোতাবেক ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা এবং ২৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি। রমজানের এই বরকতময় সময়ে নামাজের সময়সূচি মেনে চলা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে এবং শেষ হবে বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে।

আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এবং এর সময় থাকবে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিট পর্যন্ত।

এশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে এবং শেষ হবে ভোর ৪টা ৪৯ মিনিটে।

আগামীকাল রোববার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং সূর্যোদয়ের মাধ্যমে এর সময় শেষ হবে সকাল ৬টা ০৮ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যারা ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের এই সূচির সাথে নির্দিষ্ট কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। যেমন—চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট সময় ঢাকার সময়ের সাথে যোগ করে নিতে হবে। সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে এই সময়সূচিটি অনুসরণ করা মুমিনদের জন্য সহায়ক হবে।

/আশিক


আজ ২৩ রমজান: আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ০১:০৮:০২
আজ ২৩ রমজান: আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সালাত বা নামাজ। নামাজকে ইসলামের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি একজন মুমিনের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম মাধ্যম। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, নামাজ মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকে অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে দূরে রাখে।

ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নফল নামাজেরও নির্দেশনা রয়েছে, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নামাজকে মুমিন ও অবিশ্বাসীর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিয়মিত নামাজ আদায় মানুষের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।

আজ শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, যা বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৩ রমজান ১৪৪৭। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি আরও বাড়ে এবং নামাজের গুরুত্বও আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা হয়।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো-

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

জুমার নামাজ: দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট

আসর: বিকেল ৪টা ২৬ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ০৮ মিনিট

এশা: রাত ৭টা ২৩ মিনিট

সূর্যাস্ত: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ফজর: ভোর ৪টা ৫৬ মিনিট

সূর্যোদয়: সকাল ৬টা ১০ মিনিট

অন্যান্য জেলার সময় সমন্বয়

ঢাকার সময়সূচির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছুটা সময়ের পার্থক্য রয়েছে। সেই অনুযায়ী সময় সমন্বয় করতে হবে-

সময় বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

সময় যোগ করতে হবে:

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র রমজান মাসে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই সময়মতো নামাজ আদায় করার জন্য নির্ধারিত সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


আজকের নামাজের সময়সূচি: ১২ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ আপডেট

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ০৯:৩২:৪৯
আজকের নামাজের সময়সূচি: ১২ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। একজন মুমিনের জীবনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি; ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা এবং ২২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি তুলে ধরা হলো

আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে এবং শেষ হবে বিকেল ০৪টা ২৫ মিনিটে।

আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ০৪টা ২৬ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ০৬টা ০৬ মিনিটে।

মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ০৬টা ০৯ মিনিটে এবং শেষ হবে রাত ০৭টা ২০ মিনিটে।

এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ০৭টা ২১ মিনিটে এবং শেষ হবে শেষ রাত ০৪টা ৫০ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল শুক্রবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ০৪টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ সময় সকাল ০৬টা ১১ মিনিট।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে বিভাগীয় শহরভেদে সময়ের কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ০৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ০৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ০৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ০৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ০১ মিনিট যোগ করতে হবে।

/আশিক


২৭ রমজানই কি কদরের রাত? মুসনাদে আহমাদ ও বুখারির হাদিস যা বলছে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১৬:৪৯:৫৫
২৭ রমজানই কি কদরের রাত? মুসনাদে আহমাদ ও বুখারির হাদিস যা বলছে
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর। মর্যাদার এই রাতটি ঠিক কবে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার কোনো সুযোগ না থাকলেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এটি রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট।

সেই হিসেবে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলো—অর্থাৎ ২০ রমজান দিবাগত রাত থেকে শুরু করে প্রতিটি বেজোড় রাতেই মুমিন বান্দার উচিত এই বরকতময় রাতটি অনুসন্ধান করা।

লাইলাতুল কদর তালাশ করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ যদিও বিজোড় রাতগুলোর প্রতিটিই গুরুত্ববহ, তবে অনেক আলেম ও গবেষক ২৭ রমজান তথা ২৬ রমজান দিবাগত রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন।

মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.)-এর এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা ২৭ রমজানের রাতে অনুসন্ধান করে।’ তবে ২৭ রমজান ছাড়াও ২৫, ২৯, ২১ ও ২৩ রমজানের রাতগুলো কদর পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে সম্ভাবনাময়।

লাইলাতুল কদরের বিশেষ কিছু নিদর্শনের কথা হাদিস ও ঐতিহ্যের আলোকে জানা যায়। এই মহিমান্বিত রাতটি খুব বেশি অন্ধকার হবে না এবং প্রকৃতিতে গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না, বরং এক প্রশান্তিদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। মৃদু শীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি সে রাতের ইবাদতে মানুষ এক অনন্য তৃপ্তি অনুভব করবে, যা অন্য কোনো রাতে সচরাচর পাওয়া যায় না।

এছাড়া ইবনে খুজায়মাহ, বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রকৃত ঈমানদাররা স্বপ্নের মাধ্যমে এর ইঙ্গিত পেতে পারেন এবং সে রাতে রহমতের বৃষ্টিতে জমিন সিক্ত হতে পারে। কদরের রাতের পরের সকালে সূর্য উদিত হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো হালকা আলোক রশ্মিসহ।

/আশিক


আজ ২১ রমজান; জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ০৯:৪০:৪০
আজ ২১ রমজান; জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঈমানের পরেই এর স্থান। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, প্রতিটি মুমিনের উচিত সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা। আজ বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ (২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি), ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকার নামাজের সময়সূচি (১১ মার্চ)

ফজর: শুরু ০৪:৫৬ মিনিট — শেষ ০৬:১০ মিনিট।

জোহর: শুরু ১২:০৯ মিনিট — শেষ ০৪:২৫ মিনিট।

আসর: শুরু ০৪:২৬ মিনিট — শেষ ০৬:০৬ মিনিট।

মাগরিব: শুরু ০৬:০৯ মিনিট — শেষ ০৭:২০ মিনিট।

এশা: শুরু ০৭:২১ মিনিট — শেষ ০৪:৫১ মিনিট।

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময়ের পরিবর্তন

ঢাকার সময়ের সঙ্গে আপনার জেলার সঠিক সময় মিলিয়ে নিতে নিচের হিসাবটি অনুসরণ করুন

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

সিলেট: ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

খুলনা: ০৩ মিনিট যোগ করতে হবে।

রাজশাহী: ০৭ মিনিট যোগ করতে হবে।

রংপুর: ০৮ মিনিট যোগ করতে হবে।

বরিশাল: ০১ মিনিট যোগ করতে হবে।

/আশিক


রমজানের ২০তম দিনে নামাজের ওয়াক্ত ও ইফতারের সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:০৯:৩৬
রমজানের ২০তম দিনে নামাজের ওয়াক্ত ও ইফতারের সময়
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং এটি ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে স্বীকৃত। হাশরের ময়দানে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। দৈনন্দিন জীবনে যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধানও রয়েছে, যা মুমিনদের আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহায়ক।

আজ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি (২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা ও ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি)।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে এবং আসর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে।

মাগরিবের আজান ও ইফতারের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ০৬ মিনিটে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ২১ মিনিটে।

আগামীকাল বুধবার (১১ মার্চ) ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৬টা ১৩ মিনিটে।

দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন পরিমার্জন করতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষেত্রে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা থেকে সময়ের ব্যবধানে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে।

/আশিক


কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৫৬:৫৭
কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশ দিন ইসলামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এই সময়কে বলা হয় নাজাতের দশক, অর্থাৎ জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের বিশেষ সময়। এই দশক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন লাইলাতুল কদর বা পবিত্র শবে কদরের সন্ধানের জন্য, যা ইসলামে বছরের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় রাত হিসেবে পরিচিত।

লাইলাতুল কদর কী

আরবি শব্দ “লাইলাতুল কদর” দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে “লাইলাতুল” অর্থ রাত এবং “কদর” অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা মহাসম্মান। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রাত অত্যন্ত সম্মানিত ও বরকতময় একটি রজনী, যখন মহান আল্লাহ মানবজাতির ভাগ্য, রিজিক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করেন।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাত শুধু একটি পবিত্র রাতই নয়; বরং এটি এমন একটি সময় যখন আসমান থেকে আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা এবং বরকত নাজিল হয়। এজন্য মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-কদরে ইরশাদ করেন:

“নিশ্চয়ই আমি এটি নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর তুমি কীভাবে জানবে কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত।”

এই আয়াতের আলোকে ইসলামী পণ্ডিতরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াবের অধিকারী। অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব অর্জনের সুযোগ এই এক রাতেই পাওয়া যায়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত

লাইলাতুল কদর ইসলামে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত, যার গুরুত্ব পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। সূরা আল-কদরে উল্লেখ রয়েছে, লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত প্রায় ১০০০ মাস বা প্রায় ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব এনে দিতে পারে। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত আত্মিক উন্নতি, পাপমুক্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিরল সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।

এই পবিত্র রাতের আরেকটি বিশেষ মর্যাদা হলো এই রাতেই মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয় লাইলাতুল কদরের রাতে, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর হেদায়েতের এক অনন্য নিদর্শন। ফলে এই রাত শুধু ইবাদতের রাতই নয়, বরং ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ঘটনা বহন করে।

ইসলামী শিক্ষায় আরও বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদরের রাতে আন্তরিক ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে ইবাদত করলে মানুষের অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এ কারণে মুসলমানরা এই রাতকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এই রাতে মানুষের আগামী এক বছরের জন্য রিজিক, আয়ু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহর নির্দেশে নির্ধারিত হয় বলে ইসলামী ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া লাইলাতুল কদরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এই রাতে হযরত জিবরাঈল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাদের আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি, রহমত ও বরকতের আবহ সৃষ্টি হয়, যা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এসব কারণেই লাইলাতুল কদর মুসলমানদের কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাত হিসেবে বিবেচিত।

কুরআন নাজিলের ঐতিহাসিক রাত

লাইলাতুল কদরের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এই রাতে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয় এবং পরে ধীরে ধীরে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল করা হয়।

এ কারণে এই রাতকে ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত

ইসলামী ব্যাখ্যায় বলা হয়, লাইলাতুল কদরের রাতে মানুষের আগামী এক বছরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে মানুষের রিজিক, জীবন-মৃত্যু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত হয়।

এই প্রসঙ্গে কুরআনের সূরা দুখানে বলা হয়েছে যে, বরকতময় এই রাতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয় আল্লাহর নির্দেশে।

কখন হয় লাইলাতুল কদর

কুরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে সংঘটিত হয়। তবে সহিহ হাদিসে এসেছে, রমজান মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে এই রাত অবস্থিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনে কদরের রাত তালাশ করো।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, “রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খুঁজে নাও।” (বুখারি)।

এ কারণে ইসলামী আলেমরা বলেন, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতগুলোর মধ্যে লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনা বেশি। যদিও অধিকাংশ আলেমের মতে ২৭ রমজানের রাতে এই রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাসুল (সা.)-এর আমল

হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগ দিতেন। তিনি নিজে ইতিকাফ করতেন এবং পরিবারকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।

এই সময় মুসলমানরা মসজিদে ইতিকাফ পালন করে বেশি বেশি ইবাদত করার চেষ্টা করেন, যাতে লাইলাতুল কদরের বরকত লাভ করা যায়।

লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয়

ইসলামী শিক্ষায় এই রাতে বিশেষ কিছু আমলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

নফল নামাজ আদায় করা

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা

জিকির, তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করা

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা

নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে পড়ার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।”

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর হলো ক্ষমা লাভের একটি বিশেষ সুযোগ। এই রাতে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ মানুষের অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

খাঁটি তওবার কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

১. পূর্বের গুনাহ থেকে ফিরে আসা

২. ভুলের জন্য আন্তরিক অনুতাপ করা

৩. ভবিষ্যতে সেই পাপ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা

৪. অন্যের অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া

কেন এই রাত এত গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামী দৃষ্টিতে লাইলাতুল কদর শুধু একটি রাত নয়; এটি একটি আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সুযোগ। এই রাতে মানুষ তার অতীত ভুল থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে আল্লাহর পথে জীবন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

ইসলামী পণ্ডিতরা বলেন, এই রাতের প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে।

মুসলমানদের বিশ্বাস, বছরে মাত্র একবার আসা এই রাতের বরকত লাভ করতে হলে রমজানের শেষ দশকে আন্তরিকভাবে ইবাদত করা প্রয়োজন।

মহান আল্লাহ যেন সবাইকে লাইলাতুল কদরের বরকত লাভ করার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন। আমিন।


বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে যে ৭০ হাজার মানুষ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:২৮:৩৬
বিনা হিসাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে যে ৭০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী কিয়ামতের দিন এমন এক বিশেষ দল থাকবে যারা কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ বা শাস্তির মুখোমুখি না হয়েই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে। সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এই সৌভাগ্যবান দলের সংখ্যা হবে ৭০ হাজার।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ৭০ হাজার ব্যক্তির প্রত্যেকের সঙ্গে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়ার মাধ্যমে আরও ৭০ হাজার মানুষকে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করবেন। এই হিসাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে প্রায় ৪৯০ কোটি মুসলিম বান্দা একসঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এই বিশেষ মর্যাদা লাভকারী মানুষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে এবং কোনোভাবেই শিরকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা ভাগ্য গণনা, কুসংস্কার বা অশুভ লক্ষণ বিশ্বাসের মতো কোনো ধরনের বিশ্বাসে জড়াবে না। তারা রোগ-ব্যাধি বা কষ্টের সময়েও শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং তাঁর ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করবে।

এই শ্রেণির মানুষদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। সুখ কিংবা দুঃখ—যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তারা সব সময় আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করে।

তাদের জীবনের আরেকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে যে জীবনের সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনার মধ্যেই ঘটে এবং তাই প্রতিটি অবস্থায় তারা তাঁর ওপরই নির্ভর করে।

এই বর্ণনা পাওয়া যায় সহীহ বুখারী (হাদিস নম্বর ৬৫৪১) এবং মিশকাতুল মাসাবিহ (হাদিস নম্বর ৫৫৫৬) গ্রন্থে। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, এসব হাদিস মানুষের মধ্যে ঈমান, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থার শিক্ষা দেয়।

পবিত্র কুরআনেও এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে অগ্রগামী হবে। সূরা ওয়াকিয়ার ১০ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

“আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তী। তারাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে সুখময় জান্নাতে। তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী যুগের মানুষ হবে অনেক এবং পরবর্তী যুগের মানুষ হবে তুলনামূলক কম।”

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, মানুষের অন্তরের নিয়ত যদি সৎ হয় এবং সে যদি আল্লাহর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনা করে, তাহলে সে এই অগ্রগামীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করতে পারে।

এ কারণে আলেমরা সব সময় পরামর্শ দেন মানুষ যেন জীবনে সৎ নিয়ত বজায় রাখে, শিরকমুক্ত ঈমান ধারণ করে এবং যেকোনো ভালো কাজের সুযোগ পেলেই দ্রুত তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করে।

একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দেন যে জীবনের প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা একজন মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং জান্নাতের অগ্রগামীদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করতে পারে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমান, নেক আমল এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন।


আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন পবিত্র রমজানের ১৯তম দিনের পূর্ণাঙ্গ আপডেট

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:১১:০০
আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন পবিত্র রমজানের ১৯তম দিনের পূর্ণাঙ্গ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (৯ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা এবং ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি। ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য। ঢাকার সময়ের সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, যা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী জোহর দুপুর ১২:১৩ মিনিট, আসর বিকেল ৪:২৫ মিনিট, মাগরিব সন্ধ্যা ৬:০৮ মিনিট এবং এশা রাত ৭:২২ মিনিটে শুরু হবে। এ

ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৬:১৩ মিনিটে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে এই সময়ের সঙ্গে কিছু সময় যোগ অথবা বিয়োগ করতে হবে।

ঢাকার সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ০৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ০৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনা বিভাগে ০৩ মিনিট, বরিশাল বিভাগে ০১ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ০৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগে ০৮ মিনিট যোগ করে নিতে হবে। পবিত্র রমজান মাসের এই ১৯তম দিনে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: