মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:৩৮:৩৮
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের অন্যতম বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

আইইএ জানায়, চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বর্তমানে দৈনিক অন্তত ৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে। এর সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক তেল উৎপাদক দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ব তেলবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

আইইএর তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে স্বাভাবিক প্রবাহের ১০ শতাংশেরও কমে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে অনেক কোম্পানি সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অথবা বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে।

আইইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহ কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব দীর্ঘদিনের। তাই ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:২৭:১০
ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এমন উদ্যোগকে সমর্থন করছে যা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করতে পারে এবং সংঘাতকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। মস্কোর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।

মারিয়া জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সহিংসতার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই আহ্বান এমন এক সময় এসেছে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু সংকট একসঙ্গে চলমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একযোগে বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া নিজেও বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জড়িত রয়েছে, যা এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সত্ত্বেও মস্কো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।

-রাফসান


যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:১৯:৪৬
যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে তেহরান আঞ্চলিক শান্তিতে বিশ্বাসী হলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পেজেশকিয়ানের মতে, জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধ সমাপ্ত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ অধিকারকে নিঃশর্ত স্বীকৃতি দেওয়া। এর পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো আগ্রাসন হবে না মর্মে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রদান করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের এই তালিকায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া এই কয়েক দিনের হামলায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও থেমে নেই; তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৫৭:১১
আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং সেখানে অবস্থিত পবিত্র উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শারিফ এলাকায় ইসরাইলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ও অযৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম কিংবা সেখানে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরাইলের কোনো বৈধ সার্বভৌমত্ব নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব পবিত্র স্থানে ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক বলেও তারা উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও বলেন, আল-আকসা মসজিদের সমগ্র এলাকা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এই পবিত্র স্থানের প্রশাসনিক দায়িত্ব জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসা বিষয়ক দপ্তরের হাতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের অবাধভাবে মসজিদে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা ইসরাইলের এই ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ধর্মীয় অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

-রাফসান


ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৪৭:৫০
ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেল আবিবে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত–এর সদর দপ্তর এবং ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দুটি কৌশলগত ঘাঁটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে বিশেষভাবে পালমাচিম এবং ওভদা বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে। এসব ঘাঁটি ইসরাইলের সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, পালমাচিম বিমান ঘাঁটি ভূমধ্যসাগরের উপকূলের কাছে ইয়াভনে শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং এটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এই ঘাঁটি থেকে বিভিন্ন ধরনের বিমান ও সামরিক ড্রোন পরিচালিত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে ওভদা বিমান ঘাঁটি ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনা। এই ঘাঁটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এসব লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা পরিচালনার মাধ্যমে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হামলা কতটা সফল হয়েছে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে এই ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না আসায় হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

-রাফসান


ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:০৪:০২
ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান সরকার তাৎক্ষণিক পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রযন্ত্র এবং জনপরিসরের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেও তাদের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনো ভেঙে পড়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, সামরিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য সমন্বয় বজায় রয়েছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা মূল্যায়নটি গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানটি তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা যায়নি। বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে দ্রুত পুনর্গঠন হয়েছে এবং নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরাও নিজেদের আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ সামরিক চাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো ততটা সহজ নাও হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে যে পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ বা সামাজিক অস্থিরতা হঠাৎ করেই নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। একইভাবে হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান।

যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়।

সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি ছাড়াও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বহু উচ্চপদস্থ কমান্ডার এবং কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি ইরানের একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যা দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

তবুও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অবশিষ্ট নেতৃত্ব এবং খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত অন্তর্বর্তী ক্ষমতাকাঠামো এখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল চায় না যে বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার কোনো অংশই টিকে থাকুক। তবে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযান কীভাবে বাস্তবে ইরানের সরকারকে উৎখাত করতে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল আকাশপথে হামলা যথেষ্ট নাও হতে পারে। এতে সম্ভবত স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৩:৪৮:২২
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর অঞ্চলটি কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআইয়ের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজর রাখছিল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে অবস্থানরত কোনো অজ্ঞাত জাহাজ বা ভাসমান প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্দিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হতে পারে। যদিও সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট সময়সূচি বা লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও মার্কিন প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এমন হামলা ঘটে তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ইরান-সম্পৃক্ত হামলার বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কৌশল গ্রহণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন প্রশাসন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত এফবিআই কার্যালয়ের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একইভাবে হোয়াইট হাউস থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরেকটি নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকেও দৃষ্টি দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকান মাদক কার্টেলগুলো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি নিরাপত্তা বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, একটি অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে মেক্সিকান কার্টেল নেতারা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। যদিও এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের দপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় ও ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয় এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা টহল মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাব্য পথও সামনে এনেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনটি শর্ত উপস্থাপন করেছেন।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তগুলো তুলে ধরে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের বৈধ দাবিগুলো স্বীকার করা।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া তিনটি শর্ত হলো:

প্রথমত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং বৈধ স্বার্থকে স্বীকৃতি দিতে হবে।দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

পেজেশকিয়ান একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী। তবে তিনি আবারও দাবি করেন, ইরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সূত্র:এবিসি নিউজ


ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১২:২১:২৬
ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে ইরান তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, এবারের অভিযানে সরাসরি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র দেওয়া তথ্যমতে, এই ব্যাপক অভিযানে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনসহ বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান এবং অত্যাধুনিক ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব, পবিত্র শহর জেরুজালেম এবং বন্দরনগরী হাইফার কৌশলগত অবস্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরান।

তবে ইরান এই দাবি করলেও উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন আকাশে থাকতেই সফলভাবে ধ্বংস করেছে; যার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন মরু এলাকায় আছড়ে পড়ে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে—তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং তারা শত্রুপক্ষের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

/আশিক


হরমুজের পর নতুন সমুদ্রপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি! যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১০:৫১:১২
হরমুজের পর নতুন সমুদ্রপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি! যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরনের ‘কৌশলগত ভুল’ পদক্ষেপ নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালির পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিতে পারে তারা। বুধবার এক বক্তব্যে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলবে। ইরান ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ধাপে ধাপে সাজানো সামরিক পরিকল্পনা (Contingency Plans) চূড়ান্ত করে রেখেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার মতে, পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং মার্কিন আগ্রাসন ঠেকাতে ইরানের হাতে এখনো অনেক শক্তিশালী কৌশল ও বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তজনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন এই সমুদ্রপথ বন্ধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তায় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র : শাফাক নিউজ


মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ০৯:৫৮:২০
মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাত হেনেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ১২তম দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ওমানের নৌবাহিনী ওই জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করেছে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা এবং এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারির মাঝেই এসব হামলার ঘটনা ঘটল। এর ফলে এই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং রাতারাতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

গতকাল বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ূরী নারি’ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারটি হামলার শিকার হয়। ভিডিও ফুটেজে জাহাজটি থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে। এর আগে আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ওয়ান মেজেস্টি’ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও এর কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটিকে নিরাপদ নোঙরের দিকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ের ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ‘স্টার গুইনেথ’ নামের তৃতীয় একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হামলার শিকার হয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এফবিআই সতর্ক করেছে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ক্যালিফোর্নিয়াতেও হামলা চালাতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক দাম প্রায় ৫.৭ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন স্থাপন শুরু করেছে—এমন অসমর্থিত খবরের পর বাজারগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী জলপথের কাছে মাইন স্থাপনকারী ইরানের ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশই এই করিডোর দিয়ে পরিবহন করা হয়। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপে বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হবে।

যুদ্ধের ১২তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আইআরজিসি তাদের ৩৭তম আক্রমণ চালিয়েছে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের তেলক্ষেত্রের দিকে ধাবমান পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনের সিত্রায় ইরানি হামলায় শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। পেন্টাগন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, এই ১০ দিনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং ৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও আগে এই সংখ্যা অনেক কম বলা হয়েছিল।

ইরানের ছোঁড়া নতুন প্রজন্মের ‘সুপার-হেভি খোররামশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের কাছে আঘাত হেনেছে, যার ফলে শহরে বিশাল আগুনের গোলক সৃষ্টি হয়। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রসহ হাইফা ও পশ্চিম জেরুজালেমের সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, তাঁর সরকার ইরানের সঙ্গে ‘অবিরাম যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করবে।

মানবিক দিক থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক ভবন, হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭০ জন শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে পুড়িয়ে ফেলার আগেই এটি বন্ধ করা উচিত। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে স্বদেশে ফিরে গেছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: