যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৪২:০৪
যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আরব অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরান যদি নির্বিচারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে দেশটির ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ঘটতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়। মূলত গত শনিবার সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র ‘শায়েবাহ অয়েল ফিল্ড’-এ ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পরদিনই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই ইরান আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তিহীন ও নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বিস্তর ‘অমিল’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের এমন উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের এই আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তন না করে এবং নির্বিচার হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে চলমান সংঘাত দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এই পরিস্থিতির ফলে রিয়াদ ও তেহরানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করল সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন পর্যন্ত সৌদি আরব এই সংঘাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও নিজেদের তেলক্ষেত্রে হামলার পর তারা সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। এই সতর্কবার্তার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই হুমকির পর ইরান তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না অথবা পাল্টাহুমকি দেয় কি না।

সূত্র: অ্যান্ডারসন হেরাল্ড


ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:১০:২৪
ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা
২০১১ সালের জানুয়ারিতে ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী মাসুদ আলি-মোহাম্মদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত ইরানি এজেন্টদের কাছ থেকে জব্দ করা গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম আদালতে প্রদর্শিত হচ্ছে। [আবেদি

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক প্রচারণা যেভাবে এসব অভিযানের কৃতিত্ব মসাদের গোয়েন্দা দক্ষতার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে বাস্তব চিত্রটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাদের মতে, এসব অভিযানের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা এবং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর ওপর হামলাও বিশ্লেষকদের মতে একই ধরনের গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফল।

ওয়াশিংটনের প্রযুক্তিগত ছায়া

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে সিআইএর সংগৃহীত লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল।

এই অভিযানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির উপস্থিতিও ছিল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের MQ-9 Reaper ড্রোন তেহরান ও শিরাজের আকাশে নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং B-52 বোমারু বিমান।

একই ধরনের কৌশল দেখা যায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার ঘটনাতেও। সে সময় ইসরাইলি বিমানবাহিনী ৯০৭ কেজি ওজনের মার্কিন নির্মিত বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, খামেনির গতিবিধি নিয়ে কয়েক মাস ধরে সিআইএ নজরদারি চালায়। তেহরানের নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে তিনি কখন উপস্থিত থাকবেন সেই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই হামলার সময় রাত থেকে দিনের দিকে পরিবর্তন করা হয়।

ইসরাইলি বিষয়ক বিশ্লেষক মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব অভিযান কেবল ইসরাইলের একক সাফল্য নয়; বরং এতে সিআইএ এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা MI6-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ছিল।

তার মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে টেনে আনতে তিনি সফল হয়েছেন।

তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ফল নয়; বরং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ তেহরানের একটি আইআরজিসি অতিথিশালায় নিহত হওয়ার ঘটনা এই দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকটি তার কক্ষে আগেই স্থাপন করা হয়েছিল, যা স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ইসরাইলি গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনির নিরাপত্তা বাহিনীর দৈনন্দিন চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করেছিল। হামলার ঠিক আগে স্থানীয় মোবাইল টাওয়ারগুলো জ্যাম করে দেওয়া হয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো সতর্কবার্তা না পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মসাদ অনেক সময় সরাসরি নিজস্ব এজেন্ট ব্যবহার না করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বিদেশি নাগরিক বা স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে থাকে। এতে সন্দেহ কম সৃষ্টি হয় এবং গোপন অনুপ্রবেশ সহজ হয়।

সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার আরেকটি কৌশল হলো বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ। ২০২৪ সালে লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউরোপভিত্তিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সরঞ্জাম সরবরাহে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া ইসরাইলি গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০ স্মার্টফোন হ্যাকিং নিয়ে গুজব ছড়িয়ে হিজবুল্লাহকে পেজার ব্যবহারে বাধ্য করে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে সেই পেজারগুলোতেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।

ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইল নিজেও নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৩০ জনের বেশি নাগরিককে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্যরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ পেত এবং পেপ্যালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করত। তারা নেভাতিম বিমানঘাঁটি, হাইফা বন্দর এবং গ্লিলট সামরিক গোয়েন্দা সদর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও ধারণ করেছিল।

পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ধারণা করা হয়।

মানবিক ও পরিবেশগত সংকট

সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে ইরানে পরিবেশগত ও মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে। তেহরানের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড স্বল্পমেয়াদে কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।

তাদের মতে, অতীতে ১৯৭৩ সালের লিলেহামার হত্যাকাণ্ড, ১৯৯৭ সালে জর্ডানে খালেদ মেশালকে বিষ প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টা এবং ২০১০ সালে দুবাইয়ে মসাদ এজেন্টদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও দেখিয়েছে যে গোয়েন্দা অভিযান সবসময় কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করে না।

মামুন আবু আমেরের মতে, গোয়েন্দা হত্যাকাণ্ড সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে না। বরং এসব অভিযান কখনও কখনও এমন সংঘাত সৃষ্টি করে যা কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র: আল জাজিরা


মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:৫০:১৮
মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগ প্রসঙ্গে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় উত্তর দিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়।’ ইরানের এই শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা থাকলেও ট্রাম্পের এমন নীরবতা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রতি ওয়াশিংটন এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে আগ্রহী নয়।

একই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তটি একক কোনো বিষয় হবে না, বরং এটি হবে একটি ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানান। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সঠিক সময়ে সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অবস্থান ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসার আগে তিনি তাঁর প্রধান মিত্র ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কোন দিকে মোড় নেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


নিরাপত্তার জন্য সামান্য মূল্য: তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:২৯:৪৪
নিরাপত্তার জন্য সামান্য মূল্য: তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, বর্তমানে তেলের দাম বাড়লেও এটি অত্যন্ত সাময়িক একটি বিষয়। ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার দ্রুত গতিতে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে তেলের দাম সামান্য বাড়াটা খুব বড় কোনো সমস্যা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য এটিকে একটি ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে অনেকটা বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১১১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ক্রুড তেলের বাজারমূল্যও ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ তেল পরিবাহিত হয়, যা এখন সরাসরি হুমকির মুখে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ব অর্থনীতি জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তাঁর প্রশাসন ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তেলের বাজার আবারও স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর থেকে এই বাড়তি খরচের বোঝা নেমে যাবে।

/আশিক


খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:২৮:৫৬
খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর আগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ইসরায়েলের সামরিক বা কৌশলগত নীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনবে না।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের যুক্তি হলো, তাদের দৃষ্টিতে সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়; বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান নীতি অব্যাহত রাখবে।

তবে একই সঙ্গে ইসরায়েল সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—এই পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি নতুন ফাটলের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে যদি ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে একই পরিবারের ভেতরেই থেকে যায়, তবে তা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

দোহা থেকে আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় এক ধরনের ডি-ফ্যাক্টো যুদ্ধের মতো। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এসব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা।

তার মতে, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের ঘটনায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন থাকবে। একই সঙ্গে তারা এটাও পর্যবেক্ষণ করবে যে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে এসে কোনো নতুন কৌশল বা নীতিগত পরিবর্তন আনেন কি না। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সামরিক বাহিনী এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যেই নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী মোজতবা খামেনিকে “ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী ও সক্ষম নেতা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

IRGC-ও তাদের বিবৃতিতে জানায়, তারা নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি “আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য” ঘোষণা করছে এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ইসলামী বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও আদর্শিক ব্যবস্থা।

বিশ্লেষকদের মতামত

স্টিমসন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, খামেনির ছেলেকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।

তার ভাষায়, “একজন কঠোরপন্থী নেতাকে হত্যা করে যদি তার জায়গায় আরও কঠোর একজন নেতা আসে, তাহলে পুরো যুদ্ধের যুক্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।”

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তার মতে, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলে, কিন্তু সেই ব্যবস্থাই এখন আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

তেহরান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির ভেতরে তথ্যপ্রবাহ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগবে। তাই দ্রুত এই ঘোষণা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্কারপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত সেই আন্দোলনগুলো অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো ইরানি নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।

এর জবাবে ইরানের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় রাজধানীর আকাশে ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে ছয় মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।


ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:১৫:৫১
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি- আল-জাজিরা।

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেবেন। ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সামরিক বাহিনী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার চারপাশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডারের আনুগত্য করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।

মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষ করে IRGC-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম বলেন, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরে “তার বাবার গেটকিপার” হিসেবে দেখা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিষয়ে তার অবস্থানও বাবার মতোই কঠোর। তাই তার নেতৃত্বে আরও সংঘাতমুখী নীতি দেখা যেতে পারে, অন্তত যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত “ধারাবাহিকতার সংকেত” এবং একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এখন যে নেতা এসেছে তিনি আগের চেয়েও কঠোর।”

এরই মধ্যে ইসরায়েল আগেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার “দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না”।

তবে ইরানি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “ইরানের ভাগ্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়, ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার ঘন স্তর দেখা গেছে, কারণ ইসরায়েল রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে কমপক্ষে ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতেই গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত, এবং যুদ্ধ আরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:১৫:৫৯
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নতুন নেতাকে ইতিমধ্যে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আলামুলহোদা আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরির ওপর ন্যস্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থায়ী নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।

যদিও নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আলেমদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পরিষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে নির্বাচন করা হয়েছে যাকে ‘বড় শয়তান’ বা যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা করে। যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে আলেমদের পছন্দের তালিকায় মোজতবা খামেনিই শীর্ষস্থানে রয়েছেন। বুশেহরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই ইরানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

/আশিক


‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:২৫:৪০
‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি আজ রোববার মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের ভেতরে একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এখনো কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যা নিরসনের কাজ চলছে।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা বা ভোট দেওয়া পরিষদের সদস্যদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নূর নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি জানিয়েছেন যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া একটি বিশেষ পরামর্শ অনুসরণ করে ইতিমধ্যে একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ইরানের পরবর্তী শীর্ষ নেতা এমন একজন হওয়া উচিত যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’ এবং কখনো প্রশংসা করবে না।

বাছাই করা এই সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে আলেকাসি আরও বলেন যে, এমনকি খোদ ‘বড় শয়তান’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর নাম উল্লেখ করেছে। এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাঁর কাছে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বিরোধিতার পর ইরানি আলেমদের এই মন্তব্য মোজতবা খামেনিরই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব।

সূত্র: রয়টার্স


ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:১২:১১
ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাজাফাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক ভয়াবহ 'ডাবল-ট্যাপ' ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলাটি চালানো হয়েছে যাতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়। প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যখন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সাহায্য করতে এবং ধ্বংসস্তূপ সরাতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জড়ো হন, ঠিক তখনই সেখানে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

আল-জাজিরা ফার্স নিউজের বরাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে দ্বিতীয় হামলাটি মূলত উদ্ধারকাজে নিয়োজিত মানবিক সহায়তাকারীদের লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দুইবার হামলা চালানোর এই বিশেষ কৌশলটি 'ডাবল-ট্যাপ' নামে পরিচিত, যা উদ্ধার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক হামলায় নাজাফাবাদ এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হামলার ঘটনা উত্তেজনাকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের টার্গেট করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৫:২৮:৫৪
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তা গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই একমাত্র কার্যকর পথ।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থা এমন এক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে না যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতার জোরে অন্য দেশের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সংলাপভিত্তিক সমাধান।

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, তথাকথিত “রঙিন বিপ্লব” বা বাহ্যিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার ধারণা ইরানের জনগণের মধ্যে সমর্থন পায় না। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তিনি আরও বলেন, ইরানসহ প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

ওয়াং ই এই সংঘাতকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি এমন একটি সংঘর্ষ যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার ফলে কোনো পক্ষই প্রকৃত লাভবান হবে না। তার মতে, সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা ও অবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার মূলত সেই অঞ্চলের জনগণেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় দেশগুলোকেই নিজেদের আঞ্চলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে সামরিক পন্থায় দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।

ওয়াং ই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা এবং যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে আঞ্চলিক শান্তি পুনরুদ্ধার, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই ঘোষণা দেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন একটি বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতা জোরদার করা।

-রফিক

পাঠকের মতামত: