খুলল পিরামিডের জট! নির্মাণের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ২০:২১:৪৬
খুলল পিরামিডের জট! নির্মাণের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের গিজার মহাপিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা দীর্ঘকাল ধরে যে গোলকধাঁধায় আটকে ছিলেন, এবার তার এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, প্রাচীন মিশরীয়রা মহাপিরামিড নির্মাণে সম্ভবত পুলি এবং কাউন্টারওয়েট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল।

নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষক ডা. সাইমন আন্দ্রিয়াস স্কিউরিং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরের গঠন এবং পাথরের সূক্ষ্ম বিন্যাস বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, এটিই ছিল সেই যুগের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিশালাকার এই কাঠামোটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই মহাপিরামিডে প্রায় 2.3 মিলিয়ন বা ২৩ লাখ চুনাপাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্লকের ওজন প্রায় 2 টন এবং বড় ব্লকগুলোর ওজন 60 টনেরও বেশি।

গবেষকদের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো পিরামিড নির্মাণে যদি ২০ বছর সময় লেগে থাকে, তবে গড় হিসাবে প্রতি এক মিনিটে একটি করে ব্লক বসানো হয়েছে যা কায়িক শ্রমের সাধারণ পদ্ধতিতে প্রায় অসম্ভব।এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত তত্ত্বে বলা হতো যে, পিরামিডের বাইরে বিশাল ঢালু রাস্তা বা র‍্যাম্প ব্যবহার করে নিচ থেকে উপরের দিকে পাথর টেনে তোলা হতো।

তবে ডা. স্কিউরিং-এর নতুন গবেষণা বলছে, শুধু বাইরের র‍্যাম্প দিয়ে এত দ্রুত বিশালাকার পাথরগুলোকে উপরের স্তরে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব ছিল। পরিবর্তে, পিরামিডের ভেতরেই ঢালু পথ তৈরি করে কাউন্টারওয়েট চালিত পুলি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাথর তোলা হতো। এতে কম শক্তি প্রয়োগ করে অনেক বেশি নির্ভুলতার সাথে ভারী পাথরগুলোকে স্থাপন করা সম্ভব হতো। গবেষকরা মনে করছেন, পিরামিড মূলত ভেতর থেকে বাইরের দিকে স্তরে স্তরে তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন তত্ত্বের স্বপক্ষে তাঁরা পিরামিডের ভেতরের ‘গ্র্যান্ড গ্যালারি’ এবং ‘অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ’ বা উর্ধ্বমুখী পথগুলোকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তাঁদের মতে, এগুলো কেবল রাজকীয় পথ ছিল না, বরং এগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ঢালু পথ যেখানে ভারী স্লেজ ও কাউন্টারওয়েটগুলো উঠানামা করত। গ্র্যান্ড গ্যালারির দেয়ালে পাওয়া ঘর্ষণের চিহ্ন ও মসৃণতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেছেন যে, সেখানে মানুষের চলাচলের চেয়ে ভারী কোনো যান্ত্রিক যানবাহনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরে থাকা ‘অ্যান্টিচেম্বার’ বা ছোট গ্রানাইট কক্ষটি নিয়েও নতুন ধারণার অবতারণা করেছে। এতদিন ধারণা করা হতো যে, এই কক্ষটি ছিল কবর লুটকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা গ্রিল বসানোর জায়গা।

তবে নতুন এই প্রকৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, এর পেছনে সম্ভবত নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো বিশেষ যান্ত্রিক ভূমিকা ছিল। যদিও এই কক্ষটির সুনির্দিষ্ট যান্ত্রিক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি প্রদান করা হয়নি, তবে এটি যে পিরামিডের ‘লিফট’ মেকানিজমের অংশ ছিল—সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ৪ হাজার ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিস্ময়টি আজও মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আধুনিক বিজ্ঞানের এই নতুন তত্ত্ব কেবল প্রাচীন মিশরীয়দের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে না, বরং প্রমাণ করে যে সীমাবদ্ধ উপকরণের মাধ্যমেও গাণিতিক ও যান্ত্রিক উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।


অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:৪৫:২৬
অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে আড়াই দিনের এক অভাবনীয় কর্মযজ্ঞে মহাবিশ্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ কোটি ছবি বিশ্লেষণ করে এআই ১ হাজার ৩০০–এর বেশি বিরল মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত, যা এআই সম্পন্ন করেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টায়। সোমবার ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ সাময়িকীতে এই যুগান্তকারী গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক ডেভিড ও’রায়ান ও পাবলো গোমেজ এই অসাধ্য সাধনের জন্য ‘অ্যানোমালিম্যাচ’ নামে একটি বিশেষ নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি এই এআই ব্যবস্থাটি হাবল লেগেসি আর্কাইভে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়। হাবল টেলিস্কোপের গত সাড়ে তিন দশকের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক বা বিরল মহাজাগতিক বস্তু খোঁজার এটিই প্রথম কোনো বৃহৎ উদ্যোগ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই শনাক্ত করা বস্তুগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশেরই আগে কোনো বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স বা নথিপত্র নেই। অর্থাৎ এগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার। চিহ্নিত বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩৮টি সম্ভাব্য গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স, ৪১৭টি নতুন গ্যালাক্সি সংযুক্তির বিরল দৃশ্য, ১৮টি জেলিফিশ গ্যালাক্সি এবং দুটি সংঘর্ষজনিত রিং গ্যালাক্সি। এ ছাড়াও কিছু প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক বা নতুন গ্রহ তৈরির কক্ষপথ ধরা পড়েছে, যেগুলো দেখতে হ্যামবার্গার বা প্রজাপতির মতো অদ্ভুত আকৃতির।

গবেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ তথ্যের চাপ সামলাতে এআই এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জেমস ওয়েব বা তার চেয়েও শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলো যখন আরও জটিল ও বিপুল তথ্য পাঠাতে শুরু করবে, তখন এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অজানা মহাবিশ্ব উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রযুক্তির এই জয়গান নতুন এক গাণিতিক ও দৃশ্যমান বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:৪৫:২৬
অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে আড়াই দিনের এক অভাবনীয় কর্মযজ্ঞে মহাবিশ্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ কোটি ছবি বিশ্লেষণ করে এআই ১ হাজার ৩০০–এর বেশি বিরল মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত, যা এআই সম্পন্ন করেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টায়। সোমবার ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ সাময়িকীতে এই যুগান্তকারী গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক ডেভিড ও’রায়ান ও পাবলো গোমেজ এই অসাধ্য সাধনের জন্য ‘অ্যানোমালিম্যাচ’ নামে একটি বিশেষ নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি এই এআই ব্যবস্থাটি হাবল লেগেসি আর্কাইভে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়। হাবল টেলিস্কোপের গত সাড়ে তিন দশকের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক বা বিরল মহাজাগতিক বস্তু খোঁজার এটিই প্রথম কোনো বৃহৎ উদ্যোগ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই শনাক্ত করা বস্তুগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশেরই আগে কোনো বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স বা নথিপত্র নেই। অর্থাৎ এগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার। চিহ্নিত বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩৮টি সম্ভাব্য গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স, ৪১৭টি নতুন গ্যালাক্সি সংযুক্তির বিরল দৃশ্য, ১৮টি জেলিফিশ গ্যালাক্সি এবং দুটি সংঘর্ষজনিত রিং গ্যালাক্সি। এ ছাড়াও কিছু প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক বা নতুন গ্রহ তৈরির কক্ষপথ ধরা পড়েছে, যেগুলো দেখতে হ্যামবার্গার বা প্রজাপতির মতো অদ্ভুত আকৃতির।

গবেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ তথ্যের চাপ সামলাতে এআই এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জেমস ওয়েব বা তার চেয়েও শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলো যখন আরও জটিল ও বিপুল তথ্য পাঠাতে শুরু করবে, তখন এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অজানা মহাবিশ্ব উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রযুক্তির এই জয়গান নতুন এক গাণিতিক ও দৃশ্যমান বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৮:৫২:২১
বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
ছবি : সংগৃহীত

পুরোনো বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে যেকোনো সচল মোবাইল সেট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির আগে অবশ্যই সেটির নিবন্ধন বাতিল (ডি-রেজিস্ট্রেশন) করতে হবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নিবন্ধন বাতিলের আবশ্যকতা বিটিআরসি জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে। এই সিস্টেমের আওতায় সচল থাকা সব মোবাইল ফোন বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে আছে। এখন থেকে সিমকার্ড পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অথবা ফোনটি অন্য কারও ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কিংবা বিক্রয়ের আগে হ্যান্ডসেটটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে অবমুক্ত বা ডি-রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।

যেভাবে করতে হবে ডি-রেজিস্ট্রেশন মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিলের জন্য ব্যবহারকারীর বেশ কিছু তথ্যের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে সিম ক্রয়ের সময় ব্যবহৃত নথিপত্র হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত পদ্ধতি জানতে বিটিআরসির ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসির কল সেন্টার ১০০ নম্বরে ফোন করে অথবা মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও সহায়তা পাওয়া যাবে।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এবং মোবাইল ফোন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এনইআইআর সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। বিটিআরসি আশা করছে, এই সিস্টেমের মাধ্যমে সিমের সাথে নির্দিষ্ট হ্যান্ডসেট ট্যাগ করা থাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফোন হস্তান্তরের সময় সঠিক নিয়ম মেনে ডি-রেজিস্ট্রেশন না করলে পরবর্তীতে ওই ফোন দিয়ে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে মূল নিবন্ধিত ব্যক্তি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।


মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:৫৩:১১
মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ গবেষণায় এক বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) পরিকল্পিত পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করেছে নাসার ছয় চাকার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। এই সাফল্য দূর গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানে মানুষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও নিখুঁত ও দ্রুত গতিতে কাজ করার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

পরীক্ষামূলক অভিযান ও জেপিএলের ভূমিকা নাসার তথ্যমতে, গত ৮ ও ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেয়। সাধারণত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের ছবি বিশ্লেষণ করে রোভারের চলার পথ নির্ধারণ করে দেন। তবে এবারই প্রথম ‘জেনারেটিভ এআই’ ব্যবহার করে রোভারের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পথ তৈরি করা হয়েছে।

যেভাবে কাজ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই অভিযানে ‘ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ (VLM) নামক এক উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মানুষের মতোই ছবি ও ভাষা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এআই মডেলটি জেপিএলের তথ্যভাণ্ডার এবং মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতির ছবি বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ‘ওয়ে-পয়েন্ট’ (গন্তব্য বিন্দু) নির্ধারণ করে দেয়। মঙ্গলের ঢালু জমি, বিশালাকার পাথর কিংবা বালুর ঢেউয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিজে থেকেই শনাক্ত করে নিরাপদ রুট তৈরি করেছে এই প্রযুক্তি।

যোগাযোগের দূরত্ব ও ডিজিটাল টুইনের ব্যবহার মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে গড়ে ২২ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় বেতার তরঙ্গ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে পৃথিবী থেকে রোভারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই এআই-এর ওপর ভরসা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সরাসরি মঙ্গলে কমান্ড পাঠানোর আগে জেপিএলের ‘ডিজিটাল টুইন’ (মঙ্গলের কৃত্রিম পরিবেশ) সিমুলেশনে এআই-এর তৈরি পথটি কয়েক দফা যাচাই করে নেওয়া হয়।

সাফল্যের খতিয়ান নাসা নিশ্চিত করেছে যে, গত ৮ ডিসেম্বর এআই-এর দেখানো পথে রোভারটি ২১০ মিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে। এর ঠিক দুদিন পর ১০ ডিসেম্বর ২৪৬ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে রোভারটি এর সক্ষমতা প্রমাণ করে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, মহাকাশ গবেষণায় এআই এখন কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগে এটি মানুষের চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি আগামীতে মঙ্গল ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ বা উপগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে রোভারের গতি ও কাজের দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


মঙ্গলে ঝরত ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি: লাল গ্রহের আর্দ্র ইতিহাস ফাঁস করল নাসার রোভার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২১:৪৬:২৩
মঙ্গলে ঝরত ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি: লাল গ্রহের আর্দ্র ইতিহাস ফাঁস করল নাসার রোভার
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ে নাসা নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলের রুক্ষ ও ধু-ধু মরুভূমির নিচে এক সময় ছিল বিশাল জলাধার আর ঢেউয়ের গর্জন। নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স রোভার’ লাল গ্রহটির জেজেরো গহ্বরে (Jezero Crater) প্রাচীন এক সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্বাস করছেন যে, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলে কেবল পানিই ছিল না, বরং সেখানে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো এবং পরিবেশ ছিল আর্দ্র ও উষ্ণ। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ এই তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

গবেষকরা জেজেরো গহ্বরে সুবিন্যস্ত স্তরের বালুকাপাথর খুঁজে পেয়েছেন যার দানাগুলো ছিল গোলাকার। ভূতত্ত্বের ভাষায়, পানির ঢেউয়ের অবিরাম আঘাতে পাথরের কণা ঘর্ষণের ফলে এমন গোলাকার আকার ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জেজেরো গহ্বরটি একটি বিশাল হ্রদে পূর্ণ ছিল। সেই হ্রদের পানির ঢেউ পাড়ের আগ্নেয় শিলাকে ক্ষয় করে বালিতে পরিণত করেছিল, যা আজ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাথরে পরিণত হয়েছে। পারসিভিয়ারেন্স রোভারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি কোনো এক সময়ের একটি সক্রিয় সৈকত ছিল।

এই অভিযানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ওই এলাকায় ‘কার্বোনেট খনিজ’ ও ‘সাদা কাওলিনাইট কাদামাটির’ উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এ ধরণের খনিজ কেবল তখনই তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকে। পৃথিবীতে এ ধরণের খনিজ জৈব অণু বা জীবনের উপাদান ধরে রাখার জন্য পরিচিত। তাই জেজেরো গহ্বরটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে কেবল একটি গর্ত নয়, বরং প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার জন্য পৃথিবীর বাইরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। এটি এক সময় মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, সেই উত্তর খুঁজতে এখন রোভারটি আরও গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।


সূর্যের রহস্য ফাঁস! সোলার অরবিটারের চোখে ধরা পড়ল সৌর-বিস্ফোরণের গোপন উৎস

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১১:৫০:২৮
সূর্যের রহস্য ফাঁস! সোলার অরবিটারের চোখে ধরা পড়ল সৌর-বিস্ফোরণের গোপন উৎস
ছবি : সংগৃহীত

সূর্যের বুকে হঠাৎ যে প্রলয়ংকরী আলোর ঝলকানি ও শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, যাকে আমরা ‘সোলার ফ্লেয়ার’ বলে জানি, তার উৎস ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) সোলার অরবিটার মহাকাশযান এবার সরাসরি সেই ‘সেন্ট্রাল ইঞ্জিন’ বা মূল চালিকাশক্তির সন্ধান পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় (জানুয়ারি ২১, ২০২৬) বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, সূর্যের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো মূলত একটি ‘ম্যাগনেটিক অ্যাভালাঞ্চ’ বা চৌম্বকীয় ধসের ফলাফল। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সূর্যের অভ্যন্তরের অত্যন্ত জটিল ও প্যাঁচানো চৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলো প্রথমে ছোট ছোট অস্থিরতায় ভেঙে পড়ে। এই ক্ষুদ্র অস্থিরতাগুলো তুষারধসের মতোই দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে এক বিশাল চৌম্বকীয় ধস তৈরি করে, যা থেকে নির্গত হয় কোটি কোটি পারমাণবিক বোমার সমান শক্তি।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সূর্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে সোলার অরবিটার এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে। সে সময় মহাকাশযানটি সূর্য থেকে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করছিল এবং একটি মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী (M7.7-class) আলোকঝলক এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সোলার অরবিটারের বিশেষ ‘এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজার’ (EUI) ক্যামেরা প্রতি ২ সেকেন্ড অন্তর সূর্যের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধারণ করেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সূর্যের প্যাঁচানো চৌম্বকীয় রেখাগুলো ছিঁড়ে গিয়ে আবার অদ্ভুত এক প্রক্রিয়ায় একে অপরের সাথে জোড়া লাগছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’ বা চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া উজ্জ্বল রেখা তৈরি হয় এবং সূর্যের অতি উত্তপ্ত গ্যাস বা প্লাজমা কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছোট ছোট ঝলকানিগুলোই মূলত বড় বিস্ফোরণের পূর্বলক্ষণ। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ চার্জিত কণা ও অতি উত্তপ্ত গ্যাস মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে, যা অনেক সময় বিশাল প্লাজমা মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) হিসেবে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয়। এই প্লাজমা মেঘ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানলে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি করতে পারে।

২০২৬ সালের এই উত্তাল সৌর-চক্রের সময়ে এমন আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আগাম সতর্কবার্তা দিতে সাহায্য করবে। সূর্যের এই অদ্ভুত সুন্দর অথচ ভয়ংকর তান্ডব যেমন আকাশে উজ্জ্বল অরোরা বা মেরুপ্রভার সৃষ্টি করে, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জও বটে। সোলার অরবিটারের এই তথ্যগুলো সূর্যের ভবিষ্যৎ আচরণ বুঝতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।


কানের ভেতরেই হ্যাকারের আড়ি! তারবিহীন ডিভাইসে বড় সতর্কতা  

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১৭:৩৪:৪২
কানের ভেতরেই হ্যাকারের আড়ি! তারবিহীন ডিভাইসে বড় সতর্কতা  
ছবি : সংগৃহীত

তারবিহীন প্রযুক্তির জয়জয়কারের এই সময়ে আধুনিক প্রায় প্রতিটি অডিও ডিভাইসেই গুগলের ‘ফাস্ট পেয়ার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা ব্যবহারকারীকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে। তবে বেলজিয়ামের কেইউ ল্যুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি এই প্রযুক্তির গভীরে এমন এক নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন যা আধুনিক সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে হ্যাকাররা এই ত্রুটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়াই সরাসরি ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এটি কেবল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নয় বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সরাসরি নজরদারি করার এক ভয়ংকর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে ব্যস্ত থাকেন, তখন হ্যাকাররা সেই অডিও শুনতে পারে এমনকি মাইক্রোফোন ব্যবহার করে আশপাশের শব্দও ধারণ করতে সক্ষম হয়।

এই নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিধি অত্যন্ত বিশাল কারণ বর্তমান বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব ব্র্যান্ডই গুগলের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। গবেষকদের তালিকায় নাম উঠে এসেছে সনি, জাবরা, জেবিএল, মার্শাল, শাওমি, নাথিং, ওয়ানপ্লাস, সাউন্ডকোর এবং লজিটেকের মতো জনপ্রিয় সব ব্র্যান্ডের। এমনকি গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইসগুলোও এই ঝুঁকির বাইরে নেই। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে হ্যাকার যদি ব্যবহারকারীর থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যে অবস্থান করে তবেই সে এই হামলা চালাতে পারে। একবার নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে হ্যাকার ফোনকল ব্যাহত করতে পারে এবং ইচ্ছামতো অডিও চালাতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো যাদের ডিভাইসে গুগলের ‘ফাইন্ড হাব’ প্রযুক্তি যুক্ত আছে, হ্যাকাররা সেই সূত্র ধরে ব্যবহারকারীর বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে যা ব্যবহারকারীর শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হলো এই ঝুঁকি শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই কারণ মূল ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে সমস্যা না থাকলেও ফাস্ট পেয়ার প্রটোকলের ভুল বাস্তবায়নের কারণে আইফোন ব্যবহারকারীরাও এর আওতায় চলে আসতে পারেন। গুগল ইতিমধ্যে এই নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা ফাস্ট পেয়ার ও ফাইন্ড হাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস নির্মাতাদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইস ও অ্যান্ড্রয়েড ফাইন্ড হাবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে তারা দ্রুততম সময়ে তাদের স্মার্টফোন ও অডিও ডিভাইসের ফার্মওয়্যার আপডেট করে নেন এবং অপরিচিত কোনো সংযোগের অনুরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


আফ্রিকা কি তবে দুই টুকরো? মহাদেশের বুক চিরে জন্ম নিচ্ছে পৃথিবীর নতুন মহাসাগর

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১৯:৩৩:২১
আফ্রিকা কি তবে দুই টুকরো? মহাদেশের বুক চিরে জন্ম নিচ্ছে পৃথিবীর নতুন মহাসাগর
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকা মহাদেশের ভূ-প্রকৃতি এক ঐতিহাসিক ও বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানচিত্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, আফ্রিকা মহাদেশটি ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে এবং এই বিশাল ফাটল বরাবর ভবিষ্যতে একটি নতুন মহাসাগর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত ধীরগতিতে ঘটছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগবে, তবুও এটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। গবেষকদের মতে, পূর্ব আফ্রিকার এক বিশাল ফাটল এলাকা, যা ‘ইস্ট আফ্রিকান রিফট’ নামে পরিচিত, সেখানে এই বিচ্ছেদের খেলা চলছে। এখানে আফ্রিকার পূর্ব অংশের সোমালিয়ান প্লেটটি ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ড গঠনকারী নুবিয়ান প্লেট থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছেদের গতি বছরে মাত্র কয়েক মিলিমিটার, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা না পড়লেও পৃথিবীর ভূত্বকের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের মূলে রয়েছে আফ্রিকার উত্তরে নুবিয়ান ও সোমালিয়ান প্লেটের সাথে অ্যারাবিয়ান প্লেটের দূরত্ব। এই তিনটি প্লেট একে অপরের থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে সেখানে ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো একটি বিশালাকার ফাটল ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এই তিনটি প্লেট যেখানে মিলিত হয়েছে, সেই ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলকে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রিপল জাংশন’ বলে ডাকেন। ভূ-ত্বকীয় তিনটি বড় ফাটলের এমন মিলনস্থল বিশ্বে অত্যন্ত বিরল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ইস্ট আফ্রিকান রিফট অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে। লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মোজাম্বিক পর্যন্ত বিস্তৃত এই ফাটলটি প্রায় ২ হাজার ১৭০ মাইল দীর্ঘ। এর একটি শাখা ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার ভেতর দিয়ে চলে গেছে, আর অন্যটি উগান্ডা হয়ে মালাউই পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তার করেছে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক রোমাঞ্চকর তথ্য। আফার অঞ্চলে পৃথিবীর ভূত্বক ইতোমধ্যেই এতটাই পাতলা হয়ে গেছে যে, সেখানকার কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করছে। প্লেটগুলো যদি এভাবেই দূরে সরতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে ওই নিচু এলাকায় সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়বে এবং ধীরে ধীরে একটি নতুন মহাসাগরের রূপ নেবে। বিশেষ করে উত্তর অংশে প্লেটগুলোর সরে যাওয়ার গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে নতুন মহাসাগর তৈরির প্রক্রিয়াটি সবার আগে শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই মহাসাগর তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝপথে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূত্বকের এই ভাঙাগড়ার ফলে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। গবেষকদের দাবি, আফার অঞ্চলের নিচে পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা অতিরিক্ত তাপ ভূত্বককে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যার ফলে আফ্রিকার চিরচেনা ভৌগোলিক কাঠামো আজ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।


মহাকাশ থেকে নজরদারি: ইরানের খিয়াম উপগ্রহের বৈপ্লবিক সাফল্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ১২:৩২:৩৩
মহাকাশ থেকে নজরদারি: ইরানের খিয়াম উপগ্রহের বৈপ্লবিক সাফল্য
খিয়াম উপগ্রহ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় বন ও জমি দখলের তদারকি। ছবি: সংগৃহীত

তাসনিম সংবাদ সংস্থার স্পেস ও জ্যোতির্বিজ্ঞান টিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের খিয়াম উপগ্রহ বর্তমানে উচ্চ রেজোলিউশনের চিত্র এবং উন্নত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কেবল পরিবেশগত লঙ্ঘন শনাক্ত করতেই সাহায্য করছে না, বরং দেশের সুরক্ষিত সীমা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অত্যন্ত কার্যকরী উপায়ে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক ভূমিকা পালনকারী এই খিয়াম উপগ্রহ দেশের ভূখণ্ডে যেকোনো অবৈধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন শনাক্ত করার জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। মহাকাশে অবস্থানরত এই উপগ্রহের মিশন অপারেশন দল নিয়মিতভাবে উচ্চমানের চিত্র এবং উন্নত ‘ইমেজ প্রসেসিং অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করে সন্দেহজনক প্রতিটি পরিবর্তন ও সম্ভাব্য আইনগত লঙ্ঘনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।

খিয়াম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ ও উচ্চ নির্ভুলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই পর্যবেক্ষণ সিস্টেম বর্তমানে সংরক্ষিত এলাকা, বনাঞ্চল নিধন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংসের মতো গুরুতর বিষয়গুলো শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া অবৈধ রাস্তা নির্মাণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং জাতীয় সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের মতো কার্যক্রমগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করছে এই প্রযুক্তি। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত এই তথ্যগুলো জাতীয় কর্তৃপক্ষকে পরিবেশগত ক্ষতি রোধে এবং দেশের ভূখণ্ড সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের এক বিশেষ সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে বনাঞ্চল রক্ষা এবং খনিজ সম্পদের অবৈধ উত্তোলন বন্ধে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ইরানের স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিজাইন ও মিশন নিশ্চয়তা বিভাগের সহকারী নাদের মাকারী খিয়াম উপগ্রহের পরিবেশগত ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই উপগ্রহের ব্যবহার পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি বিশ্বের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের পথে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। খিয়াম উপগ্রহের ক্রমাগত এবং নির্ভুল পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা পরিবেশগত ক্ষতির প্রতিটি সম্ভাবনাকে আগেভাগেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি কেবল বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার কারিগরি ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সেই সঙ্গে ইরানের স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বর্তমানে আরও উন্নত ও আধুনিক অ্যালগরিদম তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নতুন প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো খিয়াম উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্রগুলো ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনের ধরন এবং সেই পরিবর্তনের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা। এই উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষায় নীতিনির্ধারকরা আরও সচেতন, বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে খিয়াম উপগ্রহ বর্তমানে দেশের ভূখণ্ড এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতাকে কয়েক গুণ শক্তিশালী করেছে, যা একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে ইরানের অগ্রগতির পথকে আরও দৃঢ় ও সংহত করছে।

সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি

পাঠকের মতামত: