সূর্যের রহস্য ফাঁস! সোলার অরবিটারের চোখে ধরা পড়ল সৌর-বিস্ফোরণের গোপন উৎস

সূর্যের বুকে হঠাৎ যে প্রলয়ংকরী আলোর ঝলকানি ও শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, যাকে আমরা ‘সোলার ফ্লেয়ার’ বলে জানি, তার উৎস ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) সোলার অরবিটার মহাকাশযান এবার সরাসরি সেই ‘সেন্ট্রাল ইঞ্জিন’ বা মূল চালিকাশক্তির সন্ধান পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় (জানুয়ারি ২১, ২০২৬) বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, সূর্যের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো মূলত একটি ‘ম্যাগনেটিক অ্যাভালাঞ্চ’ বা চৌম্বকীয় ধসের ফলাফল। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সূর্যের অভ্যন্তরের অত্যন্ত জটিল ও প্যাঁচানো চৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলো প্রথমে ছোট ছোট অস্থিরতায় ভেঙে পড়ে। এই ক্ষুদ্র অস্থিরতাগুলো তুষারধসের মতোই দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে এক বিশাল চৌম্বকীয় ধস তৈরি করে, যা থেকে নির্গত হয় কোটি কোটি পারমাণবিক বোমার সমান শক্তি।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সূর্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে সোলার অরবিটার এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে। সে সময় মহাকাশযানটি সূর্য থেকে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করছিল এবং একটি মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী (M7.7-class) আলোকঝলক এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সোলার অরবিটারের বিশেষ ‘এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজার’ (EUI) ক্যামেরা প্রতি ২ সেকেন্ড অন্তর সূর্যের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধারণ করেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সূর্যের প্যাঁচানো চৌম্বকীয় রেখাগুলো ছিঁড়ে গিয়ে আবার অদ্ভুত এক প্রক্রিয়ায় একে অপরের সাথে জোড়া লাগছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’ বা চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া উজ্জ্বল রেখা তৈরি হয় এবং সূর্যের অতি উত্তপ্ত গ্যাস বা প্লাজমা কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছোট ছোট ঝলকানিগুলোই মূলত বড় বিস্ফোরণের পূর্বলক্ষণ। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ চার্জিত কণা ও অতি উত্তপ্ত গ্যাস মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে, যা অনেক সময় বিশাল প্লাজমা মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) হিসেবে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয়। এই প্লাজমা মেঘ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানলে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি করতে পারে।
২০২৬ সালের এই উত্তাল সৌর-চক্রের সময়ে এমন আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আগাম সতর্কবার্তা দিতে সাহায্য করবে। সূর্যের এই অদ্ভুত সুন্দর অথচ ভয়ংকর তান্ডব যেমন আকাশে উজ্জ্বল অরোরা বা মেরুপ্রভার সৃষ্টি করে, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জও বটে। সোলার অরবিটারের এই তথ্যগুলো সূর্যের ভবিষ্যৎ আচরণ বুঝতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
মহাকাশ গবেষণায় এক বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) পরিকল্পিত পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করেছে নাসার ছয় চাকার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। এই সাফল্য দূর গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানে মানুষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও নিখুঁত ও দ্রুত গতিতে কাজ করার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
পরীক্ষামূলক অভিযান ও জেপিএলের ভূমিকা নাসার তথ্যমতে, গত ৮ ও ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেয়। সাধারণত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের ছবি বিশ্লেষণ করে রোভারের চলার পথ নির্ধারণ করে দেন। তবে এবারই প্রথম ‘জেনারেটিভ এআই’ ব্যবহার করে রোভারের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পথ তৈরি করা হয়েছে।
যেভাবে কাজ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই অভিযানে ‘ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ (VLM) নামক এক উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মানুষের মতোই ছবি ও ভাষা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এআই মডেলটি জেপিএলের তথ্যভাণ্ডার এবং মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতির ছবি বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ‘ওয়ে-পয়েন্ট’ (গন্তব্য বিন্দু) নির্ধারণ করে দেয়। মঙ্গলের ঢালু জমি, বিশালাকার পাথর কিংবা বালুর ঢেউয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিজে থেকেই শনাক্ত করে নিরাপদ রুট তৈরি করেছে এই প্রযুক্তি।
যোগাযোগের দূরত্ব ও ডিজিটাল টুইনের ব্যবহার মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে গড়ে ২২ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় বেতার তরঙ্গ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে পৃথিবী থেকে রোভারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই এআই-এর ওপর ভরসা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সরাসরি মঙ্গলে কমান্ড পাঠানোর আগে জেপিএলের ‘ডিজিটাল টুইন’ (মঙ্গলের কৃত্রিম পরিবেশ) সিমুলেশনে এআই-এর তৈরি পথটি কয়েক দফা যাচাই করে নেওয়া হয়।
সাফল্যের খতিয়ান নাসা নিশ্চিত করেছে যে, গত ৮ ডিসেম্বর এআই-এর দেখানো পথে রোভারটি ২১০ মিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে। এর ঠিক দুদিন পর ১০ ডিসেম্বর ২৪৬ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে রোভারটি এর সক্ষমতা প্রমাণ করে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, মহাকাশ গবেষণায় এআই এখন কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগে এটি মানুষের চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি আগামীতে মঙ্গল ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ বা উপগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে রোভারের গতি ও কাজের দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
মঙ্গলে ঝরত ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি: লাল গ্রহের আর্দ্র ইতিহাস ফাঁস করল নাসার রোভার
মহাকাশ বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ে নাসা নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলের রুক্ষ ও ধু-ধু মরুভূমির নিচে এক সময় ছিল বিশাল জলাধার আর ঢেউয়ের গর্জন। নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স রোভার’ লাল গ্রহটির জেজেরো গহ্বরে (Jezero Crater) প্রাচীন এক সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্বাস করছেন যে, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলে কেবল পানিই ছিল না, বরং সেখানে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো এবং পরিবেশ ছিল আর্দ্র ও উষ্ণ। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ এই তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
গবেষকরা জেজেরো গহ্বরে সুবিন্যস্ত স্তরের বালুকাপাথর খুঁজে পেয়েছেন যার দানাগুলো ছিল গোলাকার। ভূতত্ত্বের ভাষায়, পানির ঢেউয়ের অবিরাম আঘাতে পাথরের কণা ঘর্ষণের ফলে এমন গোলাকার আকার ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জেজেরো গহ্বরটি একটি বিশাল হ্রদে পূর্ণ ছিল। সেই হ্রদের পানির ঢেউ পাড়ের আগ্নেয় শিলাকে ক্ষয় করে বালিতে পরিণত করেছিল, যা আজ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাথরে পরিণত হয়েছে। পারসিভিয়ারেন্স রোভারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি কোনো এক সময়ের একটি সক্রিয় সৈকত ছিল।
এই অভিযানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ওই এলাকায় ‘কার্বোনেট খনিজ’ ও ‘সাদা কাওলিনাইট কাদামাটির’ উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এ ধরণের খনিজ কেবল তখনই তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকে। পৃথিবীতে এ ধরণের খনিজ জৈব অণু বা জীবনের উপাদান ধরে রাখার জন্য পরিচিত। তাই জেজেরো গহ্বরটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে কেবল একটি গর্ত নয়, বরং প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার জন্য পৃথিবীর বাইরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। এটি এক সময় মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, সেই উত্তর খুঁজতে এখন রোভারটি আরও গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
খুলল পিরামিডের জট! নির্মাণের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
মিশরের গিজার মহাপিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা দীর্ঘকাল ধরে যে গোলকধাঁধায় আটকে ছিলেন, এবার তার এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, প্রাচীন মিশরীয়রা মহাপিরামিড নির্মাণে সম্ভবত পুলি এবং কাউন্টারওয়েট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল।
নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষক ডা. সাইমন আন্দ্রিয়াস স্কিউরিং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরের গঠন এবং পাথরের সূক্ষ্ম বিন্যাস বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, এটিই ছিল সেই যুগের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিশালাকার এই কাঠামোটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই মহাপিরামিডে প্রায় 2.3 মিলিয়ন বা ২৩ লাখ চুনাপাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্লকের ওজন প্রায় 2 টন এবং বড় ব্লকগুলোর ওজন 60 টনেরও বেশি।
গবেষকদের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো পিরামিড নির্মাণে যদি ২০ বছর সময় লেগে থাকে, তবে গড় হিসাবে প্রতি এক মিনিটে একটি করে ব্লক বসানো হয়েছে যা কায়িক শ্রমের সাধারণ পদ্ধতিতে প্রায় অসম্ভব।এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত তত্ত্বে বলা হতো যে, পিরামিডের বাইরে বিশাল ঢালু রাস্তা বা র্যাম্প ব্যবহার করে নিচ থেকে উপরের দিকে পাথর টেনে তোলা হতো।
তবে ডা. স্কিউরিং-এর নতুন গবেষণা বলছে, শুধু বাইরের র্যাম্প দিয়ে এত দ্রুত বিশালাকার পাথরগুলোকে উপরের স্তরে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব ছিল। পরিবর্তে, পিরামিডের ভেতরেই ঢালু পথ তৈরি করে কাউন্টারওয়েট চালিত পুলি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাথর তোলা হতো। এতে কম শক্তি প্রয়োগ করে অনেক বেশি নির্ভুলতার সাথে ভারী পাথরগুলোকে স্থাপন করা সম্ভব হতো। গবেষকরা মনে করছেন, পিরামিড মূলত ভেতর থেকে বাইরের দিকে স্তরে স্তরে তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন তত্ত্বের স্বপক্ষে তাঁরা পিরামিডের ভেতরের ‘গ্র্যান্ড গ্যালারি’ এবং ‘অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ’ বা উর্ধ্বমুখী পথগুলোকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
তাঁদের মতে, এগুলো কেবল রাজকীয় পথ ছিল না, বরং এগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ঢালু পথ যেখানে ভারী স্লেজ ও কাউন্টারওয়েটগুলো উঠানামা করত। গ্র্যান্ড গ্যালারির দেয়ালে পাওয়া ঘর্ষণের চিহ্ন ও মসৃণতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেছেন যে, সেখানে মানুষের চলাচলের চেয়ে ভারী কোনো যান্ত্রিক যানবাহনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরে থাকা ‘অ্যান্টিচেম্বার’ বা ছোট গ্রানাইট কক্ষটি নিয়েও নতুন ধারণার অবতারণা করেছে। এতদিন ধারণা করা হতো যে, এই কক্ষটি ছিল কবর লুটকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা গ্রিল বসানোর জায়গা।
তবে নতুন এই প্রকৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, এর পেছনে সম্ভবত নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো বিশেষ যান্ত্রিক ভূমিকা ছিল। যদিও এই কক্ষটির সুনির্দিষ্ট যান্ত্রিক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি প্রদান করা হয়নি, তবে এটি যে পিরামিডের ‘লিফট’ মেকানিজমের অংশ ছিল—সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ৪ হাজার ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিস্ময়টি আজও মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আধুনিক বিজ্ঞানের এই নতুন তত্ত্ব কেবল প্রাচীন মিশরীয়দের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে না, বরং প্রমাণ করে যে সীমাবদ্ধ উপকরণের মাধ্যমেও গাণিতিক ও যান্ত্রিক উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
কানের ভেতরেই হ্যাকারের আড়ি! তারবিহীন ডিভাইসে বড় সতর্কতা
তারবিহীন প্রযুক্তির জয়জয়কারের এই সময়ে আধুনিক প্রায় প্রতিটি অডিও ডিভাইসেই গুগলের ‘ফাস্ট পেয়ার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা ব্যবহারকারীকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে। তবে বেলজিয়ামের কেইউ ল্যুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি এই প্রযুক্তির গভীরে এমন এক নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন যা আধুনিক সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে হ্যাকাররা এই ত্রুটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়াই সরাসরি ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এটি কেবল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নয় বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সরাসরি নজরদারি করার এক ভয়ংকর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে ব্যস্ত থাকেন, তখন হ্যাকাররা সেই অডিও শুনতে পারে এমনকি মাইক্রোফোন ব্যবহার করে আশপাশের শব্দও ধারণ করতে সক্ষম হয়।
এই নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিধি অত্যন্ত বিশাল কারণ বর্তমান বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব ব্র্যান্ডই গুগলের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। গবেষকদের তালিকায় নাম উঠে এসেছে সনি, জাবরা, জেবিএল, মার্শাল, শাওমি, নাথিং, ওয়ানপ্লাস, সাউন্ডকোর এবং লজিটেকের মতো জনপ্রিয় সব ব্র্যান্ডের। এমনকি গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইসগুলোও এই ঝুঁকির বাইরে নেই। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে হ্যাকার যদি ব্যবহারকারীর থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যে অবস্থান করে তবেই সে এই হামলা চালাতে পারে। একবার নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে হ্যাকার ফোনকল ব্যাহত করতে পারে এবং ইচ্ছামতো অডিও চালাতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো যাদের ডিভাইসে গুগলের ‘ফাইন্ড হাব’ প্রযুক্তি যুক্ত আছে, হ্যাকাররা সেই সূত্র ধরে ব্যবহারকারীর বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে যা ব্যবহারকারীর শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হলো এই ঝুঁকি শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই কারণ মূল ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে সমস্যা না থাকলেও ফাস্ট পেয়ার প্রটোকলের ভুল বাস্তবায়নের কারণে আইফোন ব্যবহারকারীরাও এর আওতায় চলে আসতে পারেন। গুগল ইতিমধ্যে এই নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা ফাস্ট পেয়ার ও ফাইন্ড হাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস নির্মাতাদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং গুগলের নিজস্ব অডিও ডিভাইস ও অ্যান্ড্রয়েড ফাইন্ড হাবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে তারা দ্রুততম সময়ে তাদের স্মার্টফোন ও অডিও ডিভাইসের ফার্মওয়্যার আপডেট করে নেন এবং অপরিচিত কোনো সংযোগের অনুরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আফ্রিকা কি তবে দুই টুকরো? মহাদেশের বুক চিরে জন্ম নিচ্ছে পৃথিবীর নতুন মহাসাগর
আফ্রিকা মহাদেশের ভূ-প্রকৃতি এক ঐতিহাসিক ও বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানচিত্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, আফ্রিকা মহাদেশটি ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে এবং এই বিশাল ফাটল বরাবর ভবিষ্যতে একটি নতুন মহাসাগর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত ধীরগতিতে ঘটছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগবে, তবুও এটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। গবেষকদের মতে, পূর্ব আফ্রিকার এক বিশাল ফাটল এলাকা, যা ‘ইস্ট আফ্রিকান রিফট’ নামে পরিচিত, সেখানে এই বিচ্ছেদের খেলা চলছে। এখানে আফ্রিকার পূর্ব অংশের সোমালিয়ান প্লেটটি ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ড গঠনকারী নুবিয়ান প্লেট থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছেদের গতি বছরে মাত্র কয়েক মিলিমিটার, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা না পড়লেও পৃথিবীর ভূত্বকের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের মূলে রয়েছে আফ্রিকার উত্তরে নুবিয়ান ও সোমালিয়ান প্লেটের সাথে অ্যারাবিয়ান প্লেটের দূরত্ব। এই তিনটি প্লেট একে অপরের থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে সেখানে ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো একটি বিশালাকার ফাটল ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এই তিনটি প্লেট যেখানে মিলিত হয়েছে, সেই ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলকে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রিপল জাংশন’ বলে ডাকেন। ভূ-ত্বকীয় তিনটি বড় ফাটলের এমন মিলনস্থল বিশ্বে অত্যন্ত বিরল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ইস্ট আফ্রিকান রিফট অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে। লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মোজাম্বিক পর্যন্ত বিস্তৃত এই ফাটলটি প্রায় ২ হাজার ১৭০ মাইল দীর্ঘ। এর একটি শাখা ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার ভেতর দিয়ে চলে গেছে, আর অন্যটি উগান্ডা হয়ে মালাউই পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তার করেছে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক রোমাঞ্চকর তথ্য। আফার অঞ্চলে পৃথিবীর ভূত্বক ইতোমধ্যেই এতটাই পাতলা হয়ে গেছে যে, সেখানকার কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করছে। প্লেটগুলো যদি এভাবেই দূরে সরতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে ওই নিচু এলাকায় সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়বে এবং ধীরে ধীরে একটি নতুন মহাসাগরের রূপ নেবে। বিশেষ করে উত্তর অংশে প্লেটগুলোর সরে যাওয়ার গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে নতুন মহাসাগর তৈরির প্রক্রিয়াটি সবার আগে শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই মহাসাগর তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝপথে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূত্বকের এই ভাঙাগড়ার ফলে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। গবেষকদের দাবি, আফার অঞ্চলের নিচে পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা অতিরিক্ত তাপ ভূত্বককে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যার ফলে আফ্রিকার চিরচেনা ভৌগোলিক কাঠামো আজ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
মহাকাশ থেকে নজরদারি: ইরানের খিয়াম উপগ্রহের বৈপ্লবিক সাফল্য
তাসনিম সংবাদ সংস্থার স্পেস ও জ্যোতির্বিজ্ঞান টিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের খিয়াম উপগ্রহ বর্তমানে উচ্চ রেজোলিউশনের চিত্র এবং উন্নত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কেবল পরিবেশগত লঙ্ঘন শনাক্ত করতেই সাহায্য করছে না, বরং দেশের সুরক্ষিত সীমা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অত্যন্ত কার্যকরী উপায়ে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক ভূমিকা পালনকারী এই খিয়াম উপগ্রহ দেশের ভূখণ্ডে যেকোনো অবৈধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন শনাক্ত করার জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। মহাকাশে অবস্থানরত এই উপগ্রহের মিশন অপারেশন দল নিয়মিতভাবে উচ্চমানের চিত্র এবং উন্নত ‘ইমেজ প্রসেসিং অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করে সন্দেহজনক প্রতিটি পরিবর্তন ও সম্ভাব্য আইনগত লঙ্ঘনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
খিয়াম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ ও উচ্চ নির্ভুলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই পর্যবেক্ষণ সিস্টেম বর্তমানে সংরক্ষিত এলাকা, বনাঞ্চল নিধন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংসের মতো গুরুতর বিষয়গুলো শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া অবৈধ রাস্তা নির্মাণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং জাতীয় সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের মতো কার্যক্রমগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করছে এই প্রযুক্তি। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত এই তথ্যগুলো জাতীয় কর্তৃপক্ষকে পরিবেশগত ক্ষতি রোধে এবং দেশের ভূখণ্ড সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের এক বিশেষ সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে বনাঞ্চল রক্ষা এবং খনিজ সম্পদের অবৈধ উত্তোলন বন্ধে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ইরানের স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিজাইন ও মিশন নিশ্চয়তা বিভাগের সহকারী নাদের মাকারী খিয়াম উপগ্রহের পরিবেশগত ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই উপগ্রহের ব্যবহার পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি বিশ্বের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের পথে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। খিয়াম উপগ্রহের ক্রমাগত এবং নির্ভুল পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা পরিবেশগত ক্ষতির প্রতিটি সম্ভাবনাকে আগেভাগেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি কেবল বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার কারিগরি ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সেই সঙ্গে ইরানের স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বর্তমানে আরও উন্নত ও আধুনিক অ্যালগরিদম তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নতুন প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো খিয়াম উপগ্রহ থেকে পাওয়া চিত্রগুলো ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনের ধরন এবং সেই পরিবর্তনের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা। এই উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষায় নীতিনির্ধারকরা আরও সচেতন, বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে খিয়াম উপগ্রহ বর্তমানে দেশের ভূখণ্ড এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতাকে কয়েক গুণ শক্তিশালী করেছে, যা একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে ইরানের অগ্রগতির পথকে আরও দৃঢ় ও সংহত করছে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ডাইনোসর রাজার দীর্ঘ যৌবন; টি-রেক্স কেন অজেয় ছিল তার নতুন রহস্য উন্মোচন
ডাইনোসর জগতের একচ্ছত্র অধিপতি এবং ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত টির্যাইনোসরাস-রেক্স বা টি-রেক্সের জীবনকাল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা বৈজ্ঞানিক ধারণা এক নতুন গবেষণার মুখে বদলে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, টি-রেক্সদের গড় আয়ু আগে যা ধারণা করা হতো, বাস্তবে তা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই আবিষ্কার ডাইনোসরদের শারীরিক গঠন ও তাদের রাজত্ব করার ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন রহস্য উন্মোচন করেছে।
গত কয়েক দশক ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে, টি-রেক্স ডাইনোসররা সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যানাটমির অধ্যাপক হলি উডওয়ার্ড এবং তাঁর গবেষক দল এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, টি-রেক্সদের গড় আয়ু ছিল ৩৫ থেকে ৪০ বছর। অর্থাৎ ডাইনোসরদের এই প্রজাতিটি তাদের আগের অনুমিত বয়সের চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীতে বিচরণ করত।
গাছের কাণ্ডের বলয় বিশ্লেষণ করে যেমন গাছের বয়স বের করা যায়, গবেষকরা টি-রেক্সের বয়স নির্ধারণেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। টি-রেক্সের পায়ের হাড়ের বলয়গুলো মূলত তাদের বয়সের ছাপ বহন করে। উডওয়ার্ডের দল মোট ১৭টি জীবাশ্মের হাড় আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষ ধরনের আলোর সাহায্যে বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, আগের প্রযুক্তি ও সাধারণ আলোতে এমন কিছু বলয় ধরা পড়েনি যা টি-রেক্সের প্রকৃত বয়স প্রকাশ করতে পারে। এই ‘অদৃশ্য’ বলয়গুলো শনাক্ত করার মাধ্যমেই জানা গেছে যে, টি-রেক্সরা দীর্ঘ জীবন পার করত এবং পূর্ণ বয়সে পৌঁছানোর সময় এদের ওজন প্রায় ৮ টনের কাছাকাছি হতো।
পিয়ারজে (PeerJ) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় টি-রেক্সের শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের আগের ধারণা ছিল যে, ২৫ বছর বয়সের পর টি-রেক্সদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যেত। তবে নতুন তথ্য বলছে, তাদের শারীরিক বিকাশ ছিল বেশ ধীরগতির। জীবনের দীর্ঘ একটি সময় তারা মাঝারি আকারের দেহ নিয়ে কাটাত এবং জীবনের শেষ ধাপে পৌঁছানোর আগে হঠাৎ খুব দ্রুত আকারে বড় হয়ে উঠত।
অধ্যাপক হলি উডওয়ার্ড বলেন, “ধীরে ধীরে বড় হওয়া টি-রেক্সদের জন্য বড় আশীর্বাদ ছিল। এর ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে শিকারি হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারত এবং বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন ধরণের প্রাণী শিকার করার সক্ষমতা অর্জন করত।” এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই টি-রেক্স তাদের সময়ের সবচেয়ে সফল ও শক্তিশালী মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল।
এই নতুন গবেষণাটি কয়েক মাস আগের একটি আলোচিত বৈজ্ঞানিক বিতর্ককে পুনরায় উস্কে দিয়েছে। ২০০৬ সালে মন্টানায় পাওয়া ‘ডুয়েলিং ডাইনোসর’-এর একটি জীবাশ্মকে এত দিন ২০ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু গত অক্টোবরে এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, সেটি টি-রেক্স নয় বরং ‘ন্যানোটাইর্যানাস’ নামের ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর। ওই দাবির মূল ভিত্তি ছিল যে ২০ বছর বয়সেই টি-রেক্স পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়।
তবে উডওয়ার্ডের বর্তমান গবেষণা বলছে, ২০ বছর বয়সেও টি-রেক্সের শারীরিক বিকাশ অসম্পূর্ণ থাকত। ফলে ওই বিতর্কিত জীবাশ্মটি আসলে টি-রেক্সের শিশু সংস্করণ কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণা কেবল টি-রেক্স নয়, সামগ্রিকভাবে ডাইনোসরদের জীবনচক্র, খাদ্যাভ্যাস এবং বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দিতে পারে।
এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
উদ্ভিদ তার পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটার মাধ্যমে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে—এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি বহু শতাব্দী ধরে স্বীকৃত হলেও সেই অতি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়াটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষকরা একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভিদের এই ‘ম্যাজিক’ প্রক্রিয়াটি এখন চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব হচ্ছে। ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ নামের এই যন্ত্রটি পাতার ওপর থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্রগুলোর কার্যপ্রণালি বিস্তারিতভাবে উন্মোচন করেছে, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা অনেক সময় উদ্ভিদের ‘মুখ’ হিসেবে অভিহিত করেন। স্টোমাটা মূলত আলোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং ট্রান্সপিরেশনের মাধ্যমে জলীয় বাষ্পের নির্গমন—এই দুইয়ের মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করে। নতুন এই প্রযুক্তিটি সেই জটিল ভারসাম্য রক্ষার দৃশ্যটিই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে ভিডিওর মাধ্যমে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে উচ্চ রেজুল্যুশনের কনফোকাল মাইক্রোস্কোপ, অত্যন্ত নির্ভুল গ্যাস-আদান-প্রদান পরিমাপক সেন্সর এবং ছবি বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত উন্নত মেশিন-লার্নিং সফটওয়্যারের এক আধুনিক সংমিশ্রণ। গবেষণার সময় পাতার একটি ছোট অংশকে হাতের তালু-আকারের একটি বিশেষ কম্প্যাক্ট চেম্বারের ভেতরে স্থাপন করা হয়। এই চেম্বারের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গবেষক দলের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ভিদ যখন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প নির্গত করে, তখন গ্যাসের চলাচল কতটা গতিশীল ও নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে আলো, তাপ ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের সাথে সাথে স্টোমাটার কোষীয় স্তরের সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়াগুলো এই প্রথমবার এত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু লিকি জানিয়েছেন যে, আলো থাকলে স্টোমাটা কেন খোলে এবং অন্ধকারের কেন বন্ধ হয়—সেই রহস্য এখন অনেক বেশি স্পষ্ট।
উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ এই সূক্ষ্ম কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাপ্ত নতুন জ্ঞান বিশ্বজুড়ে ফসলের জাত উন্নয়ন কৌশলে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন স্টোমাটার খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ভৌত ও রাসায়নিক সংকেতগুলো সম্পর্কে বিশদ ধারণা পেয়েছেন। এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান ব্যবহার করে এমন সব জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা ফসলের পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং পানির স্বল্পতা বা খরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে সক্ষম এমন ফসল উদ্ভাবন করা গেলে তা কেবল উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না বরং খরাপ্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন ইতোমধ্যে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তির পেটেন্ট গ্রহণ করেছে এবং বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘প্ল্যান্ট ফিজিওলজি’ জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। যদিও ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ প্রযুক্তিটি এখনও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়নি, তবে গবেষকদের প্রত্যাশা এটি শিগগিরই বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের জন্য উৎপাদন করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই কঠিন সময়ে উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা এবং পানি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন জ্ঞান ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষক দলটি এখন স্টোমাটার ঘনত্বের প্রভাব এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সীমাবদ্ধতায় উদ্ভিদের কোষীয় আচরণের পরিবর্তন নিয়ে আরও গভীরতর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী বা ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে শনিবার এক আবেগঘন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নাসা তাদের বিশালাকার নতুন চন্দ্র রকেটকে উৎক্ষেপণ প্যাডের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি কয়েক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। এই বিশাল রকেটের মাধ্যমে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, যা হবে গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো মানববাহী চন্দ্রাভিযান। শনিবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে ৩২২ ফুট বা ৯৮ মিটার লম্বা এই রকেটটির ধীরগতির যাত্রা শুরু হয়। প্রতি ঘণ্টায় মাত্র এক মাইল গতিতে অগ্রসর হওয়া এই দানবীয় যানটির চার মাইল দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মূল প্যাডে পৌঁছাতে প্রায় পুরো দিন লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রকেটটির এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যাত্রা সশরীরে প্রত্যক্ষ করতে ভোরের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার নাসা কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। জনাকীর্ণ সেই পরিবেশে এক বিশেষ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার সূচনা হয়, যেখানে সমবেত জনতাকে নেতৃত্ব দেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এবং এই ঐতিহাসিক মিশনের জন্য মনোনীত চার মহাকাশচারী।
সমগ্র যানটির ওজন প্রায় ৫০ লাখ কিলোগ্রাম, যা মূলত স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট এবং এর মাথায় থাকা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলের সমন্বয়ে গঠিত। রকেটটিকে একটি বিশাল ট্রান্সপোর্টারের ওপর চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ঐতিহাসিকভাবে অ্যাপোলো এবং শাটল যুগেও ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে এসএলএস রকেটের এই অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা তৈরি করতে ট্রান্সপোর্টারটিকে বিশেষভাবে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথমবার এসএলএস রকেটটি পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল, তবে সেবার কোনো মানুষ ছিল না। এবার ওরিয়ন ক্যাপসুলে রক্ত-মাংসের মানুষ থাকবে বলেই এই মিশন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে। নাসার কর্মকর্তা জন হানিকাট এই বিষয়ে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন যে, এবার রকেটে মানুষকে বসিয়ে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যদিও এই যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না; এর আগে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা বর্মে কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সেসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে, যার কারণে এই মিশনটি নির্ধারিত সময় থেকে কয়েক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল।
এবারের ১০ দিনের এই বিশেষ মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না এবং এর কক্ষপথেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন না; বরং তারা চাঁদকে একবার চক্কর দিয়ে সরাসরি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ বা বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এর পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে, যা আরও কয়েক বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই যুগান্তকারী অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কচ, যাদের প্রত্যেকেরই আগে মহাকাশে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের সাথে যোগ দিচ্ছেন কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন, যিনি একজন সাবেক ফাইটার পাইলট হিসেবে এবারই প্রথম রকেট যাত্রার রোমাঞ্চ নিতে যাচ্ছেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে পাড়ি জমাতে চলেছেন, যা বিশ্ববাসীর জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। নাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণ প্যাডে রকেটটির চূড়ান্ত জ্বালানি পরীক্ষা করা হবে এবং সেই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই মহাকাশচারীরা যাত্রা শুরু করতে পারেন, তবে আবহাওয়া বা কারিগরি কারণে দেরি হলে মিশনটি মার্চ মাসে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নাসার কর্মীদের মতে, এই রকেটটি কেবল একটি যান্ত্রিক কাঠামো নয় বরং এটি পৃথিবীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সাধনার প্রতীক, যা আবারও মানুষকে রহস্যময় চাঁদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এপি
পাঠকের মতামত:
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- দেশে ফের ভূমিকম্প, কেঁপে ওঠে কয়েকটি জেলা
- শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
- আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
- মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
- নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
- সদরপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
- নির্বাচনী উত্তাপে ‘কুমিল্লা বিভাগ’; নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কি এবার খুলবে?
- লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
- সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা
- সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
- গৃহকর্মী শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা! বিমানের এমডি শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার
- কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
- যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা
- ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
- নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
- ২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে জরুরি নির্দেশনা
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
- জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল
- কীভাবে ইস্তেগফার করবেন, জানুন ফজিলতসহ সহজ নিয়ম
- বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ
- খুলনায় বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- মায়ের বুকে ফেরার শেষ চেষ্টা: কবরের ভেতরেই আশ্রয় নিল ছোট্ট শিশু
- ৯ আসনে নেই ধানের শীষ: সমঝোতা ও আইনি মারপ্যাঁচে ব্যালট থেকে উধাও বিএনপির প্রতীক
- পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমান: জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া সমাধান
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- হাজিদের অধিকার রক্ষায় কঠোর সৌদি আরব: ওমরাহ এজেন্সির চুক্তি স্থগিত নিয়ে তোলপাড়
- দুধ দিয়ে গোসল করে ধানের শীষ হাতে নিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী
- পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ
- আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জামায়াত আমির; এক দিনে ৫ জনসভায় ভাষণ
- শিল্পাঞ্চল থেকে উপশহর: আজ খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের বিশেষ মিশন
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- মেধাবীদের হাত ধরেই গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ: সিলেটে ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে সংবর্ধনা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা








