পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো

বর্তমান সময়ে কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করার অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আকার ছোট থাকলে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, যা রোগীকে অনেকটা নিশ্চিন্ত রাখে। তবে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করে যখন পাথরটি কিডনি থেকে সরে মূত্রনালিতে চলে আসে। এই অবস্থায় শরীরে অসহ্য ব্যথা ও নানা ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয় যা দ্রুত চিকিৎসার দাবি রাখে। সাধারণত কিডনি স্টোনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথার উৎস কোমর হলেও তা দ্রুত কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথার মাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করতে থাকে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যথার পাশাপাশি প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধে পরিবর্তন আসা কিডনি স্টোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সংকেত। যদি প্রস্রাবের রঙ লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ থাকাও একটি বিপদ সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়। পাথর যখন মূত্রনালির কাছাকাছি চলে আসে, তখন রোগীর মধ্যে বারবার প্রস্রাবের চাপ বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অনেক সময় প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথার সৃষ্টি হয় যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসইউরিয়া বলা হয়ে থাকে। কিডনি ও পাকস্থলির স্নায়ুর মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকায় কিডনিতে পাথরের চাপ সৃষ্টি হলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা সরাসরি বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি মূলত ব্যথার প্রতি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
যদি ব্যথার সঙ্গে রোগীর জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে ধরে নিতে হবে যে কিডনিতে সংক্রমণ বা ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক, কারণ এটি প্রস্রাব পরিষ্কার রাখে এবং খনিজ উপাদানগুলোকে পাথর হিসেবে জমতে বাধা দেয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ এবং অক্সালেটজাত খাবার যেমন পালং শাক, বিট ও চকোলেট অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর রস অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, যদি ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে সোজা হয়ে বসা সম্ভব হচ্ছে না, কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে স্পষ্ট রক্ত দেখা দেয় অথবা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে খুব সহজেই কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা ও এর পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব সাফল্যের দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন এক ধরনের ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ কিছু রোগীর শরীরে থাকা টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ‘অ্যামিভ্যানটাম্যাব’ (amivantamab) নামের এই নতুন ওষুধটি মূলত একটি ট্রিপল-অ্যাকশন ক্যান্সার থেরাপি হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে।
বিশ্বের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মেগা ট্রায়ালে এমন সব জটিল রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের ক্যান্সার ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল (মেটাস্ট্যাসিস) অথবা যারা প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসায় কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছিলেন না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ইনজেকশনটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে (Head and Neck Cancer) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এমন ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনেরই টিউমার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত বা ভ্যানিশ হয়ে গেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল ক্যান্সার থেরাপির খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ কেভিন হ্যারিংটন এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী বা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে, তাদের শরীরে এমন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই স্মার্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আগামী দিনে প্রতিবছর বিশ্বের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মেডিকেল সায়েন্সের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
গবেষকদের মতে, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer) রোগীদের ক্ষেত্রেও। বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি জে অ্যান্ড জে (জনসন অ্যান্ড জনসন) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ওষুধটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ফুসফুস ছাড়াও কোলন, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই স্মার্ট ইনজেকশনটি মূলত মানবদেহে ক্যান্সারকে তিনটি ভিন্ন উপায়ে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে: প্রথমত, এটি ‘ইজিএফআর’ (EGFR) নামক প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়; দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ (MET) নামক সেই কোষীয় পথকে বন্ধ করে দেয় যা ক্যান্সার কোষকে চিকিৎসা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে; এবং তৃতীয়ত, এটি রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্ররোচিত করে।
এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ নামের একজন ব্রিটিশ রোগী নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পূর্বের সব কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি চরম হতাশায় এই ট্রায়ালে যুক্ত হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অলৌকিক উন্নতি ঘটে। চিকিৎসা শুরুর মাত্র কয়েকটি সাইকেলের পরই তিনি স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে পারেন এবং তার অসহ্য শারীরিক ব্যথা সম্পূর্ণ কমে যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ইনজেকশনটি সাধারণত রোগীর ত্বকের নিচে (Subcutaneous) ছোট আকারে দেওয়া হয়, যা হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে প্রচলিত ইনট্রাভেনাস ড্রিপ বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়ার তুলনায় অনেক দ্রুত, সহজ এবং আরামদায়ক। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধের অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যার কারণে খুব কম রোগীকেই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ট্রায়ালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-নেতিবাচক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার রোগীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের চিকিৎসা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত সবচেয়ে বেশি কঠিন ও জটিল বলে গণ্য হয়। এই ইনজেকশন বা চিকিৎসা শুরু করার পর অত্যন্ত অগ্রসর (Advanced Stage) পর্যায়ে থাকা রোগীদেরও গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫ মাস।
ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একদম সীমিত বিকল্প থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর নতুন চিকিৎসা নিয়ে আসা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসাধারণ ফলাফল বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যদিও ওষুধটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বাণিজ্যিকভাবে আসার আগে আরও কিছু বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৫ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে।
প্রতিবেদনে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
যে রোগ হলে খেতে ইচ্ছা করে মাটি, চক, চুল। জানুন চিকিৎসা
মানুষ সাধারণত খাবার হিসেবে যেসব জিনিস গ্রহণ করে, সেগুলো শরীরের পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি ব্যাধি রয়েছে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মাটি, চক, কাগজ, চুল, বরফ, সাবান বা বালির মতো অখাদ্য ও পুষ্টিহীন জিনিস খেতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক খাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় “পিকা”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকা একটি মানসিক ও খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি বা ইটিং ডিসঅর্ডার। এটি শুধু অদ্ভুত আচরণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা স্নায়ুবিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন জিনিস খেতে চান, যা সাধারণ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত নয় এবং যেগুলোর কোনো পুষ্টিগুণও নেই। এই প্রবণতা একদিন বা দুইদিনের নয়; বরং সাধারণত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।
পিকা রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিকাশজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে আয়রন, জিঙ্ক বা অন্যান্য খনিজ উপাদানের ঘাটতি পিকার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, শৈশবের মানসিক আঘাত বা আচরণগত সমস্যার কারণেও এই ব্যাধি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অখাদ্য জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কেউ মাটি খান, কেউ কাগজ বা চক চিবান, আবার কেউ বরফ, সাবান বা চুল খাওয়ার প্রবণতায় ভোগেন। এই অভ্যাস অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পিকা রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এর শারীরিক জটিলতা। অখাদ্য বস্তু খাওয়ার ফলে পেটে সংক্রমণ, অন্ত্রে বাধা, পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতি, দাঁতের সমস্যা এবং বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীসাযুক্ত বস্তু খেলে লেড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিকিৎসাবিদরা এটিও মনে করিয়ে দেন যে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মাটি বা অন্য কিছু মুখে দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে বিশেষ ধরনের মাটি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তা সবসময় পিকা হিসেবে ধরা হয় না।
পিকা রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরীক্ষা মূল্যায়ন করেন। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি আছে কি না তা দেখা হয়।
এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো একক ওষুধ নেই। চিকিৎসকদের মতে, পিকার পেছনের মূল কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর মানসিক বা আচরণগত সমস্যা থাকলে কাউন্সেলিং ও থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে পিকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে অখাদ্য কিছু খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
করোনার চেয়েও ভয়ংকর? রহস্যময় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সতর্কতা
করোনার ক্ষত শুকোতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই রহস্যময় ভাইরাসটি সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত রূপ বদলাতে সক্ষম। আগে গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বড় ধরনের মহামারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকা ও জার্মানির গবেষকরা দেখেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল আরএনএ (RNA) ভাইরাস, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে থাকা ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ এই ভাইরাসের বিস্তারকে আরও মারাত্মক করে তোলে। এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে কোষের মৃত্যু ঘটায়, ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।
প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও এটি শরীরের ভেতরে অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। যদিও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে এর বিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একে সাধারণ ফ্লু হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং কার্যকর প্রতিষেধক তৈরিতে এখন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।
/আশিক
হামে মৃত্যুর মিছিলে শিশুদের সংখ্যাই বেশি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রকোপ। গত ৫৬ দিনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, আর প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ মে সকাল ৮টা থেকে ১১ মে সকাল ৮টা) হাম সন্দেহে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। গত এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জনে। এই ৫৬ দিনে মোট ৩৫০ জন মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।
হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (৬,৫৫৫ জন) এবং তৃতীয় স্থানে রাজশাহী (৪,৩৭৩ জন)। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে আক্রান্ত (৪১৮ জন) ও মৃত্যু (৪ জন) উভয়ই সবচেয়ে কম।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৯৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানেও কয়েক হাজার রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
/আশিক
নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমান সময়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিডনিকে বলা হয় শরীরের 'ছাঁকনি', যার প্রধান কাজ রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণ করা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি বিকল হতে শুরু করলেও অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। ফলে রোগটি যখন শনাক্ত হয়, তখন তা অনেকটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
কিডনি সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ
কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে পারে না, যার ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে চোখ, পা কিংবা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান সংকেত। এছাড়া প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া (প্রোটিন ক্ষরণ), রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়া সতর্কবার্তার লক্ষণ। ক্ষুধার অভাব, বমি ভাব এবং ত্বকে হঠাৎ চুলকানি বা খসখসে ভাব দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যথার অবস্থান ও ধরন
কিডনির ব্যথা এবং সাধারণ কোমর ব্যথার মধ্যে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা মূলত পিঠের নিচের দিকে পাঁজরের ঠিক নিচে অনুভূত হয়। পাথর থাকলে এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে কুঁচকি বা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয়ে তীব্রতর রূপ নেয়।
প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া কিংবা রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া কিডনি বিকলের ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা লালচে আভা বা রক্ত দেখা দিলে তা মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
যদি কোমর বা পাঁজরের ব্যথা এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, তবে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ কম খাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
/আশিক
অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি! গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য
২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক ভীতিকর চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও ভয়াবহ, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গবেষণায় নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। যেমন, অবিবাহিত পুরুষদের মলদ্বারের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, বৈবাহিক জীবন মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের শৃঙ্খলা আনে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং একে অপরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ফলে বিবাহিতরা পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হন।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলকে সতর্কতার সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিয়ে করলেই যে ক্যানসার হবে না—বিষয়টি তেমন নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক ও আচরণগত নির্দেশক মাত্র।
যারা অবিবাহিত রয়েছেন, গবেষকরা তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা তাঁদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
কিডনিতে পাথর কেন হয়? প্রাণঘাতী এই ব্যথা থেকে বাঁচার ৫টি অব্যর্থ উপায়
কিডনি বা মূত্রনালির পাথর হওয়া আধুনিক জীবনযাত্রায় একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের ভেতর জমে থাকা খনিজ ও লবণের এই শক্ত কণাকেই আমরা পাথর বলে থাকি।
হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা রক্ত—শরীরের এই নীরব সংকেতগুলো হতে পারে কিডনি বা মূত্রনালির পাথরের লক্ষণ। সময়মতো সচেতন না হলে এই ক্ষুদ্র স্ফটিকই হয়ে উঠতে পারে অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ। কেন তৈরি হয় এই পাথর আর কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? দেখে নিন একনজরে
প্রস্রাবে থাকা খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ যখন ঠিকমতো শরীর থেকে বের হতে পারে না, তখন সেগুলো জমাট বেঁধে স্ফটিক বা পাথরে পরিণত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধার সুযোগ পায়।
অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস (Red Meat) এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) বেশি খেলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পাথর তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম না করাও একটি কারণ।
পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। কিন্তু বড় হলে কোমরের এক পাশে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে বমিভাব বা জ্বরও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা এই রোগ প্রতিরোধের সবথেকে বড় অস্ত্র। পাশাপাশি খাবারে বাড়তি লবণের ব্যবহার কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর শরবত বা সাইট্রাস জাতীয় ফল রাখা অত্যন্ত কার্যকর।
শরীরের নীরব সংকেতগুলো অবহেলা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে আপনাকে বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে।
/আশিক
হৃদরোগ আসার আগেই শরীর দেয় সংকেত: জেনে নিন রক্তনালির গোপন সংক্রামক
আপনার হার্টের রোগ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না, তবে শরীর নিঃশব্দে এক বিশেষ সংকেত পাঠাতে থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, হৃদরোগ হানা দেওয়ার অনেক আগেই রক্তনালির ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল আস্তরণ বা ‘এন্ডোথেলিয়াম’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একেই বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। এটি কোনো সরাসরি রোগ নয়, বরং ধমনিতে চর্বি জমা বা ব্লকেজ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়।
রক্তনালির সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায় যেভাবে
শরীরের প্রতিটি রক্তনালির ভেতরে এন্ডোথেলিয়াম নামক একটি আস্তরণ থাকে, যার কাজ হলো রক্তনালিকে নমনীয় রাখা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করা। এই স্তরটি শরীরকে প্রয়োজনীয় ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ সরবরাহ করে। কিন্তু ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যায় এবং রক্তনালিগুলো শক্ত ও সরু হতে শুরু করে।
কেন এটি বিপজ্জনক?
এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নষ্ট হয়ে গেলে রক্তনালির ভেতরে প্রদাহ শুরু হয় এবং এর নিচে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ‘প্লাক’ তৈরি করে। এই প্লাকই মূলত ধমনিতে ব্লকেজ সৃষ্টি করে, যা থেকে পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক ঘটে। গবেষকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ শর্করা এবং ধূমপায়ীদের নিকোটিন এই স্তরটিকে সবচেয়ে দ্রুত ধ্বংস করে।
বাঁচার উপায় কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন এবং রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে রক্তনালির এই আস্তরণকে সুস্থ রাখা যায়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
- জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
- পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর
- ঈদের আমেজ কাটতেই ‘কারেন্ট’ শক: আজই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
- কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা
- তারল্য সংকটে আমানতকারীদের হাহাকার: খেলাপি ঋণের করাল গ্রাসে দেশের ৬১ ব্যাংক
- দেখে নিন ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে
- জেনে নিন আজকের ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- বুধবার ঢাকার কোন শপিংমল বন্ধ? দেখুন তালিকা
- বৃদ্ধ মায়ের অবহেলা, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ
- ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- আত্মসমর্পণই হজ: জীবনের বড় শিক্ষা পেলেন দুরেফিশান
- বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন: ব্যবসায়ীদের ৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই
- ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
- কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীবকে বিদায় সংবর্ধনা
- ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
- ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
- বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
- মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
- জুলাই থেকেই ভাগ্যবদল: নবম পে স্কেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব সুযোগ-সুবিধা
- এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল সরকার
- ২ জুন: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
- আজ মঙ্গলবার ডলার ও ইউরোর দাম কত? জেনে নিন আজকের টাকার রেট
- মূল একাদশের চেয়ে কি ব্রাজিলের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি শক্তিশালী?
- বন্ধুত্বে ফাটল! নেতানিয়াহুকে বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ বলে ট্রাম্পের তোপ
- ৫৪ বছরে প্রথম: মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা
- চট্টগ্রাম হালিশহরের বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে লড়ছে ফায়ার সার্ভিস
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রুপার বাজারও আজ আকাশচুম্বী: চার মানের রুপার সর্বশেষ রেট এক নজরে
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার শপিংমল ও কাঁচাবাজার বন্ধ থাকবে
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি
- ২ জুন ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ফল ভোগ করবে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী: ইরান
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
- মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু
- মধ্যরাতের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান
- কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
- বৃদ্ধ মায়ের অবহেলা, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?








