জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব ধরণের আইনি জটিলতা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি আইন’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হওয়া রাজনৈতিক প্রতিরোধের ঘটনায় যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে সরকার সেই মামলাগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা গ্রহণ করা হবে না এবং যারা রাজপথে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন, তাদের কোনোভাবেই হয়রানি করার সুযোগ রাখা হবে না। এই দায়মুক্তি আইন মূলত সেই সব বিপ্লবীদের জন্য একটি আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করবে যারা জাতীয় সংকটের সময় বুক পেতে দিয়েছিলেন।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান যে, সরকার কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে যে দেশের কোথাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না। যদি এ ধরণের কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়, তবে সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল করার উদ্যোগ নেবে। আসিফ নজরুলের মতে, যারা দেশের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এনেছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ছাত্র-জনতার মাঝে বড় ধরণের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা চেতনা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
দরিদ্র পরিবারে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব
দেশের দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কাঠামোগত সুপারিশ তুলে ধরেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা খাবার, প্রতিটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড এবং যুবকদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ব্যবহারের উপযোগী ক্রেডিট কার্ড চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: আগামী সরকারের জন্য নাগরিক সুপারিশ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন Toufiqul Islam Khan, যিনি Centre for Policy Dialogue (সিপিডি)–এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা)। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ন্যূনতম আয়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক গ্যারান্টিযুক্ত আয় ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। চার সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম চাহিদার ২৫ শতাংশ আয় হিসেবে পরিবারপ্রতি মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সহায়তা সবাইকে না দিয়ে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে খানা জরিপের ভিত্তিতে অতি দারিদ্র্যপীড়িত ১১টি জেলার ২৮ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী ধাপে দারিদ্র্যপীড়িত ৩৬টি জেলার প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এবং সর্বশেষ পর্যায়ে সারাদেশের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে উপকারভোগী সঠিকভাবে চিহ্নিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ৩৬টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক এই সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে দেশে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় প্রায় ১৪০টি কর্মসূচি চালু রয়েছে। সেগুলোর ব্যয় কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং পর্যায়ক্রমে কিছু কর্মসূচি একীভূত বা বাতিল করে নতুন এই ব্যবস্থাটি চালু করা সম্ভব বলে মত দেন বক্তারা।
সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা খাবার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি স্কুলের শিশুদের নিয়মিত এক বেলা খাবার দিতে প্রায় ৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
যুব সমাজকে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে ফেরতযোগ্য ক্রেডিট কার্ড চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, যা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মসংস্থানের কাজে ব্যবহার করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ল্যাপটপ কেনার কথা উল্লেখ করা হয়। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা মূল্যমানের স্বাস্থ্য কার্ড চালুর প্রস্তাব করা হয়। এই কার্ড সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ওষুধ কেনা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহার করা যাবে। প্রাথমিকভাবে বর্তমানে ৬১ লাখ বয়স্কভাতা প্রাপকের পরিবারকে দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক নীতিপথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
-রাফসান
ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ, কী আলোচনা হতে যাচ্ছে
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্রের তথ্যমতে, আজ বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থিত প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রশ্নে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা নির্বাচনের রোডম্যাপ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিতব্য এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলাফল দেশের সামনের দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
-রফিক
ভোটার তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়, ইসির কর্মী গ্রেফতার
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন ও নাগরিকদের গোপন তথ্য অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশন–এর কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ হিসেবে এনআইডি সংশোধনের নামে ভুয়া তথ্য সংযোজন, তথ্য বিকৃতি এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডেটা অবৈধভাবে বিভিন্ন মহলে সরবরাহ করে আসছিলেন।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি রাষ্ট্রীয় এনআইডি ডাটাবেজে অনুপ্রবেশ করে তথ্য পরিবর্তন ও বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। অবৈধ এই কার্যক্রম থেকে তাদের মাসিক আয় এক কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে বা বাইরে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, এই অপরাধ শুধু আর্থিক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের ভোটার ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, গ্রেফতারের পদ্ধতি, চক্রের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি তথ্য জালিয়াতি ও অবৈধ বিক্রির মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় ডাটাবেজের নিরাপত্তা জোরদারে আরও প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
-শরিফুল
নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ
আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে প্রচার জোরদার ও ভোটারদের সচেতন করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসবে। নগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম–এ আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য দেন গণভোটে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ।
আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোটে জনগণ সমর্থন দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা, সংসদের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব একত্রে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই অতিমাত্রার ক্ষমতা সংবিধানের ভেতর থেকেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পথ প্রশস্ত করেছে।
ক্ষমতার এমন একক কেন্দ্রীকরণের ফলেই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবিধানিক কমিশনগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
গণভোটের প্রতীক ও ভোটদানের পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নে সিল দিয়ে নাগরিকরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই একটি ভয়াবহ দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সংবিধানের গুরুতর ত্রুটিগুলোর কারণেই রাষ্ট্র ও জনগণ বারবার সেই শাসনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করার জন্য সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, দেশে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার সংকট ও মর্যাদাহানির মুখে পড়েছে। গণভোটের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণের বিকল্প নেই।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা একযোগে বলেন, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
-রফিক
অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন যে, নির্বাচনের সময় অনেক সময় এমন কিছু মানুষ দেশে আসার চেষ্টা করেন যারা কাম্য নয় এবং তাদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। মূলত এই বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করে বিদেশিদের বাংলাদেশে আসার পথ খোলা রয়েছে; কেবল তাৎক্ষণিক ভিসা প্রদানের বিষয়টিই এখন স্থগিত থাকবে।
একই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহরাইনে একটি বাসায় বসে পোস্টাল ব্যালট গণনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এই ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টার কাছে দীর্ঘ সময় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন একটি অত্যন্ত নীতিগত ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি কঠোর শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই প্রতিকূল পরিবেশে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। প্রথমত, বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই সেখানে যুদ্ধ করতে বা লড়াইয়ে অংশ নিতে যাবে না। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন একটি শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে যাদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক না হলে বাংলাদেশ গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাত ও সেখানে জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের ফলে উদ্ভূত উত্তজনা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বর্তমান কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন যে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে সীমান্তের বর্তমান অবস্থার সুনির্দিষ্ট ও মুহূর্তের তথ্য এই মুহূর্তে তার কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা জানান যে, এই বিষয়টি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নিবিড়ভাবে তদারকি করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মাঠ পর্যায়ের সবশেষ বিস্তারিত তথ্যগুলো তিনি দেশে ফেরার পর আরও সঠিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। সরকার সীমান্ত পরিস্থিতি সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিরলে এ বিষয়ে আরও বড় পদক্ষেপ বা তথ্য জানা যাবে।
গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
নতুন করে দেশ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেমন বাংলাদেশ হস্তান্তর করা হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, “তরুণরা যদি একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেতে চায়, তবে তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়। এটি শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা একটি পবিত্র অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, “এই সনদের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে জনগণের রায় অত্যন্ত জরুরি। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”
গণভোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লড়াই নয়। বরং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের লড়াই। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি এই সংস্কারে সম্মতি দেয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা যেভাবে লুটপাট হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির পথ অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে দেশে যাতে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি মনে করেন, গণভোটই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই কেবল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।
গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।
তিনটি কঠোর শর্তে অনড় ঢাকা গাজা মিশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আইএসএফ বাহিনীতে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবে বা কারা থাকবে না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, "মূল কথা হলো, আমরা তিনটি শর্তের কথা জানিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা সেখানে যাব না। আমরা ওখানে লড়াই করতে বা যুদ্ধে অংশ নিতে যাব না। যদি এমন কোনো পরিবেশ থাকে যেখানে কারও সাথে যোগাযোগ সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রেও আমরা যাব না। আমাদের এই শর্তগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার।" তিনি আরও জানান, পরিবেশ অনুকূল হলে তবেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী চিন্তাভাবনা করা হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসছে সত্য, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কিন্তু থেকে যায়। একটি সরকার পরিবর্তন হলেই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায় না।" এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত দেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখার বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চীনের সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ নেবে না। মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট গাজায় প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা প্রথম জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ কেন মার্কিন প্রস্তাবিত একটি বাহিনীতে যোগ দিতে চাইছে, বিশেষ করে এটি যদি জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে না হয়—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝা কমাতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগের তালিকাভুক্ত ১৩৫টি ওষুধের পরিবর্তে এখন ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তালিকায় থাকা প্রতিটি ওষুধের মূল্য রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হবে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানান, পূর্বের তালিকার সাথে নতুন করে আরও ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করায় এখন মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।
সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য চাহিদা মেটাবে এবং সাধারণ মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই তালিকা চূড়ান্ত করার আগে ওষুধ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং ওষুধ শিল্প মালিকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক আলোচনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। এই ব্যয়ের বোঝা কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ না করায় অনেক কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। এর পরিবর্তে তারা ‘ইন্ডিকেটিভ প্রাইস’ (আইপি) ওষুধের ওপর জোর দিত, যেগুলোর দাম কোম্পানিগুলো নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। চিকিৎসকরাও এই বেশি দামের ওষুধগুলো বেশি লিখতেন, ফলে বাজারে সস্তা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অধ্যাপক হামিদ আরও বলেন, নতুন ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন বা মার্কেটিং কার্যক্রম কমে আসবে। যেহেতু দাম নির্দিষ্ট থাকবে, তাই অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ করলে তা কোম্পানির নিজস্ব মুনাফা থেকেই দিতে হবে, যা ওষুধের দাম বাড়িয়ে উসুল করার সুযোগ থাকবে না।
সরকারের এই নতুন তালিকায় জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক উপকারের কথা বলা হলেও ওষুধ শিল্প মালিকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এবং ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বা মূল্য নির্ধারণ নীতি নিয়ে মন্ত্রণালয় তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
তিনি জানান, তাঁরা প্রাইসিং সাব-কমিটির কাছে গিয়ে প্রস্তাব দিয়ে আসলেও চূড়ান্ত তালিকায় কোন ওষুধগুলো রাখা হয়েছে বা দাম নির্ধারণের পলিসি কী—সে বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কেবল গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
সব মিলিয়ে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই বিশাল তালিকা এবং কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে সরকার স্পষ্ট করেছে। তবে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার—নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা বহাল থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক চাপ ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার পে স্কেল ঘোষণার ঝুঁকি নিতে চায়নি। নির্বাচন আয়োজন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং নির্বাচন শেষে দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকারের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীরা যে সুযোগ–সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিই বহাল থাকবে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং বাজেট–পরবর্তী আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তবে পরবর্তীতে সরকার ভাতা কাঠামোর পরিবর্তে পুরো পে স্কেল পুনর্গঠনের দিকেই অগ্রসর হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। সে হিসাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রেওয়াজ থাকলেও অষ্টম বেতনকাঠামোর পর প্রায় নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি।
এই দীর্ঘ বিরতির ফলে অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন গ্রেড সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা এখনো চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেই প্রায় সমাপ্ত হবে। ফলে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন
- পদ হারাচ্ছেন বিসিবির নাজমুল ইসলাম
- টেবুনিয়া বিএডিসিতে সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে
- শেয়ারবাজারে ১৫ জানুয়ারির টার্নওভার চিত্র
- ১৫ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৫ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৫ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- দরিদ্র পরিবারে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব
- ভোটপ্রক্রিয়া বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ: মির্জা আব্বাস
- ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচি
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- "এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না" ট্রাম্পকে গুলি করা নিয়ে ইরানের বার্তা
- ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ, কী আলোচনা হতে যাচ্ছে
- ভোটার তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়, ইসির কর্মী গ্রেফতার
- ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?
- ঢাকায় যেদিন হতে যাচ্ছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’
- জেনে নিন টাকার বিপরীতে আজকের বৈশ্বিক মুদ্রার বিনিময় হার
- নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ
- মশা তাড়াতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো? সতর্ক হোন এখনই
- একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতে দুই বছর মুনাফা স্থগিত
- দামী ক্রিমের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফল দেবে ঘরোয়া রূপচর্চা!
- একাধিক স্ত্রী গোপন, পটুয়াখালীতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
- অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সিলেটে ১৩০টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ
- বাকেরগঞ্জে পোষা বিড়ালকে কুপিয়ে জখম: বিচার চেয়ে থানায় গৃহবধূ
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- টাকা ফেরত দাও: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
- আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হামলা? খাদের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- অনিশ্চয়তায় অভিবাসনের স্বপ্ন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত
- স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের নতুন কনসাল জেনারেলের সম্মানে সিলেট প্রেসক্লাবে রাজকীয় আয়োজন
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
- মহাকাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে রঙিন শকওয়েভ: অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে বিরল আবিষ্কার
- মেজাজ খিটখিটে আর অনিদ্রা? চিনির বদলে মধুই হতে পারে আপনার সমাধান
- অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
- গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
- বাথরুমে একা থাকলেও কি সতর ঢাকা জরুরি? যা বলছে ইসলাম
- যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ
- মাগুরার মানুষের জন্য সাকিবের নতুন বার্তা, ফিরতে চান পুরনো অবস্থানে
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








